Friday, June 12, 2020

বশির মেসবাহ : শিল্পে আঁকা একটি নাম

ইয়াহইয়া ইউসুফ নদভী:

এক.

বশির মেসবাহ।
আমাদের বশির ভাই।
বন্ধু।
সুহৃদ।
সহকর্মী।
হাফেজ মাওলানা।
লেখক সাহিত্যিক।
অনুবাদক।
সম্পাদক।
মাদরাসাতুল মাদীনার সাবেক শিক্ষক।
এ পর্যন্ত যে পরিচয়গুলো দিলাম, একটিও তার মূল ‘প্রতিনিধি’ নয়।
আসল পরিচয়ে—তিনি একজন সজীব জীবন্ত শিল্পী।
তিনি হস্তাক্ষরশিল্পী।
তিনি শীর্ষস্থানীয় ক্যালিগ্রাফি শিল্পী।
আরবী হরফ তার হাতের ছোঁয়া পেয়ে হাসতে থাকে।
তিনি যেভাবে চান সেভাবেই।
তার বিস্ময়কর দক্ষতায়, নৈপুণ্যে, চমৎকারিত্বে, অভিনবত্বে।

বাংলা বর্ণমালায় তিনি সৃষ্টি করেন নন্দনতত্ত্বের অবিরল ধারা। সবৈচিত্র এ-সব বর্ণ তখন চোখের সামনে ছলোছলো ঝরনা হয়ে বইতে থাকে—সবুজের বুক চিরে।
কী দৃষ্টিকাড়া, মন-ছোঁয়া, মুগ্ধতা-আঁকা!
হ্যাঁ, এ-সব আরবী হরফ আর বাংলা বর্ণ যখন গলাগলি করে একসঙ্গে জড়ো হয়, তখনই সৃষ্টি হয়—
অদ্ভুত এক শিল্পজাল—মায়া-ছড়ানো ক্যালিগ্রাফি।
হয়ে ওঠে তা গ্যালারির নন্দনধারা।
প্রদর্শনীর সতেজ সবুজ প্রাণ।

দুই.

বশির মেসবাহ—এই সাদাসিধে পোশাকের মানুষটি শিল্পগুণে অনন্য, অসাধারণ। কৈশোরের পালে হাওয়া লাগার আগেই আঁকাআঁকি তার আগ্রহের একটি লাল-নীল বিন্দু হয়ে ওঠে। সুযোগ পেলেই বসে পড়তেন রং-তুলি নিয়ে। কোমল আঁচড়ে আঁচড়ে—
কখনও ফুটিয়ে তুলতেন রক্তলাল কিংবা দুধসাদা গোলাপ, রক্তজবা—আরও আছে যতো দৃষ্টিকাড়া ফুল-ফল-প্রকৃতি।
কখনও তার স্নিগ্ধ কোমল তুলিতে হেসে উঠতো আস্ত আস্ত গাছ।
সবুজ কিশলয়ে ছাওয়া।
পাতায় পাতায় গাঢ় সবুজাভ।
ফুলে-ফলে দোলায়িত।
কখনও দেখা যেতো তাকে মইয়ে চড়ে মাদরাসার সদর ফটকের শোভিত প্রবেশদ্বারে অতি যত্নে বর্ণমালা সাজিয়ে সাজিয়ে তৈরি করছেন—মাদরাসার নামলিপি। আরবী এবং বাংলায়।

কখনও তার নির্ঘুম রাত কাটছে রঙিন কাগজে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দেলন-এর চেতনা-নির্ভর বিভিন্ন বাণী ও স্লোগান লিখে লিখে—নিবিড় শিল্প-আচ্ছন্নতায়।

কখনও তার রং-তুলি আশ্রয় খুঁজতো প্রকৃতির দৃশ্যচিত্রের মায়াময়তায়।
কোনো এক বৃষ্টিমুখর অলস দুপুরে কিংবা শেষ বিকেলে বসে এঁকে চলেছেন—গোধূলীর আবিরমাখা আকাশে নীড়ে ফেরা পাখ-পাখালির অস্পষ্ট ছবি। …
এমন আরও কতো স্মৃতি ভিড় করছে আমার কলমে, সব বললে তো বই-ই হয়ে যাবে!

হিদায়া-জালালাইন পড়ার সময় তিনি পূর্ণ তরুণ যুবক। এবং পূর্ণ আঁকিয়ে। শিল্পী। বর্ণশিল্পী। চিত্রশিল্পী। প্রচ্ছদশিল্পী। আর পূর্ণরূপে ক্যালিগ্রাফিটা শুরু করেছেন আরেকটু পরের দিকে। আমার এবং বশির ভাইয়ের ‘শ্রেণী-ব্যবধান’ খুব বেশি না-হলেও একেবারে কম না। সম্ভবত তিনি আমার চার-পাঁচ বছরের সিনিয়র ছিলেন। এ ব্যবধান আমাদের মাঝে বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। খুব সহজেই তার সাথে মিশে গিয়েছিলাম। তিনি যেনো বন্ধু। একসঙ্গে আলাপচারিতায় কেটে গেছে বেলার পর বেলা। একসঙ্গে আমরা সাহিত্য মজলিস করেছি। একসঙ্গে আমরা ‘যমযম’ বের করেছি। তার পল্টনের অফিসটি হয়ে ওঠে আমাদের সবার অফিস। তিনি থাকলেও ওখানে গিয়ে অবাধে বসে থাকি। সময় কাটাই। না-থাকলেও নিজের অফিসের মতো গিয়ে সময় কাটাই।

একবার একটি গুরুত্বপূর্ণ মিটিংয়ের জন্যে জায়গা খুঁজে পাচ্ছিলাম না। তাকে ফোন করলে বললেন, আমার এখানে করুন! সে মিটিংয়ে মাওলানা উবায়দুর রহমান খান নদভী ভাই, মাওলানা সালমান সাহেব, মাওলানা আবদুর রাযযাক নদভী, জাতীয় মসজিদের ভারপ্রাপ্ত খতীব মাওলানা মুহিব্বুল্লাহ আলবাকী নদভীসহ আরও অনেক শীর্ষস্থানীয় উলামায়ে কেরাম উপস্থিত ছিলেন। আশ্চর্য, পরে এসে বশির ভাই মেহমানদারির দায়িত্বটুকুও নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন।

আমরা হিফজখানা থেকে বের হয়ে, এসো আরবী শিখির জামাতে ভর্তি হয়েছিলাম। এই এসো আরবী শিখির প্রচ্ছদটি বশির ভাইয়ের আঁকা। এ প্রচ্ছদটি আদীব হুজুর খুব পছন্দ করেছিলেন। আশ্চর্য, যুগ-যুগ পেরিয়ে গেলেও আজো সেই প্রচ্ছদটিই রয়ে গেছে—বর্ধিত সংশোধিত পরিমার্জিত তিন খণ্ডে বিভক্ত আজকের এই এসো আরবী শিখিতেও!

আমি দীর্ঘ দিন ধরে এসো আরবী শিখি পড়ানোর দায়িত্বপ্রাপ্ত। ছাত্রদের সামনে বসে কিতাবটি হাতে নিলেই তাকিয়ে থাকি প্রথমে এই মিষ্টি প্রচ্ছদটির দিকে। মনে পড়তে থাকে ঝাঁপখোলা স্মৃতি। একের পর এক। এরপর যখন পাতা উল্টাতে থাকি, একের পর এক আসতে থাকে—ছবি ও চিত্র, সবই প্রিয় বশির ভাইয়ের আঁকা।
রাশেদের বইটি কী সুন্দর!
আয়েশার হারটি থেকে চোখ ফেরাতে ইচ্ছে করে না!

দোকানে এখন ঘড়ি কিনতে গেলে আমার চোখের সামনে ভেসে ওঠে—মাজেদের ঘড়ি, যা সাধারণ রং-তুলি দিয়ে আশ্চর্য সুন্দর করে এঁকেছেন বশির ভাই। এসো আরবী শিখিতে এ ছবিগুলো আগে যেমনটা ছিলো এখনও তা-ই রয়ে গেছে। ‘ইবারতে’ শুধু লেগেছে আধুনিক কম্পিউটারের পরশ—আগে সব ছিলো বশির ভাইয়ের হাতের ‘জীবন্ত’ লেখা, এখন যান্ত্রিক কম্পোজ।

হিফজখানা থেকে কিতাবখানায় আসার আগেই বশির ভাইয়ের সাথে আমার পরিচয়। এই পরিচয়টা একটু অন্যরকম। তিনি তখন মাদরাসায়ে নূরিয়ার ‘আলআশরাফ দেয়ালিকা’র সুপ্রিয় সম্পাদক আর আমি সেখানে একটি লেখা দেয়ার জন্যে ছটফট করছি। গল্পটা একটু শুরু থেকেই বলি।

তিন.

যদি বলি আমার লেখকসত্তার ছোট্ট জীবাণুটি এই গল্পের ভেতরেই লুকিয়ে ছিলো, তাহলে মোটেই বাড়িয়ে বলা হবে না। আমি তখন হিফজখানায় পড়ি। দোতলায় ছিলো আমাদের সুপরিসর হিফজখানা। পরিচ্ছন্ন। পরিপাটি। সাদা ধবধবে দেয়াল। সামনে প্রশস্ত বারান্দা। প্রতিদিনই নিচে নামতে হতো দুইবার। তিনবার। সিঁড়ি দিয়ে নেমে নিচে একটু বামে গেলেই চোখ আটকে যেতো একটি দেয়ালিকায়। আলআশরাফ। সুন্দর সুন্দর লেখা। বিষয় বৈচিত্রে চিন্তাকাড়া। রঙ-বেরঙে দৃষ্টিনন্দন। আঁকাআঁকিটা একটু বেশিই সুন্দর। সম্পাদক বশির মেসবাহ। প্রিয় আদীব হুজুরের ছোট ভাই। তার সাথে তখনও আমার কোনো পরিচয় নেই। আসা যাওয়ার পথে দেখি—ছিপছিপে গড়নের সদা হাস্যোজ্জ্বল এক তরুণ—সহপাঠী ও বন্ধুদের সাথে কথা বলছে।

আমি সুযোগ পেলেই দেয়ালিকার সামনে এসে দাঁড়াতাম। পছন্দের লেখাগুলো একে একে পড়তাম। একদিন দেখি, আমাদের এক সহপাঠীর লেখা। আবদুল জাব্বার ভাই। লেখার শিরোনাম—আদর্শ মানব। ভীষণ অনুপ্রাণিত হই। নিজের অবচেতন মনে বাসা বাঁধে একটি সংকল্প। আমাকেও লিখতে হবে। এখানে। সে পারলে আমি কেনো পারবো না? কিন্তু আরেক মন বলছিলো, তুমি পারবে না। অনেক কঠিন কাজ!

কিন্তু আমি দমে গেলাম না। ভাবতে লাগলাম, কী করে একটা লেখা বশির ভাইয়ের হাতে তুলে দেয়া যায়।

ভাবতে ভাবতে খেই হারিয়ে ফেলি বারবার। কূল পাই না, কিনারা পাই না। ইশকুলে ফোর পাশ-করা আর বাবার লাইব্রেরির সীমিত বই পাঠ-করা নিরীহ অনভিজ্ঞ এই আমি বড়ো বিপদেই পড়ে গেলাম। না লেখা তৈরি করতে পারছি না সংকল্প থেকে বেরোতে পারছি। একদিন চোখের সামনে একটু আলো দেখতে পেলাম। ভাষা ও ব্যাকরণ নামে একটি বই পেলাম। সম্ভবত হায়াৎ মামুদের। সেখানে ছিলো নানান রকমের রচনার ছড়াছড়ি। একটি রচনার ওপর চোখ গেঁথে যায়। বারবার সেটি পড়ি। তার আলোকে একটি লেখা তৈরির চেষ্টা করি। কিন্তু পারি না। খেই থেকে বারবার ছিটকে পড়ি, অনেক দূরে।
শব্দ খুঁজে পাই না।
ভাব সঙ্গ দেয় না।
চিন্তা কাজ করে না।
আগাগোড়া ভারসাম্য ঠিক রাখা যায় না।
আবার ‘রাগ করে’ ক্ষুব্ধ অভিমানে কাগজ-কলম পাশে তুলেও রেখে দিতে পারি না।
নীরব অভিমানে নাওয়া-খাওয়া বাদ দিয়ে শুয়েও থাকতে পারি না।
বরং চেষ্টা করে যেতে থাকি।
শেষ পর্যন্ত যে-লেখাটি দাঁড়ায় তাকে অন্তত নিজের লেখা বলা যায় না। নব্বই থেকে পচানব্বই ভাগ শব্দই ওই রচনাটি থেকে নেয়া। তবুও সংকল্পের সজীব ধাক্কায় একদিন লেখাটা ভাঁজ করে গিয়ে দাঁড়ালাম সম্পাদক সাহেবের সামনে। কাঁপা-কাঁপা হাতে .. ভীত-হতাশ চোখে তার হাতে লেখাটি দিয়ে বললাম, আলআশরাফের জন্যে! জবাবে সম্পাদক সাহেব বললেন, আচ্ছা দেখবো!

* * *

না, লেখাটি মনোনীত হয় নি। প্রিয় সম্পাদক আমার কাছে জানতে চেয়েছিলেন, লেখাটি কি তোমার নিজের?! আমি মাথা নিচু করে লাজ-বিনম্র কণ্ঠে শুধু বলতে পেরেছিলাম, একটা বই থেকে নেয়া! আমারও একটু আছে! তিনি হাসতে হাসতে বললেন, তাহলে তো সূত্র উল্লেখ করতে হবে! কিন্তু সূত্র কাকে বলে সে-ই তো তখন আমি জানি না! নীরবে দাঁড়িয়ে রইলাম। তিনিও নীরবে চলে গেলেন! আমার প্রথম লেখাটা আর আলআশরাফে এলো না। হতাশায় লজ্জায় নীরব অভিমানে আমি এই এত্তোটুকুন হয়ে গেলাম!

কিন্তু এতে ভেঙে পড়লাম না। একটা জেদ চেপে বসলো আমার ভেতরে। আবার সংকল্প করলাম। আবার কলম আর কাগজ নিলাম। এবার আর কোনো ভাষা ও ব্যাকরণের শরণাপন্ন হলাম না। মাদরাসায়ে নূরিয়ার একজন মশহুর উস্তায ইন্তেকাল করলেন। হযরত মাওলানা আজিজুল্লাহ সাহেব। শোকে শোকে মুহ্যমান পুরো মাদরাসা। আমি তখন এসো আরবী শিখি পড়ি। প্রিয় আদীব হুজুরের সান্নিধ্যে। কাউকে না-জানিয়ে আমি মরহুম উস্তাযের পরিচয় জানলাম। তাঁর তথ্য সংগ্রহ করলাম। তারপর ছোট্ট একটি লেখা লিখে ফেললাম। শিরোনাম দিলাম— দীপ নিভে গেলো। তারপর তা তুলে দিলাম বশির ভাইয়ের কাছে। তিনি লেখাটি গ্রহণ করলেন। বললেন, আচ্ছা!

* * *

একদিন এক সকালে এসে দেখলাম—‘দীপ নিভে গেলো’ আলআশরাফের আকাশে মিটিমিটি করে জ্বলছে!
দীপ্তি ছড়াচ্ছে!
আমার হৃদয়ের আকাশেও তখন অসংখ্য তারা ফুটে উঠলো! আলো ছড়াতে লাগলো!
আনন্দে মুগ্ধতায় চোখ ঝাপসা হয়ে এলো!

আমি প্রিয় বশির ভাইয়ের কাছে ঋণী! আজ এ ঋণ শোধের একটি সুযোগ পেয়েই তাকে নিয়ে লিখতে বসেছিলাম। কিন্তু কী লিখবো? আমি যা লিখবো তিনি তারচেয়ে অনেক বড়ো। অনেক উঁচু। অনেক মহীয়ান।

তিনি সবার প্রিয় মানুষ। পরিবারের সবার কাছে প্রিয়। বন্ধু-বান্ধবের কাছে প্রিয়। তিনি সম্পর্ক নষ্ট করতে একদম পছন্দ করেন না। একেকটি সম্পর্ক তার কাছে একেটি গুপ্ত ধন।
একবার এক বন্ধুর সাথে আমার দূরত্ব তৈরি হয়েছিলো। বশির ভাই নিজে উদ্যোগী হয়ে সেই দূরত্ব ঘুচিয়ে দিয়েছিলেন। তিনি আমার এক প্রশ্নের উত্তরে বলেছিলেন, দেখুন আমাদের দেশ অনেক ছোটো। আমাদের পরিচয়ের সীমানা আরও ছোটো। পরিচয়গুলো যদি একটা একটা করে নষ্ট হয়ে যায়, তাহলে তো আমাদের পরিচয়ের ছোট্ট পৃথিবী আরও সংকোচিত হয়ে পড়বে। আমরা স্বস্তিভরে নিঃশ্বাস ফেলতে পারবো না।

বশির ভাই অনেক বড় মাপের শিল্পী। কিন্তু তা কখনও তার আচরণে প্রকাশ পায় না। তিনি চিরবিনয়ী। সবার জন্যে তার বিনয়ের দরোজাটি খুলে রাখেন স্নিগ্ধ মানবিক আচরণে।
তার পেশাদারিত্ব কখনও বন্ধুত্বের ডাকে সাড়া দিতে তাকে দ্বিধাগ্রস্ত করতে পারেনি।
নিজের শিল্পভুবন থেকে খুব সহজেই তিনি বেরিয়ে আসতে পারেন।
দারুণ বৈঠকী হয়ে উঠতে পারেন।
কৈশোরে তারুণ্যে ফিরে গিয়ে স্মৃতির ঝাঁপ খুলে বসতে পারেন।
দারুণ দারুণ ক্যালিগ্রাফি অকাতরে বন্ধুদের মাঝে বিলিয়ে দিতে দেখিছি তাকে।

চার.

তার সাহিত্য প্রতিভা ঈর্ষণীয়। আধুনিক গল্পেও তার হাত পাকা। ছাত্রজীবনেই তার লেখা গল্প ছাপা হয়েছে সাপ্তাহিক ছুটিতে—একটি অপ্রত্যাশিত চিঠি শিরোনামে। সাপ্তাহিক পূর্ণিমায় তার ‘ডিভোর্স’ ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে। অনেক কিতাব অনুবাদ করেছেন তিনি। একটি শিশুতোষ সিরিজ লেখায় হাত দেয়ার কথা আছে—চাররঙা, নিজের শিল্প-আঁকাআঁকিতে। আমার মনে হয় এর মাঝে তিনি এটির কাজ শুরুও করে দিয়েছেন। …

পাঁচ.

কুরআন সুন্নাহর ভাষা—আরবীর প্রতি রয়েছে তার বিস্ময়কর মায়া। শিল্পমায়া। তার পল্টনের অফিসে সূরা ইয়াসিনের একটি ক্যালিগ্রাফি আমাকে সীমাহীন মুগ্ধ করে। আশ্চর্য নিপুণ শিল্পদক্ষতায় এটি তৈরি করেছেন তিনি। নির্দিষ্ট একটি ফ্রেমে কী সুন্দর শিল্পকলায় তা লিখে সুসমাপ্ত করেছেন তিনি—কোনো বিঘ্নতা ও অসঙ্গতি ছাড়াই। যেখানে যে হরফটি বসার কথা সেখানে সে হরফটিই বসেছে। একটুও ছন্দপতন ঘটেনি। আসলে তিনি শুরু করার আগেই বুঝতে পারেন—কোথায় গিয়ে শেষ করতে হবে। বর্ণমালার গায়ে কতোটুকু অলংকরণ আরোপ করতে হবে। যে কোনো শিল্পকর্ম শুরু করতে তাকে খুব বিচলন নিয়ে-যে ভাবতে হয়, তা কিন্তু নয়। হঠাৎ করেই শুরু করে দেন। তারপর এগিয়ে যান অবলীলায়। শেষ করেন কপালে একটু ভাঁজ ফেলে। মুখে একটু হাসি ফুটিয়ে। শেষ করার পর কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকেন নিজের সৃষ্টির দিকে—শিল্পসুখের উল্লাস নিয়ে। তখন চোখটা একটু সরু হয় কখনও। পরে বুলিয়ে দেন প্রযোজনীয় সম্পাদনার স্নিগ্ধ পরশ। ওই সম্পদনার পর যখন শিল্পকর্মটি কাঁচবন্দি হয়ে ওয়ালে শোভা ছড়ায়, তখন শিল্পী বশির মেসবাহ তার দিকে তাকিয়ে থাকেন । মুখে মিষ্টি হাসি নিয়ে। মধুর আবেশে ছাওয়া। শিল্পসুখের উল্লাসে কাঁপা। ওই মুহূর্তটি সত্যি দুর্লভ। সীমাহীন দুর্লভ।
এমন মুহূর্ত আসুক বারবার—অনেক বার—অসংখ্য বার—এই মহান শিল্পীর জীবনে।

১২/০৬/২০২০

The post বশির মেসবাহ : শিল্পে আঁকা একটি নাম appeared first on Fateh24.



source https://fateh24.com/%e0%a6%ac%e0%a6%b6%e0%a6%bf%e0%a6%b0-%e0%a6%ae%e0%a7%87%e0%a6%b8%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b9-%e0%a6%b6%e0%a6%bf%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a7%87-%e0%a6%86%e0%a6%81%e0%a6%95%e0%a6%be-%e0%a6%8f/

No comments:

Post a Comment