খালিদ মুহাম্মাদ সাইফুল্লাহ:
আব্বাসী আমলের শেষদিকের শাসক ‘মুস্তানসির বিল্লাহ’, হিজরির ছয়শত পঁচিশ সনে মুসতানসেরিয়া নামে একটি মাদরাসা চালু করেন , বাগদাদে। সেই কালে শুধুমাত্র বাগদাদ শহরে ত্রিশটির মতো মাদরাসা সক্রিয় ছিল। তবে এসবের মধ্যে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হিসেবে গণ্য করা হতো ‘মুসতানসেরিয়া’ মাদরাসাকে ; জ্ঞান ও শিল্প-সাহিত্যের রাজধানী বলা হতো একে। এসব তাৎপর্য ও মহিমার সূচক ছিল কিছু যৌক্তিক ও বাস্তবিক কারণ-
প্রথমত : বাদশাহ মুস্তানসির বিল্লাহ মাদরাসার ভিত্তি ও নির্মাণের ব্যবস্থাপনাগত ব্যাপারে যেমন পরিবেশ ভাবনাকে মূল্যায়ন করেছেন, তেমনি অপেক্ষাকৃত উন্নত নির্মাণশৈলীর প্রতি গুরুত্ব দিয়েছিলেন। তিনি সেই সময়ের পটভূমিতে এর নির্মাণ কাজে সাতশত দিনার ব্যায় করেন। খেলাফতের কেন্দ্র বাগদাদ শহরে অত্যন্ত শান্ত ও দৃষ্টিনন্দন পরিবেশে দজলা নদীর তীরে মাদরাসার স্থাপনা গড়ে তোলেন।
দ্বিতীয়ত : পৃথিবীব্যাপী যতো ফিকহের দরস চালু ছিল তখন,আব্বাসী আমলে,সেসবের কোথাও প্রসিদ্ধ চার মাযহাবের ফিকহের দরসকে সমন্বিত ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত করার প্রক্রিয়া হাজির ছিল না। মুসতানসেরিয়া মাদরাসাতেই সর্বপ্রথম এক ছাদের নিচে ভিন্ন ভিন্ন চারটি দরস পরিচালিত হতো। এবং স্বাধীনভাবে যেকোন দরস থেকে উপকৃত হওয়ার সুযোগ অবারিত ছিল। এসব নানাবিধ কারণে ইতিহাসে মুসতানসেরিয়া মাদরাসার দীর্ঘপ্রসারী প্রভাব প্রত্যক্ষ করা যায়।
মুসতানসেরিয়া মাদরাসা প্রতিষ্ঠার এক দশক পরেই মিশরের কায়রোতে নতুন আরেকটি ইসলামি প্রতিষ্ঠানের যাত্রা শুরু হয়েছিল, বাদশাহ নাজমুদ্দিন আইয়ুবের নির্দেশনায়। হিজরির ছয়শত এক চল্লিশ (৬৪১) সনে। নানামুখী বিবেচনায় মিশরে তখন একটি মাদরাসা প্রতিষ্ঠার গুরুত্ব ও প্রাসঙ্গিকতা দারুণভাবে স্পষ্ট হতে চলছিল। সেসব তাৎপর্য ও গুরুত্বের প্রতি লক্ষ্য রেখেই বাদশাহ নাজমুদ্দিন আইয়ুব মাদরাসার ভিত্তি স্থাপন করেন। বিশিষ্ট ইতিহাসবিদ মাকরিজি নাজমুদ্দিন আইয়ুবের হাতে প্রতিষ্ঠিত এ মাদরাসাটির তাৎপর্য তুলে ধরেছেন। তিনি লিখেছেন, ‘মিশরের বাস্তবতায় সর্বপ্রথম চার মাযহাবের দরসকে এক ছাদের নিচে, ভিন্ন ভিন্ন হালকায় পরিচালনার নযির তৈরি করেছিল এই প্রতিষ্ঠানটি।’
মিশরে ইতিপূর্বে যেসব দরস চলমান ছিল, সেসব ছিল নির্দিষ্ট এক ফিকহী মাযহাবের আদলে। সর্বোচ্চ দুইটি ফিকহী মাযহাবের দরস দেখা গেছে মিশরে। এজন্য মিশরের পটভূমিতে এটিই ছিল প্রথম অভিজ্ঞতা। তবে চার মাযহাবের দরসকে এক ছাদের নিচে, সমন্বিত ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হওয়ার ইতিহাস এর আগেও ছিল। মিশরের বাইরে। বাগদাদের মুসতানসেরিয়া মাদরাসার দরস প্রকল্পকে ইতিহাসের সর্বপ্রথম উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা যায়। আদতে মুসতানসেরিয়া মাদরাসার ব্যবস্থাপনাকে নমুনা হিসেবে বিবেচনা করেই গড়ে উঠেছিল নাজমুদ্দিন আইয়ুবের প্রতিষ্ঠানটি। তাছাড়া নাজমুদ্দিন আইয়ুবের মাদরাসার নির্মাণ ও প্রকৌশলী এবং রীতি-পদ্ধতির সাথেও দারুণ মিল ছিল মুসতানসেরিয়া মাদরাসার। কেউ কেউ তো আরও দু’কদম বেড়ে দাবি করেছেন যে, উসমানী খিলাফতের পূর্ব পর্যন্ত যতো মাদরাসা সক্রিয় ছিল, সেসবের গঠনতন্ত্র মুসতানসেরিয়া মাদরাসা দ্বারা দারুণ ভাবে প্রভাবিত ছিল।
হিজরির ২১ তম বছরে বিশিষ্ট সাহাবীর হাতে যে মসজিদটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, মসজিদে আমর ইবনুল আস—আব্বাসী আমল পর্যন্ত এর প্রবল দাপট অব্যাহত ছিল। রাজবংশের লোকজন পর্যন্ত এতে ধর্ম ও শিক্ষা-দীক্ষার জন্য গ্রহণের ক্ষেত্রে অত্যন্ত আগ্রহী ছিল। কিন্তু, পরবর্তীতে যখন মিশরে ফাতেমীদের প্রভাব প্রতিপত্তি প্রতিষ্ঠিত হলো , তারা তখন একটি নতুন প্রতিষ্ঠানের পরিকল্পনা গ্রহণ করলো ; যাতে তারা তাদের শিয়া মতাদর্শের জ্ঞানতাত্ত্বিক বলয় তৈরি করতে পারে। এবং সে লক্ষ্যকে মাথায় রেখেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ‘জামিআ আজহার’। পরবর্তীতে সালাহউদ্দিন আইয়ুবী রহ. যখন ক্ষমতা লাভ করেন , আজহারের জ্ঞান-বলয়ে সংষ্কার ও পুনর্বিবেচনার প্রয়োজন অনুভব করেন। আজহারের প্রাণে নতুন শ্বাস সঞ্চারিত করেন।
সালাহউদ্দিন আইয়ুবী রহ. এর ‘মাদরাসা ব্যবস্থার প্রকল্প’ দুটি বলয়ের মধ্যে সমান্তরালভাবে প্রতিষ্ঠিত ছিল – একটি সামরিক ও অপর বলয়টি ছিল বুদ্ধিবৃত্তিক। একদিকে শাম অঞ্চলের ক্রুসেডারদের প্রতিহত করার জন্য একটি সামরিক বাহিনী তৈরি হচ্ছিল, অন্যদিকে সুন্নি মতাদর্শের প্রচার ও ব্যাপ্তির লক্ষ্যে একটি বুদ্ধিবৃত্তিক শ্রেণী গঠন করা হচ্ছিল। ফলে সালাহউদ্দিন আইয়ুবীর মাদরাসার বুদ্ধিবৃত্তিক প্রকল্পের প্রভাব অত্যন্ত শক্তির সাথে বিস্তৃত ছিল ‘ঈসমাইলি শিয়াদের’ উপর। মাকরিজি লিখেছেন যে , সালাহউদ্দিন আইয়ুবী যখন ক্ষমতা লাভ করলেন এবং ফাতেমীদের প্রভাব ম্লান হয়ে গেল , তখন তিনি মিশর থেকে শিয়া মতাদর্শকে উচ্ছেদ করে দিলেন। প্রতিস্থাপন করলেন ইমাম শাফেয়ী ও ইমাম মালেকের ফিকহী মাযহাবকে। এক্ষেত্রে তিনি নুরুদ্দিন যানকি রহ. কে আদর্শ মনে করেছেন। কারণ, নুরুদ্দিন যানকি দিমাশক ও হালাবে , বিভিন্ন স্থানে শাফেয়ী ও হানাফি ফিকহের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছিলেন।
এখানে অবশ্য একটা বিষয় লক্ষ্য করা যায় যে , সুন্নি মতাদর্শের বিকাশ ও বিস্তারের যে প্রকল্প আইয়ুবী শাসকগণ শুরু করেছিল, সালজুকিদের প্রভাব তাতে স্পষ্ট ছিল। এবং আইয়ুবীদের প্রেরণার গোড়ায় ছিল সালজুকিদের মাদরাসা প্রকল্প।
এভাবে একসময় আইয়ুবীদের শাসনকালেই, ফুসতাত ও কায়রো নগরীতে প্রায় পঁচিশটির মতো মাদরাসা চালু ছিল। ইবনু বতুতা যখন মিশর সফর করেন , মুহাম্মাদ বিন ক্বলাউনের আমলে , তখনকার বিবরণ দিতে গিয়ে বলেন যে , ‘সংখ্যাধিক্যের কারণে মিশরে মাদরাসার পরিমাণ গুনে কেউ শেষ করতে পারবে না।’
ফাতেমীদের সর্বশেষ খলিফা ‘আদেদ’ এর মৃত্যুর এক বছর আগে সালাহউদ্দিন আইয়ুবী একটি মাদরাসা চালু করেন। এটিই ছিল আইয়ুবীদের প্রথম মাদরাসা। ‘নাসিরিইয়্যা মাদরাসা’ শাফেয়ী মাযহাবের খেদমতের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। ইমাম তাবরিজী, সাইফুদ্দিন আল আসদি, জামালুদ্দিন আল ইসফাহানীর মতো সমকালীন বড় বড় আলেম এখানে শিক্ষকতা করতেন। এবং তাদের কারো কারো প্রতি মাসের হাদিয়া ছিল চল্লিশ (দিনার) স্বর্ণমুদ্রা।
এ বছরই তিনি আরেকটি মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করছিলেন, মালেকি মাযহাবের ফকিহদের জন্য। নাম রেখেছিলেন ‘মাদরাসাতুল কুমহিইয়া’। এখানে মালেকি ফিকহের বড় বড় আলেম দরস দিতেন। এমনকি ইবনে খলদুন পর্যন্ত এখানে এসেছিলেন। অষ্টম শতকের শেষদিকে ইবনে খালদুন যখন মিশরে স্থায়ী বসবাস শুরু করেন, তখন জীবনসন্ধ্যায় ম্রিয়মাণ এ প্রতিভা মাদরাসার দরসে আসতেন। হিজরির ৭৮৬ সনে দরসে বসে ইবনে খলদুন বলেছিলেন , ‘আমি যেদিন মাদরাসার দরসে আসলাম , বড় বড় পদ ও নেতৃত্বের অধিকারীরা বসেছিল দরসে। আমার স্মৃতি সঙ্গে বহন করে চলার জন্য, বাদশাহর দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য।’
মিশরে সালাহউদ্দিন আইয়ুবীর হাতে প্রতিষ্ঠিত মাদরাসাগুলোর মধ্যে সবচে বড় হিসেবে বিবেচনা করা হয় ‘সালাহিইয়্যা মাদরাসা’কে। ‘কুব্বাতুল ইমাম আশ শাফেয়ী’ সংশ্লিষ্ট এ প্রতিষ্ঠানটি হিজরির ৫৭২ সনে নির্মাণ করা হয়। ইমাম সুয়ুতি এ প্রতিষ্ঠানকে ‘তাজুল মাদারিস’ তথা : মাদরাসা সম্রাট হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। এবং বলেছেন যে, এটি তৎকালীন পৃথিবীর সর্ববৃহৎ মাদরাসা। এছাড়া আন্দালুসের পদব্রাজক ইবনে জুবায়ের বুলুনসি যখন মিশর সফর করেন , এই মাদরাসার পাঠ পদ্ধতি ও ভবন দেখে তিনি তখন মোহাবিষ্ট , বিমুগ্ধ হয়েছিলেন।
যে ব্যাপারটা দারুণ ও মুগ্ধতার যে – এই মাদরাসা ব্যবস্থার প্রসার ও সুন্নি মতাদর্শের বিকাশ শুধুমাত্র সালাহউদ্দিন আইয়ুবীর সময়েই সীমাবদ্ধ থাকেনি। বরং তার অন্তিম পরবর্তী সময়েও সক্রিয় ছিল। এক্ষেত্রে যারা গভীর ভূমিকা রেখেছেন, তাদের মধ্যে একজন ছিলেন সালাহউদ্দিন আইয়ুবীর ওযির ও মন্ত্রী ‘আব্দুর রহিম ইবনে আলি আল বাইসানি’ । তিনি কায়রো শহরে ‘ফাদিলিইয়্যা মাদরাসা’ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ৫৮০ হিজরির মুহাররম মাসে। শাফেয়ী ও মালেকি মাযহাবের দরস চলতো এখানে। এছাড়া একটি কক্ষকে নির্দিষ্ট করা হয়েছিল কেবলমাত্র কুরআন পাঠ ও কেরাত শাস্ত্রের জন্য। এখানে ইমাম আবু মুহাম্মদ আশ শাতেবী ক্বেরাতের দরস দিতেন। এর সাথে সংশ্লিষ্ট ছিল একটি বিরাট গ্রন্থাগার, ফলে এই দুটি প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত রুপ মাকরিজির ভাষ্যে ‘মিশরের সর্ববৃহৎ মাদরাসা’ হিসেবে পরিগণিত হয়েছিল।
আইয়ুবী আমলের প্রায় সকল শাসকই জ্ঞান, শিল্প-সাহিত্য ও বুদ্ধিবৃত্তিক অবস্থান থেকে মাদরাসা প্রতিষ্ঠাকে তাৎপর্যের সাথে বিবেচনা করেছেন। শাম ও মিশরে সুন্নি মতাদর্শের বিকাশ ঘটিয়েছেন। সবশেষে আইয়ুবীদের শেষ শাসক হিসেবে যিনি ক্ষমতা লাভ করেন, নাজমুদ্দিন আইয়ুব, তিনিও আন নাজমিইয়্যা আস সালাহিইয়্যা নামে একটি মাদরাসা চালু করেন। তিনি ৬৩৯ হিজরিতে নির্মাণ কাজ শুরু করেন। তার মাদরাসাটি ‘মুসতানসেরিয়া মাদরাসার’ আদলে গড়ে উঠেছিল। বিশেষত, তিনি শাফেয়ী ও মালেকি মাযহাবের বাইরে হাম্বলীদেরকেও গুরুত্ব দিয়েছিলেন। এবং তাদের জন্য সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছিলেন, যাতে সুন্নি মতাদর্শের বিস্তারে তারাও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে সক্ষম হয়। যেহুতু হাম্বলীদের সংখ্যা কম ছিল, তাই এই সুযোগ প্রদানের ঘটনা অবশ্যই তাৎপর্য-পূর্ণ ছিল।
আইয়ুবীদের শাসনকালে মাদরাসা ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নতি ও উৎকর্ষ সাধন হয়েছিল। তবে এসবের পেছনে বিশেষ ভূমিকা পালন করেছিল –
ক. তাদের জ্ঞানমুখিতা। জ্ঞানের সাথে তাদের ভাবের সম্পর্ক ছিল। সালাহউদ্দিন আইয়ুবীর প্রত্যেকটি মজলিস আলেম, কবি ও সাহিত্যিকদের উপস্থিতিতে ছিল ভরপুর। বিভিন্ন সময়ে জীবন, জগত ও রাজনীতির ব্যাপারে তারা বাদশাহকে পরামর্শ দিত। মজলিসে উপস্থিত থাকতেন বিশিষ্ট সাহিত্যিক ইমাদুদ্দিন, দার্শনিক আব্দুল লতিফ বাগদাদী প্রমুখ ব্যক্তিবর্গ।
খ. দ্বিতীয়ত, মিশরে ফাতেমীদের প্রভাব প্রতিপত্তি প্রতিষ্ঠিত হবার পর থেকে শিয়া গোষ্ঠী তাদের মতাদর্শিক অবস্থানকে মজবুত করার জন্য বুদ্ধিবৃত্তিক ও জ্ঞানতাত্ত্বিক ভিত্তি রচনা করেছিল। ফলে মিশরের জ্ঞানতাত্ত্বিক পটভূমিতে শিয়াদের দাপট প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এজন্য সুন্নি মতাদর্শের জায়গা থেকে সালাহউদ্দিন আইয়ুবী এবং পরবর্তী শাসকদের জন্য এটা জরুরি ছিল। এবং এই জরুরত যেমনিভাবে ধর্মীয় ও মতাদর্শিক, তেমনি রাজনৈতিকও বটে। কারণ, ফাতেমীদের রাজনৈতিক প্রভাবের মূলে ছিল শিয়া মতাদর্শ। সুতরাং, এর প্রতিরোধে একটি স্বতন্ত্র মতাদর্শিক পরিচয় ও তার বিকাশ অত্যন্ত জরুরি ছিল।
আইয়ুবীদের মাদরাসা ব্যবস্থার বৈশিষ্ট্য
এক .
আইয়ুবীদের মাদরাসা ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে, তারা জ্ঞানতাত্ত্বিক কাঠামো তৈরিতে বহিরাগতদের গুরুত্বের স্বীকৃতি ও তা বাস্তবায়নের প্রতি সতর্ক ছিলেন। ইরাক ও শাম থেকে প্রচুর জ্ঞানী লোক এসেছেন, শিক্ষকতা করেছেন আইয়ুবীদের মাদরাসাতে। এদের মধ্যে প্রসিদ্ধ ছিলেন ইযযুদ্দিন ইবনে আব্দুস সালাম ; তিনি দামেস্ক থেকে এসেছিলেন। বাদশাহ নাজমুদ্দিন তাকে অত্যন্ত সন্মান করেছেন। এবং ‘সালাহিইয়্যা মাদরাসায়’ পাঠাদানের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ আসনে আসীন করেছেন।
দুই .
আইয়ুবীদের মাদরাসা প্রকল্পের পাঠ-প্রক্রিয়ার কোন নির্দিষ্ট রুটিন ছিল না। সম্পূর্ণভাবে উস্তাদের অভিরুচির উপর নির্ভর করতো তিনি কখন, কোন বিষয়ের পাঠদান করবেন। যাফের ইবনুল হুসাইন আল আযদির ব্যাপারে বর্ণনা এসেছে যে, তিনি কখনও দরস করতেন যোহরের পর আর মুনাযারা বা বিতর্কের দরস করতেন আছরের পর। আবার কখনও দরস করতেন আছরের পর , বিতর্কের দরস করতেন মাগরিবের পর। তবে ছাত্রদের নেযাম নির্ধারিত থাকতো।
তিন.
তাদের মাদরাসা ব্যবস্থায় ইলমে দ্বীনের জাগরণ তৈরিতে কাঠামোবদ্ধ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হতো। এবং ছাত্রদেরকে অনুকূল পরিবেশে জ্ঞানচর্চার সুযোগ সৃষ্টি করে দেওয়া হতো। ইমাম মুনজিরি, মাদরাসা কামেলার শিক্ষক ছিলেন তিনি, তার ব্যাপারে বর্ণনা এসেছে যে, তিনি তার ছেলের জানাযা মাদরাসার ভেতর পড়িয়েছেন। কারণ, তিনি জুমার নামাজ ছাড়া কখনও বাইরে যেতেন না।
চার .
আইয়ুবীদের শাসনকালে সুফিদের খানকার মতো মাদরাসা গড়ে উঠেছিল। এবং মাদরাসা ব্যবস্থা ধর্মীয় প্রচার প্রসারের কেন্দ্রীয় অথরিটি লাভ করেছিল। কারণ, এখানেও এমন কিছু শিক্ষক থাকতেন যারা যাবতীয় ব্যস্ততা থেকে মুক্ত হয়ে জ্ঞানচর্চা করতেন।
পাঁচ .
আইয়ুবী আমলের সবচে বিরল ও মুগ্ধকর ব্যাপার হচ্ছে, শিক্ষা ক্ষেত্রে নারীদের ব্যাপক অংশগ্রহণ। তখনকার রাজবংশীয় নারীদের একটি মাদরাসা ব্যবস্থাপনা ছিল, তারা জ্ঞানের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন। তাদেরকে ‘খাতুনাত’ বলা হতো। খাতুনে উম্মে শামছ ছিলেন তখনকার বিশিষ্ট নারী, যিনি ‘আল মাদরাসাতুল খাতুনিইয়্যা’ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। আরো অনেক নারী ছিলেন, যারা হালাব, দামেস্ক ও কায়রোতে বিভিন্ন মাদরাসা ব্যবস্থার সূচনা করেছিলেন।
The post মাদরাসা ব্যবস্থা : আইয়ুবীদের প্রকল্প appeared first on Fateh24.
source https://fateh24.com/%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a6%be-%e0%a6%ac%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%ac%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%a5%e0%a6%be-%e0%a6%86%e0%a6%87%e0%a7%9f%e0%a7%81%e0%a6%ac%e0%a7%80/
No comments:
Post a Comment