সুমাইয়া মারজান:
নবী গৃহে কিশোরী বঁধুয়া
নবীজি সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুর ঘরে প্রবেশ করলেন বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সারতে। একটু আগের সাদর সম্ভাষণে হতবাক হয়ে যাওয়া আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা তখন বুঝতে পারলেন আজকের লোক সমাগম, এইসব আয়োজনের উপলক্ষ কী! বুঝলেন যে আজকে তার বঁধুবেশে নবীজির গৃহে যাবার দিন। তেমন কোন সাজগোজ, জাঁকজমকতা, খাবারের আয়োজন নেই। এমনই সাদামাটা ছিল বিয়ে বাড়িটা যে, দেখে বুঝার উপায় নেই এখানে বিয়ের অনুষ্ঠান চলছে। কনে পক্ষের ঘরে বরকে আপ্যায়ন করার মতো কোন খাবারই ছিল না। নবীজির বিয়ের খবর শুনে খাযরাজ গোত্রের নেতা সাদ ইবনে উবাদা রাদিয়াল্লাহু আনহু এক পেয়ালা দুধ আর কিছু খাবার নিয়ে এসেছিলেন। সেগুলোই পেশ করা হলো বিয়ের আসরে।
আসমা বিনতে ইয়াজিদ আল আনসারিয়্যা। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা মদিনায় এসে তাকে বানিয়েছিলেন সখী। মদিনার বিকেলগুলোর জলপাই রঙা রোদ্দুর যার সাথে হেসেখেলে গড়াতো সন্ধ্যার আলো আঁধারির করিডোরে। সেই প্রাণের সখী ছিলেন তার বিয়ের আসরে। তার পাশেই। তিনি পরবর্তীতে বলেন, আমি সেই বরকতময় বিয়ের মজলিসে উপস্থিত ছিলাম। আমার সখী আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহাকে বর মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের জন্য খুব সুন্দর করে সাজিয়েছিলাম আমরা। দোহারা গড়নের কিশোরী বঁধুয়া। আলতা মেশানো দুধের মতোই তার গায়ের বরণ। সাজানোর পর তাকে অপূর্ব লাগছিলো। কনে সাজানো শেষ হলে নবীজিকে অন্দরমহলে ডেকে আনলাম। বঁধুয়ার পাশে বরকে বসানো হলো। খাবার পরিবেশন করা হলে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম সামান্য দুধ পান করলেন পেয়ালা থেকে। বাকিটুকু আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার দিকে বাড়িয়ে দিলেন। লজ্জায় আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা যেন মিইয়ে এতটুকু হয়ে গেলেন। কিছুতেই নবীজি সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম থেকে দুধের পেয়ালা নিতে চাচ্ছিলেন না। লজ্জায় রাঙা আনত মুখখানি তুলছিলেন না। সখী আসমা বিনতে ইয়াযিদ কাছে থেকে আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহাকে বললেন, নবীজির হাত থেকে দুধের পেয়ালাটি নাও। নবীজির উপহার ফিরিয়ে দিও না অমন করে। অবশেষে লাল টুকটুকে হয়ে যাওয়া ফরসা মুখখানি তুলে চাইলেন কিশোরী বঁধুয়া। কাঁপা হাতে গ্রহণ করলেন নবীজির উপহার। ছোট একটা চুমুক দিলেন দুধের পেয়ালায়। একটুখানি পান করে রেখে দিলেন। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার লজ্জা দেখে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম মুচকি হাসলেন। বললেন, তোমার সখীদের দাও। তারাও পান করুক। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার সখীরা সব না না করে উঠলেন। বললেন, আমাদের খাওয়ার ইচ্ছে নেই। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম বললেন, পেটে ক্ষুধা রেখে মিথ্যা বলো না। নবীজির একথা শুনে আসমা বিনতে ইয়াযিদ রাদিয়াল্লাহু আনহা বললেন, ইয়া রাসুলুল্লাহ! যখন কেউ বলে যে, আমি এটা চাই না অথচ সে মনে মনে সেটা চায়, এটা কি মিথ্যা হবে? নবীজি সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম বললেন, হ্যাঁ। মিথ্যা লেখা হয়। আর মানুষের ছোট ছোট মিথ্যাও কিন্তু লেখা হয়ে থাকে।
সংসারের হালচাল
খুবই অনাড়ম্বরতার সাথে শেষ হলো বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা। আনসারি মহিলাগণ কিশোরী আয়েশাকে সাথে করে নবীজির ঘরে চলে এলেন। চিরাচরিত নিয়মানুযায়ী আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা ছেড়ে এলেন তার বাবার ঘর। এখন থেকে নবীজির ঘরেই থাকবেন তিনি। ঘর বলতে উল্লেখযোগ্য শানদার কোন ঘর নয়। দারিদ্র্যতার ছাপযুক্ত একটুখানি জায়গা। সেখানেই গড়ে উঠেছিলো দোজাহানের রাজা-রাণীর সুখের সংসার। বনু নিযারের পল্লীতে মসজিদে নববির পাশে ছোট ছোট খুপরি মতোন অনেকগুলো ঘর ছিলো। তার থেকে মসজিদ লাগোয়া পূর্বদিকের ঘরখানাই ছিল আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার নতুন ঠিকানা। ঘরের দরজা ছিল পশ্চিম দিকে — মসজিদের ভেতরে। মসজিদ ছিল তার ঘরের আঙ্গিনার মতো। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম যখন মসজিদে ইবাদত করতেন, বিশেষ করে রমযান মাসে তখন আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা ঘরে থেকেই নবীজির চুল আঁচড়ে দিতেন। অথবা খুব তাড়াতাড়ি যেকোনো প্রয়োজনে কাছে থাকতে পারতেন। সে কুটিরের দেয়াল ছিল মাটির। উচ্চতায় মাত্র ছয়-সাত হাত ছিল। আর ঘরের ছাদ যে কারও হাতের নাগালের মধ্যে ছিল। চাইলেই যে কেউ ছুঁতে পারতো। ছাদ ছিল খেজুর পাতা ও ডালের। ঘরের ভিতরে যেন বৃষ্টির পানি না পড়ে তাই তার উপর কম্বল দেওয়া ছিল। ঘরের দরজা ছিল কাঠের। একচিলতে সে ঘরখানার বর্ণনা দিতে গিয়ে আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, আমি ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় নবীজি সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম যখন নামাজে দাঁড়াতেন, সেজদার সময় তার হাতের সাথে আমার পা লেগে যেতো। আমি তখন পা গুটিয়ে নিতাম। আমি পা গুটিয়ে নেওয়ার পর নবীজি সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম সেজদা করতে পারতেন। অবশ্য শুধু আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার ঘর না, নবীজির অন্য স্ত্রীদের ঘরও মোটামুটি এমনই ছিল। তবে আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার ঘরের দরজা মসজিদের দিকে ছিল আর অন্যদের ঘরের দরজা ছিল বাইরের দিকে খোলা । অন্যদের ঘর থেকে এটাই তার ঘরের পার্থক্য ছিল। সরওয়ারে কায়েনাত ও তার রাণীর সংসারে আসবাবপত্রেরও তেমন বালাই ছিল না। একটি খাট, একটি চাটাই, একটি বিছানা, একটি বালিশ যা খেজুর গাছের ছাল দিয়ে তৈরি করা হয়েছিলো, খেজুর ও যব রাখার জন্য দুয়েকটি পাত্র, পানি রাখার জন্য একটি মশক। ছোট ঘরটিতে বাতি জ্বালানোরও কোন ব্যবস্থা ছিল না। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা একবার বলেন, “রাসুল সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের সময়ে আমরা একাধারে চল্লিশ রাত কোনোরকম আলো বা বাতি ছাড়াই পার করে দিতাম।”
আসলে তখনকার দিনে বাতি জ্বালানোর তেল ও রান্নার জন্য ব্যবহৃত তেল একই ছিল। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, ‘যদি আমাদের বাতি জ্বালানোর তেল থাকতো তো সেটা আমরা রান্নার জন্যই ব্যবহার করতে পারতাম।’
নবীজির সান্নিধ্যে যুহদের সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছা
অভাব-অনটন ছোট ঘরটিতে লেগেই থাকতো। সম্রাট নবীজির ঘরে রান্নাবান্নাও হতো খুবই কম। মাসের পর মাস চুলা জ্বলতো না। শুকনো খেজুর ও পানি খেয়েই দিনাতিপাত করতেন তারা। প্রায়ই এমন হতো যে, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম বাইরে থেকে এসে জিজ্ঞাসা করতেন, আয়েশা! ঘরে খাওয়ার মতো কিছু আছে? আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা হাসিমুখে জবাব দিতেন, হে আল্লাহর রাসুল! ঘরে তো কোন খাবারই নেই। তখন নবীজি সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম ও আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা দুজনেই উপোস থাকতেন। অথচ তাদের কোন অনুযোগ, অভিযোগ ছিল না। কারণ নবীজি সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম ও তার প্রিয়তমা দুজনেই দারিদ্র্যের জীবনকে গ্রহণ করে নিয়েছিলেন। অথচ নবীজির কাছে ছিল পার্থিব সকল সম্পদের চাবি! আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম বেঁচে থাকতে কখনও তিনদিন এমন যায়নি যখন নবী পরিবারের লোকেরা পেট ভরে খেয়েছেন। বেশীরভাগ সময় তারা না খেয়ে থাকতেন, মাসের পর মাস ঘরে আগুন জ্বলতো না। কোনো খাবার-দাবার রান্না হতো না। মাঝে মাঝে তিনটি পূর্ণ চাঁদ উঠে যেতো এবং তারা শুধু খেজুর আর পানি খেয়েই দিন কাটিয়ে দিতেন।
নবীজি সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের ওফাতের দিনের কথা বলতে গিয়ে আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম যেদিন ওফাত পান, সেদিন আমার ঘরে অল্প যব ব্যতীত খাওয়ার উপযোগী আর কোন বস্তুই ছিল না। সেগুলো আমি একটি তাকের উপর রাখতাম এবং সেখান থেকে প্রতিদিন একটু একটু করে খেতাম। এভাবে অনেকদিন কেটে গেলো। তারপর একদিন সেগুলোর পরিমাপ করলাম। আর তা কিছুদিনের মধ্যেই সাধারণভাবে নিঃশেষ হয়ে গেলো।
এত দারিদ্র্যতা ও অভাব-অনটন লেগে থাকা সংসারটিতে ভালোবাসার কমতি ছিল না মোটেও। বরং নিয়ম করে এখানে বইতো ভালোবাসার শীতল হাওয়া। কিশোরী রোদের মতো সুখ আলোকিত করে রাখতো জীর্ণ কুটিরখানিকে। খাবারের থালা ছিল একটি। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম তার প্রিয়তমা আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহাকে নিয়ে সেই থালাতেই একসাথে বসে খাবার খেতেন। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার চিবানো হাড্ডিগুলো নবীজি আবার চিবিয়ে খেতেন। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা যেখানে মুখ লাগিয়ে পানি পান করতেন নবীজি সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম পাত্রের ঠিক সেই জায়গাটিতেই মুখ লাগিয়ে পানি পান করতেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের জীবদ্দশায় প্রিয়তমের সাথে আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা যেভাবে দারিদ্রতার কঠিন জীবনকে গ্রহণ করেছিলেন নবীজির ওফাতের পরেও তিনি তার সেই মহান ব্রতের জীবন আঁকড়ে ধরে রেখেছিলেন। বিধবা হিসেবে আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা কাটিয়েছেন জীবনের ৫০টি বছর। এই ৫০বছরে তিনি নবীজি সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের দেওয়া শিক্ষা তার জীবনে অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছেন।
নবীজি সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম কিশোরী আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহাকে ভালোবাসার পাশাপাশি দোজাহানে সফল হওয়ার জন্য বিশেষ তরবিয়াতও দান করেছিলেন। তাকে জীবনের প্রতিটি পদে পদে ভালোবাসাপূর্ণ শিক্ষা দিয়ে গড়ে তুলেছিলেন সমগ্র নারীকূলের মধ্যে অনন্যা করে। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের থেকে সদক্বা, তাকওয়া, যুহদের সর্বোচ্চ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হয়েছিলেন আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম তাকে শিখিয়েছিলেন কিভাবে দুনিয়াকে ত্যাগ করে আখেরাতের পাথেয় জোগাড় করতে হয়। নবীজি তাকে সদক্বার ব্যাপারে বলেছিলেন, হে আয়েশা! জাহান্নাম থেকে বাঁচো, এক টুকরো খেজুর সদক্বা করে হলেও। এটি একজনের ক্ষুধাকে যেমন নিবারণ করবে, তেমনি তার প্রয়োজনও পূরণ করবে। নবীজির এই কথা আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা জীবনের পুরোটা সময় নানানভাবে পালন করে গেছেন। বিধবা হওয়ার পরে উম্মুল মুমিনিন হিসেবে যে ভাতা পেতেন তা সহ বিভিন্ন সময়ে তার ঘরে আসা হাদিয়া সবই দান করে দিতেন। কখনো এমন হয়েছে দান করতে করতে হাতে আসা সবকিছুই দান করে ফেলেছেন। দিনশেষে খেতে গিয়ে দেখতেন তার ঘরে কোনরকম খাবারই নেই। প্রায়ই হাতে আসা সবকিছু দান করে নিজে খেজুর ও পানির উপর সন্তুষ্ট থাকতেন।
একবার এক অসহায় ব্যক্তি আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার কাছে সাহায্য চাইলে তিনি তার কাছে যা ছিল, সবই দিয়ে দিলেন। পরবর্তীতে তিনি পরিচিত ব্যক্তিদেরকে ঐ লোককে ডেকে নিয়ে আসতে বললেন যাকে তিনি একটু আগে সাহায্য করেছিলেন। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম এই দৃশ্য দেখে তাকে বাধা দিয়ে বললেন, দান করো এবং হিসাব করো না। তাহলে তোমার বিরুদ্ধে কোনো হিসাব নেওয়া হবে না। আরেকদিন নবীজি সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম বললেন, হে আমার পালনকর্তা! আমাকে দরিদ্রদের সাথে থাকতে দিন। আমাকে দরিদ্র হিসেবে মৃত্যু দিন এবং আমাকে দরিদ্র হিসেবেই কিয়ামতের দিন হাশর করুন। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা জিজ্ঞেস করলেন কেন, ইয়া রাসুলুল্লাহ! নবীজি সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম জবাব দিলেন, ‘কারণ দরিদ্ররা ধনীদের চেয়ে চল্লিশ বছর আগে জান্নাতে প্রবেশ করবে। হে আয়েশা! গরিব এবং অসহায়দের ভালোবাসো, নিজের কাছে রাখো। আল্লাহ কিয়ামতের দিন তোমার মর্যাদা বাড়িয়ে দিবেন।
একদিন নবীজি সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার ঘরে এলেন। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা শখ করে রূপার একটি আংটি পরেছিলেন। নবীজি তা পছন্দ করলেন না। অসন্তুষ্টচিত্তে জিজ্ঞেস করলেন, ‘এটা কী আয়েশা? ‘
আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বললেন, হে আল্লাহর রাসুল! আপনার চোখে আমাকে ভালো লাগবে ভেবে আমি এগুলো পরেছি। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম আবার জিজ্ঞেস করলেন, এগুলোর জন্য কি তুমি যাকাত দিয়েছো?
আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা জানতেন সামান্য এ গহনার জন্য যাকাত ফরয ছিল না। কিন্তু তিনি ছিলেন নবীজির প্রিয়তমা। তার পরিস্থিতি ভিন্ন। তা বুঝতে পেরে না সূচক জবাব দিলেন।
নবীজি সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম চাইতেন তার আপনজন সবাই অনাড়ম্বর জীবনযাপন করুক। এজন্য আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার জবাব শুনে বললেন, এই সামান্য ঘটনাই তাকে জাহান্নামে নিয়ে যাবার জন্য যথেষ্ট ছিল!
প্রিয়তমের এমন কথা আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার মনে গভীরভাবে আঘাত করলো। তিনি যেন বিহবল হয়ে পড়লেন। তারপর থেকে তিনি আর কখনও কোনো জিনিস, তা যত ক্ষুদ্রই হোক না কেন! নিজের কাছে রাখতেন না। দান করে দিতেন। কারণ তার কাছে দুনিয়া ও আখেরাতে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের নৈকট্য ছিল সবচেয়ে মূল্যবান জিনিস।
তথ্যসহায়িকা:
১.সহীহ বুখারি।
২.তিরমিযি।
৩.আবু দাউদ।
৪.বাইহাকি।
৫.মুসনাদে আহমাদ।
৬.তাবাকাতে ইবনে সাদ।
৭.হিলইয়াতুল আওলিয়া।
The post হুমাইরা—দিলরুবায়ে সরওয়ারে কায়েনাত (৫ম পর্ব) appeared first on Fateh24.
source https://fateh24.com/%e0%a6%b9%e0%a7%81%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%87%e0%a6%b0%e0%a6%be-%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%b2%e0%a6%b0%e0%a7%81%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a7%9f%e0%a7%87-%e0%a6%b8%e0%a6%b0%e0%a6%93%e0%a7%9f%e0%a6%be/
No comments:
Post a Comment