Friday, August 13, 2021

তালেবানের অবিশ্বাস্য শক্তির উৎস কী?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

আফগানিস্তানে তালেবানের অবিশ্বাস্য সামরিক সাফল্যের দিকে আফগান সরকার তো বটেই, পুরো বিশ্বই এখন হা হয়ে তাকিয়ে রয়েছে।

কারণ এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে এক ডজনের বেশি প্রাদেশিক রাজধানী শহর তাদের দখলে চলে গেছে। যেটা আরও বিস্ময়কর তা হলো, শহরগুলোর সাতটিই উত্তর এবং উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে।

যেখানে তালেবান অতীতে কখনোই তেমন কর্তৃত্ব করতে পারেনি। আমেরিকান অস্ত্রে সজ্জিত আফগান নিরাপত্তা বাহিনীর সংখ্যা তিন লাখের মতো।

বিমানবাহিনীও রয়েছে তাদের। অন্য দিকে তালেবান যোদ্ধার সংখ্যা ৬০ থেকে ৮০ হাজারের মতো। কোনোও ইউনিফর্ম নেই, বেশির ভাগ যোদ্ধার পায়ে জুতা পর্যন্ত নেই। কিন্তু তাদের চাপে তাসের ঘরের মতো ধসে পড়ছে আফগান বাহিনীর প্রতিরোধ।

অধিকাংশ পশ্চিমা সামরিক বিশ্লেষক এখন বলছেন, ন্যাটো বাহিনী তালেবানের কোনো ক্ষতি তো করতে পারেইনি, বরঞ্চ গত ২০ বছরের মধ্যে তালেবান এখন সবচেয়ে শক্তিধর।

প্রশ্ন উঠছে, ২০০১ সালে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে গত ২০ বছর ধরে ক্রমাগত আমেরিকা এবং ন্যাটো বাহিনীর তাড়া খেয়ে বেড়ানোর পরও তালেবান কিভাবে এই সামরিক শক্তি দেখাতে পারছে।

যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের শিক্ষক এবং আফগান রাজনীতি ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক ড. আসিম ইউসুফজাই বলেন, ‘গত ১০ বছর ধরে ধীরে ধীরে এগিয়েছে তালেবান।

তারা জানত আমেরিকা একসময় আফগানিস্তান ছাড়বেই। শুধু সময়ের অপেক্ষা করছিল তারা।’ তিনি আরও বলেন, আমেরিকানদের কৌশল ছিল আফগানিস্তানের প্রধান শহরগুলোকে কব্জায় রাখা।

কিন্তু শহরের বাইরে গ্রামগঞ্জ তালেবানের নিয়ন্ত্রণে থেকে গিয়েছিল। তারপর একসময় যখন আমেরিকা নিরাপত্তার দায়িত্ব আফগান সেনাবাহিনীর ওপর ছেড়ে দিতে শুরু করল, তালেবান তখন আস্তে আস্তে শহরগুলো নিশানা করতে শুরু করে।

এরপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট বাইডেন যখন হঠাৎ ১১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সমস্ত আমেরিকান সৈন্য প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত জানান, তখন থেকে আফগান নিরাপত্তা বাহিনীর ঘুম হারাম করে দিয়েছে তালেবান। গত দুই মাসে ঝড়ের গতিতে দেশের অর্ধেকেরও বেশি জেলা দখলের পর গত এক সপ্তাহ ধরে পতন হচ্ছে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ প্রাদেশিক রাজধানী শহর।

ড. ইউসুফজাই মনে করছেন, রণকৌশলে খুবই বিচক্ষণতার পরিচয় দিচ্ছে তালেবান। জাতিগত পশতুন অধ্যুষিত দক্ষিণ এবং পূর্বের বদলে তারা শক্তি নিয়োগ করেছে উত্তর এবং উত্তর-পশ্চিমের প্রদেশগুলোতে, যেখানে সরকারি বাহিনী এবং সরকার সমর্থিত মিলিশিয়াদের শক্তি বেশি।

ইউসুফজাইয়ের কথায়, ‘তালেবান জানে দক্ষিণ এবং পূর্বের এলাকাগুলো থেকে তারা যে কোনো সময় সহজে সরকারি সৈন্যদের তাড়াতে পারবে। সুতরাং তাদের টার্গেট এখন এমন এমন জায়গা যেখানে কাবুল সরকারের শক্তি বেশি।’

যেভাবে আফগান সেনাবাহিনীর প্রতিরোধ দ্রুত ভেঙে পড়ছে, তাতে হাজার হাজার কোটি ডলার ব্যয়ে প্রতিষ্ঠিত এই বাহিনীর শক্তি, প্রশিক্ষণ এবং এর ভবিষ্যৎ অস্তিত্ব প্রশ্নের মুখে পড়েছে। গত দুমাস ধরে হাজার হাজার আফগান সৈনিক লড়াই না করেই তালেবানের হাতে অস্ত্র, যানবাহন, রসদ তুলে দিয়ে ইউনিফর্ম খুলে চলে যাচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়াতে অনেক ভিডিও পোস্টে দেখা গেছে, আত্মসমর্পণের পর অনেক সৈনিক তালেবান যোদ্ধাদের আলিঙ্গন করছে।

তালেবান তাদের পকেটে কিছু টাকা গুজে দিয়ে বাড়িতে চলে যেতে বলছে। মাসখানেক আগে এক হাজারেরও বেশি সরকারি সৈন্য দল ত্যাগ করে প্রতিবেশী তাজিকিস্তানে পালিয়ে যায়। তালেবান যখন ক্ষমতায় ছিল তখনো তাজিকিস্তানের সীমান্তবর্তী বাদাখশানে তারা ঢুকতে পারেনি। অথচ সেই প্রদেশ এখন তাদের দখলে।

এছাড়া, তাখার, কুন্দুজ এবং জারাঞ্জের মতো প্রদেশ, যেখানে পশতুনরা সংখ্যাগরিষ্ঠ নয়, সেগুলোও যেভাবে তেমন বড় কোনো প্রতিরোধ ছাড়াই তালেবান দখল করেছে, তা বিস্ময় সৃষ্টি করেছে। ড. ইউসুফজাই বলছেন, তালেবান মূলত জাতিগত পশতুন এবং কট্টর সুন্নি ওয়াহাবি ভাবধারার একটি গোষ্ঠী হিসাবে পরিচিত হলেও গত কয়েক বছর ধরে তারা আফগানিস্তানের অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীকে কাছে টানার চেষ্টা করছে।

তালেবানের সেই চেষ্টা যে ফল দিচ্ছে, বাদাখশানের মতো তাজিক অধ্যুষিত প্রদেশ কব্জা করার ঘটনা তারই ইঙ্গিত। আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক গবেষণাধর্মী মার্কিন সাময়িকী ফরেন পলিসির সাম্প্রতিক এক অনুসন্ধানী রিপোর্ট বলছে, হতাশ তাজিক, তুর্কমেন এবং উজবেক গোষ্ঠী নেতাদের অনেকেই তালেবানে যোগ দিচ্ছে।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

The post তালেবানের অবিশ্বাস্য শক্তির উৎস কী? appeared first on Fateh24.



source https://fateh24.com/%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a7%87%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%85%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%b6%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%af-%e0%a6%b6%e0%a6%95%e0%a7%8d/

No comments:

Post a Comment