[হযরত মাওলানা সাইয়িদ আবুল হাসান আলি নদবি (র)-এর জীবন ও কর্মের সংক্ষিপ্ত বিবরণ]
মূল : মুহাম্মাদ হাসান আনসারি
তর্জমা : মওলবি আশরাফ
জীবনপঞ্জি :
৫ই ডিসেম্বর ১৯১৩ : জন্মগ্রহণ।
২ই ফেব্রুয়ারি ১৯২৩ : পিতার ইন্তেকাল।
১৯২৫ : শায়খ খলিল আরব সাহেবের কাছে আরবি ভাষার পাঠগ্রহণ।
১৯২৯ : লাখনৌ ইউনিভার্সিটি থেকে ডিগ্রি সমাপন। সাহিত্য বিভাগে স্বর্ণপদক পান।
লাহোরে আল্লামা ইকবালের সাথে প্রথম সাক্ষাৎ।
১৯৩০ : মাওলানা আহমদ আলি লাহোরির কাছে তাফসিরের পাঠগ্রহণ। তার শায়খ মাওলানা গোলাম মুহাম্মদ দীনপুরির হাতে বায়আত গ্রহণ।
ময়দানপুর মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন।
১৯৩২ : কোরআন শিক্ষা সম্পন্ন এবং দেওবন্দে মাওলানা হুসাইন আহমদ মাদানির ‘দরসে হাদিসে’ অংশগ্রহণ।
১৯৩৪ : দারুল উলুম নদওয়াতুল উলামায় তাফসির ও সাহিত্যের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্তি।
নভেম্বরে মামাতো বোনের সাথে বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন।
১৯৩৫ : অক্টোবরে ড. অম্বেদকরের সাথে সাক্ষাৎ এবং তাকে ইসলামের দাওয়াত দেওয়া।
১৯৩৬ : মে মাসে ‘সিরাতে সাইয়িদ আহমদ শহীদ’ রচনা শুরু।
১৯৩৭ : লাহোর সফর এবং আল্লামা ইকবালের সাথে দীর্ঘ সাক্ষাৎ।
পাটনা ও মাদ্রাস (চেন্নাই) সফর।
১৯৩৯ : ‘সিরাতে সাইয়িদ আহমদ শহীদ’ রচনা সমাপ্ত।
১৯৪০ : জামাআতে ইসলামিতে যোগদান।
১৯৪২ : দিল্লির জামিয়া মিল্লিয়ায় ‘ধর্ম ও সভ্যতা’ বিষয়ক প্রবন্ধ পাঠ।
১৯৪৩ : টঙ্ক সফর এবং তাবলিগ জামাতের মাওলানা ইলিয়াস কান্ধালবির নৈকট্যলাভ।
জামাআতে ইসলামি ত্যাগ করে ‘ইদারায়ে তালিমাতে ইসলাম’ প্রতিষ্ঠা।
১৯৪৪ : পেশোয়ার, বালাকোট, মানেরি, পঞ্জতার, হুন্ড ও টঙ্ক সফর।
‘মুসলিম উম্মাহর পতনে বিশ্ব কী হারালো’ রচনা।
১৯৪৬ : মাওলানা আবদুল কাদির রায়পুরির সাথে সম্পর্ক স্থাপন। মাওলানা রায়পুরির তাকিয়াকেলাঁ রায়বেরেলি আগমন ও অবস্থান।
১৯৪৭ : হজের উদ্দেশে বায়তুল্লাহ সফর।
১৯৪৮ : দারুল উলুম নদওয়ার সাংগঠনিক অধিবেশন মূলনীতি ‘নিশান রাহ’ প্রণয়ন।
১৯৫০ : হেজাজ সফর।
১৯৫১ : মিশর ও সুদান সফর।
‘মুসলিম উম্মাহর পতনে বিশ্ব কী হারালো’ জনপ্রিয়তার তুঙ্গে ওঠে।
দামেশকে ‘ফিলিস্তিন প্রশ্নে’ বক্তব্য দান।
১৯৫২ : ‘মধ্যপ্রাচ্যে কী দেখেছি’ শিরোনামে অল ইন্ডিয়া রেডিয়োতে ধারাবাহিক আলোচনা।
১৯৫৩ : লাখনৌতে তাবলিগ জামাতের কেন্দ্রে অবস্থান।
১৯৫৪ : দেওবন্দে ‘ইলমে নববির ছাত্রদের মর্যাদা’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন।
১৯৫৬ : দামেশকে সম্মেলন ও তুর্কি সফর।
১৯৫৮ : ‘কাদিয়ানি মতবাদ খণ্ডন’ ও ‘মাওলানা ফজলে রহমান গঞ্জে মুরাদাবাদির স্মৃতি’ রচনা।
১৯৬০ : বার্মা সফর।
১৯৬১ : বন্যার সময় ময়দানপুর অবস্থান।
‘সংগ্রামী সাধকদের ইতিহাস’ প্রথম খণ্ড রচনা সমাপন।
পিতৃতুল্য বড় ভাই ড. মাওলানা হাকিম সাইয়িদ আবদুল আলির ইন্তেকাল।
১৮ জুন নদওয়াতুল উলামার পরিচালক নির্বাচিত হন।
১৯৬২ : মাওলানার পীর ও মুর্শিদ মাওলানা আবদুল কাদির রায়পুরির ইন্তেকাল।
লাহোর সফর।
জামেয়া ইসলামিয়া মদিনা মুনাওয়ারায় অবস্থান।
১৯৬৩ : স্পেনের গ্রানাদা সফর।
লন্ডন ইউনিভার্সিটিতে বক্তব্য দান।
১৯৬৫ : মিরাঠ সফর। এই সফরে হঠাৎ বাম চোখ (যে-চোখে অপারেশন হয়েছিল) অন্ধ হয়ে যায়।
১৯৬৬ : ‘আরকানে আরবাআ’ রচনা।
১৯৬৭ : হেজাজ সফর ও তায়েফে গাড়ি দুর্ঘটনা।
১৯৬৮ : মা খায়রুন্নেসা বেহতরের ইন্তেকাল।
কুয়েত সফর।
১৯৬৯ : লন্ডন সফর।
১৯৭১ : সীতাপুরে চোখের অপারেশন।
১৯৭৪ : ‘তাহরিকে পয়ামে ইনসানিয়াত’ প্রতিষ্ঠা।
১৯৭৫ : দারুল উলুম নদওয়াতুল উলামার ৮৫ বছর পূর্তি উদযাপন।
১৯৭৬ : আগস্টের ২৫ তারিখ প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর সাথে সাক্ষাৎ। দেশীয় রাজনীতিতে পরিবারতন্ত্রের বাড়াবাড়ি এবং তার ফলে বিরাজমান পরিস্থিতি বিষয়ে আলোচনা। তারপর প্রধানমন্ত্রীকে ঐতিহাসিক চিঠি প্রদান।
১৯৭৭ : যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মরক্কো সফর।
চোখের সাকসেসফুল অপারেশন।
১৯৭৮ : পাকিস্তানে ইউনাইটেড ইসলামিক এশিয়া কনফারেন্সে অংশগ্রহণ।
১৯৭৯ : প্রাণপ্রিয় ভাতিজা মাওলানা মুহাম্মদ হাসানির ইন্তেকাল।
১৯৮০ : ইলমি ও আমলি খেদমতের কারণে ‘কিং ফয়সাল অ্যাওয়ার্ড’ প্রাপ্তি।
১৯৮১ : কাশ্মীর ইউনিভার্সিটি থেকে ডি লিট ডিগ্রি প্রদান।
১৯৮৩ : ইংল্যান্ডের অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে ‘ইসলামিক সেন্টার’ স্থাপন।
কারওয়ানে জিন্দেগি (প্রথম খণ্ড) রচনা।
১৯৮৪ : বাংলাদেশ সফর।
১৯৮৫ : আসাম সফর।
এপ্রিলে অল ইন্ডিয়া পারসোনাল ল বোর্ডের কনফারেন্সে বক্তব্য দান।
অক্টোবরে অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির ইসলামিক সেন্টারের উদ্বোধন।
দ্বিতীয় দফা প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ।
‘আস সিরাতুন নববিইয়াহর’ ওপর পাকিস্তানি অ্যাওয়ার্ড।
১৯৮৬ : তুর্কি সফর।
১৯৮৭ : মালয়েশিয়া, লন্ডন ও মক্কা মুকাররমা সফর।
রাবেতায়ে আলমে ইসলামির সিলভার জুবিলি পূর্তিতে অংশগ্রহণ।
১৯৮৮ : আন্দোর ও ভাটকল সফর ও পয়ামে ইনসানিয়াতের সভা সম্মেলন।
১৯৮৯ : তুর্কি ও হায়দ্রাবাদ সফর।
কাল হিন্দি দীনি তালিমি কনভেনশনের ভিত্তি স্থাপন।
জীবনসঙ্গিনীর ইন্তেকাল।
১৯৯০ : উত্তর প্রদেশ অ্যাকাডেমি থেকে ‘আবুল কালাম আজাদ অ্যাওয়ার্ড’ পান।
১৯৯১ : ভূপালে ‘রাবেতায়ে আদবে ইসলামির’ সপ্তম অধিবেশন।
দিল্লিতে অল ইন্ডিয়া পারসোনাল ল বোর্ডের বৈঠক।
আন্দোর ও মন্ডু সফর।
ইংল্যান্ড সফর।
ভাটকাল ও বেঙ্গালুরুতে পয়ামে ইনসানিয়াতের দুটি গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলন।
১৯৯২ : মুরাদাবাদে দীনি তালিমি কনফারেন্স।
নেপাল সফর।
শায়খ আবদুল ফাত্তাহ আবু গুদ্দাহ’র নদওয়ায় আগমন।
১৯৯৩ : জানুয়ারিতে কায়সারবাগ বারাহদারিতে পয়ামে ইনসানিয়াতের বিশাল সম্মেলন।
প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ।
ফেব্রুয়ারিতে গভর্মেন্ট ইন্টার কলেজ রায়বেরেলিতে পয়ামে ইনসানিয়াতের সম্মেলন।
তুর্কি, লন্ডন, শিকাগো ও নিউইয়র্ক সফর। ইস্তাম্বুলে ‘রাবেতায়ে আদবে ইসলামির’ আন্তর্জাতিক সেমিনার। অক্সফোর্ডে ইসলামি ইতিহাস ও সভ্যতার মানচিত্র তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ। শিকাগোতে আন্তঃধর্মীয় কনফারেন্সে অংশগ্রহণ।
হেজাজ সফর ও উমরা পালন।
অল ইন্ডিয়া পারসোনাল ল বোর্ডের জয়পুরে বৈঠক।
অক্টোবরে উজবেকিস্তান সফর।
তাশকন্দ ও বুখারায় বক্তব্য প্রদান।
১৯৯৪ : বাংলাদেশে ‘রাবেতায়ে আদবে ইসলামির’ সেমিনারে অংশগ্রহণ।
লন্ডন, মরক্কো ও হেজাজ সফর।
১৯৯৫ : দক্ষিণ ভারতে দীর্ঘ সফর।
মার্চে মজলিসে তাহকিকাত ও নাশরিয়াতের সভা।
দোহা (কাতার), নাগপুর, গাজিপুর ও হেজাজ সফর।
বোন আমাতুল আজিজের ইন্তেকাল।
১৯৯৬ : ইস্তাম্বুল, লন্ডন ও হেজাজে দীর্ঘ সফর।
ড. ইউসুফ আল কারদাউয়ির নদওয়া আগমন ও বক্তব্য প্রদান।
ডিসেম্বরে মক্কা সফরে মাওলানার সম্মানে কা’বা শরিফের দরোজা খোলা এবং তাতে প্রবেশের সৌভাগ্য লাভ।
১৯৯৮ : গোরাব্রাহ্মতে পয়ামে ইনসানিয়াতের সম্মেলন।
দুবাইয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিশ্বব্যাপী ইসলামের দাঈ ও ইসলামি ব্যক্তিত্ব অ্যাওয়ার্ড পান।
ওমান ও হারমাইন শরিফাইন সফর।
মুসলিমদের বন্দেমাতরম ও সরস্বতী বন্দনা বাধ্যতামূলক করার বিরুদ্ধে আন্দোলন।
১৯৯৯ : দক্ষিণ ভারতে সফর। সফর থেকে ফেরার পর কঠিন অসুস্থতা।
সুলতান ব্রুনাই অ্যাওয়ার্ড লাভ।
৩১ ডিসেম্বর ১৯৯৯ : বিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে লাগাতার ইসলামের খেদমত আঞ্জাম দিয়ে শুক্রবার জুমআর নামাজের প্রস্তুতিকালে মাওলানা আবুল হাসান আলি নদবি ইন্তেকাল করেন। ইন্না লিল্লাহি ও ইন্না ইলাইহি রজিউন।
The post আলোর পথের রাহবার (শেষ পর্ব) appeared first on Fateh24.
source https://fateh24.com/%e0%a6%86%e0%a6%b2%e0%a7%8b%e0%a6%b0-%e0%a6%aa%e0%a6%a5%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%b6%e0%a7%87%e0%a6%b7-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac/
No comments:
Post a Comment