Friday, October 15, 2021

হুমাইরা—দিলরুবায়ে সারওয়ারে কায়েনাত। (৮ম পর্ব)

সুমাইয়া মারজান:

প্রেমাস্পদের আনুগত্যে অনন্যা

আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার ঘরে কয়েকদিন ধরে কোনরকম খাবার নেই। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম ও আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা দুজনেই পানি খেয়ে দিন গুজরান করছেন।

এমন সময় একজন সাহাবি আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার ঘরে এলেন হাদিয়া নিয়ে । নবীজির জন্য কয়েকটি খেজুর নিয়ে এসেছেন। সামান্যই খেজুরের পরিমাণ। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা নবীজির তরফ থেকে হাদিয়া গ্রহণ করলেন। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম ঘরে ছিলেন না। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা নবীজির জন্য অপেক্ষা করতে লাগলেন। নবীজি ঘরে এলে দুজনে একসাথে খাবেন। প্রিয়তমের সঙ্গে বসে সামান্য আহারও দুনিয়ার সকল তৃপ্তি এনে দেয় মনে।

নবীজি সারাদিনের দায়িত্ব পালন করে ঘরে এলেন। ক্ষুধায় মুখখানা মলিন হয়ে আছে। কেবল পানির উপরে বেঁচে থাকা মানুষের অবস্থা তো আর বর্ণনা করার মতো কিছু নেই।

নবীজিকে দেখে আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার মন কেঁদে উঠলো। চোখের পাতা ভারি হয়ে এলো অশ্রুজলে। জলদি করে একটা পেয়ালায় করে হাদিয়ার খেজুরগুলো নিয়ে এলেন। কয়েকদিনের উপবাসের পর নবীজি খেজুরগুলো দেখে খুশি হলেন। আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করে খাওয়া শুরু করলেন। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা নবীজি সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের পাশে বসে খাওয়া দেখতে লাগলেন। নবীজির চেহারায় তৃপ্তির ছায়া দেখতে পেয়ে আনন্দে ভরে উঠলো তার মন। নবীজি ক্ষুধার তাড়নায় আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা খেয়েছেন কী না তা জিজ্ঞেস করতে ভুলে গেছেন। মনে পড়লো যখন ততক্ষণে তার খেজুরও শেষ।

আয়েশা, তুমি কি খেজুর খেয়েছো? আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার চেহারায় প্রিয়তমের তৃপ্তির জন্য ফুটে উঠা আনন্দের ছাপ তখনও বিদ্যমান। মনের করিডোরে গড়াগড়ি করছে খুশির রোদ্দুর। ঠোঁটে স্নিগ্ধ হাসির রেখা তুলে বললেন,হে আল্লাহর রাসুল, আমাকে নিয়ে ভাববেন না! আল্লাহ ও তার রাসুলের সন্তুষ্টিই আমার জন্য যথেষ্ট।

আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার কথা শুনে নবীজি বুঝতে পারলেন আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা একটি খেজুরও খাননি। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামকে ভালোবেসে নিজে ক্ষুধা সহ্য করেছেন। প্রিয়তমার এমন আত্মত্যাগ নবীজি সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামকে বিহ্বল করে তুললো। নবীজি অভিভূত হয়ে গেলেন। সঙ্গে সঙ্গে দুহাত তুললেন আল্লাহর দরবারে। দোয়া করলেন, হে আল্লাহ! আয়েশা আজকে যে ধৈর্যের পরিচয় দিলো, তুমি তাকে এর সর্বোচ্চ বিনিময় দান করো। নবীজির দোয়ার মাঝে আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা অনুরোধ করলেন, হে আল্লাহর রাসুল! আপনি শুধু দোয়া করুন যেন আমি বেহেশতেও আপনার স্ত্রী হয়ে থাকতে পারি।

নবীজি প্রিয়তমার দিকে কতক্ষণ তাকিয়ে রইলেন। সে চাউনিতে কেবলই প্রেম আর মুগ্ধতা! বললেন—আয়েশা, তুমি যদি বেহেশতে আমার নৈকট্য চাও তবে ইবাদতগুজার এবং ধৈর্যশীলদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাও। আগামীকাল কী খাবে এই চিন্তা কখনোই করো না। আজ ঘরে যা আছে তা-ই আল্লাহর রাস্তায় সদকা করে দাও।

পরকালেও প্রিয়তমের সান্নিধ্য পাওয়ার আশায় আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা নবীজি সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের একথা আমৃত্যু পালন করে গেছেন। এমনভাবেই ত্যাগ করেছিলেন দুনিয়াকে যে, হাজার দিরহাম হাতে পেয়ে সাথে সাথে তা দান করে ঘরে এসে খাবারও পাননি।

একবার এক ইহুদি এল নবীজি সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের সাথে সাক্ষাৎ করতে। নবীজিকে সালাম দেওয়ার পরিবর্তে সে বললো, আল্লাহ আপনার মৃত্যু দান করুক। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা পাশেই ছিলেন। ইহুদির কথাটা শুনে সাথে সাথে দাঁড়িয়ে গেলেন। তার মনে জ্বলে প্রতিশোধ। আমার প্রিয়তমের মৃত্যু কামনা করে! রাগে অগ্নিশর্মা হয়ে তার সামনে আঙ্গুল তুলে বললেন,তুমি কে হে! আল্লাহর রাসূলের মৃত্যু কামনা করছো! তোমার ওপর বরং অভিশাপ পতিত হোক! তোমার মৃত্যু হোক।

আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার এমন রুদ্রমূর্তি দেখে ইহুদি ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেলো। নবীজি উঠে দাঁড়িয়ে আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহাকে শান্ত করার চেষ্টা করে বললেন, আয়েশা, শান্ত হও। আমাদের পরম বন্ধু আল্লাহ তাআলা। তিনি সব বিষয়ে আমাদের উপর রহম করতে ভালোবাসেন। তবে যারা মন্দ আচরণ করে, তাদের উপর তিনি কোনো রহমত বর্ষণ করেন না।

সাফিয়্যা রাদিয়াল্লাহু আনহা চমৎকার রান্না করতে পারতেন। নবীজি যেদিন তার সঙ্গে থাকতেন, সেদিন তিনি ভালো কিছু রান্না করে খাওয়ানোর চেষ্টা করতেন। আর নবীজি সবসময়ই তার রান্নার গুণমুগ্ধ ছিলেন। এ কারণে নবীজি অন্য স্ত্রীদের ঘরে থাকলেও তিনি ভালো কিছু রান্না করলে নবীজির জন্য পাঠাতেন।

এমনই একদিন নবীজি আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার ঘরে ছিলেন। সেদিন সাফিয়্যা রাদিয়াল্লাহু আনহা বোধহয় তার ঘরে ভালো কিছু রান্না করেছিলেন। তিনি দাসীকে দিয়ে একটা পাত্রে করে আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার ঘরে নবীজির জন্য তা পাঠালেন। দাসী তা আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার ঘরে নিয়ে গেলো। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার কাছে তা পেশ করায় তিনি অপমানিত বোধ করলেন যেন। কারণ এমনিতেই তিনি নবীজির ভালোবাসার ভাগ কাউকে দিতে চাইতেন না। তার উপর বয়েসের স্বল্পতার কারণে অভিমানসুলভ অন্তর্জ্বালার পারদটাও ছিল তীব্রতর! তিনি দাসীর হাত থেকে খাবারের পাত্রটা নিয়ে এমনভাবে ছুড়ে মারলেন, মাটির পাত্র ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে গেলো।

সারা মেঝেতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়লো টুকরোগুলো। সাফিয়্যা রাদিয়াল্লাহু আনহার দাসী ও নবীজি সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম দুজনেই আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার এহেন কর্মকাণ্ডে হতভম্ব হয়ে গেলেন। নবীজি আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহাকে কিছু বললেন না। বসা থেকে উঠে গিয়ে আস্তে আস্তে টুকরোগুলো জড়ো করতে লাগলেন। সাফিয়্যা রাদিয়াল্লাহু আনহার দাসীকে উদ্দেশ্য করে বললেন, দেখেছো তোমার আম্মাজানের রাগ ! সাফিয়্যা রাদিয়াল্লাহু আনহার দাসীকে বুঝিয়ে বিদায় করলেন নবীজি।

একটুপর আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার রাগ কমে এলো। চিন্তা করার মতো মেজাজ ঠিক হয়ে এলে বুঝতে পারলেন একটু আগে করা তার কাজটা ঠিক ছিল না। তিনি তার ভুল বুঝতে পেরে অনুতপ্ত হলেন। অনুশোচনায় দগ্ধ হয়ে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞেস করলেন, তার এই ভুলের ক্ষতিপূরণ কী হতে পারে? নবীজি সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম হেসে দিলেন। বললেন, এমন একটা পাত্র এবং এমন খাবারই তাকে ফিরিয়ে দিতে পারো।

নবীজির কথা শুনে আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা এমন একটা পাত্র জোগাড় করে সাফিয়্যা রাদিয়াল্লাহু আনহাকে ফিরিয়ে দেন এবং নিজের রাগের জন্য অনুশোচনা প্রকাশ করেন।

আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের অভ্যাস ছিল যখনই তিনি ঘরে আসতেন, উচ্চস্বরে এই কথাগুলো বলতেন, আদম সন্তান যদি এমন দুটো ময়দানের মালিক হয়ে যায় যা সম্পদে ভরপুর তবে সে তৃতীয় আরেকটির কামনা করবে। মাটি ছাড়া আর কিছুতেই তার মুখ ভরবে না। অথচ আল্লাহ বলেন—আমি তো সম্পদ দিয়েছি শুধুমাত্র আমার স্মরণের জন্য এবং অভাবীকে সাহায্য করার জন্য। যে তওবা করবে আল্লাহ তার তওবা গ্রহণ করেন। নবী পরিবারের কারোর যেন দুনিয়ার প্রতি মোহ সৃষ্টি না হয় তাই প্রতিদিনই বারবার করে বলতেন। বুদ্ধিমত্তা, প্রতুৎপন্নমতিতা, প্রজ্ঞায় অদ্বিতীয়া তো ছিলেনই। স্বামীর আনুগত্যের দিক থেকেও ছিলেন অতুলনীয়। নয় বছরের সংসারজীবনে নবীজির একটি কথাও অমান্য করেননি। এমনকি যে ব্যাপারে বুঝতেন নবীজি সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের কাছে এই ব্যাপারটা অপ্রীতিকর সেটাকেও সাথে সাথে পরিত্যাগ করতেন। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের মনোতুষ্টির জন্য শখ করে একবার একজোড়া স্বর্ণের চুড়ি পরেছিলেন। নবীজি ঘরে এসে আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার হাতে চুড়ি দুটি দেখে একটু অপছন্দ করলেন যেন। বললেন, আয়েশা, তুমি কি চাও আমি তোমাকে এর চেয়ে ভালো কোনো পদ্ধতি বলে দিবো? তুমি যদি স্বর্ণের চুড়ি দুটি দান করে তার বদলে রুপার চুড়িতে সেফরন রং মেখে নাও, তাহলে সেটাই তোমার জন্য উত্তম হবে। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা নবীজির কথা শুনে আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা কোনরকম বাক্যব্যয় না করে তা-ই করলেন। আরেকদিন তিনি হাতের আঙুলে একটি রুপার আংটি পরেছিলেন। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম ঘরে এসে আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার হাতে আংটিটি দেখে জিজ্ঞেস করলেন, আয়েশা, তুমি এটা কী পরেছো? আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা নবীজির কথায় যেন খানিকটা অপছন্দের সুর আঁচ করতে পারলেন। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা জিজ্ঞেস করলেন, আমি এটা পরেছি আপনার চোখে আমাকে ভালো লাগার জন্য। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম বললেন,এই গয়না যে পরেছো তুমি কি এগুলোর জাকাত দিয়েছো? আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বুঝতে পারলেন নবীজি তার আংটি পরার ব্যাপারটা অপছন্দ করেছেন। তিনি আংটিটা খুলে দান করে দিলেন।

একবার খুব শখ করে দরজায় একটা পর্দা লাগিয়েছেন। পর্দাটায় ছবি আঁকা ছিল। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম ঘরে প্রবেশ করার সময় তার চোখে পড়লো পর্দাটা। যা দেখে নবীজির চেহারায় ফুটে উঠে অসন্তুষ্টির ছাপ। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা তা আঁচ করতে পেরে নবীজিকে তার ভুল জিজ্ঞেস করলেন। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম বললেন, যে ঘরে কোন প্রাণীর ছবি সে ঘরে রহমতের ফেরেশতা প্রবেশ করেন না। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা তা জানতে পেরে সাথে সাথে পর্দাটা খুলে ফেললেন।

এক সাহাবির ওলীমায় আপ্যায়ন করার মতো কোন খাবার নেই। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম বললেন, যাও আয়েশাকে বলো ঘরে খাবার যা আছে সব পাঠিয়ে দিতে। একজন সাহাবি এসে আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহাকে তা বললেন। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা ঘরে যা ছিলেন তা-ই সাহাবির হাতে দিয়ে দিলেন। অথচ সন্ধ্যা নামলে যে মুখে কিছু দিবেন তেমন খাবারও ছিল না।

আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের কাছে জিহাদ করার অনুমতি চেয়েছিলেন। নবীজি বলেছিলেন হজ্বই নারীর জিহাদ। এরপর থেকে তিনি এত পাবন্দির সাথেই ব্যাপারটা নিয়েছিলেন যে, মৃত্যুর আগ পর্যন্ত প্রতিবছর হজ্ব করে গেছেন।

একবার আরাফার দিন প্রচণ্ড গরম পড়েছিলো। এতই বেশি যে বারবার মাথায় পানি ঢালতে হচ্ছিলো। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা সেদিন রোজা রেখেছিলেন। অনেকে বললো, আপনি এই প্রচণ্ড গরমেও রোজা রেখেছেন! রোজা ভেঙে ফেলুন। তিনি বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের মুখে শুনেছি, আরাফার দিন রোজা রাখলে সারা বছরের গোনাহ মাফ হয়। কেমন করে আমি রোজা ভাঙি!

আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার ঘরে মাত্র একটি কম্বল ছিল। একটি কম্বলের নিচে দুজন ঘুমাতেন। বসার গদি, জায়নামাজ সব কাজেই কম্বলটি ব্যবহৃত হতো। একবার এক আনসারি মহিলা আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার ঘরে এসে কম্বলের এমন অভাব বুঝতে পেরে বাড়ি ফিরে গিয়ে উলের তৈরি একটি মাদুর এনে আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহাকে হাদিয়া দিলেন। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম ঘরে এসে মাদুরটি দেখে জিজ্ঞেস করলেন, আয়েশা, এটা কী? আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বললেন, হে আল্লাহর রাসুল! এক আনসারি মহিলা আপনার বিছানার অবস্থা দেখে এটি হাদিয়া দিয়ে গেছেন। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম ব্যাপারটা পছন্দ করলেন না। বললেন, এটা ফেরত দিয়ে দাও। সেই সত্তার কসম, যার হাতে মুহাম্মদের প্রাণ! আমি যদি চাইতাম তাহলে আল্লাহ পাহাড়কে আমার অধীন করে দিতেন এবং যখন আমি চাইতাম তা সোনা-রুপায় পরিণত হয়ে যেতো।

এভাবেই নবীজি সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহাকে তিলে তিলে যুহদ, তাক্বওয়ার পরশপাথর হিসেবে গড়ে তুলছিলেন।

প্রিয়তমাকে ভালোবাসার সম্পূর্ণটুকু দেওয়ার পাশাপাশি তার তরবিয়াতের প্রতিও নবীজির ছিল সজাগ দৃষ্টি। তাকে তারবিয়াতের মাধ্যমে উম্মাহর শ্রেষ্ঠ রমণী হিসেবে গড়ে তুলেছেন। ইবাদত, দুআ, দান করা, যুহদ, তাক্বওয়া, সহনশীলতা, আকীদা, গাইরাহ এইসব বিষয়ে নবীজি তাকে শিক্ষা দিয়েছিলেন পূর্ণাঙ্গভাবে। ফলে আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা গড়ে উঠেছিলেন এমন উম্মাহাতুল মুমিনীন হিসাবে যিনি অনুসরণীয় হয়ে রয়েছেন শতাব্দীর পর শতাব্দী। নবীজি যেমন তাকে শিখাতে চেয়েছেন তিনিও নবীজিকে ভালোবেসে তার প্রতিটি আদেশ-নিষেধ অক্ষরে অক্ষরে আমৃত্যু পালন করে গেছেন। এজন্যই তিনি হতে পেরেছেন শ্রেষ্ঠতম মহামানবের দিলরুবা!

তথ্যসহায়িকা :

১.সহীহ বুখারী।
২.সহীহ মুসলিম।
৩.তিরমিযী।
৪.তাবাকাতে ইবনে সাদ।
৫.সিয়ারু আলামিন নুবালা।
৬.মুসতাদরাকে হাকিম।
৭.মুসনাদে আহমাদ।

The post হুমাইরা—দিলরুবায়ে সারওয়ারে কায়েনাত। (৮ম পর্ব) appeared first on Fateh24.



source https://fateh24.com/%e0%a6%b9%e0%a7%81%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%87%e0%a6%b0%e0%a6%be-%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%b2%e0%a6%b0%e0%a7%81%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a7%9f%e0%a7%87-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%93%e0%a7%9f-6/

No comments:

Post a Comment