ফাতেহ ডেস্ক:
ইজরাইলের সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে সম্পর্কের স্বাভাবিককরণে ঠেলে দিয়ে এখন সৌদি আরব নিজে পিছিয়ে যাচ্ছে। এ ধরনের ইঙ্গিত পেয়ে হতাশা ইজরায়েল শিবিরে। এর পেছনে সৌদি বাদশাহ সালমান ও যুবরাজ মোহাম্মদের মতভেদই প্রধান কারণ। বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়।
মঙ্গলবারের এ প্রতিবেদনে বলা হয়, গত দুদিনে সৌদি রাজপরিবারের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দুই সদস্যের মুখে ইজরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে যা শোনা গেছে তাতে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন ইজরায়েলি নেতারা। সৌদি আরব পিছিয়ে গেলে বাকি আরব দেশগুলোর সঙ্গে স্বাভাবিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ কী দাঁড়াবে তা নিয়েই উদ্বেগ।
নভেম্বরে সৌদি আরবের নিওম শহরে ইজরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের মধ্যে গোপন এক বৈঠকের পর পর্যবেক্ষকেরা বলতে শুরু করেন যে সৌদি আরব-ইজরাইল কূটনৈতিক সম্পর্ক এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। এ ছাড়া ইসরায়েলের জন্য আকাশ পথও খুলে দেয় দেশটি।
যদিও সৌদি আরব বৈঠকের কথা অস্বীকার করেছে, কিন্তু ইজরাইল সরকারের মৌনতা এবং পশ্চিমা গোয়েন্দাদের ইঙ্গিতের ভিত্তিতে প্রায় সবাই নিশ্চিত যে বৈঠকটি হয়েছিল।
এ দিকে বাহরাইনের রাজধানী মানামায় মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা নিয়ে এক সম্মেলনে যোগ দিতে গিয়ে শনিবার সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সল বিন ফারহান এক সাক্ষাৎকারে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে যে সব কথা বলেন— তাতে সৌদি মনোভাব নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
প্রিন্স ফয়সল বলেন, স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র না হলে ইজরাইলের সঙ্গে সৌদি আরবের স্বাভাবিক সম্পর্ক হবে না। এ ব্যাপারে তাদের অবস্থান শক্ত।
“সৌদি আরব এ নিয়ে খুব স্পষ্ট যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে চাইলে ফিলিস্তিন বিরোধ সমাধান করতে হবে, ২০০২ সালে আরব শান্তি পরিকল্পনা অনুযায়ী স্বাধীন টেকসই একটি ফিলিস্তিন রাষ্ট্র হতে হবে।”
আরও বলেন, “ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনিদের বিরোধ না মিটলে এই অঞ্চলে সত্যিকারের শান্তি ও স্থিতিশীলতা আসবে না।“
২০০২ সালে সৌদি উদ্যোগে ওই শান্তি পরিকল্পনায় বলা হয়েছে – ১৯৬৭ সালের যুদ্ধে অধিকৃত ফিলিস্তিন ভূমি ইসরায়েলকে ছেড়ে দিতে হবে, এবং পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠন করতে হবে। ইসরায়েল সব সময় এই পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের যুক্তি এতে তাদের নিরাপত্তা দারুণভাবে বিঘ্নিত হবে।
বাহরাইনে ওই সম্মেলনে আরও আক্রমণাত্মক কথা বলেছেন সৌদি সাবেক গোয়েন্দা প্রধান এবং রাজপরিবারে প্রভাবশালী সদস্য প্রিন্স তুর্কি আল ফয়সল।
সৌদি প্রতিনিধিদলের এ সদস্য সরাসরি ইজরাইলের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, “ইজরাইল সব সময় নিজেদের দেখায় যে তারা ছোট একটি দেশ আর চারদিকে শত্রু সব দেশ সব সময় তাদের ধ্বংস চায়। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে ইসরায়েল নিজে একটি পারমাণবিক শক্তিধর দেশ।”
বাদশাহ সালমানের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত প্রিন্স তুর্কি বলেন, এখনো ইসরায়েল জবরদস্তি করে ফিলিস্তিনিদের ঘরছাড়া করছে, তাদের গ্রাম ধ্বংস করছে। “আব্রাহাম চুক্তি (ইজরাইলের সঙ্গে ইউএই এবং বাহরাইনের চুক্তি) ঐশ্বরিক কোন দলিল নয়। শরীরের ঘা থাকলে তা ব্যথার ওষুধ দিয়ে সারানো যায় না।”
প্রশ্ন উঠেছে উপসাগরীয় মিত্রদের ঠেলে দিয়ে সৌদিরা এখন কেন পিছিয়ে যাচ্ছে? লন্ডনে ভূ-রাজনৈতিক নিরাপত্তা বিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল ইন্টারেস্টের প্রধান ড. সাদি হামদি বলেন, সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বা প্রিন্স তুর্কি আল ফয়সলের বক্তব্যে এটা পরিষ্কার যে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্কের প্রশ্নে বাদশাহ সালমান এবং তার ছেলে যুবরাজ মোহাম্মদের মধ্যে কতটা মতভেদ রয়েছে।
“প্রিন্স তুর্কি বাদশাহ সালমানের খুবই ঘনিষ্ঠ। তিনি মানামায় ইজরাইলকে আক্রমণ করে যা বলেছেন তা সৌদি বাদশাহের মনোভাবের প্রতিফলন। ফিলিস্তিনিদের কিছু না পাইয়ে দিয়ে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনে সৌদি বাদশাহর তীব্র আপত্তি রয়েছে।”
এ ছাড়া সৌদি নেতৃত্বের বড় একটি অংশ এখনো সাধারণ আরব জনগণের মতামত নিয়ে চিন্তিত।
সৌদি প্রিন্স তুর্কি আল ফয়সল যখন বাহরাইনের মানামায় রবিবার কঠোর সমালোচনা করছিলেন তখন জেরুজালেম থেকে ভিডিও কলের অন্য প্রান্তে ছিলেন ইজরাইলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গ্যাবি আশকেনাজি।
বক্তব্যের শুরুতেই ইসরায়েলি মন্ত্রী সৌদি প্রিন্সের বক্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যে যে পরিবর্তন শুরু হয়েছে, আমি মনে করি না সৌদি প্রতিনিধির এই ধরনের বক্তব্য তার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ।”
আরও বলেন, আরব বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্কের অর্থ এই নয় যে ফিলিস্তিনিদের স্বার্থ চাপা দেওয়া হচ্ছে। “বরং আব্রাহাম চুক্তি এই সংকট সমাধানের সুযোগ করে দিয়েছে।”
তিনি ফিলিস্তিনি নেতৃত্বের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন তারা যেন কোনো শর্ত ছাড়া ইসরায়েলের সঙ্গে মীমাংসা আলোচনায় এগিয়ে আসেন, যদিও এ ধরনের আহ্বানের কোনো গুরুত্বই নেই।
The post ইজরাইল প্রশ্নে সৌদি রাজপ্রাসাদে মতভেদ appeared first on Fateh24.
source https://fateh24.com/%e0%a6%87%e0%a6%9c%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%87%e0%a6%b2-%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%b6%e0%a7%8d%e0%a6%a8%e0%a7%87-%e0%a6%b8%e0%a7%8c%e0%a6%a6%e0%a6%bf-%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%9c%e0%a6%aa/
No comments:
Post a Comment