রাকিবুল হাসান:
কুমিল্লা জেলায় ইসলামি দলগুলোর মধ্যে সবচে সরব রাজনীতি করছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। অন্যান্য দলগুলো নামে আছে, ইস্যুভিত্তিক কর্মসূচিতে আছে, কিন্তু নির্বাচনী লড়াইয়ে নেই। ৮ টি উপেজেলার মধ্যে কোনো দল একাধিক পৌরসভায় নির্বাচন করছে, কোনো দল একটিতে নির্বাচন করছে, কোনো দল নির্বাচনই করেনি। সব থানাতে কমিটিও নেই। এ জেলার ইসলামি রাজনীতির হালচাল জানতে কথা বলেছিলাম সংশ্লিষ্ট দলগুলোর দায়িত্বশীলদের সঙ্গে। তাদের থেকে প্রাপ্ত সংক্ষিপ্ত তথ্যগুলো তুলে ধরা হলো।
ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ
কথা হয় ইসলামী আন্দেলন বাংলাদেশ কুমিল্লা শাখার সেক্রেটারী মাওলানা আবুল হাসান রায়হানের সঙ্গে। তিনি জানালেন, কুমিল্লায় ইসলামী আন্দোলনের কার্যক্রম বেশ জোরালো। সব থানা এবং ইউনিয়নে আমাদের কমিটি আছে। গত পৌরসভা নির্বাচনে ৮টি পৌরসভার মধ্যে দুটি বাদে বাকি সবকটিতে এবং জাতীয় নির্বাচনে মোট ১১টি আসনেই লড়াই করেছি আমরা। নির্বাচনে জনগণ আমাদের ডাকে সাড়া দিতে চায়। কিন্তু কেউ তো ভোটকেন্দ্রে যেতে পারে না।’
আসন্ন পৌরসভা নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘কেন্দ্র থেকে নির্বাচনের প্রার্থী প্রস্তুত করতে বলা হয়েছে। এখন কুমিল্লার সবগুলো পৌরসভায় নির্বাচন হবে না। যে কয়টাতে হবে, আমরা সবকয়টাতে অংশগ্রহণ করবো।’
কুমিল্লায় প্রথম মুজাহিদ কমিটির কার্যক্রম শুরু হয় ১৯৮৪ সালে। ১৯৯৬ থেকে শুরু হয় ইসলামী আন্দোলনের নির্বাচনী লড়াই।
জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম
কুমিল্লা জেলায় জমিয়তের কার্যক্রমও বেশ ভালো চলছে বলে জানালেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম কুমিল্লা জেলা শাখার সেক্রেটারী মুফতি শামসুল ইসলা জিলানী। তিনি বললেন, ‘আমাদের মহানগর কমিটি আছে। থানা কমিটিও আছে। তবে থানা কমিটি দুএকটা এখনো হয়নি। কিছুদিনের মধ্যেই হয়ে যাবে। গত সপ্তাহে বুড়িচং কমিটি করে এলাম।’
নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচনে আমরা অংশ নেইনি। গত পৌরসভা নির্বাচনে কেবল দেবিদ্বারের একটি পৌরৈসভায় একজন লড়াই করেছিল। সেখানে আমাদের প্রার্থী পাশ হয়েছেন।’
আসন্ন পৌরসভা নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘কেন্দ্র থেকে এখনো কোনো নির্দেশনা আসেনি। তবে আগেই বলা আছে, যারা দল থেকে ব্যক্তিগতভাবে নির্বাচনে অংশ নিতে চায়, দল থেকে তাদেরকে সাহায্য করা হবে।’
খেলাফত মজলিস
যুব খেলাফত মজলিস কুমিল্লা দক্ষিণ জেলার সভাপতি মাওলানা জামিল আশরাফী বলেন, ‘যুব মজলিসের কাজ নিয়মতান্ত্রিক কাজ। মৌসুমি না। এখানের খেলাফত মজলিসের শাখা কেন্দ্রীয় নির্দেশনা নির্দশনাগুলো পালন করে। মাসিক সভা করে। ১৭টি থানার মধ্যে চার-পাঁচটি থানায় কমিটি আছে।’
নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন,‘ খেলাফত মজলিস এখনো এতটা সক্রিয় না কুমিল্লায়। দলটি এ জেলায় এখনো কোনো নির্বাচনে অংশ নেয়নি। আর আসন্ন পৌরসভা নির্বাচন বিষয়ে এখনো কেন্দ্র থেকে কোনো নির্দেশনা আসেনি।’
তাবলীগ
কুমিল্লায় বেশ সচল তাবলীগের কাজ। করোনা চাপ কাটিয়ে শুরু হয়েছে তাবলীগের কার্যক্রম। জেলা মারকাযে আগামী ১৬, ১৭ এবং ১৮ ডিসেম্বর জোড়। মুরব্বীরা প্রত্যাশা করছেন, এ জোর থেকে শতাধিক জামাত বের হবে।
মুফতি শামসুল ইসলা জিলানী বলেন, ‘কুমিল্লা জেলার প্রতিটি থানা এবং ইউনিয়নে তাবলীগের কাজ জোরদার। আর কুমিল্লা জেলা মারকায বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য একটি মারকায। মারকাযের এরিয়া বিশাল। এতে বিরাট একটি মাদরাসা আছে। গত এক বছরে মারকাযে ৫০ লক্ষ টাকার মতো উন্নয়নমূলক কাজ করা হয়েছে।’
তাবলীগের কার্যক্রম সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘কুমিল্লায় আগে থেকেই ব্যাপকভাবে তাবলীগের কাজ চলে। তবে সাদপন্থীদের গোলমালের পর তাবলীগের সঙ্গে আলেমদের অংশগ্রহণ বেড়েছে। করোনার পর দশাধিক জামাত বেরিয়েছে। কিন্তু আমাদের টার্গেট ১৬, ১৭, ১৮ ডিসেম্বরের জোড়। এ জোড় থেকে শতাধিক জামাত বের করার টার্গেট আছে আমাদের।’
The post দাওয়াত ও রাজনীতি: কুমিল্লায় ইসলামি দলগুলো কতটুকু সক্রিয় appeared first on Fateh24.
source https://fateh24.com/%e0%a6%a6%e0%a6%be%e0%a6%93%e0%a7%9f%e0%a6%be%e0%a6%a4-%e0%a6%93-%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%9c%e0%a6%a8%e0%a7%80%e0%a6%a4%e0%a6%bf-%e0%a6%95%e0%a7%81%e0%a6%ae%e0%a6%bf%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%b2/
No comments:
Post a Comment