মুনশী নাঈম:
চাঁদপুরের কচুয়ায় সাতবাড়িয়া তালীমুল কোরআন মাদরাসার শিক্ষক হাফেজ ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে বলাৎকারের অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। প্রাথমিকভাবে সিসিটিভি ফুটেজ দেখে এ প্রমাণ পাওয়া গেছে। তবে অধিকতর প্রমাণ নিশ্চিত হবার জন্য অভিযোগকারী ছাত্র এবং এবং অভিযুক্ত শিক্ষকের ডিএনএ টেস্ট করাতে দিয়েছে ডিবি পুলিশ। ডিএনএ টেস্টের রিপোর্ট এলেই শিক্ষকের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলা তুলে নেয়া হবে। মামলা তুলে নেয়ার ব্যয়ভার বহন করতে রাজি আছে অভোযোগকারী ছাত্রের বাবা তৌহিদুল ইসলাম।
ফাতেহ টুয়েন্টি ফোরের সঙ্গে আলাপকালে এসব তথ্য জানালেন তালীমুল কোরআন মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা হোসাইন আহমেদ।
অভিযোগকারী ছাত্র আবু বকরের বয়ান মুতাবেক মামলার এজাহারে লেখা হয়েছে, সকাল এগারোটায় উক্ত শিক্ষক তাকে বাথরুমে বলাৎকার করেছে। কিন্তু আসলে এই সময় সে কী করছিলো, তার সঙ্গে কারাই বা ছিল, উক্ত শিক্ষকই বা কী করছিলেন, এসবের একটি স্টেটম্যান্ট নিয়েছেন মাওলানা হোসাইন আহমেদ। স্টেটম্যান্টের ভিডিওচিত্র ফাতেহের কাছে হস্তান্তর করেছেন তিনি।
মাদরাসাটিতে সকাল ১০টা থেকে ১২টা ঘুমের সময়। ১০ টায় ঘুমের ছুটি হলে আবু বকর না ঘুমিয়ে স্টোর রুমে পড়তে যায়। তখন সে ফাহিম নামের একটি ছাত্রকে ৩০ নং পারা পড়ে শুনায়। স্টোর রুমেই তখন গায়ে উঠা দাউদে মলম লাগাচ্ছিলো আবদুর রহিম। এসময় বোর্ডিংয়ের বাজার সেরে স্টোর রুমের সামনে আসে তুহিন এবং সিয়াম। শিক্ষক ওমর ফারুক তখন স্টোর রুম সংলগ্ন বাথরুমে। বাথরুম থেকে বেরিয়ে তিনি কী করেছেন, তারও বর্ণনা দিয়েছে ছাত্ররা। তাদের প্রত্যেকের বয়ান তুলে ধরা হলো।
ফাহিম আহমেদ
আমি যখন স্টোর রুমের দিকে যাই, শিক্ষক তখন দাঁড়িয়ে আবু বকরের পড়া শুনছিলেন। আমি তখন চলে আসি। একটুপর গিয়ে দেখি শিক্ষক নেই। তখন আবু বকর আমাকে বললো, ‘ভাই, আমার পড়াটা ধরো তো একটু।’ আমি তার পড়া শুনি। পড়া শুনানো শেষ হলে সে উঠে এসে শুয়ে পড়ে।
আবদুর রহিম
আমি আমার দাউদে মলম লাগানোর জন্য স্টোর রুমে যাই। গিয়ে দেখি আবু বকর পড়ছে। তখন সেখানে তুহিন ভাই আসেন। তারপর আসেন শিক্ষক। শিক্ষক কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে বাথরুমে চলে যান। বাথরুম থেকে বেরিয়ে আবার স্টোর রুমের সামনে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকেন। তারপর তিনি এসে তার বেডে শুয়ে পড়েন।
সিয়াম আহমেদ
তখন সবাই ঘুমিয়ে পড়েছে। আমি স্টোর রুমে গিয়ে দেখি আবু বকর পড়ছে। জিজ্ঞেস করলাম, কী পড়িস? সে বললো ৩০ নং পারা ইয়াদ করতেসি। আমি বললাম, এখন ইয়াদ করা লাগবে না, ঘুমিয়ে পড়ে ইয়াদ করিস। এরপর সে এসে শুয়ে পড়ে।
তুহিন
‘সেদিন আমাকে এবং সিয়ামকে হুজুর মাছ কেনার জন্য বাজারে পাঠিয়েছিলেন। বাজার থেকে এসে স্টোর রুমে গেলাম। গিয়ে দেখি ফাহিম আবু বকরের পড়া শুনছে। আবদুর রহিম দাউদে মলম লাগাচ্ছে। আমি বললাম, কী মলম লাগাচ্ছিস। এই বলে মলমটা হাতে নিলাম। তখন শিক্ষক বাথরুম থেকে বের হলেন। কিছুক্ষণ সেখানে দাঁড়িয়ে থেকে চলে এলেন।’
উল্লেখ্য, শিক্ষক নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ার পর মাদরাসা কর্তৃপক্ষের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন অভিযোগ তোলা শিক্ষার্থীর বাবা। ভুক্তভোগী শিক্ষকের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ তোলার পেছনে সেই শিক্ষার্থীর চাচার ষড়যন্ত্র ছিল বলে জানিয়েছেন তার বাবা।
তবে বোদ্ধা মহল বলছেন, যারা অপরাধী, যারা লুটপাট ও ভাঙচুর করেছে, মিথ্যা অপবাদ দিয়েছে, তাদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। তাদের বিচারের দাবিতে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম।
The post সাক্ষীদের বয়ান: ঘুমের সময় কী ঘটেছিল কচুয়ার মাদরাসায়? appeared first on Fateh24.
source https://fateh24.com/%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%b7%e0%a7%80%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%ac%e0%a7%9f%e0%a6%be%e0%a6%a8-%e0%a6%98%e0%a7%81%e0%a6%ae%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a7%9f/
No comments:
Post a Comment