Saturday, April 10, 2021

হুমাইরা (২য় পর্ব)

সুমাইয়া মারজান:

পরিণয়ের পথে যাত্রা

নবীজির মন ভালো নেই। শত মুচকি হাসির আড়ালেও একটা বিমর্ষভাব উঁকি মারে পবিত্র-সুষমামণ্ডিত অবয়বে । স্বপ্নের কথা কাউকে বলেননি নবীজি। মনের ভেতরে চেপে রেখেছেন। বিষণ্ণতা, কৌতূহলের মিশেল মনে। নিজে থেকে আগবাড়িয়ে কিছু করতে যাবো না, কাউকে কিছু বলবো না। দেখি শেষতক কী হয়।

নবীজির এ বিমর্ষভাব চোখে পড়লো খাওলা বিনতে হাকীম রাদিয়াল্লাহু আনহার। প্রখ্যাত সাহাবী উসমান ইবনে মাজউন রাদিয়াল্লাহু আনহুর স্ত্রী তিনি। স্বামী-স্ত্রী উভয়েই প্রথম সারির মুসলমান। খাওলা বিনতে হাকীম রাদিয়াল্লাহু আনহা ছিলেন খাদিজা রাদিয়াল্লাহু আনহার ঘনিষ্ঠ বান্ধবী। তিনি একদিন এলেন নবীজীর কাছে। আগমনের হেতু গোপন রাখলেন মনে। নানান বিষয়ে কথা বলতে বলতে একসময় পাড়লেন মনের কথাটা। বললেন, হে আল্লাহর রাসুল! আপনি বিয়ে করুন। নবীজি সরাসরি কিছু না বলে খাওলাকে তার বর্তমান অবস্থার কথা শোনালেন ।

তার বয়স তার পারিপার্শ্বিক অবস্থা, পারিবারিক অবস্থা সবকিছুই খুলে বললেন।

সব শুনে খাওলা অভয় দিয়ে বললেন, হে আল্লাহর রাসুল! আপনি যদি রাজি থাকেন তো ইচ্ছা করলে কুমারী বিয়ে করতে পারেন। চাইলে বিধবাও বিয়ে করতে পারেন। শুনে যেন কিছুটা অবাকই হলেন নবীজি। কারণ খাওলা রাদিয়াল্লাহু আনহার কথাটা এমন যে, তিনি এমন একজন মানুষ যার কাছে দুই রকমের পাত্রীর সন্ধানই আছে।

নবীজি তাই সবিস্ময়ে জিজ্ঞেস করলেন, কে আছে এমন? খাওলা বললেন আপনি কি কুমারী বিয়ে করতে চান না বিধবা? নবীজি বললেন, উভয়ের কথাই বলো।

কুমারী হলে আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুর কন্যা আয়েশা আছে। আর বিধবা হলে আছে জামআর কন্যা সাওদা। বললেন খাওলা বিনতে হাকীম।

নবীজি বললেন, আচ্ছা তুমি কথা বলো। খাওলা বিনতে হাকীম রাদিয়াল্লাহু আনহা নবীজির সম্মতিতে আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুর বাড়ি গেলেন কথা বলতে। আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু তখন বাড়ি ছিলেন না। তাই খাওলা বিনতে হাকীম উম্মে রুমানের সাথে কথা বললেন।

উম্মে রুমান! তোমার ঘরে শান্তি ও বরকতের বার্তা আসুক। আপনি কিসের কথা বলছেন? বিস্মিত উম্মে রুমানের প্রশ্ন। দোজাহানের সর্দার তার সাথে তোমার ছোট কন্যার বিয়ের পয়গাম দিয়ে আমাকে পাঠিয়েছেন। আনন্দে উম্মে রুমানের আত্মহারা হবার জোগাড়। এ তো মহা আনন্দের সংবাদ।

আবুবকর রাদিয়াল্লাহু আনহু তখন বাড়ি ছিলেন না। উম্মে রুমান রাদিয়াল্লাহু আনহা খাওলা বিনতে হাকীম রাদিয়াল্লাহু আনহাকে বললেন— আচ্ছা, কন্যার বাবা তো বাড়ি নেই। উনি বাড়ি এলেই না হয় কথা বলি। খাওলা উম্মে রুমানের সাথে গল্পে মত্ত হলেন। এরমধ্যেই আবুবকর রাদিয়াল্লাহু আনহু বাড়ি এলেন। খাওলা রাদিয়াল্লাহু আনহা তাকে দেখে বললেন—আবু বকর! আল্লাহ আপনার ঘরে পাঠিয়েছেন বরকত ও সম্মানের পয়গাম।

সরওয়ারে কায়েনাত মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম আপনার ছোট কন্যার জন্য বিয়ের প্রস্তাব পাঠিয়েছেন। আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু আনন্দে বাকরুদ্ধ হয়ে গেলেন যেন । কোনরকমে আলহামদুলিল্লাহ বলতে পারলেন কেবল। আরে! এ যে তারই মনের চাওয়া। তার তো নবীজির সাথে আত্মীয়তার সম্পর্ক গড়ে তোলার ইচ্ছা ছিল। ইচ্ছাটুকু অবশ্য মনের গোপন কুটিরেই এতদিন টিমটিম করে জ্বলছিলো। আর আজ নবীজি নিজে বিয়ের প্রস্তাব পাঠিয়েছেন। তার কন্যার জন্য। ইচ্ছের গোপন প্রদীপের আলো যেন আজ ভেতর বাহির আলোকিত করে দিলো।

তাইতো আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু আজ এত খুশি। খুশিতে আত্মহারা। এত আনন্দেও যেন আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু পুরোপুরি নির্ভার নন। হলদে ডানার মতো উজ্জ্বল রঙা আনন্দের মাঝখানেও একটুখানি দুঃশ্চিন্তার কালো মেঘের কালি পোঁচ মারছে কে যেন। আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুর মনের ভেতর অস্থিরতা জাগায় আরবের প্রথা। খাওলা রাদিয়াল্লাহু আনহাকে বলেন—নবীজি নিজে আমার কন্যার জন্য বিয়ের প্রস্তাব পাঠিয়েছেন। নিঃসন্দেহে এ আমার জন্য সৌভাগ্য ও আনন্দের প্রতীক।

কিন্তু আয়েশা তো নবীজি সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের ভাতিজি। কারণ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম আমার ভাই। চাচা ও ভাতিজির বিয়ে তো আমাদের সমাজে নিষিদ্ধ। খাওলা রাদিয়াল্লাহু আনহা এ কথা শুনে চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়লেন। বললেন—আচ্ছা আমি এ ব্যাপারে নবীজিকে জিজ্ঞেস করে আসি। দেখা নবীজি কী বলেন। খাওলা রাদিয়াল্লাহু আনহা নবীজি সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামকে এ ব্যাপারে জানালে নবীজি বললেন—আবু বকর আমার দ্বীনি ভাই। রক্তের বা আত্মীয়তার সম্পর্কীয় কোন ভাই নয়। তাই তার কন্যার সাথে আমার বিয়েতে ইসলামের কোন আপত্তি নেই।

নবীজির এই ঘোষণা আরব মরুর বুকে নতুন বিপ্লবের সৃষ্টি করলো। কারণ আরবের প্রথা ছিল যেকোন সম্পর্কে চাচা ভাতিজি হলেই বিয়ে সংঘটিত হতে পারবে না। নবীজি এ প্রথার ভীতকে গুড়িয়ে দিলেন। শুধু মৌখিক ঘোষণা নয় নিজ কর্মের মাধ্যমে তার নতুন বিপ্লবী ঘোষণাকে স্বীকৃতি দিলেন। নবীজি এভাবেই আরবের অনৈতিক সকল প্রথাকে সামাজিক আচার-আচরণ থেকে দূর করে দিয়েছিলেন। ইসলামিক সংস্কৃতির আলোয় আলোকিত করেছিলেন আরবের কুসংস্কারাচ্ছন্ন অন্ধকার সমাজকে।

যুবায়ের ইবনে মুতইমের সাথে বাগদান

আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুর দরজায় কড়া নাড়ার শব্দ হলো। কে এলো? উৎসুক আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুকে কিছুটা অবাক করে দিয়ে মুতইম ইবনে আদী প্রবেশ করলেন। আত্মীয়তার সম্বন্ধ নিয়ে এসেছেন। তার ছেলে যুবায়ের ইবনে মুতইমের সাথে আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুর কন্যা আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার বিয়ের প্রস্তাব দিলেন।

বুদ্ধিমতী, ধীমান, সম্মানিতা, পবিত্র এমন মেয়েকে মুতইম ইবনে আদী ছোটবেলা থেকেই জানতেন। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার বেড়ে উঠা তার চোখের সামনেই । তাই তার মনের ইচ্ছা ছিল এই মেয়ে তার পুত্রবধূ হোক। তাছাড়া মুতইম ইবনে আদী বংশবিদ্যায় আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুর মতোই পারদর্শী ছিলেন। তার মনের সুপ্ত ইচ্ছে ছিল আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুর সাথে আত্মীয়তা করার। তিনি আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুর কাছে এ প্রস্তাব পাড়লে আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু এ প্রস্তাব অস্বীকার করেননি। আরবের প্রথা ছিল প্রস্তাব অস্বীকার না করলেই বাগদান হয়ে যেতো। সুতরাং আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা জুবায়ের ইবনে মুতইমের বাগদত্তা হয়ে গেলেন।

এরমধ্যেই নবীজি সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম ইসলামের দাওয়াত দিলে—আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু সপরিবারে ইসলামের ছায়াতলে আশ্রয় গ্রহণ করলেন। শুধু তা-ই নয় রাসুল সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের সার্বক্ষণিক সঙ্গী ও প্রিয়ভাজন হলেন। ইসলামের পট পরিবর্তন হলো। মুসলমানরা নির্যাতিত হতে লাগলো মুশরিকদের হাতে। এরই মধ্য দিয়ে চললো দাওয়াত ও ইসলামের কাজ। আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু নবীজির প্রিয় সাহাবী ও ছায়াসঙ্গী হিসেবে দাওয়াতী কার্যক্রমে ছিল তার ভূমিকা ছিল সর্বাগ্রে।

আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুও নির্যাতিত হলেন। আর মুতইম ইবনে আদীর পরিবার তখনও অমুসলিম। দিনে দিনে ধর্মীয় কারণই দুই পরিবারের মধ্যে এক সুক্ষ্ম দুরত্বের সৃষ্টি করে দিলো। মুতইম ইবনে আদীর পরিবার আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুর পরিবারের সাথে যোগাযোগ কমিয়ে দেয়। তার বাড়িতে আসা যাওয়া পর্যন্ত বন্ধ করে দেয়। দূর থেকে মুসলমান হওয়ার কারণে আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুর পরিবারের কষ্ট ও দুর্দশা দেখতে লাগলো কেবল।

যার কারণে সম্পর্ক না থাকার মতো করে ঝুলে রইলো আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা ও যুবায়ের ইবনে মুতইমের বাগদানের ব্যাপারটি। তবুও আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু তো আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুই। তিনি তার মুখের কথাকে অলিখিত চুক্তি মনে করতেন। তাই নবীজির পক্ষ থেকে আসা প্রস্তাবে তার মনে পড়লো মুতইমের পুত্রের সাথে তার কন্যার বাগদানের কথা। নবীজি ও তার ভ্রাতৃত্বের সমস্যার সমাধান হলেও তার কন্যা তো এখনও যুবায়ের ইবনে মুতইমের বাগদত্তা। তাই তার মনে দেখা দিলো দুঃশ্চিন্তা ও অস্থিরতার মেঘ। খাওলা রাদিয়াল্লাহু আনহা তো নবীজির অভয়বাণী তাকে শুনিয়েছিলেন।

শুনে তিনি খুবই খুশি হয়েছিলেন। এতটাই যে তার চোখ দিয়ে আনন্দাশ্রু প্রবাহিত হয়েছিলো। তবুও তিনি খাওলা রাদিয়াল্লাহু আনহাকে কোন জবাব দেননি। আপনি একটু বসুন,আমি আসছি বলে বেরিয়ে গেলেন বাড়ি থেকে। তিনি পথ ধরলেন মুতইম ইবনে আদীর বাড়ির। মনে হাজারো দুঃশ্চিন্তা ভর করছে। তার সাথে কৃত ওয়াদার সুরাহা করতে না পারলে কষ্টের সীমা থাকবে না। নবীজি তার কন্যার জন্য বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছেন। এতো তার পরম সৌভাগ্য। তিনি কী করে এ সৌভাগ্যকে দূরে ঠেলে দিবেন!

মুতইম ইবনে আদি বাড়িতেই ছিলেন। আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুকে আসতে দেখে তার স্ত্রী উম্মে ফাতাও এগিয়ে বারান্দায় এলেন। আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু কোন প্রকার ভূমিকায় গেলেন না। সরাসরি বললেন— আয়েশা ও যুবায়েরের বাগদানের ব্যাপারে তোমরা কী ভাবলে? শুনে মুতইম চুপ করে কিছু একটা ভাবতে থাকলেন।

তার স্ত্রী উম্মে ফাতাও বলে উঠলেন— ইবনে কুহাফা! তুমি ও তোমার পরিবার তো এখন বেদ্বীন হয়ে গেছো। তোমরা সবাই মুসলমান এখন। আমাদের সাথে তোমাদের ধর্মের মিল নেই। তোমার মেয়েকে এখন আমাদের পুত্রবধূ করতে পারবো না। তোমার মেয়ে তো নিজে মুসলমান হলো। সে এখন আমাদের পুত্রবধূ হয়ে এলে আমাদের ছেলেকেও মুসলমান করে ফেলবে। সেটা আমি কখনোই মেনে নিতে পারবো না।

আবু বকর রাদিয়াল্লাহু মুতইম ইবনে আদীকে তার মতামত জিজ্ঞেস করলেন। কারণ বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন মুতইম ইবনে আদী। তোমার স্ত্রীর কথার পর তোমার কী মতামত? তুমি কী বলো? জিজ্ঞেস করলেন আবু বকর রাদিয়াল্লাহু। মুতইম ইবনে আদী বললেন—আমার আর দ্বিমতের কী আছে এখানে। আমার স্ত্রী যা বললো তা তো শুনলেই। আমার মতামতও তা-ই। মুতইম ইবনে আদীর জবাব শুনে আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুর মনের আকাশে জমে থাকা দুশ্চিন্তার মেঘ সরে গেলো। পাকা ধানের মতো সোনারঙা ঝলমলা রোদ্দুর হেসে উঠলো মনের পৃথিবীতে। তার হৃদয় অলিন্দে বইছে খুশির ফল্গুধারা।

আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু খুশিমনে বাড়ির পথ ধরলেন। অপেক্ষারত খাওলা রাদিয়াল্লাহু আনহাকে আনন্দচিত্তে বললেন— আপনি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামকে এখনই এখানে নিয়ে আসুন।

প্রণয়ের গাঁটছড়া

দুধমা ওয়াইলা আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহাকে খুঁজতে খুঁজতে হয়রান। কই গেলো মেয়েটা? পুরো বাড়ির কোথাও নেই! এদিক-সেদিক খুঁজে পাওয়া গেলো পাশের বাড়িতে। সখীদের সাথে খেলায় মত্ত। দেখো দেখি কাণ্ড! এদিকে বিয়ের আসর সাজানো। কনের কোন খোঁজ-খবরই নাই। সে তার খেলা নিয়ে ব্যস্ত। দুধমা কন্যার কাণ্ডে হাসেন মনে মনে।

ওয়াইলা চঞ্চলা, চপলা কন্যাকে ধরে নিয়ে এলেন। রংচটা জামাটা বদলে একটা সুন্দর ফুলেল জামা পরিয়ে দিলেন। সাজিয়ে, গুছিয়ে পাঠালেন বিয়ের অনুষ্ঠানে। অনুষ্ঠান বলতে তেমন কিছু না। ঘরোয়া বাগদানের আয়োজন। আয়োজনে উপস্থিত আছেন, খাওলা বিনতে হাকীম রাদিয়াল্লাহু আনহা, উম্মে রুমান রাদিয়াল্লাহু আনহা, আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু ও দুতিনজন সাহাবি।

আর বর হিসেবে আছেন দোজাহানের সর্দার রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম। ৫০০ দিরহাম নির্ধারিত মোহরের বিনিময়ে আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু নিজেই কন্যার বিয়ের অনুষ্ঠানে খুতবা পাঠ করে আপন কন্যাকে নবীজির বধূঁয়া করে দিলেন। হয়ে গেলো দুটি অভিজাত, পবিত্রতম হৃদয়ের প্রেম পরিণয়। তখন নবুওয়াতের দশম বছরের শাওয়াল মাস আর ৬২০ ঈসায়ী সনের মে মাসের একটি প্রহর। যে প্রহরটি সাক্ষী হয়েছিলো এক অভূতপূর্ব বিয়ের। একদমই সাধাসিধে, হল্লাবিহীন বিয়ে।

পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মানব-মানবীর অনাড়ম্বর বিয়ে। সেদিন থেকে আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার নতুন জীবন শুরু হলো। ছোট আয়েশাপাখিটা এখন থেকে পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানবের জীবনসঙ্গীনী। উম্মুল মুমিনীন। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা। তার কাঁধে চেপে বসে বিশাল দায়িত্ব। নবীজির সান্নিধ্যে তার মর্যাদা বেড়ে যায় শতগুণ। পরশ পাথরের ছোঁয়ায় হয়ে ওঠেন খাঁটি সোনা। সোনার চেয়েও দামি। কুইন অব ইসলাম।

তথ্যসহায়িকা:-

১.সহীহ বুখারী।

২.মুসনাদে আহমাদ।

৩.তাবাকাতে ইবনে সাদ।

৪.মুসনাদে আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা।

The post হুমাইরা (২য় পর্ব) appeared first on Fateh24.



source https://fateh24.com/%e0%a6%b9%e0%a7%81%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%87%e0%a6%b0%e0%a6%be-%e0%a7%a8%e0%a7%9f-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac/

No comments:

Post a Comment