মওলবি আশরাফ:
বই : এন্টিগনি (Antigone)
রচয়িতা : সফোক্লিস (Sophocles)
অনুবাদ : আবদার রশীদ
ধরণ : ক্লাসিকাল গ্রিক নাট্য
প্রকাশনী : মুক্তধারা
দূরের সঙ্গীত
এন্টিগনি এক বিপ্লবের নাম, আদর্শের জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করতে দেখি যাঁকে। রাষ্ট্রের সাথে কর্তব্যপরায়ণতার দ্বন্দ্ব বিষয়ক প্রাচীনতম এই নাটকের প্রধান চরিত্র এক নারী, যিনি জান কোরবান করে সেই সত্যকে অপরিবর্তনীয় প্রমাণ করেন যে, নারী হোক কিংবা পুরুষ— জুলুমবাজ দমনে কেউ না কেউ এগিয়ে আসবেই।
রাজা ইদিপাসকে (Oedipus) কলোনাস দ্বীপে নির্বাসিত করার পর তাঁর দুই পুত্র পলিনিসিস (Polyneices)ও এটিওক্লিস (Eteocles), আপন দুই ভাই সিংহাসনের দাবিতে রাজপ্রতিনিধি ক্রিয়নের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে— প্রত্যেকে আলাদা আলাদা ভাবে। তারপর ছোট ভাই লোকবল নিয়ে বড় ভাইকে থিবিস রাজ্য থেকে বিতাড়িত করে এবং সিংহাসন দখল করে। বড় ভাই আর্গস রাজ্যে গিয়ে সেখানকার রাজকন্যাকে বিয়ে করে এবং যুদ্ধের জন্য শক্তি জোগাড় করতে থাকে।
পলিনিসিস বাবার কাছে সমর্থন লাভের প্রত্যাশায় কলোনাসে যায়, কিন্তু ইদিপাস তাকে শুধু প্রত্যাখ্যানই করে না, উল্টো অভিশাপ দেয় যে, দুই ভাই একে অপরকে হত্যা করবে। পলিনিসিস নিবৃত্ত হবার নয়, যা হওয়ায় হবে কিন্তু যুদ্ধই একমাত্র মীমাংসা। সে আর্গসের সেনাবাহিনী নিয়ে থিবিস আক্রমণ করে। ভয়ংকর যুদ্ধ হয়। যথাভবিষ্যদ্বাণী পিতার অভিশাপ সত্য প্রমাণিত হয়— দুই ভাই একে অপরকে হত্যা করে।
এরপর ক্রিয়ন (creon) শূন্য সিংহাসন দখল করে নেয়, এবং হুকুম করে : ছোট ভাইকে রাজকীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হবে, কিন্তু বড় ভাইকে ভিনদেশ থেকে সৈন্য নিয়ে স্বদেশ আক্রমণ করার অপরাধে দেশদ্রোহী হিসেবে কোনোরূপ সমাধিস্থ করা যাবে না।
এখান থেকেই শুরু হয় এন্টিগনির কাহিনি।
যবনিকা উন্মোচন
কাউকে সমাধিস্থ না করা চরম অসম্মানের বিষয়। তাছাড়া পলিনিসিসের ইচ্ছে ছিল তাকে যেন সসম্মানে সমাহিত করা হয়। এন্টিগনি তাঁর ভাইয়ের প্রতি ক্রিয়নের এহেন অসম্মান কিছুতেই মেনে নিতে পারলেন না। তিনি ছোট বোন ইসমেনেকে তাঁর সংকল্পের কথা জানালেন। ইসমেনে (Ismene) শঙ্কিত হয়ে ওঠে। সে রাজাজ্ঞা অমান্য করে ভাইয়ের লাশ সমাহিত করতে পারবে না। কেননা ক্রিয়ন তার আদেশ অমান্যকারীর সাজা মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করেছে। সে আরো বলে :
“ভেব দেখ দিদি, আমরা মেয়ে মানুষ, পুরুষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা কি আমাদের পক্ষে সম্ভব? আমাদের শাসকরা আমাদের চাইতে শক্তিশালী— একথা মেনে নিতেই হবে। মৃত আত্মা আমাদের মাফ করুক, রাজাজ্ঞা অমান্য করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়, এ হবে নিছক পাগলামি।”
এন্টিগনি তখন ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন— “তাহলে নিজের পথ দেখগে। ভাইকে আমি সমাধিস্থ করবই। এর জন্য যদি মরতে হয় তবুও।… যদি বাঁচতে চাও, বাঁচো তুমি, ঈশ্বরের পবিত্রতম আজ্ঞাকে অবজ্ঞা করে বেঁচে থাকো।”
এরপর এন্টিগনি একাই গিয়ে পলিনিসিসকে সমাহিত করে আসেন। ভোর হতে না হতেই সেই সংবাদ ক্রিয়ন পর্যন্ত পৌঁছে যায়। অতঃপর…
‘আইন বড় না ন্যায় বড়’ প্রশ্ন তোলার আগে প্রশ্ন উঠে ‘আইন কি তাহলে ন্যায় থেকে আলাদা?’ খুবই জটিল প্রশ্ন। বলা যায় এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়েই জন্ম হয় রাষ্ট্রদর্শনের।
রাষ্ট্রদর্শনের প্রাচীন বই ‘দ্য প্রিন্স’ রচয়িতা নিকোলো মাকিয়াভেলির মতে আইন ন্যায়ের ঊর্ধ্বে। রাজাকে কঠোর হস্তে তার আইন বাস্তবায়ন করতেই হবে। কিন্তু আমরা এন্টগনির মতো এই মতকে খারিজ না করে পারি না। আইন বড় তখনই হবে যখন আইন হবে ইনসাফপূর্ণ ও নৈয়ায়িক, এবং স্বয়ং রাজাও হবে সেই আইনের তাবেদার। রাজ্য তখনই পরিচালিত হবে ঠিকঠাক পথে।
আদর্শ রাজার বিবরণ দিতে গিয়ে জগদ্বিখ্যাত দার্শনিক আবু রায়হান মুহাম্মদ আল-বেরুনি তাঁর ‘ভারততত্ত্বের’ নবম অধ্যায়ে লেখেন :
“প্রভুত্ববিলাস যার প্রকৃতিগত স্বভাব, চরিত্রগুণ ও কর্মক্ষমতায় রাজদণ্ড ধারণের উপযুক্ত এমন কোনো নিশ্চিত প্রত্যয়ী দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ব্যক্তি, শক্তিধর, উচ্চাভিলাসী নিজ কীর্তির বলে বিপদকালেও জনসাধারণের সমর্থন লাভ করার মতো সৌভাগ্য অর্জন করেছে এমন ব্যক্তি যদি কোনো সামাজিক বা রাষ্ট্রনৈতিক ব্যবস্থা প্রচলন করে, তাহলে সংশ্লিষ্ট সমাজ বা রাষ্ট্রের মধ্যে সে ব্যবস্থা পর্বতের মতো অটল ও স্থায়ী হয়, এবং যুগযুগান্তর ধরে পুরুষানুক্রমে সাধারণ নিয়ম হিসেবে সেটি পালিত হতে থাকে। উপরন্তু এই সমাজ বা রাষ্ট্র যদি ধর্মকে আশ্রয় করে থাকে, তাহলে ধর্ম ও রাষ্ট্রের সামঞ্জস্যে সে সমাজব্যবস্থা আরো দৃঢ় হয়। ধর্ম ও রাষ্ট্রের সম্মিলন-ই সমাজব্যবস্থার সর্বোচ্চ পরিণতি।”
দুর্ভাগ্যক্রমে আমাদের আলোচ্য নাটকের রাজা ক্রিয়ন সেই রকম নয়। অথচ নিজের আইনকে ন্যায় তথা অবিনশ্বর ঈশ্বরের আইনের ওপর প্রাধান্য দিতে চায়। যেন সে সর্বেসর্বা। অনেক রাজা-মহারাজারই এধরনের রোগ হয়। ওষুধ তো রোগ আন্দাজেই দিতে হয়। তাই মঞ্চে অবতীর্ণ হন রাজকুমারী এন্টিগনি।
“সব রাজাই পাপের পথে লাভবান হতে চায়।” এন্টিগনির এ সংলাপ যেমন সত্য, তেমনই সত্য হলো— “প্রত্যেক ফেরাউনের বিরুদ্ধে একজন মুসা আছে।” জালিম যতই শক্তিশালী হোক, কেউ না কেউ তার পাপের পথে লাভবান হওয়ার দিন শেষ করতে বিদ্রোহ করবেই। এ-সত্য অনিবার্য, যুগযুগান্তরে কখনোই তার ব্যতিক্রম ঘটেনি।
অগ্নিমশালবাহী এন্টিগনি
দিনদুপুরে দ্বিতীয়বার লাশ সমাহিত করতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়েন এন্টিগনি। সাস্ত্রী তাঁকে ক্রিয়নের সামনে হাজির করে। ক্রিয়ন জিগ্যেস করে, “নিষেধাজ্ঞা কি তুমি জানতে না?”
এন্টিগনি জবাব দেন, “জানতাম— এ তো স্বাভাবিক।”
ক্রিয়ন বলে, “তবু আমার আদেশ লঙ্ঘন করার মতো দুঃসাহস হলো তোমার?”
এরপরের বৈপ্লবিক জওয়াব আমাদের বেচাইন করে তোলে :
“সে আদেশ ঈশ্বরের আদেশ নয়। মর্ত্যের যে ন্যায়বিচার, সেখানেও এমন কোনো বিধান নেই। আমি তো ভাবিনি আপনার আদেশের এতই ক্ষমতা যে, তা বিধাতার ও স্বর্গের অলিখিত অপরিবর্তনীয় বিধানকেও নাকচ করে দিতে পারে। আপনি যে সাধারণ মানুষ! বিধাতার বিধান কালকের বা আজকের নয়, তা চিরন্তন— যদিও আমরা কেউ বলতে পারব না সেগুলো কোথা থেকে এসেছে। পৃথিবীর কোনো মানুষের জন্যই আমি সেই চিরন্তন বিধানের বিরোধিতা করে ঈশ্বরের কাছে দোষী হতে চাইনে। আমি জানি আমাকে মরতে হবেই, আপনার আদেশই হোক বা অন্যভাবেই হোক। সে মৃত্যু যদি ত্বরান্বিত হয়, ভালোই তো!…”
ফরাশি নাট্যকার জাঁ আঁনুই (Jean Anouilh) এই কাহিনীর ওপর ভিত্তি করে আরেকটি নাটক লিখেছেন ‘আন্তিগনে’ নামে। তিনি সেখানে এন্টিগনির মনস্তাত্ত্বিক দিক তুলে ধরেছেন। তাঁর বক্তব্য হলো, এন্টিগনি ছিল মৃত্যুপ্রত্যাশী। কিন্তু সত্য তো এই, মৃত্যুর প্রতি ভয়-ডরহীন না হলে কোনো বিপ্লবই সম্ভব না। আমরা সৈয়দ শামসুল হকের উপন্যাস ‘নিষিদ্ধ লোবানে’ বিলকিসকে দেখি যে ঠিক এন্টিগনির মতোই পাকিস্তানি হানাদারদের কড়া প্রহরার মাঝে প্রাণ হাতে নিয়ে ভাইয়ের লাশ দাফন করতে যেতে। ভয় পোষে রাখলে তো এমনটি করা কারুর জন্যই সম্ভবপর নয়। যদিও চুপচাপ সয়ে যাওয়াই আমাদের প্রাত্যহিক জীবন।
ঘোড়ায় চড়ে এলেন রাজার কুমার
ক্রেয়নের পুত্র হ্যামন (haemon) এই নাটকের দ্বিতীয় প্রধান চরিত্র। তাঁর আবেদন এন্টিগনির চেয়ে কম নয়। এন্টিগনি হ্যামনের বাগদত্তা। তিনি পিতাকে বোঝাতে চেষ্টা করেন যে, এন্টিগনিকে শাস্তি দেওয়া ন্যায়সঙ্গত নয়। তাঁর এই লড়াই বাগদত্তা সত্যের পথে আছে সেজন্য নয়, বরং সত্যকে ধারণ করেন বলেই তিনি সত্যের জন্য লড়েছেন।
হ্যামন তাঁর পিতাকে একজন আদর্শ পুত্রের মতো স্মরণ করিয়ে দেন :
“অবিমিশ্র সত্য জ্ঞান লাভ হলে খুবই ভালো, কিন্তু তা যখন একান্তই দুর্লভ, তখন যুক্তিপূর্ণ পরামর্শ গ্রহণ করবার আগ্রহ থাকাটাই পরবর্তী শ্রেয় পথ।”
নাট্যকার সফোক্লিস এখানে অবিমিশ্র সত্য জ্ঞান আর যুক্তিপূর্ণ পরামর্শের কথা বলে জ্ঞানের দুইটি উৎসের কথা জানিয়েছেন— স্বজ্ঞা আর প্রজ্ঞা।
ইন্দ্রিয় বুদ্ধি ইত্যাদির মাধ্যমে বস্তুর পরম উৎস ও পরম প্রকৃতি সম্বন্ধে প্রাপ্ত প্রামাণ্য জ্ঞানকে প্রজ্ঞা আর এসব ব্যতিরেকে একেবারে জাগতিক মাধ্যমহীন, আকস্মিক জ্ঞান প্রাপ্তিকে স্বজ্ঞা বলা হয়। স্বজ্ঞাকে আবার দুই ভাগ করা যায়— বিশেষ ও সাধারণ। ঐশী প্রত্যাদেশকে বলা হয় বিশেষ স্বজ্ঞা। স্বজ্ঞার মাধ্যমে বিষয় সম্পর্কে খণ্ড খণ্ড ধারণার বদলে পরিপূর্ণ ধারণা পাওয়া যায়, এজন্য রনে দেকার্ত, স্পিনোজা, অঁরি বার্গসোঁ ও আল্লামা ইকবালসহ ভাববাদী দার্শনিকগণ একেই জ্ঞানের প্রধান উৎস মনে করতেন।
তো, অবিমিশ্র সত্য জ্ঞান মানে আমরা বুঝি— এমন জ্ঞান যা বাস্তবসম্মত সত্য (আপেক্ষিক সত্য নয়) এবং যাতে কোনোরূপ মিথ্যার মিশ্রণ ঘটেনি।
নিভে গেল সব আলো
“হ্যামন : এ তো একনায়কতন্ত্র? আমাদের রাষ্ট্র কী ধরনের?
ক্রিয়ন : কেন? সব রাষ্ট্রই কি তার শাসকের নয়?
হ্যামন : আপনি চমৎকার রাজা হতে পারতেন কোনো নির্জন মরুদ্বীপে!
ক্রিয়ন : অবশ্যই, যতক্ষণ তুমি মেয়েমানুষের পক্ষে আছো!
হ্যামন : আপনি যদি মেয়ে মানুষ হন তবেই সে কথা খাটে, কেননা আমি আপনার পক্ষেই লড়ছি।”
অনেক সময় আমাদের বেলাতেও এমন হয়, মমঙ্গলকামী কেউ ভুল শুধরে দিলে আমরা পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ দিয়ে তাকে দমন করি, খেয়াল করি না যে, লোকটি সংশোধনের ইচ্ছা ও ভালোবাসা থেকেই ভুলটা ধরেছিলেন। সীমালঙ্ঘনকারী, ক্ষমতার বলে অন্ধ ক্রিয়ন তখনও জানে না কী দুঃখ সে টেনে আনছে জীবনে। ইদিপাসের মতো তার পরিণতি নিয়তির অমোঘ ফল ছিল না, কেননা তার পুত্র প্রথম সতর্ককারী রূপে সেখানে হাজির হয়েছিলেন, এরপর ভবিষ্যদ্বক্তা পুরোহিত টিরেসিয়াসের কথাও সে তোয়াক্কা করেনি, উদ্ধত ব্যবহারের বিনিময়ে সে অভিশাপ ক্রয় করেছিল।
যে গুহায় এন্টিগনিকে বন্দী করে রাখা হয়েছিল হ্যামন সেখানে গিয়ে তাঁকে ফাঁসিতে ঝুলতে দেখে। হ্যামন তাঁকে জড়িয়ে হারানো বধূ, হতভাগ্য প্রেম আর পিতার নিষ্ঠুরতার জন্য বিলাপ শুরু করে। টিরেসিয়াসের ভবিষ্যদ্বাণী শুনে ক্রিয়ন পুত্র হ্যামনকে বাঁচাতে সেদিকে ছুটে যায়। কিন্তু বাবাকে দেখে ক্রুদ্ধ হ্যামন তরবারি হাতে তেড়ে আসে, ক্রিয়ন সটকে গিয়ে নিজেকে বাঁচায়। কিন্তু উন্মত্ত হ্যামন তরবারির দিকে ঝুঁকে পড়লে তরবারি তাঁর পাঁজরের ভেতর ঢুকে যায়।…
পুত্র হারানোর শোক মা য়ুরিডিকি সইতে না পেরে বুকে আমূল তরবারি ঢুকিয়ে দেন। একই দিনে স্ত্রী পুত্র হারিয়ে ক্রিয়ন দিগ্বিদিকশূন্য হয়ে যায়। স্রেফ রাষ্ট্র নামের একটি ধারণার দাম্ভিকতায় তিনি নিজের সব হারালেন। সত্যি বলতে অহংকারী জুলুমবাজদের পরিণতি এর চেয়ে ব্যতিক্রম হবার নয়।
যোগ বিয়োগ বিভাজন
★ এন্টিগনির ভ্রাতৃত্ববোধ ও ঐশ্বরিক আজ্ঞার প্রতি নিষ্ঠা।
★ সত্য প্রতিষ্ঠা ও সংশোধনের নিয়তে ক্ষমতাধরের সাথে হ্যামনের বাকযুদ্ধ।
★ অহংকার ও ঈশ্বরের আদেশ অমান্যের কারণে ক্রিয়নের দুর্ভাগ্য।
স্রেফ এই তিন শিক্ষাতেই এই নাটক সীমাবদ্ধ নয়। সফোক্লিসের এই নাটক এই কাহিনী চিরায়ত, প্রতি যুগেই নব নব রূপে ফিরে আসে বারবার। আমরা পাঠক বেচারারা জড়পিণ্ডর মতো, কেবল পড়ি আর প্রশংসায় মেতে উঠি দুঃসাহসী এন্টিগনির। এন্টিগনি ঠিক কী কারণে আর দশজন নারীর মতো না হয়ে শাসকের বিরুদ্ধে একাই রুখে দাঁড়িয়েছিলেন — আমরা যেন তা বোঝেও বুঝি না। এন্টিগনি চেয়েছিলেন ইনকিলাব হোক, ইনকিলাব। অমরত্ব ইনকিলাবের মাঝেই, চুপ করে সয়ে যাবার মধ্যে নয়। তাই ‘আন্তিগনের’ নাট্যকার জাঁ আঁনুই এন্টিগনির জবানে সেকথাই বলেছিলেন :
‘আপনি কি শুনছেন ক্রিয়ন? বাতাসে বাতাসে ছড়িয়ে পড়ছে সম্ভাবনার বীজ। মানুষ বাড়ছে। কে জানে হয়তো আমার থেকেই সংক্রামিত হবে সহস্র মানুষ!’
The post এন্টিগনি পাঠ পরিচিতি appeared first on Fateh24.
source https://fateh24.com/%e0%a6%8f%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%9f%e0%a6%bf%e0%a6%97%e0%a6%a8%e0%a6%bf-%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%a0-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%9a%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a6%bf/
No comments:
Post a Comment