Sunday, December 25, 2022

ঢাবিতে হিজাববিদ্বেষের ভয়াল চিত্র

রাকিবুল হাসান নাঈম:

প্রথম বর্ষ ২য় সেমিস্টারের ডিপার্টমেন্ট ভাইভা। ডিপার্টমেন্টের নামের শুরুতে ইসলামও আছে। ভাইভা বোর্ডে ৩-৪ জন স্যার ছিলেন। ভাইভায় এক ছাত্রী হিজাব ও নিকার পরে গেলে তারা তাকে নিকাব খুলতে বললেন। ছাত্রীটি রাজি না হওয়াতে একজন স্যার বললেন, তুমি চলে যাও। তোমাকে ভাইভা দিতে হবেনা। এমনকি একজন স্যার ভাইভার হাজিরা খাতাতে স্বাক্ষর করতে দেওয়া হবে না বলে হুমকি দিলেন। আরেকজন বললেন, স্যাররা বাবার মতো। কেন তাদের সামনে মুখ খুলতে পারবা না? ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সময় কি মুখ খুলে ছবি তুলোনি? তাহলে এখন কী সমস্যা? তৃতীয় এক স্যার বললেন, ভাইভার ফর্মাল লুক থাকে। আর সেখানে কেনো মুখ ঢাকা থাকবে? মুখ ঢাকা থাকলে চিনবে কী করে যে, ডিপার্টমেন্ট এর ছাত্রী কিনা। ছাত্রীর অনড় অবস্থান দেখে দুয়েকটা দায়সারা গোছের প্রশ্ন করে তাকে উঠিয়ে দেন ভাইবা বোর্ডের সদস্যরা।

দৃশ্যটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের। একটি প্রতিষ্ঠানের জরিপমতে, শুধু একটি ঘটনা নয়, এমন শত শত ঘটনা ঘটছে এই বিশ্ববিদ্যালয়টিতে। হিজাবি-নিকাবি ছাত্রীদের জন্য ভাইভা বোর্ড যেন এক আতঙ্কের নাম। পরীক্ষার হল যেন জাহান্নামের অগ্নিকুন্ড। ভুক্তোভোগীরা বলছেন, হিজাব-নিকাবের বিরোধিতা স্যাররা যেমন করেন, তেমনি বিরোধিতা করেন ম্যমরাও। স্যার-ম্যামদের সঙ্গে লড়াই করে কেউ হিজাব ধরে রাখেন, কেউ পারেন না। যারা হিজাব ধরে রাখেন, তাদের অনেককে চুকাতে হয় মাশুল। কাউকে কাউকে ছেড়ে দিতে হয় পড়াশোনা। সম্প্রতি হিজাব ইস্যুতে ভাইবায় বসতে না পেরে হল ছেড়েছেন এক শিক্ষার্থী।

সমাজবিজ্ঞানে সবচেয়ে বেশি হেনস্থা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গত এক বছর ধরে হিজাব সংক্রান্ত ঘটনাবলী নিয়ে কাজ করছেন জামালুদ্দিন মুহাম্মদ খালিদ। প্রায় অর্ধ শতাধিক কেস স্টাডি করে তার মতামত হলো, হিজাব-নিকাব নিয়ে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়তে হয় সমাজবিজ্ঞান অনুষদে। সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন সাদেকা হালিমা হিজাব-নিকাবের বিরুদ্ধে সবচেয়ে সোচ্চার। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ সবচেয়ে বেশি।

অনুষদের বাংলা বিভাগ, সংস্কৃত বিভাগে ছাত্রীরা হেনস্থা হয় সবচেয়ে বেশি। এছাড়াও লোক প্রশাসন বিভাগ, শিক্ষা ও গবেষণা বিভাগ, টুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগও রয়েছে এই তালিকায়। এমনকি ইসলামিক এবং আরবি বিভাগেও এমন ঘটনা ঘটে।‘

তার দাবি হলো, সাইন্স বিভাগ ছাত্রীদের জন্য অনেকটাই নিরাপদ। সেখানে হিজাব-নিকাব নিয়ে সবচে কম সমস্যা হয়।

সংস্কৃত বিভাগের এক ছাত্রীর বক্তব্য হলো, আমাদের সেকেন্ড সেমিস্টার ফাইনাল চলছিল। সেদিন ১০৫ নং কোর্সের পরীক্ষা ছিল। পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে একজন ম্যাম আমাকে নিকাব খুলতে বাধ্য করেন। এই ম্যাম ছাড়াও আমাদের ডিপার্টমেন্টে যেসব ম্যাম আছেন, সবাই ইসলাম বিদ্বেষী। ভাইবাতে গেলেও পুরুষ টিচারের সামনে নেকাব খুলতে বলেন। ডিপার্ট্মেন্টের চেয়ারম্যান তো বেশি হেজিটেড বোরকা নিকাব নিয়ে।

লোক প্রশাসন বিভাগের এক শিক্ষার্থীর বক্তব্য হলো, এক ভাইভাতে ম্যাম বলছিলেন, মুখ দেখাতেই হবে। যদি মুখ না দেখাই তাহলে তারা আমার ভাইভা নিবেন না। ভাইবা বোর্ডে স্যারও ছিলেন দুজন। আমি তখন বললাম, ম্যাম মুখ একবার দেখিয়েই আবার ঢেকে ফেললে হবে? তিনি বললেন, ‘ না, তুমি যতক্ষণ ভাইভা দিবে ততক্ষণ মুখ খুলে রাখতে হবে’! আমি তখন ভাবছিলাম কী করবো! এদিকে ম্যাম তাগাদা দিচ্ছেন তাড়াতাড়ি করতে। এটাও বলছিলেন, আমি যদি নিকাব না খুলতে চাই তাহলে ভাইভা না দিতে। ভাবলাম, ৫ নাম্বারের ভাইভা বাদ দিলে কিছু হবে না। তাই ভাইভা না দিয়েই বের হয়ে এসেছিলাম।

এক আতঙ্কের নাম ভাইভা বোর্ড

জামালুদ্দিন মুহাম্মদ খালিদ বলেন, ‘ছাত্রীরা সবচে বেশি হেনস্থা হন এবং বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েন ভাইভা বোর্ডে। তারপর পরীক্ষার হলে। এছাড়া ক্লাসরুম এবং প্রেজেন্টেশনেও এমন পরিস্থিতিতে পড়তে হয়। তবে সবচে বেশি সমস্যায় পড়তে হয় ভাইবা বোর্ডে। এই ভাইভা প্রথম বর্ষের যেমন হতে পারে, তেমনি ফাইনাল ভাইভাও হতে পারে। এমনকি মাস্টার্স শেষ ভাইভাতেও এমন ঘটনা ঘটেছে।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক লোক প্রশাসন বিভাগের এক শিক্ষার্থী বলেন, ষষ্ঠ সেমিস্টারের ভাইভা বোর্ডে এক্সটার্নালসহ ৪ জন শিক্ষকই আমার চেহারা আবৃত থাকায় বিরক্তি প্রকাশ করলেন এবং প্রত্যেকেই তাদের জ্ঞানের বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে লাগলেন। এমনও বললেন, পড়ালেখা শেষ হলে আমি যেন তাদের ছাত্রী হিসেবে নিজেকে পরিচয় না দেই। এমনকি সূরা নূর এবং সূরা আহযাব থেকে পর্দার বিধান সংক্রান্ত আয়াতগুলো নিজেদের সুবিধামাফিক ব্যাখ্যা করতেও ছাড়লেন না। এসব করেই সময় যাচ্ছিল। শেষে একটি একাডেমিক প্রশ্ন করে ভাইভার ইতি টানলেন। পরবর্তী ভাইভাসমূহেও একাডেমিক প্রশ্ন করার ব্যাপারে শিক্ষকদের আগ্রহের ঘাটতি দেখেছি।

এই শিক্ষার্থী আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শেষ ভাইভায় অর্থাৎ মাস্টার্স দ্বিতীয় সেমিস্টারের ভাইভা বোর্ডে চেয়ারম্যান (ফিমেল) সাফ জানিয়ে দিলেন, চেহারা খোলা না রাখলে উনি ২৫ মার্কের ভাইভা নিবেন না। সেখানে একজন ছিলেন পুরুষ শিক্ষক। যিনি আগেও আমাকে হেনস্থা করেছিলেন। তাই আমি চেহারা খুলতে পারছিলাম না। শেষ পর্যন্ত তিনি তার চেয়ার থেকে উঠে গিয়ে অন্যত্র বসলে আমার ভাইভা নেওয়া হয়।

শিক্ষা ও গবেষণা বিভাগের এক শিক্ষার্থীর বক্তব্য হলো, ভাইভা বোর্ডে তাকে ১৫ মিনিটি তাকে তার হিজাব নিয়ে কটাক্ষ করা হয়। বিভিন্ন বিব্রতকর প্রশ্ন করে বিব্রত করা হয়। হেনস্থার পর তারা কোর্স রিলেটেড প্রশ্ন করেছিলেন মাত্র ৫ মিনিট। অথচ যারা শাড়ি, সালোয়ার কামিজ পরে ভাইভা দিতে এসেছিল, তাদের সবাইকে কোর্স রিলেটেড প্রশ্নই করা হয়েছিল কেবল।

ক্লাসেও হিজাব নিকাব নিয়ে হেনস্থার মুখোমুখি হতে হয়। খাদ্য ও পুষ্টি বিভাগের এক শিক্ষার্থী বলেন, আমি ফার্স্ট ইয়ারে যখন ক্লাস করতাম, তখন ডিপার্টমেন্টের একজন টিচার আমাকে নিকাব পরিহিত অবস্থায় ক্লাস করতে দেখলেই বলতেন, এভাবে মুখ ঢেকে ক্লাস করলে উনি আমাকে এটেনডেন্স দিবেন না। এবং আমি উনার ক্লাসে সশরীরে উপস্থিত থেকে রোল কলের সময় এটেনডেন্স দেওয়া সত্ত্বেও স্যার আমার দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘তুমি মুখ না খুললে আমি তোমাকে এটেনডেন্স দিবো না।’ এভাবে দু-একটি ক্লাস করার পরও উনি আমাকে এটেনডেন্স দিলেন না। এরপর একদিন ক্লাসে এসে বললেন, ‘হয় ক্লাসে তুমি থাকবা নাহয় আমি।’ এটা শুনে আমি হতভম্ব ও বিমর্ষ হয়ে চুপচাপ বসে ছিলাম। বের হচ্ছিলাম না দেখে তখন তিনি বলে উঠলেন, ‘আমি কি বের হয়ে যাব? হয় তুমি থাকবা নাহয় আমি থাকবো।’ স্যারের এমন কর্কশ ও রুক্ষ মেজাজ দেখে আমি ক্লাস থেকে বের হয়ে গেলাম।

কী বলে হেনস্থা করা হয়

প্রায় অর্ধ শতাধিক কেস স্টাডি করে জামালুদ্দিন মুহাম্মদ খালিদের মতামত হলো, ছাত্রীদেরকে প্রায়ই বিভিন্ন যুক্তি দেখিয়ে বিব্রত করা হয়। যেমন, ‘শিক্ষকগণ পিতার মত, তাদের সামনে চেহারা কেন ঢাকতে হবে?’, ‘হজেও তো চেহারা খোলা রাখতে হয়’, ‘না খুললে তোমাকে চিনব কিভাবে?’ ইত্যাদি বলা হয়। শিক্ষকরা পর্দার বিধান সংক্রান্ত আয়াতগুলো নিজেদের সুবিধামাফিক ব্যাখ্যাও প্রদান করেন।

আইন বিভাগের এক শিক্ষার্থীর বলেন, ডি-ইউনিটের ভাইভা হচ্ছিলো। ভাইভায় মুখোমুখি আমি ও তৎকালীন সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন সাদেকা হালিম। তিনি প্রশ্ন শুরু করলেন, তুমি যে বোরকা হিজাব পরেছো, তার মানে কি তুমি একা বেহেশতে যাবা, আমি তো টিপ পরেছি আমি তাহলে বেহেশতে যেতে পারবো না? আমরা কি যুদ্ধ করেছি, বোরকা পরার জন্য নাকি শাড়ি পরার জন্য? তুমি কেন এসব (হিজাব, নিকাব, বোরকা) পরো? আমি তো একদম নতুন। মাত্র ডি ইউনিটের ভাইভা আমার। তাই খুব অপ্রস্তুত অবস্থায় ছিলাম। নার্ভাস ছিলাম। যার ফলে গুছিয়ে উত্তর দিতে পারিনি। তৃতীয় বা শেষ প্রশ্নের উত্তর দিয়েছিলাম, ‘ফ্যামিলির সবাই বোরকা, হিজাব পরে তো, এজন্য আমিও পরি।’ এ উত্তর শুনে উনি (সাদেকা হালিম) বললেন, ‘তোমার ফ্যামিলির সবাই জঙ্গি হলে তুমিও কি জঙ্গি হবে?’

জামালুদ্দিন মুহাম্মদ খালিদ বলেন, ‘শিক্ষকরা মাঝেমধ্যে এক্সট্রিম লেবেলে গিয়ে হিজাব-নিকাবকে ‘জঙ্গিবাদী’ ‘আফগানিস্তানি’ ট্যাগ দিয়ে দেন। ভাইভায় কোর্স সংক্রান্ত প্রশ্নের চেয়ে হিজাব সংক্রান্ত প্রশ্নই বেশি করেন।’

চেহারা শনাক্তকরণের ভুয়া দাবি

জামালুদ্দিন মুহাম্মদ খালিদ বলেন, শিক্ষকরা হিজাবের বিরোধিতা করার পেছনে চেহারা শনাক্তকরণ এবং নকল প্রতিরোধে ডিভাইস রোধকরণকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন। কিন্তু এ দুটো সমস্যা নিরসনের আধুনিক নিয়ম আছে। তা পালন না করে একজন ছাত্রীর ধর্মীয় অধিকার খর্ব করে তারা কেবল হিজাবকেই দোষী করেন।’

তিনি বলেন, অধুনিক ডিভাইস ব্যবহার না করে যদি শিক্ষকরা সমাধান করতে চান, তাহলে শনাক্তকরণের জন্য মহিলা ম্যাম দিয়ে শিক্ষার্থীর পরিচয় শনাক্ত করানো যেতে পারে। সবসময় কেন মুখ খোলা রাখতে হবে। আর ব্লুটুথ হেডফোনে নকলের যে অভিযোগ তুলেন, সেটা একদমই অসম্ভব। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা হয় রচনামূলক। সেখানে ব্লুটুথে কিভাবে নকল করবে। এমসিকিউ হলে কথা ছিল।’

জামালুদ্দিন মুহাম্মদ খালিদ বলেন, ‘কর্তৃপক্ষ চাইলেই আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহার করতে পারেন। চেহারা শনাক্তকরণের জন্য ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা বায়োমেট্রিক পদ্ধতি ব্যবহার করতে পারেন। আর নকলের জন্য কোনো ডিভাইস কেউ ব্যবহার করছে কিনা তা জানতে ব্যবহার করা যায় আরেকটি ডিভাইস। তার নাম: এন্টি স্পাই আরএস ডিটেক্টর ওয়ারলেস। এটি ব্যবহার করলেই সব ডিভাইস শনাক্ত করা যায়।’

তবে শিক্ষার্থীরা বলছেন, সবাই নেগেটিভ এমন নয়। পজেটিভ অনেক দৃশ্যও আছে। যারা পজেটিভ, তাদের কারণেই শিক্ষার্থীরা হিজাব-নিকাব পরতে পারছে। যারা নেগেটিভ, তাদের কারণে শিক্ষার্থীরা বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ছে।

‘হিজাব নিয়ে কটাক্ষ ইসলামবিদ্বেষীদের কর্মকাণ্ড’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যারা হিজাবের বিরোধিতা করে, হিজাব নিয়ে কটাক্ষ করে, তারা ইসলামাবিদ্বেষী বলে মন্তব্য করেছেন ঢাবির ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান ড. শামসুল আলম। ফাতেহকে তিনি বলেন, ‘হিজাব-নিকাব ইসলামী বিধান। এই বিধান পালন করতে হবে। পালনের সুযোগও দিতে হবে। আমরা যদি হিজাব-নিকাব না করতে দেই, আখেরাতে সেটার দায় কে নেবে? তাই ব্যক্তিগতভাবে আমি হিজাব-নিকাব সমর্থন করি। আমার ডিপার্টমেন্টে এগুলো নিয়ে কোনো সমস্যা হয় না।’

তিনি আরও বলেন, ‘ঢাবিতে যারা হিজাব নিয়ে সমস্যা করছে, ভাইবাতে নম্বর দিচ্ছে না, তারা আসলে ইসলামবিদ্বেষী। আমরা যদি পর্দাসহ ভাইভা নিতে পারি, তারা কেন নিতে পারবে না। ভাইভাতে যে মেয়েটি হিজাব পড়ে ঢুকছে, তার আগের বান্ধবিও তাকে চেনে। তার পরের বান্ধবিও তাকে চেনে। শিক্ষকরা কেন তাকে চিনবে না। তার পরিচয় নিতে কেন হিজাব খুলতে হবে। এটা বাংলাদেশ। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ। এটা ইন্ডিয়া না। এখানে হিজাব-নিকাবসহই পড়াশোনার অধিকার দিতে হবে। আমি সেটা মনে করি।’

পরিচয় শনাক্তকরণে আধুনিক ডিভাইস ব্যবহার প্রসঙ্গে ড. শামসুল আলম বলেন, ‘আমরা তাদেরকে পরিচয় শনাক্তকরণে আধুনিক ডিভাইস ব্যবহার করার পরামর্শ দিতে পারি। কিন্তু এই ডিভাইস ছাড়াও, পুরুষের সামনে মুখ খোলা ছাড়াও পরিচয় শনাক্ত করা যায়। সেটার চর্চা করতে হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পর্দা মানা শিক্ষার্থীদের সংখ্যা বাড়ছে। তাদের পড়ালেখার উপযুক্ত পরিবেশ করে দিতে বিশ্ববিদ্যালয় বাধ্য।’

The post ঢাবিতে হিজাববিদ্বেষের ভয়াল চিত্র appeared first on Fateh24.



source https://fateh24.com/%e0%a6%a2%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a7%87-%e0%a6%b9%e0%a6%bf%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a7%87%e0%a6%b7%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%ad%e0%a6%af/

Saturday, December 24, 2022

মথুরার শাহি ঈদগাহ নিয়ে হিন্দুদের ষড়যন্ত্র, সার্ভের নির্দেশ আদালতের

ফাতেহ ডেস্ক:

ভারতের উত্তর প্রদেশে জ্ঞানবাপী মসজিদ বিতর্কিত করার চেষ্টার মধ্যেই হিন্দুত্ববাদীদের নজর পড়েছে মথুরায় শাহি ঈদগাহ মসজিদের ওপর। অনেকটা জ্ঞানবাপী মসজিদের ধাঁচেই মথুরার শাহি ঈদগাহ মসজিদে সার্ভের নির্দেশ দিয়েছে উত্তরপ্রদেশের এক আদালত। আগামী ২ জানুয়ারি অর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া ওই মসজিদ চত্বরে সমীক্ষা করবে।

আধ্যাত্মিক শহর মথুরাকে ঘিরে হিন্দুদের বিশ্বাস, ওই জায়গাটি শ্রীকৃষ্ণের জন্মস্থান। কৃষ্ণজন্মভূমি চত্বরেই রয়েছে শাহি ঈদগাহ মসজিদ। ইতিহাসবিদদের একাংশের দাবি, প্রাচীন কেশবনাথ মন্দির ভেঙেই মসজিদটি তৈরি করেন আওরঙ্গজেব। ১৯৩৫ সালে ওই মন্দির চত্বরের মালিকানা মথুরার রাজার হাতে সঁপে দেয় এলাহাবাদ হাই কোর্ট। পর্যায়ক্রমে সেই স্বত্ব বর্তায় বিশ্ব হিন্দু পরিষদের ঘনিষ্ঠ শ্রী কৃষ্ণভূমি ট্রাস্টের হাতে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই দুই ধর্মের মানুষের মধ্যে তৈরি হয় সংঘাত। অবশেষে ১৯৬৮ সালে এক চুক্তির মাধ্যমে জমির মালিকানা হিন্দুদের হাতে থাকলেও মসজিদটির রক্ষণাবেক্ষণ করার অধিকার পায় মুসলিম পক্ষ।

আপাতত মুসলিম পক্ষের হাতে মসজিদটির রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব থাকলেও হিন্দুদের দাবি ওখানেই জন্ম হয়েছিল শ্রী কৃষ্ণের। একাধিক হিন্দু সংগঠন সপ্তদশ শতকের ওই মসজিদটি ভেঙে দেয়ার দাবিতে মথুরার ওই স্থানীয় আদালতে মামলা দায়ের করে। হিন্দু সেনা নামের একটি সংগঠনের তরফে মামলা দায়ের করেছিলেন আইনজীবী বিষ্ণু শর্মা। তার দায়ের করা মামলার ভিত্তিতে মথুরার স্থানীয় আদালত জানিয়ে দিয়েছে, আগামী ২ জানুয়ারি বিতর্কিত ওই মসজিদের সার্ভে করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে এএসআইকে। ২০ জানুয়ারির আগে আদালতে রিপোর্ট জমা দেবে অর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া।

‘বাবরি তো ঝাকি হ্যায়, মথুরা কাশী বাকি হ্যায়।’ নয়ের দশকে করসেবকদের এই হুঙ্কার ভোলার নয়। মথুরা ও কাশী নিয়ে হিন্দুত্ববাদীদের নানা দাবি এর আগেও শোনা গিয়েছে। ‘অল ইন্ডিয়া আখড়া পরিষদ’কে বলতে শোনা গিয়েছিল, রাম মন্দিরের নির্মাণ শেষ হলে মথুরা ও কাশীর মন্দিরগুলোকে ‘মুক্ত’ করা হবে। ওই বিতর্কের আবহে আদালতের এই নির্দেশ বেশ তাৎপর্যপূর্ণ।

সূত্র : সংবাদ প্রতিদিন

The post মথুরার শাহি ঈদগাহ নিয়ে হিন্দুদের ষড়যন্ত্র, সার্ভের নির্দেশ আদালতের appeared first on Fateh24.



source https://fateh24.com/%e0%a6%ae%e0%a6%a5%e0%a7%81%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%b6%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%bf-%e0%a6%88%e0%a6%a6%e0%a6%97%e0%a6%be%e0%a6%b9-%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a7%87-%e0%a6%b9/

করোনার নতুন ধরন নিয়ে সরকার সতর্ক

ফাতেহ ডেস্ক:

চীনে করোনাভাইরাসের নতুন ধরন বিএফ-৭ দেখা দিয়েছে। এ ধরন নিয়ে সতর্ক রয়েছে বাংলাদেশ সরকার। নতুন এই সংক্রমণ ঠেকাতে বাংলাদেশ সরকার ব্যবস্থা নিচ্ছে।

আজ রবিবার সকালে স্বাস্থ্য অধিদফতরের এক জরুরি ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানানো হয়। এতে বলা হয়েছে, টিকার মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে তার সুযোগ নেই। প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের পর্রামশেই যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নেওয়া হয়েছে। ফলে দ্বিধার কোনো সুযোগ নেই।

সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. আহমেদুল কবীর বলেন, চীনে নতুন ধরন বিএফ ৭ শনাক্ত হয়েছে। এই ধরন ওমিক্রনের চেয়ে শক্তিশালী। কম সময়ে এই ধরন বেশি মানুষকে আক্রান্ত করতে পারে। যারা টিকা নেননি তাদের দ্রুত টিকা নিতে হবে।

তিনি বলেন, সরকার ইতোমধ্যে দ্বিতীয় বুস্টার বা চতুর্থ ডোজ টিকা দেয়া শুরু করেছে। বিশেষ করে সম্মুখসারীর ব্যক্তি, গর্ভবতী নারী, ষাটোর্ধ্ব নাগরিক, দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্তদের ক্ষেত্রে টিকার চতুর্থ ডোজ অগ্রাধিকার পাচ্ছে।

ডা. কবীর বলেন, করোনার নতুন ধরন ভারতেও শনাক্ত হয়েছে। ফলে দেশের সকল বন্দরে র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন পরীক্ষা করা হচ্ছে। সন্দেহভাজনদের বিচ্ছিন্নকরণ বা আইসোলেশনে নেওয়া হচ্ছে। আক্রান্তদের নমুনার জেনোমিক সিকোয়েন্সিং করে এফবি ৭ করোনা ভাইরাস রয়েছে কি না তার জন্য রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটকে (আইইডিসিআর) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হাসপাতালগুলোকে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।

এ সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশিদ আলম, করোনার নিয়ন্ত্রণ সরকার গঠিত জাতীয় কারিগরি পর্রামশক কমিটি সভাপতি অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ শহীদুল্লা, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মুখপাত্র অধ্যাপক ডা. মো. নাজমুল ইসলাম ও করোনার টিকা ব্যবস্থা কমিটির সদস্য সচিব ডা. মো. শামসুল হক প্রমুখ।

The post করোনার নতুন ধরন নিয়ে সরকার সতর্ক appeared first on Fateh24.



source https://fateh24.com/%e0%a6%95%e0%a6%b0%e0%a7%8b%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%a8%e0%a6%a4%e0%a7%81%e0%a6%a8-%e0%a6%a7%e0%a6%b0%e0%a6%a8-%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a7%87-%e0%a6%b8%e0%a6%b0%e0%a6%95/

Friday, December 23, 2022

আ.লীগের সম্মেলনে যাওয়ার পথে দুর্ঘটনায় আহত ৫

ফাতেহ ডেস্ক:

মাদারীপুরের শিবচর উপজেলা থেকে আওয়ামী লীগের সম্মেলনে যাওয়ার পথে প্রাইভেটকারে বাসের ধাক্কায় পাঁচ জন আহত হয়েছেন। শনিবার (২৪ ডিসেম্বর) সকাল ৯টায় মুন্সীগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মহাসড়কের (ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে) টোলপ্লাজায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।

আহতদের মধ্যে রয়েছেন—শিবচর উপজেলার ভদ্রাসন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বজলুর রহমান (৪০), ভদ্রাসন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবুল হোসেন (৪৫), ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতা বিপ্লব (৩৫) ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতা আকাশ মালো (৩৫)। আহত আরেকজনের পরিচয় পাওয়া যায়নি। তাদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আহতদের মধ্যে বজলুর রহমান ও আবুল হোসেনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

কেরানীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের ইনস্পেক্টর মো. হানিফ জানান, সকালে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের টোলপ্লাজার কেরানীগঞ্জ এলাকায় ঢাকাগামী যাত্রীবাহী একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রাইভেটকারে ধাক্কা দিলে পাঁচ জন আহত হন। একজন গাড়ির ভেতরে আটকা পড়েন। তাকে উদ্ধার করে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের (মিটফোর্ড হাসপাতাল) পাঠানো হয়েছে।

হাসাড়া হাইওয়ে পুলিশের ওসি জাকির হোসেন মোল্লা জানান, ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের টোলপ্লাজার কেরানীগঞ্জ এলাকায় দুর্ঘটনাকবলিত গাড়ি দুটি রেকার দিয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এখন যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

The post আ.লীগের সম্মেলনে যাওয়ার পথে দুর্ঘটনায় আহত ৫ appeared first on Fateh24.



source https://fateh24.com/%e0%a6%86-%e0%a6%b2%e0%a7%80%e0%a6%97%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a7%8d%e0%a6%ae%e0%a7%87%e0%a6%b2%e0%a6%a8%e0%a7%87-%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%93%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a6%be%e0%a6%b0/

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে হিজাব-নিকাবে বাধা

রাকিবুল হাসান নাঈম:

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদেরকে টিউটোরিয়াল প্রেজেন্টেশন, মিডটার্ম পরীক্ষা, চূড়ান্ত পরীক্ষা এবং মৌখিক পরীক্ষার সময় কানসহ মুখমণ্ডল দৃশ্যমান রাখার নোটিশ দেয়া হয়েছে। প্রথমে মৌখিক ঘোষণা দেয়া হলেও কোন কোন শিক্ষার্থী নিকাব খুলতে রাজি না হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে ভার্সিটির ‘বিধি মোতাবেক’ ব্যবস্থা নেবার কথা জানিয়ে লিখিত নোটিশ দিয়েছে ডিপার্টমেন্ট।

ইতিপূর্বে ২০২০-২১ সেশনের একজন শিক্ষার্থীকে নিকাবের জন্য ভাইবা দিতে না দেয়ার অভিযোগ উঠেছিল এই বিভাগের বিরুদ্ধে। পত্রিকা এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ ব্যাপারে লেখালেখি করা হলে উল্টো ১৮.৯.২০২২ তারিখে মৌখিক এবং ৬.১২.২০২২ লিখিত নোটিশ দিয়ে মুখ খুলে পরীক্ষা দেয়াকে বাধ্যতামূলক করে দেয়া হয়।

এই ঘটনার মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে হিজাব-নিকাব পরিধানে বাধাপ্রাপ্ত হওয়ার বিষয়টি আবার সামনে এলো।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, ‘হিজাববিদ্বেষ’

শিক্ষার্থীরা বিষয়টিকে হিজাববিদ্বেষ হিসেবে দেখছেন। ঢাবির আইন বিভাগের ছাত্রী সানজিদা আক্তার ফাতেহকে বলেন, ‘বাংলা বিভাগের এক ছাত্রীকে নিকাব পড়ায় ভাইবায় বসতে দেওয়া হয়নি কয়দিন আগে। বিষয়টি নিয়ে তখন পত্র-পত্রিকায় লেখালেখি হয়। তার প্রতিক্রিয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে এই সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে মনে করছি। নয়ত ঢাবির আর সাতাশিটা ডিপার্টমেন্ট যদি নিকাবসহ পরীক্ষা নিতে পারে, বাংলা বিভাগ কেন পারবে না?’

সানজিদা আক্তার আরও বলেন, ‘ব্রিটিশদের প্রণীত আইনেও পর্দাশীলদের জন্য বিশেষ নিয়ম ছিল। বাংলাদেশের নিয়মেও ধর্মীয় রীতি পালনের অধিকার আছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মেও নিকাব খুলে রাখতে হবে এমন কোনো নিয়ম নেই। শনাক্তকরণের নিয়ম আছে। শনাক্ত তো ফিঙ্গারপ্রিন্ট, বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতেও করা যায়। ঢাবি প্রশাসন কত অনুষ্ঠানে কতটাকা খরচ করে। আধুনিক এই পদ্ধতিগুলো চালু করলেই পারে।’

এ প্রসঙ্গে কথা হয় ঢাবির আইন বিভাগের শিক্ষার্থী মোল্লা মুহাম্মদ ফারুক আহসানের সঙ্গে। ফাতেহকে তিনি জানান, ‘বাংলাদেশের সংবিধানে পূর্ণাঙ্গ ধর্মীয় অধিকার দেয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সেটা দিতে বাধ্য। সিন্ডিকেটের অনুমোদন ছাড়া এমন গুরুত্বপূর্ণ একটি ধর্মীয় রীতির বিরুদ্ধে একটা বিভাগ নিয়ম করতে পারে না। পরিচয় শনাক্তের আধুনিক বিভিন্ন পদ্ধতি আছে। কর্তৃপক্ষ সেসব পদ্ধতি ব্যবহার করতে পারছে না, সেটা তাদের ব্যর্থতা। সেজন্য তারা ছাত্রীদের অধিকার খর্ব করতে পারে না।’

ঢাবিতে হিজাব সংশ্লিষ্ট ঘটনাবলী নিয়ে কাজ করছেন জামালুদ্দিন মুহাম্মদ খালিদ। তিনি বলেন, এগুলো বিধির অনুসরণ নয়, এগুলো একেকটি ক্রাইম। এক বছরের বেশি সময় ধরে ঢাবিতে হিজাব সংশ্লিষ্ট ঘটনাবলী নিয়ে কাজ করছি। বাংলা বিভাগের নোটিশটি সম্প্রতি ভাইরাল হলেও ঘটনাপ্রবাহ কয়েক মাস পূর্ব থেকেই অবজারভেশন করছি। আমাদের হাতে প্রায় শতের কাছাকাছি কেস জমা হয়েছে। যদি ভিকটিমদের পড়াশোনা হুমকির মুখে পড়ার আশঙ্কা না থাকত, তাহলে জমা হওয়া কেসের সংখ্যা কয়েকশ হত বলে আমরা নিশ্চিত। এই জমা হওয়া প্রতিটি ঘটনাই হিজাব নিয়ে কটুক্তি, হেনস্থা ও হুমকি-ধমকির। এর একটাও পরিচয় শনাক্তকরণ অথবা নকল ঠেকানোর প্রয়োজনে ঘটা কোন কেস নয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘যে বোনটিকে কেন্দ্র করে সর্বশেষ স্টেপ নিল বাংলা বিভাগ, তাকে ফার্স্ট সেমিস্টারের ভাইবাতেও হেনস্থার শিকার হতে হয়েছিল। মূল্যায়ন করা হয়নি তার। দ্বিতীয় সেমিস্টারে যথাসম্ভব ভাইবা বোর্ডেই বসতে দেয়নি। অবশেষে সে পড়াশোনা ছেড়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে হল ছেড়ে চলে গেছে অলরেডি। আগামী ২৪ তারিখ বাংলা বিভাগের প্রথম বর্ষের পরীক্ষা। নোটিশের পর ওরা এখন কান্নাকাটি করে অস্থির।’

হিজাব-বিষয়ক ‘বিধি’টা কী?

ক্রিমিনাল অফেন্স সংক্রান্ত মামলা বিষয়ে ব্রিটিশরা ১৮৯৮ সালে যে আইন করেছিল,
তার নাম Code of Criminal procedure, সংক্ষেপে CrPC। ওই CrPC-ই পরবর্তীতে ভারত,পাকিস্তান ও স্বাধীন বাংলাদেশের আইন হিসাবে এখনও চলমান টুকটাক কিছু পরিবর্তন সাপেক্ষে।

CrPC এর ৪৮ নং ধারাতে বর্ণিত আছে, একজন আসামীকে ধরতে যাওয়ার সময় যদি উক্ত আসামী ঘরের দরজা জানালা বন্ধ করে রাখে এবং বলার পরও সেগুলো না খুলে প্রতিবন্ধকতা তৈরী করে রাখে, সেক্ষেত্রে জানালা কিংবা ঘরের কোনো অংশ ভেঙে পুলিশ ভেতরে প্রবেশ করে ওই আসামী ধরতে পারে। ঠিক ওই পরিস্থিতিতেও যদি এমন হয় যে, ওই ঘরে অভিযুক্ত ব্যক্তির সাথে এমন কোন নারী আছেন যিনি পর্দাশীল, তাহলে ওই ঘরের দরজা জানালা ভাঙার আগে অবশ্যই ওই পর্দানশীল নারীকে জানাতে হবে যে, রুমের ভেতর এইভাবে প্রবেশ করতে বাধ্য হচ্ছে তারা, তাই উনাকে সময় দেওয়া হচ্ছে যাতে করে উনি ওই সময়ের ভেতর নিজেকে সরিয়ে নিতে পারেন। যাতে করে তার ওই ধর্মীয় পর্দার কোন খেলাপ না হয়।

CrPC এর ৫২ ধারায় বলা আছে, কখনও যদি কোন নারীকে সার্চ করার দরকার হয়, অবশ্যই একজন নারী ব্যক্তি দিয়েই তা করাতে হবে এবং তা হতে হবে অত্যন্ত শালীনতা মেইনটেইন করে।

২০১০ সালে ফ্রান্স নিকাব পরা ব্যান করে একে ক্রিমিনাল অফেন্স হিসাবে ট্রিট করা শুরু করে। ফরাসি ওই আইন ধর্মীয় ও ব্যক্তি স্বাধীনতা হরণ করেছে বলে ফ্রান্সে বাস করা দুইজন মুসলিম নারী জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশন (UNHRC) এর দারস্থ হয়। ২০১৮ সালে এসে দীর্ঘ তদন্তের পর
জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশন এইমর্মে সিদ্ধান্ত দেয়, এটি ছিল ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সমতার পরিপন্থী।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যে আইনে চলে সেই আইনটার নাম ‘ঢাকা ইউনিভার্সিটি অর্ডার ১৯৭৩’। এই আইনের কোথাও কোনো পরীক্ষার নিকাব-হিজাব পরা নিষিদ্ধ করা হয়নি। তবে এক্সাম কমিটির একটা নিয়ম আছে, পরীক্ষার্থী অরিজিনাল কিনা যাচাই করে দেখা। এর মানে, যদি নিকাব পরিহিত কারো সত্যতা যাচাই করার প্রয়োজন হয়, সেক্ষেত্রে তাকে যাচাই করা যেতে পারে।
সেই যাচাই করার মেথড হতে হবে শালীন।

আলেমরা কী বলছেন

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন ফাতেহকে বলেন, এখন কোন বিশ্ববিদ্যালয় যদি বলে, একটা পর্দানশীল মেয়েকে পরীক্ষায় বসতে হলে তাকে শুধুমাত্র একজন ম্যাডাম নয়, বরং ওই বোর্ডের অন্য পুরুষ পরীক্ষক কর্তৃকও চেক করে দেখতে হবে, সেটা রীতিমতো অযৌক্তিক। পর্দানশীল কোন নারী শিক্ষার্থীকে পরীক্ষার হলে নিশ্চিত হওয়ার জন্য যদি মুখের নিকাব খুলে চেক করার প্রয়োজন পরে, সেক্ষেত্রে তাকে অন্য একজন নারী শিক্ষক কিংবা কোন নারী অফিসিয়াল স্টাফ দ্বারা চেক করে নিশ্চিত হওয়াটাই যথেষ্ট। আর কোন কর্তৃপক্ষের যদি নারী লোকবলের অভাব থাকে,তাহলে প্রযুক্তিগত বহু উপায় আছে, ফিঙ্গারপ্রিন্ট শনাক্তকরণ কোন প্রযুক্তি ব্যবহার করলেই হয়ে যায়।

তিনি আরও বলেন, ‘একজন মুসলিম মেয়ে হিজাব-নিকাব পরে পরীক্ষা দিতে পারবে না, কেমন কথা এটা। আমি মনে করি, এর বিরুদ্ধে সবার সজাগ হওয়া দরকার।’

সদুত্তর নেই কর্তৃপক্ষের

এ প্রসঙ্গে কথা হয় ঢাবি বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক কানিজ ফাতেমার সঙ্গে। তিনি ফাতেহকে বলেন, ‘পরিচয় শনাক্তকরণের জন্য এ নিয়মটি করা হয়েছে। অনেকে পরীক্ষার সময় ব্লুটুথ হেডফোন ব্যবহার করে। তাদেরকে চেক দেয়ার জন্যই এ নিয়মের প্রবর্তন।’

গণমাধ্যমের খবর হলো, ঢাবিতে ছেলেরাও প্রক্সি দিচ্ছে। তাহলে নিকাব না পড়লেও প্রক্সি দেয়ার সম্ভাবনা আছে। কানিজ ফাতেমা বলেন, ‘যে ডিপার্টমেন্টে ছেলে প্রক্সি দিয়েছে, এটা তাদের ব্যর্থতা।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধিতে শনাক্তকরণের জন্য তো নিকাব খুলে রাখার নিয়ম নেই। হয়ত সামান্য সময়ের জন্য খোলা যেতে পারে, তাও নারী শিক্ষকের সামনে। কানিজ ফাতেমা বলেন, ‘নিকাব খুলে রাখার নিয়ম নেই। আমরা ক্লাসে ত খুলে রাখতে বলছি না। শুধু পরীক্ষায় খুলতে বলেছি।’

নিকাব না খুলেও আধুনিক টেকনোলজি ব্যবহার করে শনাক্ত করা যায়। সেটা ব্যবহার করা হচ্ছে না কেন? কানিজ ফাতেমা বলেন, ‘সেটা ত আমরা করতে পারব না। করবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। কর্তৃপক্ষ সেটা কেন করছে না, তাতো আমি জানি না।’

The post ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে হিজাব-নিকাবে বাধা appeared first on Fateh24.



source https://fateh24.com/%e0%a6%a2%e0%a6%be%e0%a6%95%e0%a6%be-%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%b6%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a7%87-%e0%a6%b9%e0%a6%bf%e0%a6%9c/

Wednesday, December 21, 2022

খেলা নিয়ে উন্মাদনা বাড়ছে, আলেম সমাজের উদ্বেগ

মুনশী নাঈম:

চায়ের দোকানটায় একটা জটলা। কয়েকজন তরুণ উবু হয়ে মোবাইলে ক্রিকেট খেলা দেখছে। দোকানজুড়ে তারই আলোচনা। খোদ দোকানিও চা বানাতে বানাতে খেলার খোঁজ নিচ্ছেন। সেজন্য আমাকে চা দিতে খানিক দেরীই হলো। দেখে মনে হলো, ফুটবল বিশ্বকাপ শেষ হলেও শেষ হয়নি তার রেশ। অলিতে-গলিতে এখনও খেলার আলোচনা। বিশ্লেষকরা বলছেন, কেবল ফুটবল বিশ্বকাপই নয়, বাংলাদেশে বিভিন্ন জনরার খেলা নিয়ে ক্রমশ উন্মাদনা বাড়ছে।

বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশের আলেমরা। তারা বলছেন, খেলার উন্মাদনা সীমা ছড়িয়ে যাচ্ছে দিনদিন। এতে যেমন পার্থিব ক্ষতি হচ্ছে, তেমনি ক্ষতি হচ্ছে ব্যক্তিগত ঈমান-আমলেরও। এই ক্ষতিটা যখন প্রকট হয়ে প্রকাশ পাবে, সেটা হবে ভয়ংকর।

পার্থিব ও পরকালের ক্ষতি

এ প্রসঙ্গে কথা হয় মুফতি মিজানুর রহমান সাঈদের সঙ্গে। তিনি ফাতেহকে বলেন, ‘বিষয়টি ভয়ংকর উদ্বেগের। কারণ, ইসলাম খেলাধূলার অনুমতি দিয়েছে শর্তসাপেক্ষে। এই খেলার মাধ্যমে কারও কোনো ক্ষতি হতে পারবে না। রাসুল সা. এবং সাহাবিরা বিভিন্ন সময় তির এবং দৌড় খেলা খেলতেন। কুস্তি খেলা খেলতেন। রাসুল সা. হজরত আয়েশাকে সেই দেখাতেনও। কিন্তু বর্তমানে খেলা নিয়ে যে উস্মাদনা তৈরী হয়েছে, তা শরিয়তের সীমা ছাড়িয়ে গেছে। যেই খেলা ছিল মানসিক প্রশান্তির জন্য, তা আজ মানসিক প্রশান্তি বিনষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘খেলার উন্মাদনায় আমাদের আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে। যেমন আমরা গভীর রাতে খেলা দেখে দিনে অনেকেই দোকান খুলে না। জিজ্ঞেস করলে বলে, রাতে খেলা দেখেছি। তাই দোকান খুলতে দেরী হয়েছে। অনেকে প্রিয়দলের পতাকা টানিয়ে, বিভিন্ন আয়োজন করে টাকা উড়াচ্ছে। এই খেলাকে কেন্দ্র করে দেদারসে চলছে জুয়ার রমরমা বাজার। তারপর আবার প্রিয় দল খেলায় না জিতলে অনেকে হার্ট এট্যাক করে, কেউ আত্মহত্যা করে। অন্তত মানসিকভাবে কষ্ট পায় না, এম খুবই কম আছে। খেলা নিয়ে দ্বন্দ্বে অনেক জায়গায় ঝগড়া হয়, মানুষ শারীরীকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পার্থিব দিক দিয়ে তো ক্ষতি আর ক্ষতিই। লাভের কোনো দিক চোখ পড়ে না।’

মুফতি মিজানুর রহমান সাঈদ আরও বলেন, ‘শুধু পার্থিব ক্ষতি হচ্ছে না, ক্ষতি হচ্ছে ব্যক্তিগত ঈমান-আমলেরও। এসব খেলায় অনেকের সতর ঢাকা থাকে না। সেসব দৃশ্য আমরা দেখছি। দেখছি নারী-পুরুষের ফ্রি-মিক্সিংও। খেলার সময় নামাজের সময়ের খবর থাকে না। হারাম-হালালের কোনো তোয়াক্কা থাকে না। এমনকি খেলা দেখতে দেখতে ঈমান-আমলের কমতির অপরাধবোধও জন্ম নেয় না। এই খেলার উন্মাদনায় যে ফরজ নামাজ ছেড়ে দিচ্ছি, হারামে জড়িয়ে যাচ্ছি, তার কোনো অনুভূতি থাকে না। পাপের সবচে বড় ক্ষতিকর দিক হলো, মন থেকে পবিত্র অনুভূতিগুলো দূর করে দেয়। খেলা আমাদের সঙ্গে সেটাই করছে।’

‘কথিত’ বক্তাদের উসকানি

মাহফিলে বিভিন্ন বয়ানে কতিপয় বক্তা খেলা নিয়ে কথা বলেন। তাদের কথা বলার ভঙ্গি থাকে কৌতুকমূলক। তাদের কথা থেকেই নির্দিষ্ট দলের প্রতি তাদের পক্ষপাত বুঝা যায়। দেশে খেলার উন্মাদনা জিইয়ে রাখার পেছনে তাদের ভূমিকা আছে বলে মনে করেন মুফতি মিজানুর রহমান সাঈদ। তার মতে, এসব বক্তাদের কারণে খেলা নিয়ে ভয়ংকর উন্মাদনার বিষয়টি স্বাভাবিক হয়ে যাচ্ছে। তারা এমন হেসেখেলে খেলা নিয়ে কথা বলেন, মানুষ ভাবে, খেলা নিয়ে উন্মাদনা দেখানোই যায়। আমি ত নামাজ পড়ছি, রোজা রাখছি। এই খেলা আমার ক্ষতি করবে না।

তিনি আরও বলেন, ‘অনেকে আবার বেশি কঠিন করে ফেলেন। বয়ানে বসেই বলে দেন, খেলা হারাম। খেলা দেখাও হারাম। অথচ মূল বিষয়টি তো এমন নয়ত। খেলা তো ইসলামে জায়েজ। কিন্ত তা শরিয়তের সীমায় থেকে। শরিয়তের সীমা লঙ্ঘন করলে সেটা জায়েজ হবে না। জনগণকে এই নোক্তাটুকু বলে দিতে হবে। নয়ত জনগণ ভাববে, ইসলাম একটি নিরস ধর্ম। অথচ ইসলাম একটি স্বভাবজাত ধর্ম। বিনোদন ও উপভোগের শরিয়তসম্মত পদ্ধতি রয়েছে। এগুলোকে ইসলাম নিষেধ করেননি। কিন্তু ইসলাম যতটুকু অনুমতি দিয়েছে, ততটুকুই।’

নষ্ট হচ্ছে আবেগ

এ প্রসঙ্গে কথা হয় জামিয়া আরাবিয়া ইমদাদুল উলুম ফরিদাবাদ মাদরাসার সিনিয়র শিক্ষক মুফতি ইমাদুদ্দিন সাহেবের সঙ্গে। তিনি ফাতেহকে বলেন, ইসলামে খেলাধূলা মানসিক রিফ্রেশমেন্ট ও শরীর চর্চার একটি উপকরণ মাত্র। একজন মুসলিম শরীয়ার সীমানায় থেকেও তা থেকে উপকৃত হবেন। কিন্ত তা যদি হয়ে যায় উন্মাদনা, তাহলে সেটা ভয়ংকর। বর্তমানে আমাদের দেশের অবস্থা হচ্ছে, দেশে সংকটের অভাব নেই। তরুণদের সেসব নিয়ে ভাবনাও নেই। সে তার গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ আবেগ, উচ্ছ্বাস ও উদ্যম সব ব্যয় করছে খেলায়, খেলার বিশ্লষণে।

তিনি এই উন্মাদনার ক্ষতিকর দিক তুলে ধরে বলেন, খেলার উন্মাদনার ক্ষতিটা এক-দুইদিনে প্রকাশ নাও পেতে পারে। কিন্তু এর দীর্ঘমেয়দী প্রভাব আছে। দেখা যাবে কিছুদিন পর আমাদের ছেলেরা দেশের জরুরি রাজনৈতিক-ধর্মীয় জটিলতাগুলো নিয়ে ভাবছে না। আমরা একটা ঈমানী আন্দোলনের ডাক দিলে তারা আসছে না। ঈমানী আন্দোলনের গুরুত্বটাই অনুভব করতে পারছে না। এটা আমদের জন্য বিশাল ক্ষতি। আমাদের আগামী ভবিষ্যত তো তরুণ-যুবকদের হাতে। তারা যদি দেশ-ধর্ম নিয়ে না ভাবে, আর কে ভাববে?’

মুফতি মিজানুর রহমান সাঈদ বলেন, ‘আরেকটি ভয়ংকর দিক হলো, খেলা দেখে দেখে আমাদের তরুণরা খেলোয়ারদের অনুসরণ করছে। তাদের মতো চুল কাটছে, কাপড় পড়ছে। রাসুলের আদর্শ বাদ দিয়ে তারা খেলার মাঠের মানুষদের বানাচ্ছে আদর্শ। এই অনুকরণপ্রিয়তার মধ্য দিয়েই শুরু হয় সাংস্কৃতিক পতন। এই পতন ঠেকাতে রাষ্ট্রর সরকার, আলেম সমাজ এবং অভিভাবকদের ভূমিকা পালন করতে হবে। বিষয়টির ভয়াবহতা ফুটিয়ে তুলতে হবে। দেশের ‍উন্নয়নে, দেশের মেধার উন্নয়নে এর বিকল্প নেই।’

The post খেলা নিয়ে উন্মাদনা বাড়ছে, আলেম সমাজের উদ্বেগ appeared first on Fateh24.



source https://fateh24.com/%e0%a6%96%e0%a7%87%e0%a6%b2%e0%a6%be-%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a7%87-%e0%a6%89%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a6%a8%e0%a6%be-%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%a1%e0%a6%bc/

Tuesday, December 20, 2022

ছাত্রলীগের নতুন সভাপতি সাদ্দাম, সম্পাদক ইনান

ফাতেহ ডেস্ক:

ছাত্রলীগের নতুন শীর্ষ নেতৃত্বের নাম ঘোষণা হয়েছে। এতে সভাপতি হয়েছেন সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান।

মঙ্গলবার (২০ ডিসেম্বর) রাতে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন গণভবন থেকে বের হয়ে তাদের নাম ঘোষণা করেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। ছাত্রলীগের ৩০তম জাতীয় সম্মেলনের ১৩ দিন পর নতুন কমিটি ঘোষণা করা হলো।

এর আগে ৬ ডিসেম্বর রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ছাত্রলীগের জাতীয় সম্মেলন হয়। কিন্তু সম্মেলনে ছাত্রলীগের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়নি। তখন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছিলেন ২৪ ডিসেম্বরের আগেই নতুন কমিটি ঘোষণা করা হবে।

এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি হয়েছেন মাজহারুল কবির শয়ন এবং সম্পাদক হয়েছেন তানভীর হাসান সৈকত।

এছাড়া ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের সভাপতি হয়েছেন রিয়াজ মাহমুদ, সাধারণ সম্পাদক পদে এসেছেন সাগর আহমেদ। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের সভাপতির দায়িত্ব পেয়েছেন রাজীবুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন সজল কুন্ডু।

The post ছাত্রলীগের নতুন সভাপতি সাদ্দাম, সম্পাদক ইনান appeared first on Fateh24.



source https://fateh24.com/%e0%a6%9b%e0%a6%be%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%b2%e0%a7%80%e0%a6%97%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%a8%e0%a6%a4%e0%a7%81%e0%a6%a8-%e0%a6%b8%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%aa%e0%a6%a4%e0%a6%bf-%e0%a6%b8/