Friday, January 21, 2022

মদিনা হুজুর: সুন্নত পালনে আপসহীন অভিযাত্রী

মুহাম্মদ হেলাল উদ্দিন:

বহুগুণে গুণান্বিত মানুষ ছিলেন আমাদের প্রাণপ্রিয় উসতাদ মাওলানা আব্দুর রব রহ. (মদিনা হুজুর)। শত বিপদে আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা, ইবাদতের ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব নিষ্ঠা, কুরআন তেলাওয়াতের প্রতি প্রচণ্ড আগ্রহ, হাদীসে নববীর প্রতি অতুলনীয় ভক্তি, মেহমানদারির বিষয়ে ইবরাহিম আ.-এর অনুসরণ, মাদ্রাসার কানুনের উপর পূর্ণ শ্রদ্ধা, ছাত্রদের প্রতি নিটোল স্নেহ ও ভালবাসা এবং পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর যত্ন ও মনোযোগ সহ ইত্যাদি হরেক রকমের ঈমানী গুণে গুণান্বিত ছিলেন তিনি। এতসব গুণ ভাষায় প্রকাশ করে, কাগজে লিখে শেষ করা অসম্ভব। তবুও পয়েন্ট আকারে হুজুর সম্পর্কে কিছু গুণ তুলে ধরবো।

১. আল্লাহর প্রতি মানুষের কী পরিমাণ আস্থা ও বিশ্বাস বদ্ধমূল থাকে তা অনুমান করা অসম্ভব। তবে মানুষের বাহ্যিক কর্মকাণ্ড দেখে কিছুটা অনুমান করা যায়। হুজুরও এর ব্যতিক্রম ছিলেন না। আমরা দেখেছি, যত বড় বিপদ হোক না কেন, হুজুর কখনো ঘাবড়াতেন না । বরং তিনি আল্লাহর উপর পূর্ণ আস্থা রাখতেন। বিপদ থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার জন্য শেষ রাতে নামাজ পড়ে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করতেন। কখনো বিচলিত হতেন না।

২. নামাজের প্রতি ছিল তার অগাধ ভক্তি ও ভালোবাসা। জামাতের সময় হলেই সঙ্গে সঙ্গে জামাতবদ্ধ হয়ে নামাজ আদায় করে নিতেন। বিশেষ কোন জরুরত ব্যতিত জামাত ছাড়তেন না। জুমাবারে লালবাগ শাহী মসজিদে দশটা ত্রিশ মিনিট থেকে এগারোটার মধ্যেই সবার আগে উপস্থিত হতেন। খতীব সাহেব মিম্বরে বসার আগ পর্যন্ত বিভিন্ন আমলে মশগুল থাকতেন। যার সাক্ষী শাহী মসজিদের খাদেমগণ সহ অন্যান্য মুসল্লিরা।

৩. দোয়ার বিষয়ে হুজুরকে মুসতাজাবুদ দাওয়াহ মনে করা হয় । এর বাস্তবতাও দেখা গেছে। এর কারণে সর্বদাই হুজুরের রুমে দোয়ার জন্য সাধারণ মানুষের আনাগোনা ছিল চোখে পড়ার মতো।

৪. হুজুর ছিলেন সুন্নতে নববীর প্রকৃত আশেক । সুন্নত ছোট হোক কিংবা বড় , কোনটিই হুজুর অবহেলা করতেন না। সুন্নত ছেড়ে দেয়া হুজুরের পক্ষে ছিল অসম্ভব। হুজুরের সামনে কোনো ছাত্র সুন্নত পরিপন্থী কোনো কাজ করবে, তা ছিল দুঃসাধ্য। বিশেষ করে চুল, দাঁড়ি, জামা-সেলাওয়ার সুন্নত পরিপন্থী দেখলে হুজুরের গোস্বার কোন সীমা থাকতো না।

লালবাগ মাদ্রাসায় প্রতি সপ্তাহে মজলিসে আকাবির অনুষ্ঠিত হয় । প্রতি বুধবার জামিয়ার প্রবীণ কোন মুহাদ্দিস ছাত্রদের উদ্দেশ্যে নসিহত করতেন। মদীনা হুজুর যে নসীহত করতেন, তার সিংহভাগজুড়ে তিনি সুন্নত নিয়ে আলোচনা করতেন। আলোচনায় প্রায় বলতেন, দাঁড়ি খাটো করে চুল বড় (হাত দিয়ে ইঙ্গিত করে বলতেন) রেখে মদীনার নবীর সামনে চেহারা কীভাবে দেখাবি? এসব বলে আহ্ আহ্ শব্দ করে দীর্ঘ সময় ধরে কাঁদতেন।

৫. ছাত্রদের কোন দুঃখ-কষ্ট হুজুর সহ্য করতে পারতেন না। কোন ছাত্র কোন বিপদে পড়লে হুজুর যথাসাধ্য সহযোগিতা করতেন। পাশে থাকতেন। তার জন্য বিশেষ ভাবে দোয়া করতেন।

৬. ছাত্রদের ফারাগাতের পর মাদ্রাসায় খেদমত করাকে সর্বাধিক পছন্দ করতেন। কারো ব্যাপারে যদি শুনতেন, সে মাদ্রাসায় খেদমত করে, তাহলে যারপরনাই খুশি হতেন। দোয়া দিতেন।

এমন একটি ঘটনা আমার আব্বুর সঙ্গে ঘটেছিল। তখন আমার বড় ভাই লালবাগে পড়াশোনা করেন। সেই সুবাদে আব্বু বড় ভাইয়ার (মুফতি সালাহ উদ্দিন। নাজেম ও মুহাদ্দিস জেলা কোর্ট মসজিদ মাদ্রাসা গোপালগঞ্জ) সঙ্গে দেখা করতে এলে হুজুরের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেতন। একদিন সাক্ষাতে আব্বু বললেন, হুজুর, মেয়েকে তো বিয়ে দিয়েছি। হুজুর জানতে চাইলেন,জামাই কী করে? উত্তরে আব্বু বললেন , ইমামতি করে। এ কথা শোনামাত্র হুজুর বললেন, তাহলে মেয়েকে পড়িয়ে কী করলেন? আব্বু হুজুরের কথাটা তৎক্ষণাৎ বুঝতে পারেননি। একটু পর বুঝতে পেরে তিনি বললেন, হুজুর, জামাই মাদ্রাসায়ও খেদমত করে । তখন হুজুর বললেন, এবার ঠিক আছে।

এর পরই আব্বু আমাদের চার ভাইকে বলে দিয়েছেন, যেভাবেই হোক মাদ্রাসায় খেদমত করতে হবে। হয়েছেও তাই। আলহামদুলিল্লাহ!

৭. মেহমানদারিতে হুজুর ছিলেন উদার হস্ত। কেউ সাক্ষাতে এলে সর্বপ্রথম হুজুর তাকে নাস্তা দিতেন। এরপর কথাবার্তা বলতেন।

৮. আলেম হিসেবে হুজুর কেমন ছিলেন তা বলার অপেক্ষা রাখে না। শুধু এতটুকুই পূর্ণ আস্থার সঙ্গে বলতে পারি, হুজুরের ন্যায় যোগ্য ও মুত্তাকী আলেম বর্তমানে মেলা ভার।তিনি মুহাদ্দিস হিসেবে ছিলেন অসাধারণ। লালবাগে আবু দাউদ শরীফ পুরাটা একাই পড়াতেন। মতবিরোধ পূর্ণ অধ্যায়ের ক্ষেত্রে প্রথমে ইমামগণের দলীল- আদিল্লা আলোচনা করতেন। মাজহাবে হানাফিয়্যাকে দালীলিকভাবে প্রাধান্য দিতেন। এরপর ঐ মাসআলার ব্যাপারে জলীলুল কদর মুহাদ্দিস আল্লামা খলীল আহমদ সাহারানপুরীর মন্তব্য তুলে ধরতেন। সবশেষে ঐ মাসআলার ব্যাপারে নিজের রায় বলতেন। এতটুকু নিশ্চয়ই ইলমে হাদীসের উপর হুজুরের অগাধ পাণ্ডিত্বের পরিচয় বহন করে।

৯. ক্লাসে ছাত্রদের অনুপস্থিত থাকাটা হুজুরের মেজাজের সম্পূর্ণ বিপরীত ছিলো। কোন ছাত্র অনুপস্থিত থাকলে হুজুর চটে যেতেন। ক্লাসে অনুপস্থিতির ব্যাপারে হুজুর নিজের জীবনের একটা ঘটনা প্রায় বলতেন।

হুজুর বলেন, সাহারানপুরে দাওরা পড়ার সময় এক পরীক্ষার খেয়ারে আমি মুতায়ালার জন্য আবু দাউদ শরীফ নিয়ে জঙ্গলে যাই। যেদিন জঙ্গলে যাই, ঠিক সেদিন শায়খুল হাদীস মাওলানা জাকারিয়া রহ. দাওরার দরসে আসেন এবং হাজিরা ডাকেন। জাকারিয়া রহ. কখনো দরসে হাজিরা নিতেন না। মাদ্রাসায় এসে যখন জানতে পারলাম, শায়খুল হাদীস রহ. দরসে হাজিরা নিয়েছেন, তখন মনটা খুব খারাপ হয়ে গেলো।আমি দরসে কখনো অনুপস্থিত থাকি না। আজকে অনুপস্থিত আর আজকেই হাজিরা! দ্বিতীয়দিন জাকারিয়া রহ. দরসে এলেন। হাজিরায় যখন আমার নাম ডাকলেন, আমি লাব্বাইক বলে উপস্থিতি নিশ্চিত করলাম। তখন জাকারিয়া রহ. আমার দিকে মাথাটা উঁচু করে একবার তাকালেন। কিন্তু কিছুই বললেন না।

এ ঘটনা বর্ণনা করে মদিনা হুজুর বলতেন, এই একদিন দরসে অনুপস্থিত থাকার কারণে আল্লাহর কাছে কত শতবার তাওবা করেছি তার কোন হিসেব নেই। কিন্তু এখনো মনে ইতমীনান হয় না যে, আমাকে আল্লাহ ক্ষমা করেছেন।

আমার বড় ভাইয়ের সঙ্গেও হুজুরের সম্পর্ক ছিলো সুগভীর। লালবাগ মাদ্রাসার নিয়ম হলো, জামাতে তাইসির থেকে কাফিয়া পর্যন্ত ছাত্ররা ছাত্রাবাসে থাকবে। শরহেজামী থেকে তাকমীল পর্যন্ত লালবাগ শাহী মসজিদের সঙ্গে সংযুক্ত ভবনে। ভাইয়ার কাফিয়া জামাত শেষ হলো। নিয়ম অনুযায়ী বছরের শুরুতে ছাত্রাবাস থেকে বিদায় নিলেন। একদিন হঠাৎ করে মদিনা হুজুর মাদ্রাসার মূল ভবনে আসলেন। ভাইয়াকে ডেকে নিয়ে বাবা হুজুরের (মাওলানা মুজিবুর রহমান র:) কাছে নিয়ে গেলেন। বাবা হুজুরকে বললেন ওকে চিনেন? ওর নাম আবু সালেহ। ওকে দেখে রাখবেন। খেয়াল রাখবেন।

এরপর থেকে বাবা হুজুরের সাথে বড় ভাইয়ার সম্পর্ক দিন দিন বৃদ্ধি পেতে লাগলো। আমি একদিন বাবা হুজুরকে বললাম যে, সালাহউদ্দিন আমার আপন ভাই। একথা শুনে বাবা হুজুর আমাকে নাতি বলে সম্বোধন করলেন। আর বললেন, তাহলেতো তুই আমার নাতি !

আবু দাউদ শরীফের ইবারত প্রায় আমাকে পড়তে হতো। অনেক সময় অস্থির লাগতো। একদিনের ঘটনা। আমি প্রতি বছরই প্রত্যেক জামাতে হুজুরদের সিনা বরাবর বসতাম। এ হিসেবে দাওয়ার বছরেও এর ব্যতিক্রম হয়নি। একদিন হুজুরের সামনে থেকে আবু দাউদের ইবারত না পড়ার উদ্দেশ্যে তেপায়ার একেবারে কর্ণারে গিয়ে বসলাম। একটু পর লক্ষ্য করলাম, চেহারাটা মলিন করে পলকহীন আমার দিকে তাকিয়ে আছেন । তখন আমার বুঝতে আর বাকি রইল না যে, হুজুর আমার প্রতি রাগ করেছেন। হুজুরের সঙ্গে আমার এই আচরণ প্রায় আমাকে ব্যথিত করে। এ কথা মনে হলে অন্তরটা কাঁপতে থাকে।

আরেকদিনের ঘটনা। হুজুর দরসে আসছেন। মসনদে বসেছেন। আমাকে উঠে বাইরে চলে যেতে দেখে পাশের এক ছাত্রকে বললেন, হেতিরে ধরি নি আয়! হুজুরের একথা শুনে আমি আমার জায়গায় ফিরে আসলাম।

এই দুই ঘটনা দ্বারা আমি পরবর্তীতে বুঝতে পেরেছিলাম যে, আমার প্রতি হুজুরের আলাদা একটা টান আছে।

আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবার প্রিয় মদিনা হুজুরের অপরাধগুলো ক্ষমা করে তাকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করুন। আমীন।

The post মদিনা হুজুর: সুন্নত পালনে আপসহীন অভিযাত্রী appeared first on Fateh24.



source https://fateh24.com/%e0%a6%ae%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a6%be-%e0%a6%b9%e0%a7%81%e0%a6%9c%e0%a7%81%e0%a6%b0-%e0%a6%b8%e0%a7%81%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a8%e0%a6%a4-%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a6%a8%e0%a7%87/

মদিনা হুজুরের প্রতি এক ছাত্রের চিঠি

আরিফ মাহমুদ:

‘কলমের কালিতে লেখা এবং চোখ বুলিয়ে পড়ে নেয়া যতটা সহজ, মানসপটে এঁকে নেয়া, মন ও মননে ধারণ করা এবং অনুভবের জগতে ঠাঁই দেয়া ততোটা সহজ নয়।’

জানি না— হুজুর যেখানে বসতেন, তার মাথার উপরে এই বাক্যটি লিখে কে লিখে টানিয়ে দিয়েছিলো। যতক্ষণ রুমে থাকতাম, সবচেয়ে বেশী চোখে পড়তোে এই লেখাটি। হয়তো লেখাটি হুজুরের কামরায় যাওয়া কারো দৃষ্টিই এড়াতে পারেনি। কিন্তু কজন ধারণ করতে পেরেছে। ধারণ করতে পারিনি আমিও। তবুও বলতে ইচ্ছে করে— হুজুর, আপনি আব্দুর রব। আপনার রব আপনার। আপনি আপনার রবের। তাইতো জীবনের প্রতিটি ক্ষণে রবকে ভালোবেসে, রবের ভালোবাসায় সিক্ত হয়েছেন।

আল্লাহর দরবারে হাত তুলে কাঁদতে পারে অনেক বান্দা-ই। কিন্তু আপনার হু হু করে কেঁদে ওঠার দৃষ্টান্ত তো শুধু আপনিই। ইয়া হাইয়্যু, ইয়া কাইয়্যুম উচ্চারণ করতে পারে যে কেউ। কিন্তু এতোটা ভালোবাসা, এতোটা দৃঢ়তা ও নির্ভরতা নিয়ে উচ্চারণ করতে পারার দৃশ্য বিরল। আপনার হৃদয়ের গহীন থেকে যে দীর্ঘশ্বাস বেরুতো, কলমের কালিতে তা ফুটিয়ে তোলা কী সম্ভব! গাল বেয়ে সফেদ দাড়িগুলোকে সিক্ত করা অশ্রুফোঁটার চিত্র আঁকার সাধ্য কী আছে কোন শিল্পীর! মাহবুবে হাকীকীর প্রেমে আপনার ব্যাকুলতার তরজমা করতে পারবে কী কেউ কোনদিন!

আড়ালে-আবডালে, নীরবতা-নির্জনতায় সাধনা করে গেছেন সারাজীবন। অল্পেতুষ্টি আর অনাড়ম্বরতার জীবনে আমাদের শিখিয়ে গেছেন সত্যিকারের একটা মুসাফিরি জিন্দেগী। এ যেন রাসূলে আরাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সে বাণীরই পূর্ণ অনুসরণ—كن في الدنيا كأنك غريب او عابر سبيل

পুরো জীবন আপনার আবেগ আর অনুভূতিতে মিশে ছিল রাসূলপ্রেম আর মদীনা। সৌভাগ্য হয়নি—আপনার দরসে বসে হাদীসে নববীর সারগর্ভ তাকরীরের সেই দুর্লভ দৃশ্যের সাক্ষী হবার। কিন্তু একদিন সৌভাগ্য হয়েছিলো এক আশেকে রাসূলের যবানিতে কাসিদা শ্রবণে আপনার আঁখিযুগলে টলটল করা অশ্রু অবলোকন করার। অশ্রুর ভাষা আমরা বুঝতে পারি না। কিন্তু স্মৃতির আয়নায় সেই দৃশ্যগুলো হাজার বছর বেঁচে থাকবে ইশকে রাসূলের এক জীবন্ত দাস্তান হয়ে। মদীনার নাম শ্রবণে-উচ্চারণে চক্ষু অশ্রুসিক্ত হতে পারে—হয়তো আপনাকে না দেখলে বিশ্বাস করা দুষ্কর ছিলো। মদীনার প্রেমে রাসূলে আরাবীর স্পর্শধন্য মাটি কাছে রাখা—এতো প্রেমের এক বিরল বহিঃপ্রকাশ! কজন বুঝার ক্ষমতা রাখে এই ভালোবাসা। কল্পনার দৃষ্টিসীমায় ভেসে উঠে আপনার ডান হাতের কাছে থাকা ছোট্ট কাঁচের শিশিটার গায়ে আপনার কাঁপা কাঁপা হাতে লেখা ” مدینہ کا مٹی”। মদীনা থেকে হাদিয়া আসা আতরের শিশিটাকে মাথায় তুলে নেয়া। মদীনার খেজুরে পরম ভালোবাসা-মাখা কামড় বসিয়ে দেয়ার সময় আনন্দে চিকচিক করা চোখের চাহনি।

সুন্নতের প্রতি ভালোবাসা কেমন হয় বা কেমন হওয়া উচিত জানি না। তবে জীবনের প্রতিটি কদমে আপনার সুন্নতের অনুসরণ আমাদের জানিয়ে দিয়েছে, মদীনাওয়ালার প্রতি যার যত প্রেম সুন্নতে তার তত অনুসরণ। আপনি দেখিয়ে গেছেন। হাত ধরে শিখিয়ে গেছেন। কিন্তু পারিনি গ্রহণ করতে। এ আমার ব্যর্থতা। কখনো হেসে কখনো ভালোবাসা-মাখা রাগে শাসনের সুরে বলেছেন। বুঝিনি। কানে ভাসে এক তালিবুল ইলমের মাথায় সুন্নতের বিপরীত চুল দেখে আপনার বলা কথাগুলো—‘যদি এখন তোর মরণ আসি যায় কেমনে দাঁড়াইবি রাসূলের সামনে?’

আমরা তো পারি না এভাবে ভাবতে। আফসোস হয় নিজের জন্য। মনে পড়ে একদিন জুতার মাপ নেয়ার জন্য একটা সেন্ডেল নিয়ে আসা হয়েছিলো আপনার কাছে; জুতাটা পায়ে দিয়ে শুধু মাপ দিবেন। কিন্তু জুতাটা বাম পায়ের ছিলো। একটু উত্তপ্ত স্বরে সতর্ক করে বললেন, ‘জুতা বাম পায়ের কেন। পড়ার সময় সুন্নত ডান পা আগে পরা।’

ছোট থেকে ছোট। কিন্তু সেই সুন্নত পালনে আপনি বরাবরই তৎপর ছিলেন। যখন আপনি বার্ধক্যের দুর্বলতার শেষ সীমায় উপনীত, ফজরের আগে হাঁটতে গিয়ে মাথায় আঘাত পেয়েছেন। রক্ত ঝরছে। ভ্রুক্ষেপ নেই। নামাজের সময় হয়ে গেছে। রক্ত তো থেমে যাবে। কিন্তু নামাজের সময়টা যদি সংক্ষিপ্ত হয়ে যায়। অযুর আগে মিসওয়াকের সুযোগ যদি না হয়। তাই সেই রক্তাক্ত অবস্থায় মিসওয়াক হাতে আপনি। জুমার দিন আগে আগে মসজিদে যাওয়া সুন্নত। জুমার ওয়াক্ত হয়ে গেছে আর আপনি কামরায় রয়ে গেছেন— মসজিদে যাওয়ার মত সুস্থতা যতদিন আপনার ছিলো এমন ইতিহাস হয়তো কেউ দেখেনি । মাথায় টুপি পড়া সুন্নত সবাই জানে। কিন্তু আমল কতটুকু! কোনদিন আপনাকে দস্তরখানায় দেখিনি মাথা টুপিবিহীন।

সবার প্রতি আপনার ভালোবাসা ছিল ঠিক রাসূলের মতো। রাসূল সা. সব সাহাবির প্রতি এমন ভালোবাসা প্রকাশ করতেন, প্রত্যেকে ভাবতেন, রাসূল সা. বুঝি তাকে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসেন। এমনি ছিলো সবার প্রতি আপনার ভালোবাসা। এমনকি কেউ কেউ বলতো, হুজুর হয়তো নিজের সন্তানদের চেয়ে তাদের বেশী ভালোবাসেন। নিশ্চিন্তেই আপনার কাছে থাকা সবাই দাবী করতে পারতো, অন্যজনের তুলনায় আপনি তাকেই বেশী ভালোবাসেন। হুজুর, আপনি কী করে পারতেন! প্রতিটি কদমে আপনার ইচ্ছার বিপরীতে, আপনার নির্দেশ অমান্য করেছি। কিন্তু কোনদিন রাগ চেপে রাখেননি। কখনো শাসনে, কখনো গোপনে মাফ করে দিয়েছেন। আপনার সান্নিধ্যের নেয়ামতের কদর করতে পারিনি। তথাপি যখনই গিয়েছি কাছে টেনে নিয়েছেন। পরম ভালোবাসায় মাথায় হাত বুলিয়ে দুআ দিয়েছেন।

আপনি ছিলেন আপনার উপমা। আপনার ভালোবাসার কোন ব্যাখ্যা হয় না। মনের আয়নায় ভেসে ওঠে স্মৃতির পাতা উল্টিয়ে উচ্চারণ করা আপনার অতীত। সাহারানপুর থেকে যখন আপনি বিদায় নিয়ে ফিরছিলেন, আপনার শায়খ জাকারিয়া কান্ধলভী রহ. দাঁড়িয়ে সবাইকে বিদায় দিচ্ছিলেন। আপনি দাঁড়িয়ে ছিলেন। সবার শেষে শায়খের বুকে আপনার মস্তক। শায়খ শাগরেদের নয়ন ভরা জল। শুধু যবানে নয়, কাজে-কর্মেও যে আপনি ফিরে যেতেন আপনার শায়খের অতীতে। কান্ধলভী রহ. ছাত্র যামানায় যেরূপ কোন কিতাব শেষ করার পর কিছু পয়সা পেতেন মিষ্টি খাওয়ার নামে, আপনার শাগরেদরাও আপনার কাছ থেকে পেতো কিতাব শেষ হওয়ার পর। সেদিন সবকের শেষে রাকিব নামের একজন তালিবুল ইলম এসেছিলো আপনার হাত ধরে। আমাকে বলেছিলেন আপনি, ‘ব্যাগডা ল।’ ব্যাগটা এগিয়ে দিতেই চেইনটা খুলে কিছু টাকা তার হাতে দিয়ে বললেন, ‘ধর তোরা সবে মিলি চকলেট খাইস।’

আ’ম বয়ানে আপনার মুখে আপনার শায়খের বরাতে একটি শে’র কতবার শুনেছি তার কোন ইয়ত্তা নেই।
چشم بند و گوش بند و لب بند
گر ندیدی نور حق بر من بخند

আপনি চোখ বন্ধ রেখেছেন। কান বন্ধ রেখেছেন। মুখ বন্ধ রেখে অন্তর খুলে দিয়েছিলেন। আপনার ভালোবাসা প্রসারিত হয়েছিলো আরশে আযীম থেকে মদীনা মুনাওয়ারা পর্যন্ত। আপনার ভালোবাসায় সিক্ত হয়েছিলো নিকট থেকে নিকটতম, দূর থেকে দূরতম ব্যক্তিটিও। কারো প্রতি রাগ অভিমান গোস্বা নয়। শুধু বিলিয়েছেন প্রেম। কারো নূন্যতম ক্ষতি আপনার স্বেচ্ছায়-সজ্ঞানে হয়েছে তা কল্পনাও করা সম্ভব নয়। আপনি ছিলেন জগতের ঝঞ্ঝাটমুক্ত এক নীরব সাধক। যশ-খ্যাতি ধন-সম্পদের মোহ আপনার কল্পনার দেড়গোরার কাছাকাছিও কোনদিন ঘেঁষতে পারেনি। স্বার্থ নামক তুচ্ছ বস্তুটা কোনদিন আপনার স্বপ্নের জগতেও অনুপ্রবেশ করতে পারেনি। আপনি ছিলেন আপনার ব্যক্তিত্বের উপমায় প্রথম এবং শেষ।

The post মদিনা হুজুরের প্রতি এক ছাত্রের চিঠি appeared first on Fateh24.



source https://fateh24.com/%e0%a6%ae%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a6%be-%e0%a6%b9%e0%a7%81%e0%a6%9c%e0%a7%81%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%a4%e0%a6%bf-%e0%a6%8f%e0%a6%95-%e0%a6%9b%e0%a6%be/

করোনারোধে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ৫ জরুরি নির্দেশনা

ফাতেহ ডেস্ক:

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে পাঁচ দফা জরুরি নির্দেশনা জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। শুক্রবার (২১ জানুয়ারি) এ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

নির্দেশনাগুলো হলো-

১. ২১ জানুয়ারি থেকে ৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশের সব স্কুল, কলেজ বন্ধ থাকবে।

২. বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিজ নিজ ক্ষেত্রে অনুরূপ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

৩. রাষ্ট্রীয়, সামাজিক, রাজনৈতিক, ধর্মীয় সমাবেশ ও অনুষ্ঠানসমূহে ১০০ জনের বেশি মানুষের সমাবেশ করা যাবে না। এসবক্ষেত্রে যারা যোগদান করবেন তাদের অবশ্যই করোনা টিকার সনদ অথবা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে করা পিসিআর টেস্টের নেগেটিভ সনদ থাকতে হবে।

৪. সরকারি-বেসরকারি অফিস, শিল্প কারখানাসমূহে কর্মকর্তা/কর্মচারীদের অবশ্যই করোনা টিকার সনদ গ্রহণ করতে হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে দায়িত্ব বহন করবে। এবং-

৫. বাজার, মসজিদ, বাসস্ট্যান্ড, লঞ্চঘাট, রেলস্টেশনসহ সবধরনের জনসমাবেশে অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। প্রশাসন বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিষয়টি মনিটর করবে।

এর আগে গত ১০ জানুয়ারি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে ১১ দফা নির্দেশনা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

The post করোনারোধে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ৫ জরুরি নির্দেশনা appeared first on Fateh24.



source https://fateh24.com/%e0%a6%95%e0%a6%b0%e0%a7%8b%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%8b%e0%a6%a7%e0%a7%87-%e0%a6%ae%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%b7%e0%a6%a6-%e0%a6%ac/

Thursday, January 20, 2022

৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বন্ধ স্কুল-কলেজ

ফাতেহ ডেস্ক:

করোনার নতুন ধরন ওমিক্রন রোধে আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্কুল-কলেজ বন্ধ ঘোষণা করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। শুক্রবার (২১ জানুয়ারি) এ নির্দেশনাসহ পাঁচটি জরুরি নির্দেশনা জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

নির্দেশনাগুলো হলো-

১. ২১ জানুয়ারি (শুক্রবার) আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সকল স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকবে

২. বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিজ নিজ ক্ষেত্রে অনুরূপ ব্যবস্থাগ্রহণ করবে

৩. রাষ্ট্রীয়/সামাজিক/রাজনৈতিক/ধর্মীয় সমাবেশ/অনুষ্ঠানে ১০০ জনের বেশি সমাবেশ করা যাবে না। এসব ক্ষেত্রে যারা যোগ দেবেন তাদের অবশ্যই ভ্যাকসিন সার্টিফিকেট/২৪ ঘণ্টার মধ্যে পিসিআর সার্টিফিকেট আনতে হবে

৪. সরকারি-বেসরকারি অফিস, শিল্পকারখানায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবশ্যই ভ্যাকসিন সার্টিফিকেট গ্রহণ করতে হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে দায়িত্ব বহন করবে

৫. বাজার, মসজিদ, বাসস্ট্যান্ড, লঞ্চঘাট, রেলস্টেশনসহ সবধরনের জনসমাবেশে অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। প্রশাসন/আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিষয়টি মনিটর করবে।

নতুন ধরন ওমিক্রনসহ করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়তে থাকায় গত ১০ জানুয়ারি ১১টি বিধিনিষেধ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। যা ১৩ জানুয়ারি থেকে সারাদেশে কার্যকর হয়েছে।

 

The post ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বন্ধ স্কুল-কলেজ appeared first on Fateh24.



source https://fateh24.com/%e0%a7%ac-%e0%a6%ab%e0%a7%87%e0%a6%ac%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a7%81%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%bf-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a4-%e0%a6%ac%e0%a6%a8/

র‌্যাবের বিরুদ্ধে জাতিসংঘে ১২টি মানবাধিকার সংস্থার চিঠি

ফাতেহ ডেস্ক:

মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে বাংলাদেশের এলিট ফোর্স র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নকে (র‌্যাব) শান্তিরক্ষা মিশন থেকে বাদ দিতে জাতিসংঘকে চিঠি দিয়েছে ১২টি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ ওই ১২ মানবাধিকার সংস্থা গত বছরের নভেম্বরে জাতিসংঘের আন্ডার-সেক্রেটারি-জেনারেল জ্যঁ-পিয়েরে ল্যাক্রয়িক্সকে এই চিঠি দেয়। আজ (২০ জানুয়ারি) হিউম্যান রাইটস ওয়াচের ওয়েবসাইটে এই চিঠির কথা প্রকাশ করা হয়।

জাতিসংঘে চিঠি পাঠানো ওই ১২টি আন্তর্জাতিক সংস্থা হলো- অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, এশিয়ান ফেডারেশন অ্যাগেইনস্ট ইনভলানটারি ডিজঅ্যাপিয়ারেন্স (এএফএডি), এশিয়ান ফোরাম ফর হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (ফোরাম-এশিয়া), এশিয়ান হিউম্যান রাইটস কমিশন, এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশন (এএনএফআরইএল), ক্যাপিটাল পানিশমেন্ট জাস্টিস প্রজেক্ট, ওয়ার্ল্ড অ্যালায়েন্স ফর সিটিজেন পার্টিসিপেশন, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ), ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন ফর হিউম্যান রাইটস, রবার্ট এফ কেনেডি হিউম্যান রাইটস, দ্য অ্যাডভোকেটস ফর হিউম্যান রাইটস এবং ওয়ার্ল্ড অর্গানাইজেশন অ্যাগেইনস্ট টর্চার।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, দুই মাসেরও বেশি সময় আগে গত বছরের ৮ নভেম্বর ১২টি মানবাধিকার সংস্থা স্বাক্ষরিত এই চিঠিটি গোপনে জাতিসংঘে পাঠানো হয়। তবে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশন সংশ্লিষ্ট দফতর এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো জবাব দেয়নি।

এর আগে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) সাবেক ও বর্তমান সাত কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ। গত বছরের ১০ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবসে এ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে দেশটি।

নিষেধাজ্ঞার বিজ্ঞপ্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ সেসময় জানায়, র‌্যাব আইনের শাসন ও মানবাধিকার খর্ব করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থ এতে হুমকির মুখে পড়েছে।

পরে জানুয়ারি মাসের শুরুতে নিষেধাজ্ঞার বিষ‌য়ে যুক্তরাষ্ট্রকে আনুষ্ঠানিক জবাব পাঠায় বাংলা‌দেশ। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনের পক্ষ থেকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেনের কাছে পাঠানো চিঠিতে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, মাদকসহ আন্তঃরাষ্ট্রীয় অপরাধ দমনে বাংলাদেশ সরকারের উদ্যোগ ও কর্মকা‌ণ্ডের কথা তু‌লে ধরা হয়। চি‌ঠি‌তে এসব উদ্যোগে র‌্যা‌বসহ বাংলা‌দে‌শের অন‌্য বা‌হিনীগু‌লোর অবদা‌নের কথা গুরুত্বের স‌ঙ্গে তু‌লে ধরা হয়।

 

The post র‌্যাবের বিরুদ্ধে জাতিসংঘে ১২টি মানবাধিকার সংস্থার চিঠি appeared first on Fateh24.



source https://fateh24.com/%e0%a6%b0%e2%80%8c%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%b0%e0%a7%81%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%a7%e0%a7%87-%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%b8%e0%a6%82/

কুমিল্লায় মসজিদ ভেঙে মার্কেট বানানোর অভিযোগ

ফাতেহ ডেস্ক:

কুমিল্লা শহরতলির চানপুরে সরকারি খাসজমিতে নির্মিত একটি মসজিদ ভেঙে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে সেখানে একটি মার্কেট বানানোর জন্য। কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাকিয়া আফরিন বিষয়টি জানতে পেরে গতকাল মসজিদ ভাঙার কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন। স্থানীয়রা জানান, পাঁচথুবী ইউনিয়নের চানপুর মধ্যপাড়া এলাকাবাসীর অর্থায়নে প্রায় ৩০ বছর আগে বন্দিশাহী জামে মসজিদ নির্মাণ করা হয়। পাঁচ বছর আগে ওই মসজিদের পাশে নতুন আরেকটি মসজিদ হয়েছে। ফলে বন্দিশাহী জামে মসজিদটি পরিত্যক্ত হয়ে যায়। তিন দিন আগে মসজিদটি ভাঙা শুরু করেন এলাকার বিল্লাল হোসেন। মসজিদের স্থানে তিনি মার্কেট নির্মাণ করবেন।

অভিযোগ প্রসঙ্গে বিল্লাল হোসেন বলেন, ‘বাবা-চাচারা ৩০ বছর আগে মসজিদটি নির্মাণ করেছেন। মসজিদটির জায়গাও আমাদের দেওয়া, এটা খাস জায়গা নয়। আমার বাবা-চাচারা জায়গাটি মসজিদের নামে ওয়াকফ্ করে দিয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত। তাই এটা ভেঙে সেখানে একটি হাফিজি মাদরাসা ও এতিমখানা করার উদ্যোগ নিয়েছি। মসজিদের জায়গায় মার্কেট করার কথা মিথ্যা ও বানোয়াট।’

ইউএনও জাকিয়া আফরিন বলেন, ‘ওই মসজিদটি সরকারের এক নম্বর খাস খতিয়ানে থাকা সম্পত্তিতে নির্মিত। আমরা এর অনুমোদন দিইনি। তা সত্ত্বেও সরকারি সম্পত্তিতে থাকা মসজিদ কেউ এভাবে ভাঙতে পারেন না। খবর পেয়ে ভাঙার কাজ বন্ধ করে দিয়েছি। যারা ভাঙাছিলেন তারা কোন যুক্তিতে কাজটা করছিলেন তাদের কাগজপত্রসহ আমাদের কাছে ব্যাখ্যা করতে বলেছি।’ বিল্লাল জানান, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তিনি ইউএনওকে দেখাবেন।

The post কুমিল্লায় মসজিদ ভেঙে মার্কেট বানানোর অভিযোগ appeared first on Fateh24.



source https://fateh24.com/%e0%a6%95%e0%a7%81%e0%a6%ae%e0%a6%bf%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a7%9f-%e0%a6%ae%e0%a6%b8%e0%a6%9c%e0%a6%bf%e0%a6%a6-%e0%a6%ad%e0%a7%87%e0%a6%99%e0%a7%87-%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b0/

একদিনে করোনা শনাক্ত ১০৮৮৮, মৃত্যু ৪

ফাতেহ ডেস্ক:

দেশে মহামারি করোনাভাইরাসে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এসময়ে আক্রান্ত হয়েছেন ১০ হাজার ৮৮৮ জন। এ নিয়ে মহামারি শুরুর পর থেকে করোনায় মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ২৮ হাজার ১৮০ জন এবং মোট আক্রান্ত বেড়ে ১৬ লাখ ৫৩ হাজার ১৮২ জনে দাঁড়িয়েছে।

আগের দিন বুধবার ১২ জনের মৃত্যু হয়েছিল। শনাক্ত হয়েছিলেন ৯ হাজার ৫০০ জন। আগের দিনের চেয়ে মৃত্যু কমলেও বেড়েছে শনাক্ত। গতকাল শনাক্তের হার ছিল ২৫ দশমিক ১১ শতাংশ। আর সবশেষ ২৪ ঘণ্টায় শনাক্তের হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৬ দশমিক ৩৭ শতাংশে।

বৃহস্পতিবার (২০ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ২৪ ঘণ্টায় করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন ৫৭৭ জন। এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ১৫ লাখ ৫৪ হাজার ৮৪৫ জন। রোগী সুস্থতার হার ৯৪ দশমিক ০৫ শতাংশ।

গত ২৪ ঘণ্টায় ৪০ হাজার ৮৯৮ জনের নমুনা সংগ্রহ করার বিপরীতে ৪১ হাজার ২৯২টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ছিল ২৬ দশমিক ৩৭ শতাংশ। যেখানে মোট শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ৭৭ শতাংশ।

২৪ ঘণ্টায় যে চারজন মারা গেছেন তাদের মধ্যে পুরুষ একজন ও নারী তিনজন। বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে বিশোর্ধ্ব একজন, ত্রিশোর্ধ্ব একজন, পঞ্চাশোর্ধ্ব একজন এবং ষাটোর্ধ্ব বয়সী রয়েছেন একজন। মৃতদের দুজন ঢাকা ও বাকি দুজন চট্টগ্রামের বাসিন্দা।

২০২০ সালের ৮ মার্চ দেশে করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়। ১৮ মার্চ করোনায় প্রথম মৃত্যুর খবর আসে। ওই বছরের শেষ দিকে সংক্রমণ ও মৃত্যু কিছুটা নিম্নমুখী হলেও ২০২১ সালের এপ্রিলের পর থেকে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট ব্যাপক তাণ্ডব চালায়। তবে ২০২২ সালের শুরুতেই ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্ট আবারও চোখ রাঙাতে শুরু করে। দ্রুত বাড়তে থাকে সংক্রমণ ও মৃত্যু।

The post একদিনে করোনা শনাক্ত ১০৮৮৮, মৃত্যু ৪ appeared first on Fateh24.



source https://fateh24.com/%e0%a6%8f%e0%a6%95%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a7%87-%e0%a6%95%e0%a6%b0%e0%a7%8b%e0%a6%a8%e0%a6%be-%e0%a6%b6%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%a4-%e0%a7%a7%e0%a7%a6%e0%a7%ae%e0%a7%ae/