Wednesday, February 22, 2023

চড়া হজের খরচ, নিবন্ধন করার সাহস করছে না হাজিরা

মুনশী নাঈম:

হজযাত্রীদের চূড়ান্ত নিবন্ধনের সময় শেষের দিকে হলেও এখনও মাত্র সাত শতাংশ হজযাত্রী নিবন্ধন করেছে। গত ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে হজযাত্রীদের চূড়ান্ত নিবন্ধন শুরু হয়। শেষ হবে আগামীকাল ২৩ ফেব্রুয়ারি। কিন্তু গত ১৪ দিনে মাত্র ৮ হাজার ৮২৭ জন নিবন্ধন করেছেন। অর্থাৎ মোট হজযাত্রীর মাত্র সাত শতাংশ নিবন্ধন হয়েছে।

কোনো ব্যক্তিকে হজে যেতে এখন প্রাক-নিবন্ধন ও নিবন্ধন দু’টি ধাপ পার হতে হয়। প্রাক-নিবন্ধন সারা বছরই চলে। ৩০ হাজার টাকা দিয়ে প্রাক-নিবন্ধনয় করা যায়। হজের আগে প্রাক-নিবন্ধিত ব্যক্তিকে চূড়ান্ত নিবন্ধন করতে হয়।

হজ এজেন্সির মালিকরা বলছেন, হজের খরচ বেড়ে যাওয়ায় মানুষের জন্য ব্যয় মেটানো কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। এজন্য যারা প্রাক-নিবন্ধন করেছেন তাদের অনেকেই এত টাকা খরচ করে হজে যেতে চাচ্ছেন না। তারা এখন ওমরাহ পালনে যেতে চাচ্ছেন। এ কারণে এখন ওমরাহ যাত্রী অনেক বেড়ে গেছে।

এ বছর আগেভাগেই হজের কার্যক্রম শুরু করেছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। গত ১ ফেব্রুয়ারি সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজে যেতে খরচের প্যাকেজ ঘোষণা করেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, এ বছর সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজে যেতে একটি মাত্র প্যাকেজে খরচ হবে ৬ লাখ ৮৩ হাজার ১৫ টাকা। এর সাথে কোরবানির খরচ ২৮ হাজার ৩৯০ টাকা যুক্ত হবে। যাতে হজযাত্রীরা সি ক্যাটাগরির সুবিধা পাবেন। গত বছরের তুলনায় এবার খরচ বেড়েছে এক লাখ ৭০ হাজার ৫৭২ টাকা। সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজে যাওয়ার সর্বনিম্ন প্যাকেজ ৬ লাখ ৮৩ হাজার ১৮ টাকা। এছাড়া বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় প্যাকেজের মূল্য ৬ লাখ ৫৭ হাজার টাকা।

এ প্রসঙ্গে কথা হয় ইউনিভার্সাল হজ এজেন্সির মালিক তানভির আহমেদের সঙ্গে। ফাতেহকে তিনি বলেন, ‘অন্যবারের তুলনায় এবার হজের খরচ বেশি। তাই মানুষ নিবন্ধন করতে সাহস পাচ্ছে না। নিবন্ধনের সময় আরও বাড়ানো হবে৷ আশা করি, পূর্ণ হয়ে যাবে।’

কোন খাতে কত খরচ হচ্ছে, তা তুলে ধরেছেন তানভির আহমেদ। বিভিন্ন খাতের খরচ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বিমান ভাড়া ১ লাখ ৯৭ হাজার ৭৯৭ টাকা। মক্কা ও মদীনায় বাড়িভাড়া বাবদ ২ লাখ ৪ হাজার ৪৪ টাকা। জেদ্দা-মক্কা-মদিনা ও মিনা-আরাফা-মুজদালিফায় যাতয়াত ভাড়া ৩৫ হাজার ১৬২ টাকা। বাস সার্ভিস বাবদ ২৮৩৯ টাকা। জমজম পানি ৪২৫ টাকা। সার্ভিস চার্জ তাবুর সি ক্যাটাগরী অনুসারে ১ লাখ ৬০ হাজার ৬৩০ টাকা। মক্কা রুট সার্ভিস ৫২৭। উন্নতমানের বাসভাড়া ১৯ হাজার ৩৩৩ টাকা। দেশে ফেরার লাগেজ ভাড়া ৮৫১ টাকা। ভিসা ফি ৮৫১৭ টাকা৷ স্বাস্থ্য বিমা ৯৪৬ টাকা। এছাড়াও রয়েছে আইডি কার্ড ও ট্যাপ খরচ ৮০০ টাকা। প্রশিক্ষণ ফি ৩০০ টাকা। খাওয়া খরচ ৩৫ হাজার টাকা। হজ গাইড ১৫ হাজার ১৭৫ টাকা। এই মোট ৬ লাখ ৮৩ হাজার ১৪ টাকা।’

তিনি আরও বলেন, ‘হজের পাঁচ দিনে মিনা, আরাফাহ ও মুজদালিফায় মোয়াল্লেমের সেবার ভিত্তিতে চারটি ক্যাটাগরি করা হয়েছে। সর্বনিম্ন ডি ক্যাটাগরির জন্য পাঁচ দিনে খরচ ধরা হয়েছে এক লাখ ৩৬ হাজার ১৩০ টাকা, সি ক্যাটাগরির জন্য এক লাখ ৬০ হাজার ৬৩০ টাকা, বি ক্যাটাগরির জন্য খরচ হবে দুই লাখ ২৪ হাজার ৬২১ টাকা এবং এ ক্যাটাগরির জন্য খরচ ধরা হয়েছে দুই লাখ ৯০ হাজার ৯৩০ টাকা।’

The post চড়া হজের খরচ, নিবন্ধন করার সাহস করছে না হাজিরা appeared first on Fateh24.



source https://fateh24.com/%e0%a6%9a%e0%a6%a1%e0%a6%bc%e0%a6%be-%e0%a6%b9%e0%a6%9c%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%96%e0%a6%b0%e0%a6%9a-%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%ac%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a7%e0%a6%a8-%e0%a6%95%e0%a6%b0%e0%a6%be/

Tuesday, February 21, 2023

সৌদিতে ফেসবুক লাইভে এসে বাংলাদেশি যুবকের আত্মহত্যা

ফাতেহ ডেস্ক:

সৌদি আরবের দাম্মাম ফেসবুকে লাইভ করে আত্মহত্যা করেছেন হাজীগঞ্জের যুবক আরিফুল ইসলাম নয়ন।

তিনি হাজীগঞ্জ উপজেলার ২নং বাকিলা ইউনিয়নের দক্ষিণ শ্রীপুর গ্রামের খানবাড়ির সিরাজুল ইসলামের ছেলে। তার স্ত্রী ও দুই কন্যাসন্তান রয়েছে। তিন ভাইয়ের মধ্যে তিনি দ্বিতীয়।

আত্মহত্যার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম খান। মঙ্গলবার দিবাগত রাতে সৌদি আরবের দাম্মামে ভাড়া বাসায় গলায় গামছা পেঁচিয়ে ফেসবুক লাইভে এসে আত্মহত্যা করেন তিনি।

স্থানীয়রা জানান, দক্ষিণ শ্রীপুর বাজারে তার একটি ফ্লেক্সিলোডের দোকান ছিল। গত ১০ মাস আগে ঋণ নিয়ে সৌদি আরবে চাকরির জন্য যান তিনি। কিন্তু ১০ মাসে আকামা না হওয়ায় বেতন পাননি তিনি। এ কারণে সংসার, ঋণের চাপে অসুস্থ হয়ে পড়েন নয়ন। সেই কারণ দেখিয়ে গলায় গামছা পেঁচিয়ে বাসার পাশে আত্মহত্যা করেন তিনি।

 

The post সৌদিতে ফেসবুক লাইভে এসে বাংলাদেশি যুবকের আত্মহত্যা appeared first on Fateh24.



source https://fateh24.com/%e0%a6%b8%e0%a7%8c%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a7%87-%e0%a6%ab%e0%a7%87%e0%a6%b8%e0%a6%ac%e0%a7%81%e0%a6%95-%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%87%e0%a6%ad%e0%a7%87-%e0%a6%8f%e0%a6%b8%e0%a7%87-%e0%a6%ac/

Monday, February 20, 2023

পাঠ্যপুস্তকের বিস্তারিত সংশোধনী দিবে জমিয়াতুল মোদার্রেছীন

রাকিবুল হাসান নাঈম:

পাঠ্যপুস্তক সংশোধন বিষয়ে বিস্তারিত সংশোধনী দিবে মাদরাসা শিক্ষক কর্মচারীদের পেশাজীবী অরাজনৈতিক সংগঠন বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদার্রেছীন। এই সংশোধনী তারা সরকারের গঠিত পুস্তক সংশোধনী কমিটির হাতে তুলে দিবে। এ লক্ষ্যে তারা কাজও শুরু করেছে।

নেতৃবৃন্দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পাঠ্যপুস্তকের ভুলগুলো শনাক্ত করতে তারা ১৯ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে। চলতি মাসের ১৭ তারিখ এই কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সভায় কী আলোচনা হয়েছে জানতে চাইলে জমিয়াতুল মোদার্রেছীন কেন্দ্রীয় কমিটির মহাসচিব মাওলানা শাব্বির আহমদ মোমতাজী ফাতেহকে বলেন, ‘এটি ছিল ১৯ সদস্যের কমিটির প্রাথমিক সভা। এতে প্রতিটি বইয়ের জন্য আলাদা আলাদা কমিটি নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে। তারা সবগুলো বইয়ের সংশোধনী চলতি মাসের ২৮ তারিখ জমা দিবে। এই সংশোধনীর রূপরেখা বিস্তারিত আমরা সরকার-গঠিত সংশোধনী কমিটির কাচে হস্তান্তর করবো।’

তবে পাঠ্যপুস্তকের ভুল সংশোধনের কমিটি নিয়ে সন্তুষ্ট নয় মাদরাসা শিক্ষক কর্মচারীদের এই সংগঠন। চলতি মাসের ৫ তারিখ এক বিবৃতিতে এই কমিটি পুনর্গঠনের জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ প্রসঙ্গে মাওলানা শাব্বির আহমদ মোমতাজী ফাতেহকে বলেন, ‘নতুন শিক্ষাক্রমের জন্য ছাপানো পাঠ্যপুস্তকে ইসলামি ঈমান-আকীদা পরিপন্থি বিষয় সন্নিবেশিত হওয়ায় দেশের আলেম-ওলামা, পীর-মাশায়েখ ও বিভিন্ন ইসলামি সংগঠনের পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিবাদ উঠে। এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর আশু হস্তক্ষেপ কামনা করায় সম্প্রতি ভুল সংশোধন ও ভুলের কারণ বের করার জন্য দুটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কিন্তু যাদের নিয়ে এ কমিটি গঠিত হয়েছে তাদের দ্বারা উদ্দিষ্ট লক্ষ্য আদৌ সম্ভব নয় বলে আমরা মনে করি ‘

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের এ দেশের কোনো পাঠ্যপুস্তকে এমন কোনো বিষয় থাকতে পারবে না যা ইসলামি ঈমান আকীদা, ইতিহাস ঐতিহ্য পরিপন্থি বা এসবের সাথে সাংঘর্ষিক। যাদের কারণে এমন সব বিষয় নতুন শিক্ষাক্রমের পুস্তকে সন্নিবেশিত হয়েছে তাদেরকে নবগঠিত কমিটিতে রেখে সংশোধনের উদ্যোগ নেয়া প্রহসন বৈ কিছুই নয়। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই।’

কমিটি পুনর্গঠনের জোর দাবি জানিয়ে জমিয়তের মহাসচিব বলেন, ‘কমিটিতে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের বিশেষজ্ঞগণের সাথে দেশের আস্থাভাজন বিশেষজ্ঞ আলিম প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। নতুন করে ভুল সংশোধন ও ভুলের কারণ নির্ণয়ের জন্য কমিটি পুনর্গঠন করতে হবে। আমরা মনে করি, আলেমদের অন্তর্ভুক্ত না করলে পাঠ্যপুস্তকে ভুল রয়েই যাবে। তাই আমরা সংশোধনীর বিস্তারিত বিবরণ সরকারের কমিটির হাতে তুলে দিব।’

এর আগে ১৩ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বাংলাদেশ আনজুমানে আল ইসলাহ সভাপতি মাওলানা হুশামুদ্দিন চৌধুরী ফুলতলীর নেতৃত্বে একটি দল সাক্ষাৎ করেন। তারপর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু ২৪ জানুয়ারি সংবাদ সম্মেলন করে দুটি তদন্ত কমিটি গঠনের ঘোষণা দেন। ৩১ জানুয়ারি ওই কমিটির সদস্যদের নাম প্রকাশ করা হয়।

পাঠ্যপুস্তক সংশোধন এবং এতে বিতর্কিত পাঠ অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে যারা ভূমিকা রেখেছেন তাদের খুঁজে বের করতে গত ৩১ জানুয়ারি এ দুটি কমিটি গঠন করা হয়। একটির নাম ছিল বিশেষজ্ঞ কমিটি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইআর) পরিচালক অধ্যাপক ড. আবদুল হালিম এই কমিটির প্রধান ছিলেন। কমিটিতে ৭ জন সদস্য ছিলেন। এছাড়া দায়ীদের চিহ্নিত করতে ৭ সদস্যের কমিটির প্রধান ছিলেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব খালেদা আক্তার।

The post পাঠ্যপুস্তকের বিস্তারিত সংশোধনী দিবে জমিয়াতুল মোদার্রেছীন appeared first on Fateh24.



source https://fateh24.com/85613-2/

রোহিঙ্গাদের ভাষানচর পাঠাতে জাতিসংঘের সহায়তা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী

ফাতেহ ডেস্ক:

মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের আরও উন্নত ব্যবস্থার ভাষানচরে স্থানান্তর করতে বাংলাদেশে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারি গুয়েন লুইসের সহায়তা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সোমবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সকালে গুয়েন লুইস প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার সরকারি বাসভবন গণভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এলে শেখ হাসিনা এ আহ্বান জানান।

বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর স্পীচ রাইটার এম. নজরুল ইসলাম সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।

নজরুল ইসলাম প্রধানমন্ত্রীর উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছেন, শেখ হাসিনা বলেছেন, যেহেতু খুব শিগগির রোহিঙ্গাদের তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর কোনো নিশ্চয়তা নেই, তাই রোহিঙ্গাদের আরও উন্নত ব্যবস্থার ভাষানচরে স্থানান্তর করা উচিত এবং জাতিসংঘ বিষয়ে সহযোগিতা করতে পারে।

শেখ হাসিনা বলেন, দি রোহিঙ্গাদের বসবাসের জন্য জীবিকার ব্যবস্থা সম্পন্ন ভাষানচরে স্থানান্তর করা যায় করা যায়, তাহলে তারা বসবাসযোগ্য পরিবেশে মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপন করতে পারবেন। কারন, এখানে লাখেরও বেশি লোকের আবাসনের ব্যবস্থা রয়েছে। ভাষানচরে উন্নতমানের জীবন যাপন ও রোহিঙ্গা শিশুদের নিজস্ব ভাষায় শিক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানবিক কারণে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে আশ্রয় দেওয়া হলেও তারা এখন বাংলাদেশের জন্য বড় ধরণের বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়ার পর থেকে সহযোগিতার জন্য জাতিসংঘকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী এবং জাতিসংঘ এ সহায়তা অব্যাহত রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করে

The post রোহিঙ্গাদের ভাষানচর পাঠাতে জাতিসংঘের সহায়তা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী appeared first on Fateh24.



source https://fateh24.com/%e0%a6%b0%e0%a7%8b%e0%a6%b9%e0%a6%bf%e0%a6%99%e0%a7%8d%e0%a6%97%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%b7%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a6%9a%e0%a6%b0-%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%a0%e0%a6%be/

Sunday, February 19, 2023

তুরস্কে ভূমিকম্প: বিপদগ্রস্তদের পাশে বাংলাদেশের আলেমরা

রাকিবুল হাসান নাঈম:

ভূমিকম্প দূর্গত তুরস্কের মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশের আলেম সমাজ। ইতোমধ্যেই ধাপে ধাপে তাদের ত্রাণ পৌঁছে যাচ্ছে দেশটির দুর্গত মানুষের কাছে। আলেমরা বলছেন, সুযোগ থাকলে তারা সিরিয়াতেও ত্রাণ পাঠাতেন। কিন্তু সুযোগ না থাকায় পারছেন না।

৬ ফেব্রুয়ারি, ভোররাতে তুরস্কের মানুষ যখন গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন, তখন দেশটির অন্তত ১০টি প্রদেশে আঘাত হানে ৭ দশমিক ৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প। ১৯৩৯ সালের পর দেশটির মানুষ এমন ভয়ঙ্কর দুর্যোগের মুখোমুখি হয়নি। ভয়াবহ এই দুর্যোগের ১২ দিন পর নিহতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৪৬ হাজার। ধ্বংসস্তূপ থেকে এখনও মরদেহ বের করছে উদ্ধারকারীরা। আল জাজিরার মতে, এখন পর্যন্ত তুরস্কে নিহত হয়েছে ৪০ হাজার ৬৪২ জন। একই সময় পর্যন্ত সিরিয়ায় মৃত্যু হয়েছে ৫ হাজার ৮০০ জনের।

আস- সুন্নাহ ফাউন্ডেশন

ইউরোপিয়ান স্ট্যান্ডার্ডের মাইনাস টেন ডিগ্রিতে ব্যবহার উপযোগী মোট ৮০০০ হাজার জ্যাকেট ত্রাণ হিসেবে তুরস্কে পাঠিয়েছে আস- সুন্নাহ ফাউন্ডেশন।

প্রথম ধাপে তারা তুরস্কের বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে ২৪৭২ টি জ্যাকেট হস্তান্তর করে। জ্যাকেটগুলো ইউরোপিয়ান স্ট্যান্ডার্ডের মাইনাস টেন ডিগ্রিতে ব্যবহার উপযোগী। বুধবার (১৫ ফেব্রুয়ারী) তুরস্কের দূতাবাসের মাধ্যমে দ্বিতীয় ধাপে ৫৫২৮ টি জ্যাকেট সরবরাহ করা হয়েছে। দু’বারে মোট ৮০০০ টি জ্যাকেট হস্তান্তর করা হয়েছে।

আস সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়েখ আহমাদুল্লাহ জানান, ‘এই সহযোগিতা তুরস্কে ভূমিকম্প দূর্গত মানুষের জন্য আমাদের একটি প্রয়াস। আমার দূতাবাসের সাথে কথা বলে জানতে পারি যে সেখানে প্রচন্ড ঠান্ডায় মানুষ বরফ হয়ে যাবার মতো অবস্থা। সেখানে গরম কাপড়ের প্রয়োজনীয়তা বেশি। তাই আমরা আমাদের সাধ্যমতো জ্যাকেট পাঠানোর ব্যবস্থা করেছি।’

বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতিও এই ত্রাণে অংশগ্রহণ করেছে।

আল মারকাজুল ইসলামী

তুরস্কে ভয়াবহ ভূমিকম্পে শহীদদের জন্য বডি ব্যাগ প্রেরণ করেছে আল মারকাজুল ইসলামী (এএমআই)। আল মারকাজুল ইসলামী প্রথম ধাপে ২ হাজার বডি ব্যাগ পাঠিয়েছে। এরপর দ্বিতীয় ধাপে পাঠিয়েছে আরও ৩ হাজার বডি ব্যাগ। সব মিলিয়ে ৫ হাজার বডি ব্যাগ পাঠিয়েছে সংস্থাটি।

আল মারকাজুল ইসলামী জানায়, ‘স্থানীয় Tika তুর্কির সরকারী সংস্থার ডিপুটি কর্ডিনটার জানান, আমাদের দেশের জন্য বডি ব্যাগ পাঠান। এটাই সবচেয়ে উপকারী। তাই আমরা বডি ব্যাগ পাঠিয়েছি।’

প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান হামজা শহিদুল ইসলাম জানান, স্থানীয় দূতাবাস হতে জানানো হয়, ক্ষতিগ্রস্থ লোকদের অস্থায়ী তাঁবুর জন্য ছোট ছোট জেনেরেটরের প্রয়াজন। আমরা এখন জেনারেটরের চেষ্টা করছি।’

পিসব

তুর্কি নাগরিকদের জন্য সহযোগিতা পাঠাচ্ছে পিসব। প্রথম দিকে তারা তুর্কি দূতাবাসের চাহিদা মোতাবেক ডায়াপার, সেনিটেরি ন্যাপকিন ও জুস পাঠিয়েছিল। পাশাপাশি খেজুর পাঠানোরও চিন্তা করেছিল। কিন্তু দূতাবাসা ভিন্ন কিছু দিতে বলেছিল। পরে তারা কাঠ বাদাম ও কাজু বাদাম পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়।

পিসবের সাধারণ সম্পাদক ইমরান হুসাইন হাবিবী জানান, তারা ৪৬০ পরিবারের জন্য ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকার বাদাম কিনেছেন। আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থা ‘গ্লোবাল রিলিফ ট্রাস্ট’-এর মাধ্যমে সিরিয়াতেও সহযোগিতা পাঠানোর চেষ্টা চলছে। এ ছাড়া পিসবের কর্মীরা বিমানবন্দরে ত্রাণ ব্যবস্থাপনায় তুর্কি দূতাবাসকে সহযোগিতা করছে। তারা সেখানে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করছে।

এম.ওয়াই. ফাউন্ডেশন

ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ত্রাণ সহায়তা দিয়েছেন দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ ইসলামী শিক্ষাকেন্দ্র জামিয়া আহলিয়া দারুল উলূম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদ্রাসার মহাপরিচালক আল্লামা মুহাম্মদ ইয়াহইয়া প্রতিষ্ঠিত এম.ওয়াই. ফাউন্ডেশন।

এম ওয়াই ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মাওলানা মুহাম্মদ জুনায়েদ বিন ইয়াহইয়ার নেতৃত্বে ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধি দল ঢাকায় বারিধারাস্থ টার্কিশ কোঅপারেশন অ্যান্ড কোঅর্ডিনেশন এজেন্সির (টিআইকেএ) কার্যালয়ে প্রতিষ্ঠানটির কান্ট্রি কো-অর্ডিনেটর সেভকি মের্ট বারিসের কাছে এই ত্রাণ সহায়তার পণ্যসামগ্রী হস্তান্তর করেন। ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ৫০০ জ্যাকেট, ৩০০ টাউজার, ৫০০টি কম্বল, ১০০টি মশারী এবং ২০০ গরম পানি রাখার পট বিতরণের জন্য দেওয়া হয়।

সিম্পল রিজন

ভূমিকম্প দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন মাওলানা হুসাইন আহমদ ও তার চ্যারিটি প্রতিষ্ঠান সিম্পল রিজন। তিনি আল্লামা শায়খ বশির আহমদ শায়খে বাঘা রহ.-এর নাতি এবং একজন বাংলাদেশি বংশদ্ভূত বৃটিশ নাগরিক।

সিম্পল রিজন ব্রিটিশ সরকারের নিবন্ধিত ও বিশ্বস্ত একটি দাতব্য সংস্থা। সংস্থাটি ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্থান ও ফিলিস্তিনসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তার কার্যক্রম পরিচালনা করছে। হুসাইন আহমদ ভূমিকম্পের একদিন পরেই তিনি ত্রাণ তৎপরতার জন্য তুরস্কে পৌঁছে এখনো অবস্থান করছেন।

হুসাইন আহমাদ ফাতেহকে জানান, ‘তুরস্কের ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন শহর ঘুরে ঘুরে দেখছি। মানুষকে খাবার কিনে দিচ্ছি। ৬ তারিখ ভূমিকম্প হয়েছে। আমি এসেছি ৮ তারিখ। ২৩ তারিখ পর্যন্ত থাকবো। আমরা গাজিয়ান্তেপ গিয়েছি, সেখানে ত্রাণ দিয়েছি। হাতায়া গিয়েছি। হাতায়াতে সবচে বেশি দালান-কোঠা ধ্বংস হয়েছে। দু’একদিনের মধ্যে আদিয়ামান যাব।’

সিরিয়াতেও কাজ করছে তার সংস্থা সিম্পল রিজন। তিনি বলেন, ‘সিরিয়াতে আমাদের ভলান্টিয়াররা কাজ করছে। প্রথমে আমরা সেখানে ৪ হাজার ডলার পাঠাই। আজ পাঠালাম আরও সাড়ে তিন হাজার ডলার। এই টাকায় সেখানে তাবু নির্মাণ হচ্ছে। তাবুগুলোর বৈশিষ্ট্য হলো, এগুলো ৫ বছর টিকে থাকবে। এগুলোতে বিছানা, কার্পেট, হিটার থাকে।’

তিনি আরও জানান, তিনি এখনও ফান্ড রাইজ করছেন। ইউকেতে ফিরে গিয়ে আরও ফান্ড রাইজ করবেন। ইউকেভিত্তিক কিছু চ্যারিটি প্রতিষ্ঠান তার প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ত্রাণ দিবে। তিনি আবার সেগুলো নিয়ে ফিরে আসবেন।

সিরিয়ায় ত্রাণ দিতে চায় আলেম সমাজ

তুরস্কে ত্রাণ পাঠাতে পারলেও সিরিয়ায় ত্রাণ পাঠাতে পারছেন না আলেমরা। তবে ইতোমধ্যেই বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে সিরিয়ায় ত্রাণ ও চিকিৎসাসামগ্রী পাঠানো হয়েছে। এরমধ্যে রয়েছে বড় তাঁবু, ছোট তাঁবু, কম্বল, সোয়েটার, শুকনা খাবার ও ওষুধসহ ১১টন সামগ্রী। বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর গ্রুপ ক্যাপ্টেন জামিল উদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে বিমানবাহিনীর ১৭ সদস্যের একটি দল এই ত্রাণসামগ্রী নিয়ে গেছেন।

আস সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়েখ আহমাদুল্লাহ বলেন, ‘সিরিয়ার চেয়ে ভূমিকম্পে বেশি ক্ষতি হয়েছে তুরস্কে। সেটা পরিসংখ্যান দেখলেই বুঝা যায়। আর তুরস্ক দূতাবাসও ত্রাণ নিচ্ছে। তাই আমরা সহজে তুরস্কে ত্রাণ পাঠাতে পেরেছি। কিন্তু আমরা সিরিয়ায় ত্রাণ পাঠাতে পারছি না। তবে পাঠাতে চাই। সরকার যদি ব্যবস্থা করে দেন, তাহলে আমরা পারব। সরকারে সহযোগিতা ছাড়া ত্রাণ পাঠানো যাবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘তুরস্কের চেয়ে সিরিয়ায় নিহতের সংখ্যা কম। আবার সিরিয়ায় এত বড় বড় দালানকোঠাও নেই। ফলে সেখানে ক্ষতিটাও কম হয়েছে। কিন্তু যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ সিরিয়া। তারা এমনিতেই সাহায্য পাবার যোগ্য। তার উপর ভূমিকম্প। সুতরাং সরকার ব্যবস্থা করে দিলে আমরা সিরিয়াতেও ত্রাণ পাঠাতে চাই।’

পিসবের সাধারণ সম্পাদক ইমরান হুসাইন হাবিবী জানান, তার সংগঠনও সিরিয়াতে ত্রাণ পাঠাতে চায়। তারা চেষ্টা করছেন। তবে সরকারের সহেযোগিতা লাগবে।

উল্লেখ্য, প্রতিবেদনে নাম নেই, এমন আরও অনেক আলেম-উলামা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানই ত্রাণ কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেছে।

The post তুরস্কে ভূমিকম্প: বিপদগ্রস্তদের পাশে বাংলাদেশের আলেমরা appeared first on Fateh24.



source https://fateh24.com/%e0%a6%a4%e0%a7%81%e0%a6%b0%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%95%e0%a7%87-%e0%a6%ad%e0%a7%82%e0%a6%ae%e0%a6%bf%e0%a6%95%e0%a6%ae%e0%a7%8d%e0%a6%aa-%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%aa%e0%a6%a6%e0%a6%97%e0%a7%8d/

Saturday, February 18, 2023

অবৈধ ভবন বৈধ করার সুপারিশ বাস্তবায়নের উদ্যোগ

ফাতেহ ডেস্ক:

অনুমোদন ছাড়া বা শর্ত ভেঙে নির্মাণ করা ভবন জরিমানার মাধ্যমে বৈধ করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এজন্য জরিমানার মাধ্যমে অবৈধ ভবন বৈধ করার প্রক্রিয়া নির্ধারণে একটি নীতিমালা করা হচ্ছে। গত ৩১ জানুয়ারি এ বিষয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে, যার প্রধান একজন অতিরিক্ত সচিব। নতুন বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা বা ড্যাপের (২০২২-২০৩৫) সুপারিশ অনুযায়ী এ উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, যথাযথ নিয়ম না মেনে ভবন নির্মাণের কারণে ভূমিকম্পে ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখে পড়েছে তুরস্ক। ভয়াবহ এ প্রাকৃতিক দুর্যোগে এরই মধ্যে মৃতের সংখ্যা ৪৫ হাজার ছাড়িয়েছে। তুরস্কেও জরিমানার মাধ্যমে বৈধ করা হয় নিয়ম না মেনে তৈরি করা হাজার হাজার ভবন।

বিগত কয়েক বছর ধরে ছোট ছোট ভূমিকম্প হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ বড় ধরনের ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে রয়েছে বলে সতর্ক করে আসছেন গবেষক ও বিশেষজ্ঞরা। এ পরিস্থিতিতে অবৈধ ভবন বৈধ করার মাধ্যমে বাংলাদেশও তুরস্কের পথে হাঁটছে কি না- তা ভেবে দেখা দরকার বলে মনে করছেন নগর বিশেষজ্ঞরা।

তবে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঢাকায় ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ ভবনই নিয়ম না মেনে তৈরি করা। ফলে এসব ভবন যতই ঝুঁকি তৈরি করুক, অবৈধ হিসেবে এত বিপুল সংখ্যক ভবন ভেঙে ফেলা বাংলাদেশের মতো দেশের পক্ষে সম্ভব নয়। তাই জরিমানা ও সংস্কারের মাধ্যমে অবৈধ ভবনগুলোকে যতটা সম্ভব ঝুঁকিমুক্ত করা ছাড়া উপায় নেই। ভারতসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে এটা স্বীকৃত বলেও জানান তারা।

নতুন ড্যাপে এ বিষয়ে রূপরেখা দেওয়া হয়েছে। তবে জরিমানার মাধ্যমে অবৈধ ভবন বৈধ করার বিষয়টি অনেক বড় সিদ্ধান্ত। সরকারের নীতি-নির্ধারণী পর্যায় থেকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে হবে।

The post অবৈধ ভবন বৈধ করার সুপারিশ বাস্তবায়নের উদ্যোগ appeared first on Fateh24.



source https://fateh24.com/%e0%a6%85%e0%a6%ac%e0%a7%88%e0%a6%a7-%e0%a6%ad%e0%a6%ac%e0%a6%a8-%e0%a6%ac%e0%a7%88%e0%a6%a7-%e0%a6%95%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%b8%e0%a7%81%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%b6/

ভূমিকম্প: তুরস্কের রাজনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলবে?

মুনশী নাঈম:

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের মাত্র তিন মাস আগে ঘটে গেল শক্তিশালী ভূমিকম্প। ভূমিকম্পের এ প্রভাব পড়তে পারে দেশটির আসন্ন এ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে। কারণ, উদ্ধার তৎপরতায় ধীরগতির অভিযোগ ও ভবন নির্মাণে কঠোর আইন প্রণয়নে ব্যর্থতার আঙুল উঠেছে প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোয়ানের দিকে। প্রেসিডেন্ট এরদোগান নিজেও স্বীকার করেছেন, এ ধরনের দুর্যোগে যত তাড়াতাড়ি এবং যতটা বিস্তৃত পরিসরে সাড়া দেওয়া দরকার, সেটা করা সম্ভব হয়নি। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই ধরনের দুর্যোগের জন্য প্রস্তুত থাকা সম্ভব নয়।

৬ ফেব্রুয়ারি, ভোররাতে তুরস্কের মানুষ যখন গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন, তখন দেশটির অন্তত ১০টি প্রদেশে আঘাত হানে ৭ দশমিক ৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প। ১৯৩৯ সালের পর দেশটির মানুষ এমন ভয়ঙ্কর দুর্যোগের মুখোমুখি হয়নি। তুর্কি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত তার দেশে ৩৯ হাজার ৬৭২ জন মারা গেছে। এদিকে সিরিয়া সরকার এবং জাতিসংঘ বলছে, সিরিয়ায় ৫ হাজার ৮০০ এর বেশি প্রাণহানি হয়েছে।

১৯৯৯ সালের অভিজ্ঞতার পুনরাবৃত্তি হবে?

এরদোয়ান ২০০৩ সাল থেকে তুরস্কের ক্ষমতায় আছেন। তিনি প্রথমে প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। ২০১৪ সালের আগস্ট থেকে প্রেসিডেন্ট পদে আছেন। ভূমিকম্পের আগে তুরস্কে পরিচালিত জরিপে দেখা গেছে, আসন্ন নির্বাচন এরদোয়ানের জন্য সহজ হবে না। নির্বাচনে তাকে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখোমুখি হতে হবে। ভূমিকম্পের বিপর্যয়ের আগে থেকেই এরদোয়ানকে একের পর এক সংকট মোকাবিলা করতে হচ্ছিল। অর্থনৈতিক বিষয়ে তার নীতি দেশটিকে ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতির মধ্যে ফেলেছে। গত বছর দেশটিতে ভোগ্যপণ্যের দাম প্রায় ৮৫ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে এরদোয়ানকে দাবানলসহ পরিবেশগত অন্যান্য বিপর্যয় মোকাবিলা করতে হয়েছে। নানামুখী চ্যালেঞ্জ আছে—তা এরদোয়ান নিজেও জানেন। সে অনুযায়ী, তিনি কাজ করে আসছিলেন। ভূমিকম্পের কয়েক ঘণ্টা পরই এরদোয়ান রাজধানী আঙ্কারায় একটি সংবাদ সম্মেলনে হাজির হন। পরবর্তী সময়েও তাকে তৎপর থাকতে দেখা গেছে।

এরদোগানের ভাষ্যমতে, ১৯ হাজারের বেশি ভবন সম্পূর্ণভাবে ভেঙে গেছে। ৪৭ হজাার ২১১টি ভবন গুরুতর ক্ষতির কারণে আবাসনের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। আতএব, এগুলো দ্রুত ভেঙে ফেলতে হবে। তিনি ১২ হাজার ২৩৫টি যান, ৭৬টি বিমান, ১২১টি হেলিকপ্টার, ২৬টি জাহাজ এবং ৪৫টি ড্রোন ছাড়াও ৩৫ হাজারের বেশি অভিজ্ঞ উদ্ধার বিশেষজ্ঞ সহ এই অঞ্চলে আড়াই লাখের বেশি সরকারি কর্মচারি উদ্ধার কাজে লাগিয়েছেন। তুরস্ক ঘোষণা করেছিল ৪ নং বিপদ সংকেত। আহ্বান করেছিল আন্তর্জাতিক সহায়তা। এরমধ্যে ১০০টি দেশ তার আহ্বানে সাড়া দিয়েছে। তাদের মধ্যে ৮৪টি দেশ পাঠিয়েছে ১১ হাজার উদ্ধারকর্মী। ৬১টি দেশ ৪৪৪টি ফ্লাইটে নিয়ে এসেছে ত্রাণ। এরদোগান ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্থ দশটি প্রদেশে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন এবং এক সপ্তাহের জন্য সারা দেশে শোক ও দুই সপ্তাহের জন্য সমস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করেন।

তুরস্কে আগে বড় ধরনের ভূমিকম্প হয়েছিল ১৯৯৯ সালে। সেই ভূমিকম্পের পর উদ্ধার-ত্রাণ তৎপরতা নিয়ে তুমুলভাবে সমালোচিত হয়েছিলেন দেশটির তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বুলেন্ট ইসেভিট। সে সময় ভালোভাবে দেশ পরিচালনার প্রতিশ্রুতি দেয় এরদোয়ানের দল। ২০০২ সালের নির্বাচনে তার দল জয়ী হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এরদোয়ান যদি বর্তমান সংকট ভালোভাবে মোকাবিলা করতে সক্ষম হন, তাহলে রাজনীতিতে তাঁর অবস্থান আরও শক্তিশালী হতে পারে। কিন্তু তিনি ব্যর্থ হলে তাঁকে ইসেভিটের পরিণতি ভোগ করতে হতে পারে।

রাজনৈতিক প্রভাব

আল জাজিরার বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এতবড় একটি ঘটনা তুরস্কের রাজনীতিতে প্রভাব ফেলবে এটাই স্বাভাবিক। সরকারকে এর মাশুল দিতে হবে। ভূমিকম্পের রাজনৈতিক পরিণতির প্রথম লক্ষণ হল ক্ষমতাসীন দল এবং বিরোধী দলের মধ্যে মেরুকরণ। যা ঘটেছে তার জন্য সরকারকে সম্পূর্ণরূপে দায়ী করেছে বিরোধী দল। রাষ্ট্রপতি এবং সরকারকে বয়কট ঘোষণা করেছে। ভূমিকম্পের কয়েকদিন পর পিপলস পার্টির সাবেক প্রধান ডেনিজ বেকালের জানাজা নামাজের সময় বিরোধী দলের প্রধান কামাল কিলিচদারোগ্লু, ইস্তাম্বুলের মেয়র একরেম ইমামো’লু এবং আহমেত দাভুতোগ্লুর সঙ্গে করমর্দন এড়িয়ে যান এরদোগান।

নির্মাণ আইন এবং ভূমিকম্পের প্রস্তুতির আলোচনায় তুরস্কের ক্ষমতাসীন সরকার দায় এড়াতে পারবে না বলে উল্লেখ করেছে আল জাজিরা।

গার্ডিয়ান ও আর জাজিরার বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, সামাজিক ও পরিবেশগত ক্ষয়ক্ষতির তোয়াক্কা না করেই বিশালাকায় অবকাঠামো ও নির্মাণ প্রকল্পে মনোযোগ দিয়েছে তুরস্কের সরকার। এটিকে অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রধান খাতে পরিণত করা হয়েছে। ২০০৪ সাল থেকে এ পর্যন্ত সরকার নির্মাণ ও আবাসন খাত, স্থানীয় সরকার ও গৃহনির্মাণে অর্থায়নের ক্ষেত্রে নতুন আইন পাসের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সংস্থায় কাঠামোগত সংস্কারও করেছে। এর মধ্য দিয়ে নগর প্রশাসন ও পৌর কর্তৃপক্ষগুলোকে নগরায়ণ ও নানা প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যাপক ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। নগর সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে ভবনগুলো ভূমিকম্প আর প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা করতে সক্ষম কি না, সে বিবেচনা একেবারে করা হয়নি।

এ ছাড়া এরদোয়ান সরকারের আবাসন খাতে কথিত দায়মুক্তি নিয়েও সমালোচনা চলছে। ১৯৯৪ সালে তুরস্কে প্রথম ব্যাপকভাবে অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের ভবনের ক্ষেত্রে এ ধরনের দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। এটি নাগরিকদের জন্য সরকারি ‘উপহার’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এর মাধ্যমে অবৈধভাবে ও বিকল্প কাঠোমোয় নির্মিত ভবন সরকারকে কিছু ফি দেওয়ার বিনিময়ে বৈধ করার অনুমতি দেওয়া হয়। ২০১৮ সালে সাধারণ নির্বাচনের আগে অবকাঠামো খাতে সর্বশেষ দায়মুক্তি দেওয়া হয়। অবৈধ ভবনের ক্ষেত্রে ইতিহাসে সবচেয়ে বড় দায়মুক্তি দিয়ে ব্যাপক প্রশংসা কুড়ায় একেপি। একবারে ৭৪ লাখ অবৈধ ভবন বৈধ করা হয়। এর বিনিময়ে ২৪ দশমিক ১৯ বিলিয়ন লিরা রাজস্ব আয় করে সরকার। পরিবেশ ও নগরায়ণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, এই অর্থ তুরস্কের ভবনগুলো আরও বেশি ভূমিকম্প–সহনীয় করার কাজে ব্যয় করা হয়েছে। ভূমিকম্পের আগের সপ্তাহে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ২ লাখ ৯৪ হাজারের বেশি ভবনকে দায়মুক্তি আইনের আওতায় বৈধতা দেওয়া হয়েছে। ৬ ফেব্রুয়ারি ভূমিকম্প যখন আঘাত হানে সে সময়ে আরেকটি বড় দায়মুক্তি আইনের খসড়া আইনসভায় অনুমোদনের জন্য অপেক্ষাধীন ছিল।

তবে দীর্ঘমেয়াদী ব্যবস্থা, যেমন আশ্রয়, ক্ষতিপূরণ, পুনর্গঠন এবং কোনো গাফিলতি, অবহেলা বা দুর্নীতির জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিচার না করে সরকারের কর্মক্ষমতা মূল্যায়ন সম্পূর্ণ বা সঠিক নয়। অতএব, এক বছরের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ করার ক্ষমতা এবং কর্মকর্তাদের জবাবদিহি করার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা সরকারের কর্মক্ষমতা মূল্যায়নের মৌলিক মানদণ্ডের মধ্যে থাকবে। তবে এটি যৌক্তিক যে, ভূমিকম্প এবং তার পরবর্তী ঘটনাগুলো আসন্ন নির্বাচনের এজেন্ডায় প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফাইল হবে। এখানে দুটি পক্ষ প্রতিযোগিতা করবে। বিরোধীরা বলবে, সরকার ব্যর্থ হয়েছে। তাদের অবহেলার কারণে বিপর্যয় ঘটেছে। সরকার বলবে, ভূমিকম্প যেকোনো সরকার বা দেশের মোকাবিলা করার ক্ষমতার চেয়ে বড় এবং বিরোধীরা রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্য দুর্যোগকে কাজে লাগাতে চাইছে। ফলে তুর্কি বৈদেশিক নীতির উপর প্রভাব ছাড়াও অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক জীবনকে খুব দীর্ঘ সময়ের জন্য অস্থির করে রাখবে। আসন্ন নির্বাচনের ফলাফলে এই ভূমিকম্পের সুস্পষ্ট প্রভাব পড়বে এটা নিশ্চিত। তবে তা কতটুকু, এখনই বলা মুশকিল।

নির্বাচন কি পেছাবে?

এছাড়াও ভূমিকম্পকে রাজনীতিকরণের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হল নির্বাচন স্থগিত করার সম্ভাবনা, যা একটি জটিল আইনি এবং রাজনৈতিক বিষয়। অনেকেই বলছেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণা এবং ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া পরিচালনা করা সম্ভব নয়। সেখানে কোনও ভবন, প্রতিষ্ঠান বা সরকারী আমলাতন্ত্র নেই, সাধারণ পরিবেশও এর জন্য অনুপযুক্ত। অবার অনেকেই মনে করছেন, ভোটাররা অন্য শহরে চলে গেছে। সুতরাং তারা যেখনে আছে, সেখান থেকেই ভোট দিবে। তাহলে তাদের সংকটের জন্য দায়ী কে, তা তাদের ভোটে ফুটে উঠবে।

আইনত সংবিধানের ৭৮ অনুচ্ছেদে ‘যুদ্ধের কারণে তাদের সংগঠিত করা সম্ভব না হলে নির্বাচন স্থগিত করার সম্ভাবনার বিধান’। এবং এই স্থগিত করার ক্ষমতা একচেটিয়াভাবে তুর্কি গ্র্যান্ড পিপলস অ্যাসেম্বলির (সংসদ)। এর অর্থ, ভূমিকম্পের কারণে নির্বাচন স্থগিত করা যাবে না। তবে ‘সংগঠিত করার অক্ষমত’ এই কারণকে আমলে নিলে এই ভূমিকম্প বিধ্বংসী যুদ্ধের চেয়ে কম ভয়ংকর নয়। বলা হচ্ছে, ৫০০ পারমাণবিক বোমার আঘাতের মতো ছিল এই ভূমিকম্প। এরপর বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষেত্রে সংবিধান সংশোধন ও স্থগিতাদেশ কার্যকর করার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে উভয় উভয় ক্ষেত্রেই ক্ষমতাসীন জোটকে বিরোধী দল বা তার কয়েকটি দলের সঙ্গে একমত হতে হবে। সাংবিধানিক অনুচ্ছেদ সংশোধনের ক্ষমতার মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা সরকারের নেই।

আল জাজিরার বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, দীর্ঘমেয়াদী স্থগিতকরণ না হলেও অন্তত অল্প সময়ের জন্য স্থগিত করার সম্ভাবনা আছে। কারণ, সবাই চায় মানুষকে এই বার্তা দিতে—দুর্যোগের সময় মানুষ আগে, রাজনীতি ও ভোট আগে না।

The post ভূমিকম্প: তুরস্কের রাজনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলবে? appeared first on Fateh24.



source https://fateh24.com/%e0%a6%ad%e0%a7%82%e0%a6%ae%e0%a6%bf%e0%a6%95%e0%a6%ae%e0%a7%8d%e0%a6%aa-%e0%a6%a4%e0%a7%81%e0%a6%b0%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%95%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%9c%e0%a6%a8%e0%a7%80/