Tuesday, December 20, 2022

কত আসনে ইভিএমে ভোট সিদ্ধান্ত জানুয়ারির মধ্যে: ইসি আলমগীর

ফাতেহ ডেস্ক:

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কত আসনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোট হবে জানুয়ারি মাসের মধ্যেই সিদ্ধান্ত হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার মো. আলমগীর।

তিনি বলেন, কত আসনে ইভিএমে ভোট হবে তার সিদ্ধান্ত হবে জানুয়ারির মধ্যেই। এখন যে পরিমাণ ইভিএম আছে তা দিয়ে ৭০টি আসনে ভোট করা যাবে। বাকিটা নির্ভর করে কি পরিমাণ বাজেট পেলাম তার ওপর।

মঙ্গলবার (২০ ডিসেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ইসি ভবনে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি। ইসি মো. আলমগীর বলেন, ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে পর্যাপ্ত বাজেট পেলে ১৫০ আসনে ইভিএমে ভোট হবে। তবে, ফেব্রুয়ারিতে বাজেট পেলে হবে না।

The post কত আসনে ইভিএমে ভোট সিদ্ধান্ত জানুয়ারির মধ্যে: ইসি আলমগীর appeared first on Fateh24.



source https://fateh24.com/%e0%a6%95%e0%a6%a4-%e0%a6%86%e0%a6%b8%e0%a6%a8%e0%a7%87-%e0%a6%87%e0%a6%ad%e0%a6%bf%e0%a6%8f%e0%a6%ae%e0%a7%87-%e0%a6%ad%e0%a7%8b%e0%a6%9f-%e0%a6%b8%e0%a6%bf%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%a7%e0%a6%be/

Monday, December 19, 2022

আরবি অদক্ষতা বাড়ছে কওমি মাদরাসায়

মুনশী নাঈম:

আরবিতে অদক্ষতা বাড়ছে কওমি মাদরাসাতেও। অনেক ছাত্রই আরবি ‘এবারত’ পড়তে পারছেন না। পরীক্ষায় আরবিতে লেখার জন্য অতিরিক্ত নম্বর থাকলেও অধিকাংশ ছাত্রই লিখছেন বাংলায়। কওমি মাদরাসার শিক্ষক, শিক্ষাবোর্ড, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এবং পরীক্ষার খাতা নিরীক্ষাকারীদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। তারা বলছেন, আরবি অদক্ষতার কারণেই বাড়ছে বাংলা গাইড-নোট প্রবণতা।

কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, বাংলাদেশে ধর্মীয় শিক্ষার মূল একটি ধারায় কেন এই সঙ্কট দেখা দিচ্ছে? এর পেছনের কারণ কী?

পরীক্ষা আরবিতে দিচ্ছে ‘খুব কম’

পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, নাহবেমির থেকে শুরু করে তাকমিল পর্যন্ত একই চিত্র। অধিকাংশ ছাত্রই আরবিতে পরীক্ষা না দিয়ে পরীক্ষা দিচ্ছে বাংলায়। যারা আরবিতে খুব ভালো পরীক্ষা দিচ্ছে, তাদের অনেকে আবার মাদানি নেসাব থেকে উঠে আসা।

হাইআতুল উলইয়ার পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মাওলানা ইসমাইল বরিশালীর কাছে তাকমিলের ছাত্রদের পরিসংখ্যান জানতে চাই। তিনি ফাতেহকে বলেন, ‘তাকমিলের অধিকাংশ ছাত্রই বাংলায় পরীক্ষা দেয়। আরবিতে দেয় খুব কম। তবে কত শতাংশ বাংলায় দেয়, এমন কোনো পরিসংখ্যান করিনি।’

এ প্রসঙ্গে কথা হয় কওমি মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড বেফাকের সহকারী পরিচালক মাওলানা যুবায়ের আহমাদের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘ফজিলত এবং সানুবিয়ার শিক্ষার্থীদেরও একই অবস্থা। তারাও অধিকাংশই বাংলায় পরীক্ষা দেয়। যারা আরবিতে খুব ভালো পরীক্ষা দেয়, তাদের অনেকে মাদানি নেসাব থেকে উঠে আসা। কয়েক বছর আগে মেশকাতে এক এবং দুই হয়েছিল যে দুজন ছাত্র, তারা মাদানি নেসাব থেকে পড়ে আসা। খাতা দেখেই বুঝতে পারি। পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি, সত্যিই।’

মাওলানা যুবায়ের আহমাদ বলেন, ‘পরীক্ষায় আরবিতে যেমন লিখতে পারে িনা, এবারতও পড়তে পারে না অনেকে। আমাদের একটা মধ্যম মানের ছাত্রও এবারত পড়তে ভুল করে।’

রাজধানীর জামিয়া আরাবিয়া হাজী ইউনুস কওমী মাদরাসার শিক্ষক মাওলানা নিজামুদ্দিনের সঙ্গে কথা হয়। তিনি গত বছর বেফাকের নাহবেমির পরীক্ষার্থীদের খাতা দেখেছেন। তিনি ফাতেহকে বলেন, ‘নাহবেমিরের ছাত্ররা পরীক্ষা দেয় বাংলায়। সবাই পড়ে গাইডনির্ভর। প্রশ্নপত্রও হয় বাংলায়। এমনকি আরবি ব্যাকরণশাস্ত্র ‘শরহে মিআতে আমেল’ পরীক্ষার প্রশ্নও হয় বাংলায়। ফলে শিক্ষার্থীরা আরবিতে পরীক্ষা দেয়ার রিস্ক নেয় না।’

সমস্যা সিলেবাস নাকি অন্যকিছু?

মাওলানা নিজামুদ্দিন মনে করেন, প্রথম সমস্যা সিলেবাসে। বেফাকের মিজান জামাতে পড়াতে হয় আরবি শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ তিনটি বই। বইটির নাম ‘আত তরিক ইলাল আরাবিয়া’। কিন্তু শিক্ষকরা পুরো তিনখণ্ড পড়াতে পারেন না। দুইখণ্ড পড়ান, তৃতীয় খণ্ড কখনও পড়ানো হয়, কখনও পড়ানো হয় না। অথচ তৃতীয় খণ্ডও বেশ গুরুত্বপূর্ণ। তারপর নাহবেমিরে পড়ানো হয় আরবি শেখার প্রাচীন কিতাব ‘রওজাতুল আদব’। এটি না পড়িয়ে যদি ‘আত তরিক ইলাল আরাবিয়া’র তৃতীয় খণ্ড পড়ানো হতো, তাহলে আরও ভালো হতো। মিজান-নাহবেমিরে যদি আরবির ভিত শক্ত না হয়, পরে সেটা কঠিন হয়।’

মাওলানা নিজামুদ্দিন শিক্ষকদের প্রসঙ্গে বলেন, ‘আরেকটি সমস্যা হলো, শিক্ষকরা আরবি শেখার কিতাবগুলো যেভাবে পড়ানো দরকার, সেভাবে পড়ান না। ফলে ছাত্ররাও তেমন উপকৃত হতে পারে না।’

একই সমস্যার কথা তুলে ধরেছেন বাঞ্চারামপুরের মুহাম্মাদুল্লাহ হাফেজ্জি হুজুর মাদরাসার সিনিয়র শিক্ষক মাওলানা আশরাফুল হক। তিনি ফাতেহকে বলেন, ‘মাদরাসায় আত তরিক কিতাবটি যেভাবে পড়ানো দরকার, সেভাবে পড়ানো হয় না। এই কিতাবের প্রতিটি খণ্ডেরই তামরিন কিতাব (অনুশীলনমূলক) আছে। কিন্তু তা খুব গুরুত্ব দিয়ে চর্চা করানো হয় না। এই কিতাবের মধ্যেও আরবি ব্যাকারণিক নিয়ম যুক্ত করে পড়ানো হয়। অথচ এটাতে ব্যাকরণ যুক্ত করার কথা না। এই কিতাব পড়ে মাদানি নেসাবের ছাত্ররা আরবি বুঝতে পারছে, অথচ আমদের ছাত্ররা এ কিতাব পড়েও আরবি বুঝতে পারছে না। এখানে পড়ানোর পদ্ধতিতে সমস্যা আছে।’

মাওলানা আশরাফুল হক গুরুত্বপূর্ণ আরেকটি দিক উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘মাদরাসাগুলোতে আরবি শিক্ষার এই কিতাবগুলোকে মনে করা হয় ছোট এবং সহজ কিতাব। ফলে এই কিতাবের জন্য কম যোগ্যতাসম্পন্ন শিক্ষক নিয়োগ দেয় অনেক মাদরাসা। অথচ, এটা ভাবা হয় না, এই কিতাবগুলো পড়েই একজন ছাত্রের আরবি শিক্ষার ভিত গড়ে উঠে। ফলে ছাত্ররাও আরবি শেখানোর ভালো শিক্ষক পায় না।’

শিক্ষাবোর্ড কী ভাবছে?

বেফাকের সহকারী পরিচালক মাওলানা যুবায়ের আহমাদ বলেন, ‘মুরুব্বিরা বিষয়টি জানেন। বিভিন্ন শিক্ষক ট্রেনিংয়ে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। কোন কিতাব কিভাবে পড়াতে হবে, তা বুঝানো হয়। ট্রেনিংয়ের মূল দায়িত্বে আছেন মাওলানা সাজিদুর রহমান, মুফতি মিজানুর রহমান সাইদ এবং মাওলানা মাহফুজুল হক। ট্রেনিংয়ে কী কী বলা হবে, তা তারাই নির্ধারণ করেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই সঙ্কট নিরসনে মূল দায়িত্ব পালন করতে হবে শিক্ষকদের। তাদেরকে আন্তরিকতা নিয়ে পড়াতে হবে। ছাত্রদের পেছনে মেহনত করতে হবে। মাদরাদসা কর্তৃপক্ষকে সতর্ক হতে হবে। তাহলে ছাত্ররাও আগ্রহী হবে আরবির প্রতি। আমরা তো ছাত্রদেরকে উৎসাহিত করতে পরীক্ষায় আরবিতে লেখার জন্য আলাদা নম্বর রেখেছি।’

তবে বোর্ডের নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র জানিয়েছে, কওমি ছাত্রদের আরবি সঙ্কট বিষয়টি নিয়ে বোর্ডে কোনো উদ্বেগ কিংবা আলোচনা নেই। বিষয়টিকে কোনো ইস্যু হিসেবে দেখছেন না মুরুব্বিরা। বোর্ডের ভেতরে যেমন আলোচনা নেই, তেমনি আলোচনা নেই বাইরেও। বোর্ডের কার্যক্রম আটকে আছে কেবল কিছু বই বাজারজাত করা এবং পরীক্ষা গ্রহণেই। বোর্ড চলছে গতানুগতিক ধারায়।

 

The post আরবি অদক্ষতা বাড়ছে কওমি মাদরাসায় appeared first on Fateh24.



source https://fateh24.com/%e0%a6%86%e0%a6%b0%e0%a6%ac%e0%a6%bf-%e0%a6%85%e0%a6%a6%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%b7%e0%a6%a4%e0%a6%be-%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%a1%e0%a6%bc%e0%a6%9b%e0%a7%87-%e0%a6%95%e0%a6%93%e0%a6%ae%e0%a6%bf/

Sunday, December 18, 2022

মিরপুরে মায়ের সামনে বিআরটিসি বাসচাপায় পিষ্ট শিশু

ফাতেহ ডেস্ক:

রাজধানীর মিরপুরে বিআরটিসি বাসের চাপায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারিয়েছে দুই বছরের শিশু রায়সা। মায়ের কোল থেকে ছিটকে চাকার নিচে পড়ে যায় শিশুটি। মায়ের সামনেই পিচঢালা রাস্তায় থেঁতলে যায় তার মাথা। নির্মম ঘটনাটি ঘটেছে রবিবার রাতে।

বাসটি জব্দ ও চালক আলামিনকে আটক করেছে দারুস সালাম থানা পুলিশ।

পুলিশ জানিয়েছে, রাবেয়াদের বাসা মিরপুর থানাধীন শাহআলী বাগে। রবিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে টেকনিক্যাল মোড় থেকে রিকশায় মেয়েকে কোলে নিয়ে বাসায় ফিরছিলেন তিনি। টেকনিক্যাল-মিরপুর ১ নম্বর সড়কে হঠাৎ একটি অটোরিকশা রিকশা ধাক্কা দিয়ে সামনে চলে যায়। রিকশা থেকে শিশুসহ মা রাবেয়া রাস্তায় পড়ে যান। শিশুটি কোল থেকে ছিটকে একটু দূরে গিয়ে পড়ে। এ সময় বিআরটিসির একটি বাস শিশু আরসার মাথার ওপর দিয়ে চলে যায়। এতে থেঁতলে যায় শিশুর মাথা।

দারুস সালাম থানার ওসি আমিনুল বাশার বলেন, শিশুটি ঘটনাস্থলে মারা যায়। মাথা-মুখের অংশ চেনার উপায় নেই। শিশুর মা আহত হয়েছেন। বাসটি জব্দ এবং চালক আলামিনকে আটক করা হয়েছে।

The post মিরপুরে মায়ের সামনে বিআরটিসি বাসচাপায় পিষ্ট শিশু appeared first on Fateh24.



source https://fateh24.com/%e0%a6%ae%e0%a6%bf%e0%a6%b0%e0%a6%aa%e0%a7%81%e0%a6%b0%e0%a7%87-%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a6%a8%e0%a7%87-%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%86/

৬৭% মানুষের মৃত্যু অসংক্রামক রোগে

ফাতেহ ডেস্ক:

দেশে ম্যালেরিয়া, গোদরোগ, কালাজ্বরের মতো সংক্রামক রোগের প্রকোপ কমে এসেছে। মানুষের গড় আয়ু বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হৃদ্‌রোগ, ডায়াবেটিস, ক্যানসারের মতো অসংক্রামক রোগের প্রকোপ বাড়ছে। এখন দেশে মোট মৃত্যুর ৬৭ শতাংশ হচ্ছে অসংক্রামক রোগে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) আয়োজিত কেন্দ্রীয় সেমিনারে এই তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় সেমিনার কমিটি গতকাল রোববার এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। মাসিক এই সেমিনারের এবারের বিষয় ছিল স্বাধীনতার পর থেকে এখন পর্যন্ত দেশের স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন ও অর্জন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এই সেমিনারে মূল উপস্থাপনায় বিএসএমএমইউর পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিকস বিভাগের অধ্যাপক মো. আতিকুল হক বলেন, দেশে এখন সবচেয়ে বেশি মানুষের মৃত্যু হচ্ছে স্ট্রোকে (মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ বা রক্ত জমাট বাঁধা)। মৃত্যুর দ্বিতীয় ও তৃতীয় প্রধান কারণ যথাক্রমে হৃদ্‌রোগ ও শ্বাসতন্ত্রের দীর্ঘস্থায়ী রোগ।

সেমিনারে উপস্থাপন করা তথ্য অনুযায়ী, দেশে ১৫ বছরের বেশি বয়সীদের মধ্যে ৩৫ শতাংশ ধূমপানে অভ্যস্ত। প্রাপ্তবয়স্কদের ৬ শতাংশ স্থূল, অর্থাৎ তাদের ওজন স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি, ২০–৭৯ বছর বয়সীদের ১৪ শতাংশ ডায়াবেটিসে ভুগছে এবং ৩৫ বছরের বেশি বয়সী ৪৫ শতাংশ নারী ও ৩৪ শতাংশ পুরুষ উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন।

The post ৬৭% মানুষের মৃত্যু অসংক্রামক রোগে appeared first on Fateh24.



source https://fateh24.com/%e0%a7%ac%e0%a7%ad-%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%81%e0%a6%b7%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%ae%e0%a7%83%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a7%81-%e0%a6%85%e0%a6%b8%e0%a6%82%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%b0/

বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগগুলোর ‘সঙ্কট’ কাটছে না

রাকিবুল হাসান নাঈম:

বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি অনুষদের সিলেবাস দিনদিন উন্নত হলেও আশানুরূপ ফল পাওয়া যাচ্ছে না। আরবি বিষয়টির প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহের চাইতে অনাগ্রহের পরিমাণই বেশি। পরিশোধিত সিলেবাসও তাদের আগ্রহ ফেরাতে পারছে না। শিক্ষকরা বলছেন, আরবি অনুষদের ৬০ শতাংশ শিক্ষার্থীই অমনোযোগী। তারা আরবি না পড়ে বিসিএসএসের পড়াশোনা করছে। ৪০ শতাংশ শিক্ষার্থী কোনোমতে আগ্রহ ধরে রেখেছে।

পড়ানোর মান উন্নত না হওয়া এবং শিক্ষার্থীদের আগ্রহ হারিয়ে ফেলার পেছনে বিভিন্ন কারণ উল্লেখ করেছেন শিক্ষার্থী এবং শিক্ষকরা। তাদের ভাষ্যানুযায়ী, সমস্যা দু দিকেরই রয়েছে। তারা এটাও স্বীকার করেছেন, বর্তমান পৃথিবীতে আরবির যে অবস্থান, তাতে যোগ্য হয়ে কাজ করার জন্য এই পরিস্থিতির ‍উন্নয়ন ঘটাতে হবে।

শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আরবি বিভাগে ৯০ শতাংশই দাখিল কিংবা ইসলামিক শিক্ষা ব্যাকগ্রাউন্ডের শিক্ষার্থীদের নেয়া হয়। বাকি ১০ শতাংশ নেয়া হয় স্কুল-কলেজ ব্যাকগ্রাউন্ডের। কখনও শর্ত দেয়া যায়, কখনও শর্ত দেয়া যায় না।

ঢাবির কারিকুলাম ও অভিযোগ

ঢাবির কারিকুলাম নিয়ে কথা হয় ঢাবির আরবি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শহীদুল ইসলামের সঙ্গে। ফাতেহকে তিনি জানান, আরবি বিভাগের ছাত্ররা বর্তমান পৃথিবীতে যেন সবক্ষেত্রে খাপ খায়, সে লক্ষ্যেই আমদের কারিকুলাম উন্নত করা হয়েছে। বর্তমান কারিকুলাম বেশ পরিমার্জিত একটি কারিকুলাম। যেমন আরবির সঙ্গে এখানে প্রফেশনাল কোর্স হিসেবে আছে কম্পিউটার বেসিক এন্ড এডভান্সড কোর্স, বাংলাদেশ স্টাডি, ইসলামিক ইকোনমি, সোশ্যাল রিসার্চ ইত্যাদি। নতুন করে মিডলইস্ট স্টাডি যুক্ত করার পরিকল্পনা চলছে। আরবিতে প্রথম দুই বছর আমরা আরবি ল্যাঙুয়েজ শেখাই। পরবর্তী দুই বছর শেখাই আরবি ভাষার ইতিহাস, কবিতা এবং ব্যবহারিক আরবি।

কারিকুলাম প্রতিনিয়ত উন্নয়ন করছেন বলে ফাতেহকে জানান ঢাবির আরবি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, ‘আমরা যখন পড়াশোনা করেছি, তখনকার সিলেবাস আর এখনকার সিলেবাসে আকাশ-পাতাল তফাৎ। এখনকার ঢাবির আরবি সিলেবাস বেশ উন্নত।’

কারিকুলাম এবং পড়াশোনা নিয়ে কথা হয় ঢাবির আরবি তৃতীয় বর্ষের এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে। তিনি জানান, ‘ক্লাসে শিক্ষকরা অধিকাংশই লেকচার দেন বাংলায়। পরীক্ষাও বাংলাতে দেয়া যায়। প্রশ্নের একটা পার্ট আরবিতে দেয়া বাধ্যতামূলক থাকে। ফলে শিক্ষার্থীরা আরবি না শিখে পরীক্ষায় ভালো করার একটা সুযোগ পেয়ে যায়। কেউ একাডেমিক বইগুলো পড়ে না। পড়ে নোট আর শিট। পরীক্ষায় যতটুকু দরকার ততটুকুই, এর বাইরে কিছু না। পুরো সময় শিক্ষার্থীরা বিসিএসএসের বই পড়ে, জবের পড়া পড়ে। যদি শিক্ষকরা আরবিতে লেকচার দিতেন, পরীক্ষা আরবিতে দেয়া বাধ্যতামূলক থাকতো, ইচ্ছে না হলেও অনেকে আরবিটা শিখতো।’

অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মিজানুর রহমান ফাতেহকে বলেন, ‘আরবিতে লেকচার দিলে ৪০ শতাংশ ছাত্র বুঝবে, ৬০ শতাংশ ছাত্রই বুঝবে না। তাই বাংলায় লেকচার দেয়া হয়। অনেকে আরবিতেও দেন। আর পরীক্ষা আরবিতে না বাংলায় নেয়া হবে, সেটা বিশ্ববিদ্যালয় ঠিক করে, আমরা ঠিক করি না। সিলেবাস আমরা উন্নত করেছি। আরবিতে কর্মক্ষেত্রও বিকশিত হচ্ছে। যারা পড়ছে মন দিয়ে, তারা ভালো করছে। যারা পড়ছে না, তারা কেবল অভিযোগ তুলছে।’

রাবির কারিকুলাম ও সমস্যা

রাবির কারিকুলাম নিয়ে কথা হয় রাবির আরবি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ সাজিদুল হকের সঙ্গে। তার দেয়া তথ্যমতে, রাবির আরবি বিভাগের অনার্স কোর্সগুলো চারভাগে বিভক্ত। এক. ভাষাকেন্দ্রীক: এখানে মূলত ল্যাঙুয়েজ শেখানো হয়। এতে ৯টা কোর্স রয়েছে। ব্যাকরণের ৪টা, ভাষাগত ৩টা, ব্যাবহরিক ২টা। দুই. আরবি সাহিত্য: এতে আরবি সাহিত্যের পদ্য, গদ্য, সমালোচনা পড়ানো হয়। এতে রয়েছে ১৮টি কোর্স। তিন. সহায়ক কোর্স: এখানে আরবি সাহিত্যের ইতিহাস, ধারাক্রম, বিবর্তন ইত্যাদি পড়ানো হয়। এতে ৪টি কোর্স রয়েছে। চার. প্রফেশনাল কোর্স: এতে ২০২০ সালে মাত্র একটি কোর্স ছিল। এখন রয়েছে ৩টি কোর্স; ইংরেজি, আইসিটি এবং কম্পিউটার।

অধ্যাপক মোহাম্মদ সাজিদুল হক ফাতেহকে বলেন, ‘আমাদের শিক্ষার মিডিয়াম আরবি। আমরা আরবিতেই লেকচার দিয়ে থাকি। তবে কোনো কোনো কোর্স বাংলাতেও পড়ানো হয়। তবে এটা সত্যি, আমরা এখনো আন্তর্জাতিক স্তরের কারিকুলাম তৈরী করতে পারিনি। চেষ্টা করছি।’

রাবির এই অধ্যাপক বলেন, ‘আরবিতে কাজের ক্ষেত্র বাংলাদেশে পুরো বিকশিত না হলেও ক্ষেত্র কম না। দেশে আরবি অনুবাদের কদর বাড়ছে, বাজার বাড়ছে। বাইরের দেশে ২০-২৫টি রাষ্ট্রে আরবির কর্মক্ষেত্র রয়েছে। দেশে অনেক মাদরাসা-স্কুল রয়েছে। কাজের ক্ষেত্র থাকলেও আগ্রহী হচ্ছে না শিক্ষার্থীরা। আমদের গবেষণা বলছে, ৬০ শতাংশ শিক্ষার্থীই অমনোযোগী। ৪০ শতাংশ শিক্ষার্থী কোনোরকম আগ্রহ ধরে রেখেছে।’

সমস্যা কোথায়?

ঢাবির অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মিজানুর রহমান ফাতেহকে বলেন, ‘আরবি বিভাগে মাদরাসার শিক্ষার্থীরা আসে বেশি। কিন্তু মাদরাসায় এখন আরবিটা ভালো করে পড়ানো হয় না। শিক্ষার্থীরা যখন ভর্তি হয়, তারা এক লাইন আরবিও বলতে পারে না। সেই শুরু থেকে তাদেরকে আবার পড়াতে হয়। ফলে যারা একটু পারে, তারা বিরক্ত হয়। বলে, এসব তো আগেই পড়েছি। আমরা পড়িয়ে তাদেরকে শেখাই। দিনশেষে দেখা যায়, তারা আধঘণ্টা আরবিতে কথা বলতে পারে।’

মাদরাসার শিক্ষা-দুর্বলতার কথা স্বীকার করেছেন রাবির আরবি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ সাজিদুল হকও। তিনি ফাতেহকে বলেন, ‘স্কুল থেকে যারা আসে, তারা আরবি বুঝে না। মাদরাসা থেকে যারা আসে, তারাও বুঝে না। আগে কওমি মাদরাসা থেকে যারা আসতো, তারা আরবি ভালো পারতো। কিন্তু এখন কওমি মাদরাসা থেকে যারা ভর্তি হচ্ছে, তারাও ভালো পড়ছে না। ফলে আমরা আমাদের শ্রম অনুযায়ী ফলাফল পাচ্ছি না। অনার্স লেবেলে পড়াতে হচ্ছে প্রাইমারি লেবেলের আরবি।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাই চয়েজ আরবি পড়তে এসেছে এমন খুব কম হয়। সাধারণত, নম্বর তালিকা কিংবা কোটা হিসেবে যখন অন্য বিষয় পায় না, অটোমেটিক আরবি চলে আসে। কেবল ইউনিভার্সিটিতে থাকার জন্য তাদের আরবিটাকেই নিতে হয়। বলা হয়, আরবিটা নিলে নিতে পারো। নয়ত আর কোনো বিষয় নাই। ফলে সে বাধ্য হয়ে আরবি নেয়। পরীক্ষায় কোনোরকম পাশ করে। তার পুরো ধ্যান থাকে জবের পড়াশোনা।’অথচ অন্য দেশে কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা থাকে। কোন সাবজেক্ট নিলে কী হবে, তা জানতে পারে শিক্ষার্থীরা। আমাদের দেশে সেটা নেই।’

অধ্যাপক সাজিদুল হক প্রাতিষ্ঠানিক কিছু কমতির কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘পড়ার মান উন্নতকরণ নিয়ে শিক্ষার্থীদের যে অভিযোগ, তার পেছনে প্রতিষ্ঠানের দায় আছে। যেমন ভার্সিটিতে একটা ল্যাব নেই। আরবি লিসেনিং স্কিল ডেভেলপ করতে হলে তো ভালো অডিও সেটাপ লাগবে। ভিজ্যুয়াল সিস্টেম লাগবে। তার ব্যবস্থা নেই। সিলেবাস উন্নত হচ্ছে ঠিক, পড়ার মান উন্নত হচ্ছে না। কেন? কারণ, বাইরের দেশে প্রতিনিয়ত মাতৃভাষা ছাড়া অন্যভাষা শেখানোর মেথড তৈরী হচ্ছে নতুন নতুন। বইও বের হচ্ছে। কিন্তু আমদের দেশে এসবের চর্চা নেই। শিক্ষকদের ট্রেনিং দেয়া হয় না। শিক্ষকরা নিজে থেকেও রিসার্চ করেন না। ফলে সেই পুরাতন পদ্ধতিতেই পড়াচ্ছেন। পুরোনো রীতিতেই প্রশ্নপত্র তৈরী করছেন।’

সমস্যা নিরসনের উদ্যোগ

এই সমস্যা নিরসনে শিক্ষকরা ব্যক্তি পর্যায়ে চেষ্টা করছেন। তবে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থায় সমস্যা নিরসনের প্রচেষ্টা নাই বললেই চলে। ঢাবির অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম ফাতেহকে বলেন, ‘প্রথম বর্ষ থেকে আমরা একটা নতুন উদ্যোগ নিয়েছি। যে ভালো পারে, তাকে প্রধান করে যারা কম পারে, তাদের একটা গ্রুপ করে দিচ্ছি। যেন সে সবাইকে শেখাতে পারে। এর কিছু ফলাফলও পাচ্ছি আমরা। শিক্ষার্থীরা হতাশায় ভোগে। তাদেরকে মোটিভেট করতে হয়। সেটাও আমরা প্রতিনিয়ত করছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আমাদের একটা বিষয় নিয়ে কথা চলছে। আরব যে কান্ট্রিগুলো আছে, কিংবা দেশের বাইরে তাদের যে প্রজেক্টে আরবি বিষয়ক লোক দরকার, তা যেন আমদের থেকে নেয়, এমন একটা চুক্তির পরিকল্পনা হচ্ছে। বিষয়টি হলে ছাত্ররা আশা করছি আরও মোটিভেট হবে। কারণ, দিনশেষে অর্থনৈতিক দিকটাও ভাবতে হয়। ছাত্ররা জব এবং বিসিএসএসের পড়া পড়ছে অর্থের জন্যই।’

রাবির অধ্যাপক সাজিদুল হক ফতেহকে বলেন, ‘একবার আমরা নতুন একটা উদ্যোগ শুরু করেছিলাম কয়েকজন শিক্ষক মিলে। ক্লাসের বাইরেও শিক্ষার্থীদের আরবি ক্লাস নিতাম। বেশ ভালো ফলাফলও পেয়েছিলাম। প্রথম বর্ষে স্কুল শিক্ষার্থীরাও আরবিতে কথা বলতে পারতো। কিন্তু প্রাতিষ্ঠানিক আর্থিক সহায়তা না থাকার কারণে সেটা বন্ধ হয়ে যায়।’

রাবির এই অধ্যাপক মনে করেন, ‘আরবি বিভাগ পুরোটা মাদরাসার ছাত্রদের জন্য ছেড়ে দেয়া উচিত। তাহলেও কিছুটা উন্নতি করা যাবে। পাশাপাশি ভাষাশিক্ষার জন্য দরকারি উপকরণ সরবরাহ এবং শিক্ষকদের ট্রেনিং করাতে পারলে পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটানো যাবে।’

The post বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগগুলোর ‘সঙ্কট’ কাটছে না appeared first on Fateh24.



source https://fateh24.com/%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%b6%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%86%e0%a6%b0%e0%a6%ac%e0%a6%bf-%e0%a6%ac%e0%a6%bf/

Saturday, December 17, 2022

কেমন আছেন আর্জেন্টিনার মুসলমানরা?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

দক্ষিণ আমেরিকার দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশ আর্জেন্টিনার জনসংখ্যা চার কোটি ৫৬ লাখ ২০ হাজার ৩৮১। দেশটির মুসলিম নাগরিকের সংখ্যা প্রায় সাড়ে চার লাখ। যা আর্জেন্টিনার মোট জনসংখ্যার মাত্র ২ শতাংশ। এরপরও আর্জেন্টিনায় বসবাসকারীদের মাঝে মুসলিমরা দেশটির বৃহত্তম সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী। পরিসংখ্যান অনুযায়ী লাতিন আমেরিকার দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মুসলমানের বাস এ দেশটিতে। আর্জেন্টিনার মুসলমানদের একপঞ্চমাংশই বাস করে রাজধানী বুয়েন্স আয়ার্সে।

বর্তমানে আর্জেন্টিনার বিভিন্ন শহরে ১৫০টির বেশি ইসলামিক সেন্টার আছে। এর তত্ত্বাবধানে অসংখ্য মাদরাসা, স্কুল ও কলেজ পরিচালিত হয়। ১৯৯৬ সালে সৌদি বাদশার সহায়তায় কিং ফাহাদ ইসলামিক কালচারাল সেন্টার নামে দক্ষিণ আমেরিকার সর্ববৃহৎ মসজিদ স্থাপিত হয়। ইসলামিক সেন্টার অব আর্জেন্টিনা দেশের ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা মসজিদগুলোতে রমজানে কোরআন ও ধর্মীয় বিষয়ে পাঠদানের ব্যবস্থা করে। তারা রমজান মাসে বিশেষ টেলিভিশন সম্প্রচারের ব্যবস্থা করে। যেখানে মুসলিমগণ ইসলামি জীবনব্যবস্থা সম্পর্কে জানতে ও প্রশ্ন করার সুযোগ পান।

বর্তমানে আর্জেন্টাইন মুসলমানদের সবচেয়ে বড় সংকট হচ্ছে, ধর্মীয় শিক্ষার অভাব। স্প্যানিশ ভাষায় ইসলামি উপকরণের অভাব। স্থানীয় মুসলিম নেতারা স্প্যানিশ ভাষায় ইসলামি বইপত্র অনুবাদ করাকে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন। জ্ঞানের অভাবে অনেক মুসলিম তাদের আত্মপরিচয় ভুলে যাচ্ছেন। এমনকি তারা ‘নিধর্মী’ হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন।

‘কাউন্সিল অন হেমসিগ্রিক অ্যাফেয়ার্স’-এর গবেষণা সহযোগী ভিনসেন্ট লোফাসোর মতে, আর্জেন্টাইন মুসলিমদের সমস্যা হচ্ছে, প্রথমত ‘তারা তাদের অনেক প্রথা (ইবাদাত) ভুলে গেছে। তারা তাদের ধর্ম সম্পর্কে জানে না। আরবি ভাষাও তারা জানে না। এমন অনেক মুসলিম পরিবার আছে যেখানে একজন মাত্র আরবি পারেন (তিনি দাদা/দাদি হবেন), বাকিরা শুধুমাত্র স্প্যানিশ পারেন।

দ্বিতীয় কারণ হিসেবে তিনি বলেন, মাতৃভাষা স্প্যানিশে খুব কম ইসলামি বইপত্র পাওয়া যায়, বিশেষত কোরআন পাওয়া যায় না (কুরআনের স্প্যানিশ অনুবাদ হলেও তা সহজলভ্য নয়)।

তৃতীয় ও শেষ কারণ হিসেবে তিনি বলেন, সেখানে মাদরাসা বা ইসলামিক স্কুল ও ইসলাম প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অভাব রয়েছে। ফলে অনেক মুসলিম স্থানীয় প্রথা(খ্রিস্টান ধর্ম) দ্বারা প্রভাবিত হচ্ছেন, এমনকি অনেকে তার মূল ধর্ম (ইসলাম) ভুলে যাচ্ছেন।

The post কেমন আছেন আর্জেন্টিনার মুসলমানরা? appeared first on Fateh24.



source https://fateh24.com/%e0%a6%95%e0%a7%87%e0%a6%ae%e0%a6%a8-%e0%a6%86%e0%a6%9b%e0%a7%87%e0%a6%a8-%e0%a6%86%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%9c%e0%a7%87%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%9f%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%ae/

‘আরবি ভাষার রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব অনেক’

মাওলানা মহিউদ্দীন ফারুকী। আরবি ভাষাবিদ, তরুণ আলেম। পড়াশোনা করেছেন মদিনা বিশ্ববিদ্যালয়ে। আধুনিক আরবি ভাষার চর্চাকে ব্যাপক করার জন্য কাজ করছেন। এ উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠা করেছেন ‘মারকাজুল লুগাতিল আরাবিয়া বাংলাদেশ’ নামে বিশেষায়িত একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। আন্তর্জাতিক আরবি ভাষা দিবস উপলক্ষে, বাংলাদেশে আরবি ভাষার চর্চা ও আনুষঙ্গিক বিষয় নিয়ে ফাতেহ টোয়েন্টি ফোর-এর পক্ষ থেকে তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন হামমাদ রাগিব।

  • আপনার দৃষ্টিতে আরবি ভাষা চর্চা করা কেন গুরুত্বপূর্ণ?

আমার দৃষ্টির কথা বললে আমাদের আকাবির-আসলাফদের দৃষ্টিভঙ্গিটাই বলতে হয়। কুরআন-সুন্নাহর ভাষা আরবি; এ সম্বন্ধে জ্ঞান হাসিল করতে হলে অবশ্যই আরবি ভাষা ভালোভাবে আত্মস্থ করতে হবে। ইসলামি শরিয়াহ সম্পর্কে পাণ্ডিত্য অর্জন করতে হলেও আরবির ওপর বুৎপত্তি অর্জনের বিকল্প নেই। এ জন্যই মূলত আরবি ভাষা চর্চা করাটা গুরুত্বপূর্ণ।

  • ধর্মীয় গুরুত্বের পাশাপাশি এর কি কোনো সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক গুরুত্ব আছে?

অবশ্যই আছে। বর্তমান যুগটা অনেকটা অনলাইন নির্ভর হওয়ার কারণে পৃথিবীর সবাই যেন আমরা একই ঘরের বাসিন্দা। ঘরের বড় একটি অংশ আরবি ভাষাভাষী। তাদের সঙ্গে ভাব বিনিময়ের জন্যও আরবি জানা গুরুত্বপূর্ণ। তাছাড়া আরব দেশের সঙ্গে যেহেতু আমাদের ধর্মীয়ভাবে মজবুত একটা বন্ধন আছে, অতএব তাদের রাজনীতি নিয়ে আমাদের জানতে হয়, ভাবতে হয়। এটা করতে গেলেও আরবি ভাষা সম্পর্কে জানাশোনার দরকার পড়ে। তাই আরবি ভাষা জানার রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব অনেক।

  • বাংলাদেশে আরবি ভাষা চর্চার সার্বিক মূল্যায়ন কীভাবে করবেন? কওমি মাদরাসার অবস্থা ঠিক কেমন?

সার্বিকভাবে মূল্যায়ন করতে গেলে আসলে প্রথমে দেখতে হবে আরবি ভাষা চর্চার লক্ষ্যটা কী। বিশেষত আমাদের কওমি মাদরাসায় আরবি শেখা হয় কুরআন-হাদিস বোঝার জন্য। কুরআন-হাদিস বোঝা বা ফিকহি কিতাবাদির ইবারত পড়ে তরজমা করাটাকেই এখানে যথেষ্ট মনে করা হয়। সে উদ্দেশ্য অনুযায়ী বিচার করতে গেলে বাংলাদেশে আরবি ভাষার চর্চাটা সফলতার সঙ্গেই হচ্ছে।

কিন্তু এ উদ্দেশ্যের বাইরেও আরবি জানার জরুরত আছে। একজন আলেমের জন্য আধুনিক আরবির ওপর দক্ষতা অর্জন আবশ্যক। কিন্তু আমাদের দরসে নেজামিতে আরবি চর্চার যে ধারাটা চালু আছে, এ ধারায় ছাত্ররা কেবল দরসি কিতাবের আরবি বোঝার যোগ্যতা অর্জন করতে পারে, এর বাইরে আধুনিক আরবি বোঝা বা আরবিতে কথা বলায় তাঁরা খুব একটা দক্ষতা দেখাতে পারেন না। সম্প্রতি আলিয়া মাদরাসার শিক্ষাকারিকুলামে কিন্তু আধুনিক আরবির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আমাদের মাদরাসাগুলোতে সেটা এখনও চালু হয়নি।

  • এ সমস্যার সমাধান কীভাবে করা যায়?

এর জন্য শিক্ষাকারিকুলামের দিকে নজর দিতে হবে। যারা আরবি ভাষার শিক্ষক তাদেরকে আলাদাভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া প্রয়োজন। তাছাড়া নাহু-সরফের যে কিতাবগুলো পড়ানো হয়, পড়ানোর সময় কুরআন-হাদিস থেকে উদাহরণ এনে এর বাস্তবিক প্রয়োগের যদি ব্যবস্থা করা হয় তবে আরবি ভাষাটা হৃদয়ঙ্গম করতে ছাত্রদের জন্য সুবিধা হবে।

কয়েক বছর আগে মদিনা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন সময়ে ছুটিতে এসে আমি এ ব্যাপারে আলোচনা করেছিলাম বেফাকের মরহুম মহাসচিব মাওলানা আবদুল জব্বার জাহানাবাদী হুজুর (রহ.)-এর সঙ্গে। কথা হয়েছিল বেফাকের আরও কয়েকজন শীর্ষ ব্যক্তিত্বের সঙ্গে। তাঁদের কাছে আবেদন রেখেছিলাম আরবি ভাষার ওপর আরবি বিষয়ের শিক্ষকদের বিশেষ প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেওয়ার জন্য। শিক্ষকরা যাতে আরবি বিষয় পড়ানোর সময় আরবি মাধ্যমটাকে গ্রহণ করতে পারেন। আরবি ক্লাসে আরবিতেই যেন ভাববিনিময় করতে পারেন, এর ওপর তাঁদেরকে প্রশিক্ষিত করে তোলার উদ্যোগ যেন বেফাক নেয়। তাহলে যোগাযোগের যে আরবিটা, ‘আল-আরাবিয়াতুল ইত্তেসালিয়া’ যেটাকে বলা হয়, কওমি ছাত্রদের মধ্যে এটা সহজ হয়ে যাবে। বেফাক মহাসচিব তখন সে উদ্যোগ নিয়েছিলেন এবং সংশ্লিষ্টদের এ ব্যাপারে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনাও দিয়েছিলেন কিন্তু পরে কেন যেন আর বাস্তবায়ন হলো না। তারপর তো হুজুরের ইন্তেকালই হয়ে গেল।

  • এখন সাধারণ শিক্ষা-মাধ্যমের অনেকে আরবি শিখতে চাইছেন। তাদের উদ্দেশ্যে কী বলবেন?

তাদের উদ্দেশে সর্বাগ্রে যে কথাটা বলতে চাই, যেহেতু এটা কুরআন-হাদিসের ভাষা, তাই ভাষা শেখার আগে সহিহ শুদ্ধভাবে আরবি পড়াটা শিখে নেওয়া জরুরি। পাশাপাশি ভাষা শেখার জন্য ভাষা বিষয়ে বিজ্ঞ আলেমদের শরণাপন্ন থাকা দরকার। কারণ নিজে নিজে শিখতে গেলে অনেক সময় বুঝের তারতম্যের কারণে বিভ্রান্তির শিকার হতে হয়।

এখানে উলামায়ে কেরাম, যারা ভাষা বিষয়ে অভিজ্ঞ, তাদের খেদমতে একটা কথা আরজ করতে চাই। আরবি শেখার জন্য এখন অনেক সাধারন শিক্ষিত মানুষ আগ্রহী, কিন্তু আমাদের মাদরাসাগুলোতে তাদের জন্য কোনো ব্যবস্থাপনা নেই। উলামায়ে কেরামকে এই ব্যবস্থাপনার উদ্যোগ নিতে হবে। আলহামদুলিল্লাহ, আমাদের প্রতিষ্ঠান মারকাজুল লুগাতিল আরাবিয়া বাংলাদেশ এই উদ্যোগ নিয়েছে এবং আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করছি জেনারেল শিক্ষিত ভাইদের আরবি ভাষা শেখার তৃষ্ণা নিবারণের জন্য।

  • মাওলানা আবু তাহের মেসবাহ ও মাওলানা শহীদুল্লাহ ফজলুল বারী সাহেবের আরবী ভাষাচিন্তার মধ্যে মিল ও অমিলগুলো ঠিক কী ছিল?

উভয়ই বাংলাদেশের আরবি ভাষা চর্চার দুই দিকপাল। মৌলিক ক্ষেত্রে তাঁদের চিন্তাটা অভিন্ন। উভয়েই কুরআন-সুন্নাহর ভাষা আরবিটা ছাত্ররা যাতে ভালোভাবে আয়ত্ব করতে পারে, সেজন্যই কাজ করছেন। তবে আবু তাহের মেসবাহ সাহেব আরবি চর্চার ক্ষেত্রে কুরআন-হাদিস থেকে উদাহরণ টেনে বোঝানোর চেষ্টা করেন। এবং তাঁর কাজ মূলত প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের জন্য। আর ফজলুল বারী সাহেব আরবি চর্চার ক্ষেত্রে গুরুত্ব দেন আধুনিক আরবিকে। যাতে বৈশ্বিক একটা চেতনা শিক্ষার্থী অন্তরে রোপিত হয়ে যায়। এবং তাঁর কাজ ছিল মূলত দাওরা ফারেগ শিক্ষার্থীদের জন্য। তাই বলা যায়, উভয়ের কাজের প্লাটফর্ম ভিন্ন এবং প্লাটফর্ম অনুযায়ী তাঁদের প্রচেষ্টা অত্যন্ত সুন্দর এবং উপযোগী।

  • আপনি একটি বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান করেছেন, এর সম্পর্কে কিছু বলবেন?

আমাদের প্রতিষ্ঠানটির মূল লক্ষ্য হচ্ছে ছাত্রদেরকে কুরআন-সুন্নাহর ভাষা আরবির ওপর বুৎপত্তি অর্জন করানো। বিশেষত শহিদুল্লাহ ফজলুল বারী সাহেব আধুনিক আরবির যে ধারা তৈরি করে গেছেন, সে অনুযায়ী কাজ করা। আমার আরেকটি উদ্দেশ্য হচ্ছে, মদিনা বিশ্ববিদ্যালেয়র কারিকুলামে এ দেশের ছাত্রদেরকে আরবির ওপর দক্ষ করে তোলা। তাছাড়া সাধারণ শিক্ষিতদের যারা আরবি শিখতে আগ্রহী তাদের জন্য সুব্যবস্থাপনা করা এবং মসজিদের খতিবরা যাতে তাদের খুতবাগুলো বিশুদ্ধ ও চমৎকার আরবিতে ডেলিভারি দিতে পারেন, সেজন্য তাদের নিয়ে বিশেষ কোর্সের আয়োজন করাই আমাদের কাজ।

  • ভবিষ্যত পরিকল্পনা নিয়ে কী ভাবছেন?

প্রতিষ্ঠান নিয়েই ভাবছি। আমাদের ইচ্ছা মদিনা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো আরবি ভাষার ওপর এখান থেকে শিক্ষার্থীরা ডিপ্লোমা কোর্স করবে। গবেষণা অভিসন্দর্ভ তৈরি করবে। মোটকথা মদিনা বিশ্ববিদ্যালয়ের কারিকুলামেই আমরা এগোচ্ছি এবং আগামীতে এর আলোকে আরবি ভাষাচর্চার ওপর ভালো কিছু করতে চাই।

  • ফাতেহ টোয়েন্টি ফোরকে সময় দেওয়ার জন্য অসংখ্য মোবারকবাদ।

আপনাদেরও মোবারকবাদ আমাকে কথা বলার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য। জাযাকুমুল্লাহ।

 

The post ‘আরবি ভাষার রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব অনেক’ appeared first on Fateh24.



source https://fateh24.com/84957-2/