Monday, December 5, 2022

কাগজের বাজারে আগুন: হুমকির মুখে ইসলামি প্রকাশনা শিল্প

রাকিবুল হাসান নাঈম:

ক্রমাগত বেড়ে চলা কাগজের দাম নিয়ে চিন্তিত ইসলামি বই প্রকাশকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। পুরাতন বইয়ের দাম না বাড়ালেও আপাতত কাগজের দাম না কমা পর্যন্ত নতুন বই প্রকাশ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন অনেকে। প্রকাশকরা বলছেন, দেশের কাগজের বাজারে বিশ্ববাজারের মন্দার ঢেউ প্রভাব ফেলেছে। কাগজ তৈরির কাঁচামাল অধিক মূল্যে ও বর্ধিত পরিবহন ব্যয়ে দেশে আনায় কাগজ তৈরিতে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। এ কারণে কাগজের মূল্যবৃদ্ধি যে মাত্রায় স্বাভাবিক ছিল, তার তুলনায় বাস্তবে অস্বাভাবিক মাত্রায় বেড়েছে। এ বৃদ্ধি ক্ষেত্রবিশেষে দ্বিগুণ বা তারও বেশি হয়েছে।

প্রকাশকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাড়তি দামেও প্রতিদিনের চাহিদা মাফিক কাগজ পাওয়া যাচ্ছে না। সরকারি কাগজ মিলগুলো এখন বন্ধ। বসুন্ধরা গ্রুপের কাগজই বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে। এ ছাড়াও ফ্রেশ কোম্পানিসহ দুটি কাগজ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান তেমন একটা কাগজ দিতে পারছে না।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, হোয়াইট প্রিন্ট কাগজের দাম টনপ্রতি ছিল ১ লাখ ৩৫ হাজার। সপ্তাহের ব্যবধানে ২৫ হাজার টাকা বেড়ে তা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকায়। প্রতি টন হোয়াইট নিউজপ্রিন্ট কাগজের দাম বেড়েছে ১৫ হাজার টাকা। এ কাগজের দাম ২০ হাজার থেকে বেড়ে এখন বিক্রি হচ্ছে প্রতি টন ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকায়। ২০২১ সালে ৮০ গ্রাম অপসেট এক রিম কাগজের মূল্য ১৫০০ টাকা হলেও বর্তমানে দাম বেড়ে তা ৩০০০ টাকা হয়েছে। ১০০ গ্রামের একই কাগজ ১৭৫০ থেকে ৪২০০ টাকা দাঁড়িয়েছে। ২০ বাই ৩০ ইঞ্চি নিউজপ্রিন্ট কাগজের রিম ৩৮০ টাকা থেকে ১০০০ টাকা হয়েছে।

নতুন বই প্রকাশ বন্ধ

আপাতত কাগজের দাম না কমা পর্যন্ত নতুন বই প্রকাশ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে চেতনা প্রকাশন। প্রতিষ্ঠানটির এমডি বুরহান আশরাফি ফাতেহকে বলেন, আগে ৭০ গ্রাম কাগজের যে দাম ছিল, এখন ৬১ গ্রাম কাগজ তারচেয়ে বেশি দামে কিনতে হয়। বাজারের এই চড়া মূল্যে আপাতত আমরা নতুন বই আনব না। তবে পুরাতন বই শেষ হয়ে গেলে রিপ্রিন্ট করব। সম্প্রতি দুটি বই রিপ্রিন্ট করেছি। কিন্তু দাম বাড়াইনি। আমরা জানুয়ারি পর্যন্ত অপেক্ষা করব। যদি জানুয়ারিতেও কাগজের দাম না কমে, তাহলে ভেবে নিব কাগজের দাম সহসাই আর কমবে না। তখন নতুন বই আনলে সেটা বাড়তি দামেই বিক্রি করতে হবে।’

কাগজের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে কোনও দুষ্টচক্রের ইন্ধন রয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

নতুন বই প্রকাশ করতে গিয়ে ভাবতে হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন ইত্তেহাদ প্রকাশনীর কর্ণধার মাওলানা ইসহাক। ফাতেহকে তিনি বলেন, ‘নতুন বই না আনলেও হয় না। পুরাতন বইয়ের বিক্রি অনেকাংশে কমে গেছে। ফলে নতুন বই আনলে তার সঙ্গে পুরাতন বইও চলে। তাই নতুন বই আনতে হয়। কিন্তু চড়াদামের বাজারে চাইলেই নতুন বই আনা যাচ্ছে না। সেক্ষেত্রে আমরা নতুন বই আনছি ছোট পরিসরে। আগে যে বই আমরা দুই হাজার ছাপাতাম, তা এখন পাঁচশ কপি ছাপাচ্ছি। এভাবে জোড়াতালি দিয়ে চলতে হচ্ছে।’

দুররানি প্রকাশনের কর্ণধার মানজুর আশরাফি জানান, দুইটি বই এখন আমার রিপ্রিন্ট করা দরকার। প্রস্তুতিও নিয়েছিলাম। কিন্তু কাগজের বাজারের চড়া দামের কারণে তা এখন সম্ভব হচ্ছে না। যে কাগজ আগে দুই হাজার টাকা ছিল, সেটা এখন ৩৫০০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। এখন রিপ্রিন্ট করতে গেলে বইয়ের দাম বাড়ানো ছাড়া গতি নাই। সুতরাং ভাবছি কী করব।’

বইয়ের ক্রেতা কমে গেছে

বইয়ের ক্রেতা কমে গেছে বলে জানিয়েছেন ইসলামি প্রকাশকরা। তারা বলছেন, অন্য অনেক সময়ের তুলনায় বইয়ের কাটতিও অনেক কম।

এ প্রসঙ্গে বুরহান আশরাফি বলেন, চলতি সপ্তাহে বইয়ের কাটতি একেবারেই তলানিতে। পাঠক বই কেনা কমিয়ে দিয়েছেন। সুতরাং এ সময় যদি বইয়ের দাম আরও বাড়ানো হয়, তাহলে পাঠক আরও কমবে।

বইয়ের ক্রেতা অনকে কমে গেছে বলে জানিয়েছেন মাওলানা ইসহাক। তিনি বলেন, ‘সত্যিই বইয়ের ক্রেতা অনেক কমে গেছে। এদিকে বেড়ে গেছে কাগজের দাম। ব্যবসায়ী হিসেবে আমাদের প্রতিষ্ঠান চালাতে হয়। তবে বই প্রকাশে ব্যবসার সঙ্গে যেহেতু আমাদের দ্বীনি চিন্তাটাও থাকে, তাই বইয়ের দাম হুট করেই বাড়াতে পারি না। বৃহৎ সংখ্যক পাঠকের দিকে লক্ষ্য রাখতে হয়। তাই দামও বাড়াচ্ছি না। কিন্তু কাগজের বাজার স্বাভাবিক না হলে দাম বাড়ানো ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না।’

প্রকাশকরা বলছেন, মিল মালিক ও কাগজ ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটের কবলে পড়ে দেশজুড়ে কাগজের সংকট দেখা দিয়েছে। কাগজের যে আকাশচুম্বী মূল্যবৃদ্ধি ঘটেছে, তা স্বাধীন বাংলাদেশে অতীতের যে কোনো সময়কে ছাড়িয়ে গেছে। কাগজ তৈরীর মালামাল আমদানি হচ্ছে না। অথচ ইলেকট্রনিক সহ আরও বিভিন্ন খাতের মালামাল আমদানি হচ্ছে। কেন আমদানি হচ্ছে না, তা খতিয়ে দেখা দরকার। সেখানে সিন্ডিকেট থাকলে সরকারের উচিত তা দূর করে সংকটের নিরসন করা।

কাগজের বাজার স্বাভাবিক করতে মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরে বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতি। এসব দাবির মধ্যে রয়েছে: অস্বাভাবিক কাগজের দাম বৃদ্ধির কারণ তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করা, দ্রুততম সময়ে বিদেশ থেকে কাগজ আমদানিতে শুল্কমুক্ত ঘোষণা, দেশের সকল ক্ষেত্রে ব্যবহৃত কাগজকে রিসাইকেলিং কাজে ব্যবহার করার ব্যবস্থাকে স্বাভাবিক রাখা, কতিপয় অসাধু ব্যবসায়ীর গুদামজাতকৃত কাগজ স্বাভাবিক মূল্যে বিক্রির ব্যবস্থা এবং শুল্ক হ্রাস/মুক্ত করা ছাড়াও অন্যবিধ কী ভর্তুকি বা প্রণোদনামূলক ছাড় দেওয়া।

The post কাগজের বাজারে আগুন: হুমকির মুখে ইসলামি প্রকাশনা শিল্প appeared first on Fateh24.



source https://fateh24.com/%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%97%e0%a6%9c%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%87-%e0%a6%86%e0%a6%97%e0%a7%81%e0%a6%a8-%e0%a6%b9%e0%a7%81%e0%a6%ae%e0%a6%95%e0%a6%bf/

Sunday, December 4, 2022

ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প

ফাতেহ ডেস্ক:

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের কয়েকটি জেলায় ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী ছিল এ মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প।

সোমবার (৫ ডিসেম্বর) সকাল ৯টা ২ মিনিট ৫২ সেকেন্ডে এ ভূমিকম্প হয়। তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্রের ইনচার্জ নিজাম উদ্দিন আহমেদ জানান, রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ১। এটি মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প।

ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পরিমাপক কেন্দ্র থেকে ৫২০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে বঙ্গোপসাগরে বলেও জানান জহিরুল ইসলাম।

তবে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার (ইউএসজিএস) তথ্য অনুসারে, এই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল কক্সবাজার থেকে ৩৪১ কিলোমিটার এবং টেকনাফ থেকে ৩১৯ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে বঙ্গোপসাগরের মধ্যে। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ২। ভূমিকম্পের কেন্দ্র ছিল ভূ-পৃষ্ঠের ১০ কিলোমিটার গভীরে।

The post ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প appeared first on Fateh24.



source https://fateh24.com/%e0%a6%a2%e0%a6%be%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a6%b9-%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b6%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%ad%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a8-%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%a5/

আলেমদের কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি: আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

রাকিবুল হাসান নাঈম:

ইমাম, মুয়াজ্জিন ও আলেমদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে অ্যাকাউন্টিং ও অফিস ম্যানেজমেন্ট কোর্স শুরু হয়েছে। আলেমরা যেন গতিশীল সমাজের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যেতে পারেন, তাই বিশেষ প্রশিক্ষণ কোর্সের আয়োজন করেছে তারা। এই কোর্সে অংশ নিয়েছেন কওমি মাদরাসা থেকে তাকমিল অথবা আলিয়া মাদরাসা থেকে ফাজিল-কামিল সম্পন্ন করা ৪০ জন আলেম। ১১ নভেম্বর শুরু হওয়া এ কোর্সের কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে চলছে বলে জানিয়েছেন কর্তৃপক্ষ।

কর্তৃপক্ষ বলছেন, এই কোর্সে কম্পিউটারের বেসিক ধারণা, প্রয়োজনীয় ইংরেজি ভাষা শিক্ষা, অ্যাকাউন্টিং, অফিস ম্যানেজমেন্ট বা অ্যাডমিনের কার্যাবলি শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে। এদের মধ্যে অনেকেই কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানের অ্যাকাউন্টিংয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত আছেন।

কর্মদক্ষতা বৃদ্ধির জন্য আলেমদের বেছে নেয়ার কারণ প্রসঙ্গে আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, মাদরাসার ছাত্রদের সততার কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান তাদের পারচেজ ও আ্যাকাউন্টিং এর জন্য বিশেষ করে মাদরাসা ব্যাকগ্রাউন্ডের লোক খোঁজ করেন। কিন্তু অনেক সময় সৎ মানুষের দক্ষতার অভাব থাকার কারণে সেটি সম্ভব হয়ে ওঠে না। সেজন্য আমরা স্বপ্ন দেখছি, ইমাম কাম আ্যাকাউন্ট অফিসার ইত্যাদির। একজন আলেম ইমামতি করবেন আল্লাহর জন্য। একই অফিসে হয়তো তিনি কোনো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও পালন করবেন পেশাগত কাজ হিসেবে। অনেক প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে আমাদের কাছে প্রশিক্ষিত লোকের ডিমান্ড পেশ করেছে। তাই এই খাতে কাজ করার জন্য ইমাম, মুয়াজ্জিন ও আলেমদের কর্ম-দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এমন কোর্সের আয়োজন করেছি।

তিনি আরও বলেন, আলেমরা মাদরাসা-মসজিদ ছাড়াও সমাজের বিভিন্ন পর্যায়ে নিজেদের যোগ্যতার স্বাক্ষর রাখতে পারেন। আর আলেমদের মসজিদ-মাদরাসায় সীমাবদ্ধ থাকতে হবে, এমনটাও আমরা মনে করি না; বরং সমাজের বিভিন্ন স্তরে আলেমদের পৌঁছে যাওয়া জরুরি।

ফাউন্ডেশন সূত্রে জানা গেছে, তরুণদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য আস-সুন্নাহ স্কিল ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। ইনস্টিটিউটের জন্য স্থাপন করা হয়েছে একটি কম্পিউটার ল্যাব। এ ছাড়া রয়েছে ৮০ আসনের ধারণ ক্ষতাসম্পন্ন আধুনিক সুবিধাসংবলিত অডিটরিয়াম কাম ক্লাসরুম। এই ইনস্টিটিউটের আওতায় পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন কারিগরি প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। যেমন ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ, মেয়েদের জন্য সেলাই ও ব্লক-বাটিক ইত্যাদি। আমরা আশা করি, সবার আন্তরিক সহযোগিতায় এই বিশাল পরিকল্পনা তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।

চলমান অ্যাকাউন্টিং ও অফিস ম্যানেজমেন্ট কোর্স করছেন মোহাম্মদ সালমান। কোর্স প্রসঙ্গে উচ্ছ্বসিত হয়ে তিনি বলেন, ‘অভাবনীয় উন্নতি হচ্ছে আমাদের। ফজরের পর আমরা ল্যাবে ঢুকি। রাত সাড়ে এগারোটা পর্যন্ত প্র্যাকটিস করে। অ্যাকাউন্টিং ক্লাস হয়, অফিস ম্যানেজমেন্ট ক্লাস হয়, ইংরেজির ক্লাস হয়। শেখানো হয় একটি কোম্পানিতে এইচআর হিসেবে কাজ করতে হলে কী কী দক্ষতা লাগে। একঘণ্টা ক্লাস হলে প্র্যাকটিস হয় পাঁচঘণ্টা। সর্বক্ষণ শিক্ষকরা সঙ্গে থাকছেন। দেখিয়ে দিচ্ছেন সবকিছু হাতে ধরে। পাশাপাশি একটা গবেষণা টিম আছে কোর্সকেন্দ্রীক। তাদের কাজ হলো, কোর্সের শিক্ষার্থীদের নিয়ে চিন্তাভাবনা করা। তারা কেমন পড়ছে, কোন কোম্পানিতে কার কেমন সুযোগ হতে পারে, কোন পদের জন্য কী কী যোগ্যতা দরকার ইত্যাদি নিয়ে গবেষণা টিম গবেষণা করে।’

এই শিক্ষার্থী আরও বলেন, ‘এভাবে টানা তিনমাস যদি আমরা এই কোর্সে কাটাই, আমাদের শতভাগ আত্মবিশ্বাস—আমরা পূর্ণ দক্ষ হয়েই বের হব ইনশাআল্লাহ। আমরা স্কিলড হচ্ছি। আমাদের স্কিল কথা বলবে।’

কোর্সের পরিস্থিতি জানতে চাইলে আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের পাবলিক রিলেশন কর্মকর্তা সাব্বির জাদিদ ফাতেহকে বলেন, শিক্ষার্থীরা কোর্সটি উপভোগ করছেন। প্রতিনিয়ত তারা শিখছেন। তাদের আগ্রহও বেশ প্রবল। রাতের ঘুমের সময়টুকু ছাড়া পুরো সময় এটার পেছনেই খরচ করছে। আমরা আশাবাদী, কোর্সটি সম্পন্ন করার পর শিক্ষার্থীরা যেকোনো প্রতিষ্ঠানে মানবসম্পদ বিভাগের দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারবে, অ্যাডমিন হিসেবে নিয়োজিত হতে পারবে, নিজে প্রতিষ্ঠান করলে তা যথাযথভাবে পরিচালনা করতে পারবে। এ ছাড়া যেকোনো প্রতিষ্ঠানের অ্যাকাউন্ট সেকশনে নিয়োগলাভের সুযোগ পাবে।’

The post আলেমদের কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি: আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ appeared first on Fateh24.



source https://fateh24.com/%e0%a6%86%e0%a6%b2%e0%a7%87%e0%a6%ae%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%95%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ae%e0%a6%a6%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%b7%e0%a6%a4%e0%a6%be-%e0%a6%ac%e0%a7%83%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%a7/

Saturday, December 3, 2022

রুবিনার হত্যাকারী সেই ঢাবি শিক্ষক নিয়মিত মাদক সেবন করতেন

ফাতেহ ডেস্ক:

রাজধানীর শাহবাগে গাড়ির বাম্পারে আটকে যাওয়া নারীকে টেনে নেওয়া প্রাইভেটকারটি চালাচ্ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কৃত শিক্ষক মোহাম্মদ আজহার জাফর শাহ। রুবিনা আক্তার নামের ওই নারীর আর্তচিৎকার আর আশপাশের মানুষের চিৎকার-চেঁচামেচিতেও গাড়ি থামাননি নৈতিক স্খলনের দায়ে বহিষ্কার হওয়া ঢাবির সেই শিক্ষক। উল্টো গাড়ির গতি বাড়িয়ে প্রায় ১ কিলোমিটার টেনে নিয়ে যান রুবিনাকে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ধাওয়া করে নীলক্ষেত মোড়ের কাছে গাড়িটি থামায়। ততক্ষণে আজহার জাফর শাহের নৃশংসতায় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন রুবিনা আক্তার।

শুক্রবার বিকেলের এই ঘটনা মানুষের মনে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। নানা আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে জনমনে।

জানা গেছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষক ছিলেন আজহার জাফর শাহ। ২০০৭ সালে শিক্ষার্থীরা তার বিরুদ্ধে অপেশাদার আচরণের অভিযোগ দেয় কর্তৃপক্ষের কাছে। বিভিন্ন সময় পরীক্ষায় নম্বর দেওয়ার ক্ষেত্রে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগও উঠে তার বিরুদ্ধে। এমনকি ব্যক্তিগত ক্ষোভের জেরে একসঙ্গে ৮০ শিক্ষার্থীকে ‘শূন্য’ দেওয়া ছাড়াও বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ ছিল তার বিরুদ্ধে। নিয়মিত তিনি মাদক সেবন করতেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এসব অভিযোগের ভিত্তিতে বিভাগীয় তদন্ত কমিটি করা হয় এবং আজহার জাফর শাহকে কারণ দর্শাতে বলা হয়। কিন্তু তিনি আত্মপক্ষ সমর্থন করেননি, নোটিশেরও জবাব দেননি। তাকে সহযোগী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি দেওয়া হলেও শর্ত পূরণ করতে না পারায় পুনরায় সহকারী অধ্যাপক পদে পদাবনতি দেওয়া হয়। দশ বছর পর ২০১৭ সালের ২৭ এপ্রিল সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আজহার জাফর শাহকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হয়।

শুক্রবার বিকেলে ঢাবির চারুকলা অনুষদ-সংলগ্ন সড়কে আজহার জাফর শাহের প্রাইভেটকারের ধাক্কায় মোটরসাইকেল থেকে পড়ে যান রুবিনা আক্তার এবং সেই গাড়ির বাম্পারে আটকে যান। এরপর এভাবেই রুবিনা আক্তারকে এক কিলোমিটার টেনে নিয়ে যান শিক্ষক আজহার জাফর শাহ। এই ঘটনার পর রাতেই আন্দোলনে নামে ঢাবির শিক্ষার্থীরা।

The post রুবিনার হত্যাকারী সেই ঢাবি শিক্ষক নিয়মিত মাদক সেবন করতেন appeared first on Fateh24.



source https://fateh24.com/%e0%a6%b0%e0%a7%81%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%b9%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%80-%e0%a6%b8%e0%a7%87%e0%a6%87-%e0%a6%a2%e0%a6%be/

ইসলামি ব্যাংকে অস্থিরতা : আলেমদের উদ্বেগ

রাকিবুল হাসান নাঈম:

একের পর এক জালিয়াতি এবং মালিকপক্ষের বিশাল অংকের ঋণ গ্রহণ—সব মিলিয়ে দেশের টালমাটাল অর্থনৈতিক অবস্থার মাঝেই আলোচনার কেন্দ্রে বেসরকারি খাতের ইসলামী ব্যাংক। ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে হঠাৎ করেই বদলে যায় ইসলামী ব্যাংকের মালিকানা। নিয়ন্ত্রণে নেয় দেশের শীর্ষ স্থানীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এস আলম গ্রুপ। এরপরেই আসতে থাকে একের পর এক পরিবর্তন। নতুন পর্ষদের পাশাপাশি দায়িত্ব নেয় নতুন ব্যবস্থাপনা কমিটি। এতদিন মালিকপক্ষের বিষয়ে গুরুতর তেমন অভিযোগ প্রকাশ্যে না আসলেও সম্প্রতি ব্যাপক অনিয়ম ঘটছে ইসলামী ব্যাংকে। নীতিমালার বাইরে গিয়ে এস আলম ও নাবিল গ্রুপকে ঋণ দেয়ার অভিযোগ ওঠে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে। এরমধ্যে ৩০ হাজার কোটি টাকা একাই ঋণ নিয়েছে ব্যাংকটির খোদ মালিকানা প্রতিষ্ঠান এস আলম গ্রুপ।

বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন দেশের আলেম সমাজও। তারা বলছেন, ব্যাংকে ঋণ প্রদানের নামে লুটপাট হচ্ছে। নষ্ট করা হচ্ছে জনগণের আমানত। ঋণ বিতরণের কোনো নীয়মনীতি মানা হচ্ছে না। নামসর্বস্ব কাগুজে প্রতিষ্ঠানে বিপুল পরিমাণে টাকা ঢেলে যাচ্ছে তিনটি ব্যাংক। বাস্তবে এসব প্রতিষ্ঠানের কোনো অস্তিত্ব নেই। এক্ষেত্রে সরকারের দায় আছে বলেও মনে করেন তারা। ২০১০ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২০ সালের মার্চ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অবজারভার কাজ করছিল ইসলামী ব্যাংকে। মালিকানা পরিবর্তনের পর নতুন কোনো অবজারভার নিয়োগ দেয়নি বাংলাদেশ ব্যাংক। তদারকি থাকলে এমন ঘটতো না।

তথ্য অনুযায়ী, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড-আইবিবিএল থেকে ১১টি অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠান হাতিয়ে নিয়েছে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা। এছাড়া সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক থেকে চারটি প্রতিষ্ঠান নিয়েছে প্রায় ১৭ হাজার কোটি টাকা। অন্যদিকে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক থেকে তিনটি প্রতিষ্ঠান নিয়েছে এক হাজার ২০০ কোটি টাকা। প্রভাবশালী চক্রের যোগসাজশে গায়েবি প্রতিষ্ঠানে তিন ইসলামি ব্যাংক বিপুল পরিমাণ এ অর্থ বিনিয়োগ করেছে।

আলেমরা কী বলছেন?

নামসর্বস্ব কাগুজে প্রতিষ্ঠানে ঋণ প্রদানের নামে জনগণের টাকা লুট করা হচ্ছে বলে মনে করেন আলেম লেখক ও অধ্যাপক ড. আ ফ ম খলিদ হোসেন। তিনি ফাতেহকে বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আমরা খুবই উদ্বিগ্ন । ব্যাংকের কাছে জনগণের টাকা আমানত। কোনো তদন্ত ছাড়া এমনিতেই কোনো প্রতিষ্ঠানকে এতবড় ঋণ দেয়া মানে জনগণের টাকা লুট করা। ব্যাংকে এমনিতেই তারল্য সংকট দেখা দিয়েছে। দুর্ভিক্ষের আভাস শুনাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। এমন সময় এত বড় ঋণ দেখে আমরা চিন্তিত না হয়ে পারি না। ইসলামি ব্যাংক যদি ফল করে, তাহলে সব ব্যাংকই ফল করবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এখানে সরকারের প্রচ্ছন্ন সমর্থন আছে বলে আমি মনে করি। কারণ, সরকারের সমর্থন ছাড়া দেশের এই বিপন্ন অবস্থায় এতবড় ঋণ পাওয়া ও দেওয়া সম্ভব হতো না। আর বাংলাদেশ ব্যাংকের দায়িত্ব ছিল তদারকি করা। কিন্তু তারা কোনো তদরকি করেনি। ফলে একমাসের মধ্যে এতগুলো ঋণ দিতে পেরেছে ব্যাংকটি। এই অবস্থা সমাধান করতে হলে সরকারকেই করতে হবে। আর কারও ক্ষমতা নেই।’

বিষিয়টি নিয়ে উদ্বেগের কথা জানান আলেম লেখক ও গবেষক মাওলানা শরীফ মুহাম্মদ। তিনি ফাতেহকে বলেন, ‘প্রথমে আমি ইসলামি ব্যাংক হিসেবে কথা বলি। এই ব্যাংকের ইসলামি অনুশাসন পালন নিয়ে যদিও প্রশ্ন আছে, তবুও তারা ইসলাম নাম ধারণ করে কাজ করছে। একটি ব্যাংকের মূল ম্যানেজম্যান্ট কমিটি হুট করে বদলে দেয়া তো ঠিক না। অথচ ইসলামি ব্যাংকের কমিটি বদলে দিয়ে দায়িত্ব তুলে দেয়া হয়েছে এমন কোম্পানির হাতে, যারা নিজেরাই ব্যাংক থেকে টাকা সরিয়ে নিচ্ছে। এতবড় ঋণের জামানত হিসেবে তারা যতটুকু সম্পত্তি দেখিয়েছে, ব্যাংক ঋণ দিয়েছে তার কয়েক হাজার গুণ। যেটা একেবারেই অনুচিত। এটা শুধু ইসলামি ব্যাংকের ক্ষেত্রে কথা না, ইসলাম নাম ধারণ করা সব ব্যাংকেরই কথা।’

তিনি বলেন, ‘ব্যাপকভাবে সব ব্যাংকের কথাই যদি বলি, ব্যাংকগুলোতে টাকা জমা রাখে কারা? যারা টাকা জমা রাখে, তাদের ৭০ ভাগই মধ্যবিত্ত এবং নিম্নমধ্যবিত্ত। তারা বিভিন্ন মেয়াদে বিভিন্ন প্রয়োজনে টাকা জমা রাখে। ধনীরা কিন্তু টাকা জমা রাখে না। টাকা লোন নিয়ে বিনিয়োগ করে। সুতরাং অনৈতিকভাবে ঋণ দেয়া মানে এসব জনগণের টাকা অন্যায়ভাবে নষ্ট করা। বিষয়টি নিয়ে অবশ্যই আমরা চিন্তিত। কারণ, দেশের এখন করুণ পরিস্থিতি। সরকারপ্রধানও বারবার বলছেন, ২০২৩ সাল হতে পারে দুর্ভিক্ষের বছর। সেখানে নামস্বর্বস্ব, ভুয়া প্রতিষ্ঠানকে এতবড় ঋণ দিয়ে দেয়া চিন্তারই বটে।’

মাওলানা শরীফ মুহাম্মদ বলেন, ‘দেখা যাচ্ছে, ইসলামী ব্যাংকের ভেতরে কী হচ্ছে তা খতিয়ে দেখতে নড়েচড়ে বসেছে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ। ইসলামী ব্যাংকের বিষয়ে তদন্তে নেমেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তিন সদস্যের পরিদর্শন দল। এটা নতুন না। পিকে হালদার যখন টাকা নিয়ে পালিয়ে গেল, তখনও এমন কমিটি করা হয়েছিল। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। ডাক্তার আসিবার পূর্বেই যদি এভাবে রুগী মারা যেতে থাকে বারবার, তাহলে এ ডাক্তার এসে তো লাভ নেই।’

The post ইসলামি ব্যাংকে অস্থিরতা : আলেমদের উদ্বেগ appeared first on Fateh24.



source https://fateh24.com/%e0%a6%87%e0%a6%b8%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a6%bf-%e0%a6%ac%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%82%e0%a6%95%e0%a7%87-%e0%a6%85%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%a5%e0%a6%bf%e0%a6%b0%e0%a6%a4%e0%a6%be/

ফিফার সহায়তায় ফিলিস্তিনের ফুটবল ডাকাতির গল্প

রাকিবুল হাসান নাঈম:

‘ফিলিস্তিনিদের জন্য খেলাধুলা, বিশেষ করে ফুটবল সাংস্কৃতিক প্রতিরোধের একটি প্ল্যাটফর্ম। ফিলিস্তিনি ফুটবল ম্যাচের প্রতিটি দিক, তথা দলের নাম, জার্সি, খেলোয়াড় এবং শহীদদের নাম এর সাক্ষ্য বহন করে। ফিলিস্তিনে ফুটবল একটি রাজনৈতিক তৎপরতা।’

-রামজি বারুদ, ফিলিস্তিনি লেখক

অবৈধভাবে ইহুদিদের দখলকৃত পশ্চিম তীরের ছয়টি ফুটবল ক্লাবকে ইসরায়েলি লীগে অন্তর্ভুক্ত করা থেকে বিরত রাখতে ফিফাকে অনুরোধ করেছিল ফিলিস্তিন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জিব্রিল আল রাজুব ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থা উয়েফার উদাহরণ দিয়ে বলেছিলেন, এক্ষেত্রে উয়েফা হতে পারে আমাদের দৃষ্টান্ত। ২০১৪ সালে সালে রাশিয়া ইউক্রেনের ক্রিমিয়া উপদ্বীপ দখল করার পর রাশিয়াও চেয়েছিল ক্রিমিয়ান ক্লাবগুলো রাশিয়ান লীগে খেলুক। কিন্তু ফিফা অনুমোদন দেয়নি। অথচ ২০১৭ সালে ফিফা সিদ্ধান্ত নেয়, তারা দখলকৃত পশ্চিম তীরের ক্লাবগুলোকে দখলদার ইজরাইলের লীগে খেলতে বাধা দিবে না। অথচ, চলতি বছর ইউক্রেনের উপর সামরিক হামলার পরিপ্রেক্ষিতে সকল ক্লাব ও জাতীয় দলকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা (ফিফা) ও ইউরোপিয়ান ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা (উয়েফা)।

এই চিত্রটি প্যালেস্টাইনের সাথে বিশ্বব্যাপী ফুটবল ব্যবস্থার ইতিহাস বোঝার ক্ষেত্রে ভালো একটি ভূমিকা রাখবে। বুঝা যাবে, ফিলিস্তিনের সঙ্গে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের ইতিহাস অবহেলার ইতিহাস, ঔপনিবেশিক বৈধতার ইতিহাস। ফিফার সহায়তায় অনেক আগেই ফিলিস্তিনের ফুটবল দল ‘চুরি’ হয়ে গিয়েছিল ইহুদিদের হাতে। সেই ইতিহাসই আজকের নিবন্ধের আলোচ্য বিষয়।

জাতীয় দল ডাকাতির গল্প

১৯২৮ সালে ফিলিস্তিন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন প্রতিষ্ঠিত হবার পরের বছরই ফিফাতে যোগ দিয়েছিল তারা। কিন্তু ফিফা ফিলিস্তিনি বা আরব ছিল না, ছিল ইহুদি অভিবাসীদের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত একটি ইউনিয়ন এবং সম্পূর্ণরূপে ইহুদি দলের আধিপত্যে পরিচালিত। প্রথমদিকে, নতুন ফেডারেশন হিসেবে ফিলিস্তিনি দলের পক্ষে ফিফায় যোগ দেওয়া যুক্তিসঙ্গত ছিল না। তার ওপর এ দেশে আরবরা সংখ্যাগরিষ্ঠ, ইহুদিরা সংখ্যালঘু। কিন্তু তবুও ফিফা তাদেরকে দলে নেয়। কারণ, ফিফা আরবদেরকে ফিফায় যোগ দিতে আহ্বান জানিয়ে আসছিল। ফিলিস্তিনি দলকে অনুমোদন দিয়ে ফিফা নিকৃষ্ট একটি কাজ করে। তারা ফিলিস্তিনি দলের কর্তৃপক্ষ বদলে দেয়। সেখানে নিয়োগ পায় ইহুদিরা। ইজরাইলিরা যেমন দেশ দখলের চেষ্টা করছিল, তেমনি দখল করে নেয় ফিলিস্তিনের ফুটবল দল। নাম একই থাকে, জার্সিও একই থাকে। ফিফাও এই দলকে আরবদের দল বলে প্রচার করতে থাকে।

ইহুদিরা ফিলিস্তিন ফুটবল দলের লোগো এবং ভাষাকে হিব্রুতে রূপান্তর করার আগে দলের একটি জাতীয় সঙ্গীত তৈরি করেছিল। তাতে তারা ব্যবহার করেছিল ইহুদিবাদি প্রত্যাশা। সঙ্গীতের চরণে লিখেছিল, ‘আমাদের বুকে এখনও প্রত্যাশা আছে, আছে ইহুদি হৃদয়, যার বয়স হাজার বছর। আমাদের চোখ তাকিয়ে আছে জায়নবাদের দিকে, যেন আমরা হতে পারি একটি স্বাধীন জাতি।’

ফিফা এই ইহুদি ফেডারেশনকে ফিলিস্তিনের প্রতিনিধিত্বকারী হিসাবে স্বীকৃতি দিতে থাকে। এই দল ১৯৩৪ এবং ১৯৩৮ সালের বিশ্বকাপের বাছাই পর্বে খেলে। ‘৩৪ সালের বিশ্বকাপে মিশরের সঙ্গে খেলেছিল দুই ম্যাচ। প্রথমটিতে ৮–১ গোলের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছিল। তবে মিশর লক্ষ্য করেনি, যে দলটির সঙ্গে তারা খেলেছে, তা আসলে ফিলিস্তিনের নয়, বরং ইহুদিদের।

ফিলিস্তিনকে ইহুদিদের ভূমি হিসেবে উপস্থাপন করার জন্য খেলাধুলা ছিল ইহুদিবাদী আন্দোলনের প্রবেশদ্বার। ইহুদিবাদীরা অপেশাদার অ্যাথলেটিক্সের মাধ্যমে তাদের প্রচেষ্টা শুরু করেছিল। কিন্তু সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছিল।

ফিলিস্তিনেদের প্রচেষ্টা

এই প্রারম্ভিক ইহুদিবাদী হাইজ্যাকিংয়ের মুখোমুখি হয়ে ফিলিস্তিনিরা অপেক্ষাকৃত বিলম্বিত, কিন্তু তীব্র ক্রীড়া প্রতিরোধের প্রচেষ্টা শুরু করেছিল। ১৯৪৫ সালে জাফার ইসলামিক ক্লাবে অবস্থিত রিয়েল প্যালেস্টাইন ইউনিয়নের সাথে ২৫টি ক্লাব যুক্ত ছিল। ফিলিস্তিনি ক্লাবগুলির বিরুদ্ধে ইহুদিবাদীদের রাজনৈতিক প্রোপাগান্ডা, গ্রেপ্তার এবং হয়রানি সত্ত্বেও ১৯৪৭ সালের মধ্যে ক্লাবের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছিল ৬০ টিতে। রিয়েল প্যালেস্টাইন ইউনিয়ন মিশরের মধ্যস্থতায় ফিফার স্বীকৃতি পাওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু জায়োনিস্ট ফেডারেশনের চাপে তা আর হয়ে উঠেনি।

রিয়েল প্যালেস্টাইন ফেডারেশনের উল্লিখযোগ্য লক্ষ্যগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল: ফিলিস্তিনের আরব ক্লাবগুলির মধ্যে সমন্বয় এবং ফিলিস্তিন ও আরব দেশগুলির মধ্যে ক্রীড়া সম্পর্ক স্থাপন। সেই চল্লিশের দশকে ফিলিস্তিনিরা দলের জন্য যে নাম বাছাই করেছিল, তা ছিল ইসলামিক সামরিক ইতিহাস দ্বারা অনুপ্রাণিত। যেমন একটি দলের নাম ছিল ‘খালিদ বিন ওয়ালিদ’, আরেকটির নাম ছিল ‘সালাহউদ্দিন আইয়ুবি’। ফিলিস্তিনে খেলাধুলা ছিল নতুন প্রজন্মের একটি অভিব্যক্তি এবং জাতীয় স্বাধীনতার বিষয়ে তাদের সচেতনতা।

নাকবার পরে, ফিলিস্তিনিরা তাদের চুরি হওয়া স্বদেশের মতোই তাদের চুরি হওয়া প্রতীক পুনরুদ্ধারের সংগ্রামের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন ছিলেন। এ লক্ষ্যে ফিলিস্তিনি ফেডারেশন কাজ চালিয়ে যায়। তারা ১৯৫১ সালে আবার ফিফাতে যোগদানের জন্য চেষ্টা করে। ইসরায়েলি ফেডারেশনের ষড়যন্ত্রে ফিফা যোগদানের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে। কারণ হিসেবে তারা বলে, পশ্চিম তীরের কোনো আন্তর্জাতিক আইনি মর্যাদা নেই।

ষাটের দশকেও ফিলিস্তিনিদের প্রচেষ্টা অব্যাহত ছিল। এবার গাজা স্ট্রিপের মাধ্যমে চেষ্টা করা হয়। কারণ গাজার তো আন্তর্জাতিক মর্যাদা রয়েছে। কিন্তু ফিফা এবার বলে বসে, প্যালেস্টাইন নামে কোন রাষ্ট্র নেই, এবং তাই প্যালেস্টাইন ফেডারেশনের অনুরোধ গ্রহণ করা যাবে না। এ অস্বীকৃতি সত্ত্বেও থেমে যায়নি তারা। ১৯৭৮ এবং ১৯৮৯ সারে আরও দুবার চেষ্টা করে ফিফায় যোগদানের। ‘ফিলিস্তিনের কোন আন্তর্জাতিক আইনি মর্যাদা নেই’ এই অজুহাতে ফিফা তাদের প্রত্যাখ্যান করে। অবশেষে অসলো চুক্তি এবং ১৯৯৪ সালে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের দেশে ফিরে আসার পর ১৯৯৮ সালে ফিফা ফিলিস্তিনের সদস্যপদ গ্রহণ করে।

শেষকথা

ফিফায় যোগদানের পর থেকে ফিলিস্তিনি ফুটবল অনেক ট্র্যাজেডির সম্মুখীন হয়েছে৷ ২০১২ সালের যুদ্ধে ইসরায়েল গাজার ফিলিস্তিন স্টেডিয়াম, ফিলিস্তিনি অলিম্পিক কমিটির ভবন, ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন, ইয়ারমুক স্টেডিয়াম, আল-শামস ক্লাব, আল-শুহাদা ক্লাব, আল-শামস ক্লাবে বোমাবর্ষণ করে। নুসিরাত ক্লাব, রাফাহ স্টেডিয়াম এবং অন্যান্য ক্রীড়াঙ্গন লক্ষ্যবস্তু বানায়। তারা ফিলিস্তিনের খেলাধুলার অগ্রযাত্রাকে রুখে দিতে চায়। কিন্তু ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের সমস্ত বাধা সত্ত্বেও ফিলিস্তিনি দল এগিয়ে যাচ্ছে। এএফসি এশিয়ান কাপে ফিলিস্তিন এ পর্যন্ত ২ বার অংশগ্রহণ করেছে, যার প্রত্যেকবার তারা গ্রুপ পর্বে অংশগ্রহণ করেছে। এছাড়াও, ফিলিস্তিন ২০১৪ এএফসি চ্যালেঞ্জ কাপের শিরোপা জয়লাভ করেছে। পাশাপাশি জাতীয় দল টানা তৃতীয়বারের মতো ২০২৩ এএফসি এশিয়ান কাপের জন্য যোগ্যতা অর্জন করেছে। তবে বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন তাদের এখনো তাড়া করে।

সূত্র: আল জাজিরা

The post ফিফার সহায়তায় ফিলিস্তিনের ফুটবল ডাকাতির গল্প appeared first on Fateh24.



source https://fateh24.com/%e0%a6%ab%e0%a6%bf%e0%a6%ab%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%b8%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%af%e0%a6%bc-%e0%a6%ab%e0%a6%bf%e0%a6%b2%e0%a6%bf%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%bf/

Thursday, December 1, 2022

আফটার স্কুল মাকতাব : প্রাথমিক ধর্মশিক্ষায় নতুন প্রয়াস

রাকিবুল হাসান নাঈম:

২৬ নভেম্বরের আলোঝলমল সকাল। সবাই অবাক হয়ে দেখছে, দশম শ্রেণিতে অধ্যায়নরত এক স্কুলছাত্রের মাথায় পুরো কুরআন হিফজের স্বীকৃতিস্বরূপ পরানো হয়েছে পাগড়ি। হাতে তুলে দেয়া হয়েছে সনদ এবং ওমরার প্রতীকী টিকেট। আজকের অনুষ্ঠানের সৌন্দর্যই এটা৷ কেবল মাকতাবে পড়েও যে হাফেজ হওয়া যায়, তারই দৃষ্টান্ত ইউশা আমিন। কিশোরগঞ্জের দারুল আরকাম ইনস্টিটিউটের আফটার স্কুল মাকতাব শাখা সম্পন্ন করে হেফজ শাখায় পড়ে ইউশা ইয়ামিনের মতো হাফেজ হবার পথে এগুচ্ছে আরও অনেক স্কুল ছাত্র।

স্কুল-কিন্ডারগার্ডেন কিংবা কোচিংয়ে পড়ার কারণে অনেকেই সকালবেলার মাকতাবে যেতে পারে না। নিতে পারে না ধর্মীয় শিক্ষার প্রথম পাঠ। পড়ে উঠতে পারে না কুরআন। স্কুল-কিন্ডারগার্ডেন কিংবা কোচিংয়ের টাইম-শিডিউলে সকালবেলার মাকতাব হারাচ্ছে গুরুত্ব। তাই মাকতাবের ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় শিক্ষায় শিশুদের শিক্ষিত করে তুলতে শুরু হয়েছে আফটার স্কুল মাকতাব। স্কুল ছুটির পর বিকেলে বা সন্ধায় এই মাকতাবে পড়তে পারে শিক্ষার্থীরা।

আফটার স্কুল মাকতাব শাখা সম্পন্ন করে হাফেজ হবার পথে এগুচ্ছে ছাত্ররা। কর্তৃপক্ষের দেয়া তথ্যমতে, ২০ পারা হিফজ করেছেন একজন। ১৫ পারা হিফজ করেছেন একজন৷ পাঁচপারার উপর হিফজ করেছেন ১১ জন। ফজিলতের সূরা, যেমন সূরা ইয়াসিন, ওয়াকেয়া, আর-রহমান, দুখান, কাহাফ ইত্যাদি সূরা হিফজ করেছেন ৩৯জন। ২৬ নভেম্বরের অনুষ্ঠানে কুরআন সবক গ্রহণ করেন আরও ১৫২ জন ছাত্র। চলতি বছর এই মাকতাবের অধীনে কুরআন খতম করেন ৭০ জন শিক্ষার্থী। এছাড়াও গাইবান্ধার একটি স্কুলে এই মাকতাবের কারিকুলামে কুরআনের সবক নিয়েছেন ৩৫০ জন শিক্ষার্থী।

আফটার স্কুল মাকতাব: তিন ধাপ

বিলুপ্ত হতে থাকা সকালবেলার মাকতাবশিক্ষা রক্ষা করতেই ২০০৯ সালে শুরু হয় আফটার স্কুল মাকতাব। স্কুলশিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে তৈরী হয় সিলেবাস। প্রচলিত মাকতাবশিক্ষাকে সাজানো হয় যুগোপযোগী করে। স্কুল শেষ হবার পর বিভিন্ন ব্যাচে শিক্ষার্থীদের পড়ানো হয়। এই মাকতাব কার্যক্রমের তিনটি ধাপ।

এক. আফটার স্কুল মাকতাব: নার্সারি থেকে ৫ম শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা এই ধাপে পড়েন। এখানে কায়দা এবং কুরআনের পাশাপাশি দ্বীনের বুনিয়াদি বিষয়গুলো পড়ানো হয়।

দুই. আফটার স্কুল হিফজ: ৫ম শ্রেণি থেকে ১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা এখানে পড়ে। যারা মকতব শেষ করতে পারে, তাদেরকেই মূলত এখানে সুযোগ দেয়া হয়।

তিন. আফটার স্কুল শরিয়া কোর্স: এটি ১০ম শ্রেণির উপরের শিক্ষার্থীদের জন্য। এখানে মূলত পড়ানো হবে শরিয়তে মৌলিক বিষয়গুলো। প্রচলিত মাসআলা, আরবি ল্যাঙুয়েজ, যেন একটি ছেলে অন্তত কুরআন তরজমা করতে পারে। এ শাখাটি এখনও শুরু হয়নি। আগামী বছর শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছেন কর্তৃপক্ষ।

আফটার স্কুল মাকতাব সিলেবাস

সকাল বেলার মাকতাবগুলো কোনো নিয়মের অধীনে পরিচালিত হতো না। ছিলো না কোনো সিলেবাসও। যুগের প্রেক্ষিতে তাই আফটার স্কুল মাকতাব নিয়ে এসেছে পরিকল্পিত সিলেবাস। এতে মোট ৮টি বিষয় পড়ানো হয়।

১. কায়দা-কুরআন: হরফ থেকে শুরু করে বিশুদ্ধভাবে কুরআন খতম। সূরা দুহা থেকে নাস পর্যন্ত ২৩টি সূরা মুখস্থকরণ। এছাড়াও বিশেষ ফজিলতের সূরাগুলো মুখস্থকরণ।

২. মাসনুন দোয়া: ৪০টি মাসনুন দোআ এবং বিভিন্ন কর্মের সুন্নত শিক্ষাদান। পাশাপাশি ফজিলতপূর্ণ আমলগুলোও পাঠদান।

৩. আকাইদ: ইসলামের মৌলিক আকিদাগুলো পাঠদান। পাশাপাশি আল্লাহ তায়ালার ৯৯ নাম মুখস্থকরণ।

৪. নামাজশিক্ষা: ওয়াক্তিয়া নামাজ থেকে শুরু করে জুমা, ঈদ, সালাতুল হাজত, জানাজা ইত্যাদি নামাজ শিক্ষা।

৫. ফিকহ: তাহারাত ও সালাতের ফিকহি বিধানগুলো পাঠদান। পাশাপাশি হজ, যাকাত, রোজারও সংক্ষিপ্ত পরিচয়দান।

৬. হাদিস: সামাজিকতা, লেনদেন, ঈমান ও ইবাদত সম্পর্কিত ৪০ হাদিস মুখস্থকরণ।

৭. সিরাতুন্নবি: প্রশ্নোত্তরে রাসুলের সিরাত পাঠ।

৮. ইসলামি ইতিহাস: ১০০টি প্রশ্নোত্তরে ইসলামি ইতিহাসের বিশেষ পাঠদান।

অভিভাবকদের আগ্রহ বাড়ছে

আফটার স্কুল মাকতাব নিয়ে কথা হয় প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠিতা পরিচালক মাওলানা আবদুল কাইয়ুমের সঙ্গে। ফাতেহকে তিনি জানান, তাদের মাকতাব কারিকুলামে ইতোমধ্যেই ৮০০ জন প্রশিক্ষক প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। ২৫টি জেলায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে প্রায় ২৫০টি শাখা। শাখা খোলা হয় ভাড়া বাসায়। কোথাও কোথাও মসজিদেও খোলা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘অভিভাবকদের আগ্রহ বাড়ছে। তারা এসে যখন সিলেবাস দেখেন, কেউ ফিরে যান না। স্কুল শেষে মাত্র একঘণ্টায় নিয়মিত পড়ে তাদের সন্তানরা দ্বীনের মৌলিক বিষয়গুলো জানতে পারবে, এতেই তাদের ভরসা। সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার সন্তানরাও এই মাকতাবে পড়ছে। কিন্তু কথা হলো, প্রথমেই সবাই এসে মাকতাবে সন্তান দিয়ে যাবে না। তাদেরকে বুঝাতে হবে। বুঝাতে পারলে অবশ্যই সন্তানকে মাকতাবে দিবে।’

তিনি বলেন, ‘দেশের বড় বড় আলেমগণ আমাদের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন। তাদের দোয়া, নির্দেশনা ও পরামর্শ নিয়েই চলছি। তবে যদি মসজিদে মসজিদে এই মাকতাব চালু করা যেতো, তাহলে প্রসারটা আরও বেশি হতো। কারণ, মসজিদে পরিবেশ তৈরীই থাকে। নতুন জায়গায় মাকতাব খুলতে গেলে বাসা ভাড়া নিতে হয়, সরঞ্জাম কিনতে হয়, শিক্ষক নিয়োগ দিতে হয়। কিন্তু মসজিদে ত ইমাম থাকেনই৷ তিনিই শিক্ষক হতে পারেন। তাই যদি দেশের তিন লক্ষ মসজিদে আফটার স্কুল মাকতাব চালু করা হয়, তাহলে ৫ কোটি স্কুলশিক্ষার্থী উপকৃত হতে পারবে।’

আফটার স্কুল মাকতাব যুগান্তকারী পদক্ষেপ

এ প্রসঙ্গে কথা হয় আলেম লেখক ও অধ্যাপক সাইফ সিরাজের সঙ্গে। ফাতেহকে তিনি বলেন, উপমহাদেশে যখন সাবাহী মক্তবগুলো পরিকল্পিতভাবে বন্ধ করা হচ্ছে আর দেয়া হচ্ছে আধুনিক পড়াশোনার দোহাই, তখন আফটার স্কুল মুনাজ্জাম মাকতাব উম্মতের জন্য এক পশলা শান্ত বৃষ্টির পরশের মতো। জীবনের জন্য অক্সিজেন যেমন, উম্মতের জন্য, উম্মতের শিশুদের জন্য এই মক্তব আন্দোলন তেমনই। এর কারিকুলাম দেখে মনে হয়েছে, একজন মুমিনের ফরজি ইলমের জন্য এই কারিকুলাম একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ।’

সাইফ সিরাজের পর্যবেক্ষণ মতে, সাধারণ জনগণের জন্য দারুল আরকামের এই আফটার স্কুল মুনাজ্জাম মাকতাব খুবই জরুরী। সারা দেশে এই আন্দোলন ছড়িয়ে দেওয়া উচিত।

কথা হয় লেখক ও অনুবাদক আব্দুল্লাহ আল ফারুকের সঙ্গে। ফাতেহকে তিনি বলেন, ‘ব্রিটিশ খেদাও আন্দোলনের প্রাণপুরুষ মাওলানা হুসাইন আহমদ মাদানির সাহেবজাদা মাওলানা আসআদ মাদানি আমার শিক্ষক ছিলেন। দারুল উলুম দেওবন্দে পড়াকালীন প্রতিদিন বিকেলে তার মজলিসে উপস্থিত হতাম। তিনি বলতেন, ‘উপমহাদেশে অনেক মাদরাসা তৈরি হয়েছে। তৈরি হচ্ছে দেশ সচেতন আলেম। এখন দরকার ইসলামি স্কুল তৈরি করা।’ আমরা চাইলেই এখন হাজার হাজার ইসলামি স্কুল তৈরি করতে পারব না। কিন্তু চাইলেই আফটার স্কুল মকতবের মাধ্যমে প্রচলিত স্কুলগুলোতে ধর্মীয় শিক্ষাটা দিতে পারি। তাতে আমাদের আগামী প্রজন্ম ধর্মহীনতার স্রোত থেকে রক্ষা পাবে।

The post আফটার স্কুল মাকতাব : প্রাথমিক ধর্মশিক্ষায় নতুন প্রয়াস appeared first on Fateh24.



source https://fateh24.com/%e0%a6%86%e0%a6%ab%e0%a6%9f%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%95%e0%a7%81%e0%a6%b2-%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%95%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%ac-%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%a5/