ফরহাদ খান নাঈম।।
কুরআন, হাদীস ও বিভিন্ন ইসলামী সাহিত্য অধ্যয়ন করে জানা যায়, জান্নাতের দরজা আটটি। এবং এই আটটি দরজার প্রত্যেকটিতে ভিন্ন ভিন্ন বৈশিষ্ট্যের লোকেরা প্রবেশ করবে।
কোনো কোনো আলেম বলেন, জান্নাতের এই আটটি দরজা থাকবে একটি মূল ফটকের অভ্যন্তরে। প্রথমে জান্নাতী লোকেরা জান্নাতের মূল ফটক দিয়ে প্রবেশ করবে; অতঃপর তাদের নিজ নিজ বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী নির্দিষ্ট দরজা দিয়ে জান্নাতের ভেতরে প্রবেশ করবে। মূল ফটক দিয়ে প্রবেশ করার আগ পর্যন্ত জান্নাতের আটটি দরজা গোচরীভূত হবে না।
পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহ’য় জান্নাতের ব্যাপারে অনেক আলোচনা এসেছে। কুরআনে কারীমে বর্ণিত হয়েছে-
আর মুত্তাকীদেরকে দলে দলে জান্নাতের দিকে নিয়ে যাওয়া হবে। যাওয়ার সাথে সাথে তাদের জন্য জান্নাতের দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হবে। এবং জান্নাতের রক্ষী ফেরেশতা তাদেরকে অভিবাদন জানিয়ে বলবে, তোমাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক, নিশ্চয়ই তোমরা সৎকর্ম করেছো। সুতরাং তোমরা (জান্নাতে) প্রবেশ করো এবং অনন্তকাল ধরে এখানে বসবাস করো।” আল কুরআন ৩৯:৭৩
জান্নাতের ব্যাপারে বহু হাদীস পাওয়া যায়।
উবাদাহ রা. থেকে বর্ণিত রাসুলুল্লাহ সা. বলেছেন, যে ব্যক্তি স্বাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ ছাড়া আর কোনো ইলাহ নেই, তাঁর কোনো শরীক নেই, এবং মুহাম্মদ সা. তাঁর বান্দা ও রাসূল, এবং ঈসা আ. তাঁর বান্দা ও রাসূল, এবং মরিয়ম আ. কে তাঁর দেওয়া পবিত্র আদেশ, এবং তাঁর সৃষ্টি করা পবিত্র রূহ; এবং যে স্বাক্ষ্য দেয় যে, জান্নাত সত্য, জাহান্নাম সত্য, আল্লাহ তা’য়ালা তাকে তার ইচ্ছামতো যেকোনো দরজা দিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।
আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত রাসুলুল্লাহ সা. বলেন, যারা সময়মতো সালাত আদায় করতো, তাদেরকে সালাতের দরজা থেকে আহ্বান করা হবে; যারা জিহাদ করেছে, তাদেরকে জিহাদের দরজা থেকে আহ্বান করা হবে; যারা নিয়মিত রোজা রাখতো, তাদেরকে রাইয়ান নামক দরজা থেকে আহ্বান করা হবে; আর যারা সাদাকা করতো, তাদেরকে সাদাকার দরজা থেকে আহ্বান করা হবে।
জান্নাতের দরজাসমূহ
১. বাবুস সালাত (باب الصلاة)
যারা নিয়মিত খুশু-খুযুর সাথে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করতো, তারা জান্নাতের এই দরজা দিয়ে প্রবেশ করবে।
২. বাবুল জিহাদ (باب الجهاد)
যারা ইসলামের স্বার্থে নিজেদের জীবন বিলিয়ে দিয়েছে, তারা জান্নাতের এই দরজা দিয়ে প্রবেশ করবে। তবে স্মরণ রাখতে হবে যে, পবিত্র কুরআনে মুসলিমদেরকে যেকোনো সমস্যা প্রাথমিকভাবে সমঝোতার মাধ্যমে সমাধান করতে বলা হয়েছে।
৩. বাবুস সাদাকা (باب الصدقة)
যারা আল্লাহ তা’য়ালার রাস্তায় বেশি বেশি দান করতো, তারা জান্নাতের এই দরজা দিয়ে প্রবেশ করবে।
৪. বাবুর রাইয়ান (باب الريان)
যারা নিয়মিত রোজা রাখতো, তারা জান্নাতের এই দরজা দিয়ে প্রবেশ করবে।
৫. বাবুল হাজ্ব (باب الحج)
যেসব মুসলমান জীবনে অন্তত একবার হজ্ব পালন করেছে, তারা জান্নাতের এই দরজা দিয়ে প্রবেশ করবে।
৬. বাবুল কাজিমীনাল গাইজ ওয়াল আফীনা আনিন নাস (باب الكاظمين الغيظ والعافين عن الناس)
যারা পৃথিবীতে তাদের রাগ নিয়ন্ত্রণ করে ও মানুষকে ক্ষমা করে দেয়, তারা জান্নাতের এই দরজা দিয়ে প্রবেশ করবে।
৭. বাবুল ইমান (باب الإيمان)
জান্নাতের এই দরজাটি ঈমানদারদের জন্য নির্ধারিত। যারা আন্তরিকভাবে আল্লাহ তা’য়ালাকে বিশ্বাস করতো এবং যারা তাদের সারাটি জীবন আল্লাহ তা’য়ালার আদেশ অনুযায়ী পরিচালনা করেছে, তারা জান্নাতের এই দরজা দিয়ে প্রবেশ করবে।
৮. বাবুজ জিকর (باب الذكر)
যারা সর্বদা জিকিরের মাধ্যমে আল্লাহ তা’য়ালাকে স্মরণ করতো, তারা জান্নাতের এই দরজা দিয়ে প্রবেশ করবে।
জান্নাত মানেই হলো প্রতিটি মু’মিনের কাঙ্ক্ষিত গন্তব্য। তবে এই গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য পৃথিবীতে কিছু কাজ করে যেতে হবে। ইসলামের সকল বিধিনিষেধ পালন করে কুরআন-সুন্নাহ অনুযায়ী নিজেদের জীবন গঠন করলেই কেবল জান্নাতের পথ সুগম হবে।
-এ
The post জান্নাতের আটটি দরজার বিবরণ appeared first on Fateh24.
source https://fateh24.com/%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%a4%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%86%e0%a6%9f%e0%a6%9f%e0%a6%bf-%e0%a6%a6%e0%a6%b0%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%ac/
No comments:
Post a Comment