মুজাহিদুল ইসলাম :
ইতিহাস অতীত-জ্ঞানের বাহন। উত্থান-পতনের কথা খুব সহজেই বলে দেয়া যায়। তবে সহজে বলে দেয়া কথার ভেতরের ব্যাপ্তি ও বিশালতা পরিমাপ করা অনেক কঠিন। অবশ্য উত্থানের চেয়ে পতনেই জাতিগত বৈশিষ্ট্য বিশেষভাবে ধরা পড়ে। এই লেখায় আমরা মুসলিম সভ্যতায় পতনের অন্ধকারতম দিক নিয়ে আলোচনা করবো। যুগে যুগে গাদ্দাররা কীভাবে তাদের জন্মভূমী বিক্রি করেছে, তার বিনিময় মূল্য ও পরিণতি তুলে ধরার চেষ্টা করবো।
ক্রসেডারদের পদতলে
তুরস্কের উরফা
প্রায় দুইশত বছর ক্রসেড যুদ্ধ বিশ্বকে ব্যস্ত রেখেছে। বায়তুল মুকাদ্দাসে খ্রিস্টবাদের পতাকা উড্ডয়নের জন্য বিশ্বের তাবৎ খ্রিস্টান সবকিছু উজাড় করেছে। তবে লড়াইয়ে মুসলিম জাতির ভীরু, দুর্বল চিত্ত ও স্বভাবজাত গাদ্দারদের ভূমিকাও ক্রসেডারদের থেকে কোন অংশে কম ছিল না। তাদের গাদ্দারির কারণে কোথাও হয়তো ইসলামী ভূমি হাতছাড়া হয়েছে, কোথাও নামেমাত্র হাতে থেকেছে।
প্রাচ্যে খ্রিস্টানদের দখলকৃত প্রথম রাজ্য বর্তমান তুরস্কের ‘উরফা’। খ্রিস্ট জগতকে দখলদারিত্বের এই প্রথম স্বাদ এনে দেয় রাজা প্রথম বল্ডউইন । নতুন করে আরো দখলদারিত্বের নেশা তার চোখেমুখে। পাশেই বর্তমান তুরস্কের দক্ষিণাঞ্চল সুমেইট । বল্ডউইন যুদ্ধ করে সুমেইট জয় করেননি; বরং স্থানীয় শাসকের সাথে অর্থনৈতিক লেনদেনের মাধ্যমে সুমেইট দখল করেন। (আল-মুখতাসার ফি তারিখিল ইসলাম, ইবনু আবিদ্দাম আল হামাবী)
সময়টি হিজরী ৪৯০। রাজা প্রথম বল্ডউইন যখন সুমেইট অবরোধ করেন, তার হাতে তৎকালীন সেলজুক শহরের শাসক বোলডাকের একটি পত্র আসে। পত্রে বোলডাক প্রথম বল্ডউইনের নিকট দশ হাজার স্বর্ণ মুদ্রা (বর্তমান প্রায় ১.৭ মিলিয়ন ডলার) এর বিনিময়ে সুমেইট তুলে দেয়ার প্রস্তাব দেন। প্রথম বল্ডউইন দেরী না করে প্রস্তাবটিকে লুফে নেন। এভাবেই নামমাত্র মূল্যে জন্মভূমি দুশমনের হাতে তুলে দেয় বোলডাক। (মাওকিফুল আরমান মিনাল হুরুবিস সালিবিয়্যাহ)
শামের আনতাকিয়া
একই বছর শামের উপকূলবর্তী তৎকালীন সবচে বড় শহর আনতাকিয়াও ঘরের গাদ্দারির কারণে হাতছাড়া হয়। সেলযুক আমীর ‘বাগীসিয়ান’ মালিকশাহ উপাধি ধারণ করে আনতাকিয়া শাসন করছিলেন। ৪৯১ হিজরীতে প্রথম ক্রসেডযুদ্ধে ক্রসেডযোদ্ধারা নয় মাস ধরে অবরুদ্ধ করে রাখে আনতাকিয়া। বাগীসিয়ান শহরের প্রধান পর্যবেক্ষণ টাওয়ার রক্ষায় এক আর্মেনীয় মুসলিমকে দায়িত্ব দেয়।
খ্রিস্টানরা শহরের প্রধান ফটকের এই দায়িত্বশীল ব্যক্তির সাথে যোগাযোগ করে। ফটকের দায়িত্বশীল আর্মেনীয় ব্যক্তি ছিল নওমুসলিম। তাকে প্রচুর অর্থ ও জায়গীর দেয়ার প্রস্তাব করে খ্রিস্টানরা। সেও অর্থের বিনিময়ে দুশমনের হাতে জন্মভূমি তুলে দিতে সম্মত হয়। পূর্ব-পরিকল্পনা অনুসারে ক্রসেডার যোদ্ধারা শহরের মূল ফটকে হামলা করে। গাদ্দার ফটকের জানালা খুলে দেয়। এভাবে ঘুষ গ্রহণের মাধ্যমে বিশ্বাস ভঙ্গ করে খ্রিস্টানদের হাতে আনতাকিয়া তুলে দেয় এই আর্মেনীয়। (আল-কামিল, ইবনুল আছীর)
বায়তুল মুকাদ্দাস
নিজ পূর্বপুরুষ কর্তৃক উদ্ধারকৃত ভূমি দুশমনের হাতে প্রতিরোধ ছাড়াই তুলে দেওয়া বাপদাদার সাথে চরম বেয়াদবি ; বরং এটা রীতিমতো আত্মমর্যাদার প্রশ্ন। আর তা যদি হয় বায়তুল মুকাদ্দাসের মতো মসজিদের সাথে, তো এর ক্ষত নিশ্চয়ই অসহনীয়। বছরের পর বছর পরিকল্পনার মাধ্যমে সুলতান সালাহউদ্দিন আইয়ূবী ৫৮৩হিজরীতে বায়তুল মুকাদ্দাস উদ্ধার করেন। উড্ডীন করেন কালিমাখচিত পতাকা। কিন্তু তারই উত্তরসূরী আপন ভাতিজা ৬২৬ হিজরীতে ক্রসেডারদের হাতে সামান্য পদের লোভে ছেড়ে দেয় বায়তুল মুকাদ্দাস।
তখন চলছে সপ্তম ক্রসেড অভিযান। বাইতুল মুকাদ্দাসের পাহাদার সালাহউদ্দিন আইয়ূবীর ভ্রাতুষ্পুত্র সুলতান মুহাম্মাদ বিন আদিল। বিন আদিল বিন্দুমাত্র প্রতিরোধ ছাড়াই জার্মান সম্রাট দ্বিতীয় ফ্রেডরিকের নিকট বায়তুল মুকাদ্দাস হস্তান্তর করেন। বিনিময়ে ফিলিস্তিনের নাবলুস ও খলিলে স্বাধীনভাবে রাজ্য পরিচালনার অধিকার নেন। (ইবনুল আছীর)
এভাবে বায়তুল মুকাদ্দাস দশ বছরের বেশী সময় ক্রসেডারদের হাতে থাকে। পরবর্তী সুলতান নাসিরউদ্দিন দাউদ ইবনুল মুআযযাম ৬৩৭ হিজরীতে বায়তুল মুকাদ্দাস উদ্ধার করেন। কিন্তু একই বছর তিনি আপন চাচাতো ভাই মিসরের সুলতান সালিহ আইয়ূবকে পরাভূত করতে ক্রসেডারদের সাথে লিয়োজো করেন। লিয়াজোর অংশ হিসেবে ফিরিঙ্গি সৈন্যবাহিনীর হাতে বায়তুল মুকাদ্দাস তুলে দেন খোদ সুলতান নাসিরুদ্দিন। (কানযুয দুরার ওয়া জামিউল গুরার)
পরবর্তী ৬৪২ হিজরীতে মিসরের সুলতান সালিহ আইয়ূব গাজার যুদ্ধে আইয়ূবী ও ক্রসেডারের যৌথ বাহিনীকে পরাজিত করেন। সবচে লজ্জাজনক বিষয় হলো, বায়তুল মুকাদ্দাসের তৎকালীন শাসক ক্রসেড বাহিনীর পতাকাতলে থেকে মুসলিমদের বিরুদ্ধে লড়াই করছিল। (সিবত ইবনুল জাওযী)
বাগদাদের পতন
আব্বাসী সাম্রাজ্য পাঁচশত বছরের অধিক ইতিহাসে বারবার গাদ্দারির শিকার হয়েছে। তবে এই সাম্রাজ্যের পায়ের তলা থেকে মাটি খুড়ে ফেলার ক্ষেত্রে সবচে বেশী অবদান রেখেছেন একসময়ের প্রধানমন্ত্রী ইবনুল আলকামী। আব্বাসী সাম্রাজ্যের পতনের জন্য তাতারদের সহযোগিতা করেছেন তিনি। যখন হালাকু খান চারদিকে একের পর এক অঞ্চল তছনছ করে সামনে অগ্রসর হচ্ছিল। ইবনু আলকামীর পক্ষ থেকে একটি পত্র হালাকু খানের হস্তগত হয়।হালাকু খান ব্যবসায়ীর পোশাক পরে বাগদাদের মন্ত্রী ও সাম্রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সাথে শলা-পরামর্শ করেন। প্রস্ততি নিয়ে ৬৫৬ হিজরীতে বিশাল সৈন্যবাহিনী নিয়ে মোঙ্গলীয় নেতা হালাকু খান বাগদাদের উত্তরে ছাউনি ফেলেন। দেরী না করে পরিকল্পনা অনুযায়ী ইবনুল আলকামী হালাকুর সাথে দেখা করে নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন।
হালাকু খানের কাছ থেকে ফিরে এসে প্রধানমন্ত্রী আলকামী খলিফাকে জানায়, মঙ্গোল নেতা আপনার ছেলের সাথে তার মেয়েকে বিবাহ দেওয়ার প্রস্তাব নিয়ে এসেছেন। উপর্যুপরি অনুরোধের প্রেক্ষিতে খলিফা মুসতা’সিম হালাকু খানের নিকট যান। সম্মানের সাথে তাকে একটি তাবুতে বসতে দেয়া হয়। ধীরে ধীরে সাম্রাজ্যের বিভিন্ন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত হন। তাদেরকেও খলিফার তাবুতে রাখা হয়। পরিকল্পনা অনুসারে প্রথমে খলিফা ব্যতিত সকলকে হত্যা করা হয়। পরবর্তীতে খলিফার সহায়-সম্পত্তির ঠিকানা জেনে খলিফাকে নির্মমভাবে হত্যা করে হালাকু খান। মোঙ্গলদের ইরাক দখল এবং আব্বাসি খলিফা মুতাসিম বিল্লাহর হত্যার মধ্য দিয়ে সোয়া পাঁচ শতাব্দী ধরে চলমান আব্বাসীয় সাম্রাজ্যের পতন ঘটে। এবং ইবনুল আলকামী বাগদাদে হালাকুর শাসক হিসেবে নির্বাচিত হয়। (আল ওয়াফী বিল ওফায়াত)
সমকালীন ঐতিহাসিক ইবনু আইবেক আস সাফাদী বলেন, ইবনুল আলকামী কিন্তু তার গাদ্দারির নির্মম বদলা পেয়েছিল। ইবনুল আলকামী একদিন তার প্রাসাদে বসা ছিল। জনৈক প্রতাপহীন তাতার তার ঘোড়া নিয়ে আলকামীর বিছানার নিকট চলে আসে এবং ঘোড়া ইবনুল আলকামির বিছানার ওপর প্রসাব করে। তদুপরি কোন প্রতিবাদ ছাড়াই ইবনুল আলকামী সব সহ্য করে।
দিমাশকের পতন
পারস্য ও ইরাককে তছনছ করার পর মামলুক শাসনাধীন শাম ও অন্যান্য অঞ্চল ধ্বংসের অভিপ্রায়ে ছুটে চলে হালাকু-বাহিনী। সময়টি ৬৫৭ হিজরী। তৎকালীন দিমাশকের শাসক ছিলেন সালাহউদ্দিন আইয়ূবীর পৌত্র দ্বিতীয় নাসির। কিন্তু সালাহউদ্দিনের সাহসিকতার লেশমাত্র পায়নি সে; বরং ছিল ভীরুতার প্রতিমূর্তি। হালাকু দিমাশকের আইয়ূবী শাসককে চরমপত্র পাঠায়। চরমপত্রের ভাষ্য, ‘মালিক নাসিরের জানা আছে, আমরা বাগদাদে ৬৫৬ হিজরীতে গিয়েছি ও আল্লাহর দেয়া তরবারী দ্বারা বাগদাদ জয় করেছি। বাগদাদের খলিফাকে আমাদের নিকট উপস্থিত করেছি। আপনাদের জন্য অতীতের ঘটনাতে উদাহরণ আছে।’
অন্যদিকে মালিক নাসিরের ভীরুতার চেয়ে মন্ত্রী যায়নুদ্দিনের বিশ্বাসঘাতকতাই ছিল দিমাশক পতনের মূল নিয়ামক। মন্ত্রী খলিফাকে মোঙ্গলদের বিপুল সামরিক শক্তির কথা বলে বলে মোকাবেলায় মানসিকভাবে অক্ষম করে ফেলে। ইতিমধ্যে যায়নুদ্দিন ও হালাকুর মধ্যে পত্রালাপ চলতে থাকে।
মঙ্গোলরা যখন দিমাশকের নিকটবর্তী হয়, বাদশাহ নাসির পালিয়ে প্রথমে মিসর, তারপর জর্ডানে চলে যান। কাফেলার এক সঙ্গীর বিশ্বাসঘাতকতায় হালাকু খান নাসিরের সন্ধান পায় এবং হঠাৎ আক্রমন করে। বাদশাহ’র অধিকাংশ সাথী বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরবর্তীতে তিনি এক সহযোগীর মাধ্যমে মঙ্গোলদের নিকট নিরাপত্তা পান এবং তাদের সাথে মিলিত হন। এভাবেই তাদের অনুগত হয়ে চলতে থাকেন। কিন্তু আইনে জালুতের যুদ্ধে মঙ্গোলদের পরাজয় হলে হালাকু খানই বাদশাহ নাসিরকে হত্যা করে। (আখবারুল আইয়ূবীন)
বিশ্বাসঘাতক যায়নুদ্দিনও তার পরিণাম ভোগ করে। মিসরের মামলুকদের সাথে যোগাযোগের অভিযোগে খোদ হালাকু খান তাকে সন্দেহ করে। একের পর এক বিভিন্ন রাজ্যের সাথে যোগাযোগে যায়নুদ্দিনের বিশ্বাসঘাতকায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে হালাকু। ৬৬২ হিজরীতে হালাকু খান যায়নুদ্দিনের সন্তান-সন্তাদি ও আত্মীয়-স্বজনসহ প্রায় পঞ্চাশ জনকে হত্যা করে। (আল ওয়াফী বিল ওফায়াত)
আন্দালুস
আন্দালুসের ক্ষমতায় তখন উমাইয়া আমির হাকাম বিন হিশাম। ভাতিজার এই উত্থান সহ্য করতে না পেরে দুই চাচা সুলায়মান ও আব্দুল্লাহ ফ্রান্সের রাজা শার্ল দি গ্রেটের সাথে মিত্রতা তৈরী করে। সাহায্যের জন্য কর্ডোভা থেকে ফ্রান্সে যান। তখনকার এই দূর্গম পথের দূরত্ব ছিল ২১০০ কিলোমিটার। সম্রাট শার্ল দি গ্রেটের সাথে দেখা করে ভাইয়ের ছেলের বিরুদ্ধে সহযোগিতা কামনা করেন তারা। সম্রাট এটাকে সুবর্ণ সুযোগ হিসেবে কাজে লাগালেন। সম্রাট তার পুত্রের নেতৃত্বে একটি সেনাবাহিনী পাঠালেও তেমন কিছু করতে পারেননি। কিন্তু উমাইয়াদের ভেতরের দ্বন্দ্বের সুযোগে সম্রাট শার্ল ১৮৫ হিজরীতে বার্সেলোনা দখল করে নেয়। (দাওলাতুল ইসলাম ফিল উন্দুলুস)
বনী উমাইয়াদের পরবর্তী আঞ্চলিক রাজারাও তাদের সহযাত্রীদের থেকে বিশ্বাসঘাতকতার শিকার হয়েছেন। বরং আঞ্চলিক রাজারা তো খ্রিস্টান ক্যাস্টাইল ও লিওন সম্রাটদের আনুগত্য গ্রহণে এবং তাদের সহযোগিতায় কে কার আগে যেতে পারে, সেই প্রতিযোগিতা করতো।
ইবনু হাযম রহ. তৎকালীন মেরুদন্ডহীন শাসকদের বিষয়ে বলেন, ষষ্ঠ আলফনসু বিনা যুদ্ধেই আন্দালুসের বহু অঞ্চল দখল করে নেয়। বরং টলেডোর শাসক আমির কাদিরের (মৃত্যু:২৮৫) বিষয়ে হল্যান্ডের প্রাচ্যবিদ রেইনহাট ডৌজি বলেন, ক্যাস্টাইলের সম্রাট টলেডোর আমির কাদিরকে তার আনুগত্য স্বীকার ও সীমান্তে কিছু এলাকা হস্তান্তর করতে বলে। কাদির তা হস্তান্তর করেই শুধু ক্ষ্যান্ত হয়নি। বরং টলেডোর পতনে নিজেই ভূমিকা রেখেছে।
আহমাদ আত-তিলমিসানী বলেন, যখন ক্যাস্টাইলের সৈন্যবাহিনী ভ্যালেন্সিয়ায় প্রবেশ করে ,ক্যাস্টাইলের বাহিনী কাদিরকে ভ্যালেন্সিয়ার আমির নিয়োগ করে। জনগণ কাদিরের বিশ্বাসঘাতকতা বুঝতে পারলেও তাদের কোন কিছু করার ছিল না। কিন্তু যখন ক্যাস্টাইলেদের ওপর ’মুরাবিত’ রাজবংশ জালিকার যুদ্ধে জয়লাভ করে, জালিকা-বিপ্লবের নেতা কাদিরকে হত্যা করেন এবং কাদিরের কর্তিত মাথা লাঠির মাথায় লটকিয়ে শহরের অলিগলিতে ঘোরাতে থাকে। (দাওলাতুল ইসলাম ফিল উন্দুলুস)
ক্ষমতার জন্য ধর্মত্যাগ
আন্দালুস বিভিন্ন রাজ্যে বিভক্ত হয়ে যাওয়ার পর মুরাবিত রাজবংশও সেখানে শাসন পরিচালনা করে। কিন্তু ক্ষমতার দ্বন্দ্বে প্রতিপক্ষকে শায়েস্তা করার জন্য কোন শাসক ধর্মত্যাগ করবেন, এমন ঘটনার নজীরও আছে এখানে।
৬২০ হিজরীতে আন্দালুসে সুলতান আব্দুল ওয়াহাব ক্ষমতায় আসেন। কিন্তু জিয়ানের গভর্ণর আব্দুল্লাহ এক সময় বিদ্রোহ করে বসে। নিজের চাচাত ভাই সুলতান আব্দুল ওয়াহাবের বিরুদ্ধে ক্যাস্টাইলের খ্রিস্টান সম্রাট নিকট সহযোগিতা প্রার্থনা করে।মুহাম্মাদ আনান বলেন, খ্রিস্টানদের সহযোগিতার অর্থই জন্মভূমিকে কেটে কেটে পঙ্গু করে দেয়া। জিয়ানের গভর্ণর এর ব্যাতিক্রম নয়।(দাওলাতুল ইসলাম ফিল উন্দুলুস)
শুধু এতটুকুই নয়, নিজের উচ্চাকাংখা বাস্তবায়নে বৃদ্ধ বয়সে খ্রিস্টান ধর্ম গ্রহন করে আব্দুল্লাহ। কিন্তু পরাজিত হয়ে যখন সে কর্ডোভায় ফিরে আসে, তার পরিবারই তাকে হত্যা করে এবং কর্তিত মাথা সেভিলে পাঠিয়ে দেয়া হয়।(আল বায়ানুল মুগরিব)
এমনকি তার ভাই আবু যায়েদ, যিনি ছিলেন ভ্যালেন্সিয়ার গভর্ণর, সে আবু যায়েদ প্রতিপক্ষকে শায়েস্তা করতে নিজের রাজ্য হস্তান্তর করেন। সাথে খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করেন। ইবনু খালুদন বলেন, ‘এই আবু যায়েদ তার ইসলামী নাম ছুড়ে ফেলে San Vicente গ্রহণ করে। খ্রিস্ট ধর্মের বিভিন্ন ডকুমেন্টে ভ্যালেন্সিয়ার রাজা আমিরুল মুমিনীনের পৌত্র Vicente বলে উল্লেখ করা হতো। (আর-রাওদুল মি’তার)
এগুলো প্রাচীন ইতিহাসের অংশ; যেখানে রাজা-বাদশাহ’ তাদের জাতির সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। দেশ-জাতির স্বার্থের পাশাপাশি ব্যক্তি স্বার্থে দুশমনের সাথে বিভিন্ন মিত্রতা তৈরী করেছে। তবে অধিকাংশের অভিন্ন পরিণতি ছিল লজ্জাজনক ও ভয়ানক। ইতিহাসের পাতায় তাদের নামের সাথে অভিশাপের অভিধা এঁটে আছে।
The post ক্ষমতার জন্য দেশ বিক্রি : মুসলিম শাসকদের গাদ্দারির সিলসিলা appeared first on Fateh24.
source https://fateh24.com/%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%b7%e0%a6%ae%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%9c%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%af-%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b6-%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%bf-%e0%a6%ae/
No comments:
Post a Comment