Friday, June 11, 2021

হুনাইনের তরবারি

রাকিবুল হাসান:

সরদার মালেক বিন আওফ তার ঘরে পায়চারি করছেন। অস্থির পায়চারি। কপালে গভীর চিন্তার ভাঁজ। অনেকক্ষণ হলো কোন কথা বলছেন না। কামরার এপাশ-ওপাশ করছেন। তার গোলাম দেওয়ান একটি পেয়ালা হাতে দাঁড়িয়ে আছে দরজার পাশ ঘেঁষে। পেয়ালায় সিরকা এবং রুটি।
‘হুজুর, নাস্তা এনেছি।’
মালেক বিন আওফ চোখ বড় করে তাকালেন। দেওয়ান ভয়ে আঁৎকে উঠল। কোন কথা না বলে নিঃশব্দে দাঁড়িয়ে রইল। অনেক্ষণ পর মালেক বিন আওফ ডাকলেন, ‘দেওয়ান!’
‘জি হুজুর।’
‘নাস্তা খাব না। নিয়ে যা।’
‘হুজুরের কি খারাপ লাগছে?’
‘হু।’
‘মাথাটা টিপে দিব, পা-টা দাবায় দিব?’
‘দরকার নেই।’
‘হুজুর মুহতারামাকে ডাকব?’
সর্দার হেসে ফেললেন। এজন্যই এই গোলামটিকে তার ভালো লাগে। চরম দুঃখের মুহূর্তে এমন কথা বলে যে, না হেসে থাকা যায় না।
‘দেওয়ান, এখন আনন্দের সময় না।’
কাঁচুমাচু করে দেওয়ান বললো, ‘আপনাকে বিমর্ষ দেখেই বুঝতে পারছি।’
‘মুহাম্মদ মক্কা বিজয় করে ফেলেছে। এখন আমাদের ওপর বিজয় লাভ করতে চাইবে। চোখের সামনে অনেক রক্ত দেখতে পাচ্ছি।’
‘মহা মসিবত হুজুর, মহা মসিবত।’
‘সেটাই ভাবছি।’
একগ্লাস পানি এগিয়ে দিয়ে দেওয়ান বলল, ‘পানিটা খান।’
এক চুমুকে পানি শেষ করে সর্দার বললেন, ‘দেওয়ান!’
‘নাখান্দা হাজির।’
‘বনু নসর এবং বনু হসরকে ডেকে আন। জরুরী পরামর্শ।’
দেওয়ান ছুটল বনু সাকিফ ও হাওয়াজিনের এই দুই গোত্রপ্রধানের কাছে।

একটি বন্ধ ঘরে তিনজন চিন্তাপুরুষ বসে আছেন। সর্দার মালেক বিন আওফ, বনু সাকিফ প্রধান আবু নসর এবং বনু হাওয়াজিন প্রধান আবু হসর। মাথা নীচু করে সবাই ভাবছেন।
সর্দার বললেন,‘আপনারা কী ভাবছেন?’
আবু নসর বললেন, মুহাম্মদ কি এখন আমাদের উপত্যকায় পা ফেলবে?’
গাঢ় স্বরে আওফ বললেন,‘আলবৎ ফেলবে। দলবলসহ ফেলবে।’
আবু হসর বললেন,‘মক্কার লোকেরা যুদ্ধে পারদর্শী নয়, তাই মুহাম্মদ জয় করে ফেলতে পেরেছে। এখন ভাববে সহজে আমাদের জয় করে ফেলবে।’
আবু নসর এবার হেসে উঠলেন, ‘তীরন্দাজিতে কে আমাদের সঙ্গে পেরে উঠবে শুনি। বুক ছিন্নভিন্ন করে দেব না!’
সর্দার বিড়বিড় করে বললেন, ‘পারবে না ওরা পারবে না।’
সভায় সিদ্ধান্ত হলো, মুহাম্মদ যদি আগে আমাদের ওপর আক্রমণ করে তাহলে এটা আমাদের অসম্মান হবে। তাই আমরাই আগে আক্রমণ করব। নিজ নিজ গোত্রকে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত করে তুলতে হবে।
সর্দার বললেন,‘কয়দিন লাগবে প্রস্তুত করতে?’
‘দুই দিন।’
‘আচ্ছা, তিনদিন সময় দিলাম।’

শ্রদ্ধেয় সর্দার,
আমরা এই যুদ্ধযাত্রায় আপনাদের সঙ্গী হতে পারব না। এটা আমাদের অপারগতা। মুহাম্মদ আল্লাহর নবি। আতীতের সব যুদ্ধে তিনি জয়লাভ করেছেন। তিনি অস্ত্র তূণীরের বলে লড়েন না। তিনি লড়েন ঐশি বলে। সুতরাং তিনি যেখানেই যাবেন, জয় লাভ করবেন। এটাই ধ্রুব সত্য।
ইতি
বনু কা’ব ও বনু কিলাব।

হুনাইনের দুটি গোত্র বনু কা’ব ও বনু কিলাব এই যুদ্ধে অংশগ্রহণ করবে না বলে চিঠি দিয়েছে। এই চিঠি হাতে পেয়ে সর্দার মালেক বিন আওফ রাগে গজগজ করছেন৷ এসব নিয়ে মাথা ঘামানোর একদম সময় নেই হাতে। দ্রুত আক্রমণ শানাতে হবে। তাই বিরল এক ঘোষণা দিলেন তিনি। সবাই যেন নিজ পরিবার-পরিজন, ধন-সম্পদ এবং নিজের জন্তু-জানোয়ার নিয়ে যুদ্ধযাত্রা করে। পরে যেন কেউ এসবের মায়ায় যুদ্ধক্ষেত্রে থেকে ফিরে না আসে।

যুদ্ধযাত্রা শুরু হলো। এমন যুদ্ধযাত্রা ইতিহাসের এই প্রথম। চার হাজার সশস্ত্র, তূণীর সজ্জিত যোদ্ধা এবং পরিবার-পরিজনসহ চব্বিজ হাজার। অসংখ্য জন্তু জানোয়ারও শামিল। এক লোকালয় ছুটছে টাটকা লাল রক্তের নেশায়। সিপাহসালার মালেক বিন আওফ।

যুরাইতও চলেছেন এই কাফেলায়। তিনি নিজ ইচ্ছেতে আসেননি; দৃষ্টিশক্তি নেই তার। তবে জ্ঞানের গরিমা আছে। তাই কল্যানের প্রতীক মনে করে তাকে সঙ্গে নেয়া হয়েছে। তিনি জানতেন না বস্তি উজাড় করে সবাই চলছে যুদ্ধযাত্রায়। নারী-শিশুর কোলাহল শুনতে পেয়ে তিনি জিজ্ঞেস করলেন, ‘এখানে কী হয়েছে?’
খাদেম বিনীত হয়ে বললো, ‘নারী-শিশুর কোলাহল হুজুর!’
কপাল কুঞ্চিত হলো যুরাইতের, ‘মানে?’
খাদেম বললো, ‘সর্দারের আদেশে সব যোদ্ধা তাদের পরিবার-পরিজন, জন্তু- জানোয়ার এবং সহায়-সম্পত্তি নিয়ে এসেছে। যেন কেউ এদের মায়ায় যুদ্ধক্ষেত্র ছেড়ে না পালিয়ে যায়।’
দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে যুরাইত বললেন, ‘হায়! মালেক বিরাট ভুল করে ফেলেছে।’

এই কল্যান মানবের কথা বাতাসের ডানায় ভর করে ছড়িয়ে পড়ে পুরো লটবহরে। সবার বিশ্বাস এবং সাহস নড়বড়ে হতে শুরু করে। মালেক বিন আওফ সবাইকে লক্ষ্য করে বললেন, ‘যুরাইত বৃদ্ধ হয়ে গেছে। সঠিক বিষয় বুঝতে পারছে না। তোমরা যদি আমার কথা না মানো, আমি আত্মহত্যা করবো।’ অমনি জনতার ধ্বনি উঠল, ‘আমরা আপনাকেই মানব।’ এবার মালেক হাত দিয়ে ইশারা করে বললেন, ‘তাহলে সাহসের সঙ্গে কদম ফেলো।’

৪.

হুনাইন থেকে উড়তে উড়তে দশ মাইল দূরে মক্কায় এসে পৌঁছল এই যুদ্ধযাত্রার খবর। অবস্থা পর্যবেক্ষণের জন্য আবদ বিন হাদরাদকে রাসূল সা. হুনাইন পাঠালেন। উড়ো খবরে বিশ্বাস করা ঠিক না। আবদ কয়েকদিন শত্রুশিবির পর্যবেক্ষণ করে মক্কায় এসে রাসূল সা. এর কাছে আদ্যোপান্ত জানালেন। বিবরণ শুনে রাসূল সা. এক লহমায় সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললেন, এখন আমাদেরও যুদ্ধযাত্রা করতে হবে।

রাসূল সা. আব্বাদ বিন উসাইদকে বানালেন মক্কার গভর্নর। মুআয ইবনে জাবালকে বানালেন কোরআনের শিক্ষক। যেখানে শিক্ষা নেই, সেখানে আলো নেই। ইসলামি হুকুমত আলোহীন আঁধারে তলিয়ে যেতে পারে না। যুদ্ধ, ঝড় যাই হোক, শিক্ষা চালু রাখতেই হবে। একদল ময়দানে যুদ্ধ করবে, আরেকদল শিক্ষার আলোয় পৃথিবী আলোকিত করবে।

রাসূল সা. সাফওয়ান বিন উমাইয়া থেকে ধার নিলেন একশ লৌহবর্ম। নওফল থেকে নিলেন তিন হাজার তীর। অষ্টম হিজরির শাওয়াল মাসের ছয় তারিখ শনিবার; হুজুর সা. যুদ্ধযাত্রা করলেন। সঙ্গে ১২ হাজার সাহাবি; এদের মধ্যে মক্কা বিজয়ী সাহাবি ১০ হাজার, মক্কা ও তার আশপাশ থেকে এসেছে দুই হাজার। এদের সিপাহসালার পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ সমরনায়ক হযরত মুহাম্মদ সা.।

৫.

মালেক বিন আওফ সমুখযুদ্ধে না গিয়ে অবলম্বন করলেন কৌশল। সাহাবীরা হুনাইন প্রান্তরে এখনো পৌঁছেননি। তিনি চাচ্ছেন, সাহাবীরা ময়দানে পৌঁছে এক মুহূর্তও যেন দাঁড়াতে না পারে। পাহাড়ের গুহায় গুহায় সেট করে রাখলেন সৈন্য। এতটাই নিঃশব্দে, মুসলমানরা টেরই পায়নি।

১২ হাজার মুসলিম সৈন্য এসে ঢুকলো হুনাইন প্রান্তরে। সবাই সফরক্লান্ত, অবসাদগ্রস্ত। দাঁড়াবার সময়টুকু পেলো না। বর্মগুলো যেমন ছিল, তেমনি রইলো। তীরগুলো রইলো তূণীরেই। প্রান্তরে পা রাখতেই আচমকা চারদিক থেকে আসতে লাগলো তীরবৃষ্টি। কিছু বুঝে উঠবার আগেই সাহাবীরা ছুটতে থাকেন, ছুটতে থাকেন। কিন্তু মাটির ওপর অবিচল দাঁড়িয়ে থাকেন সিপাহসালার হযরত মুহাম্মদ সা.। তাঁর ডানে আব্বাস রা. এবং বামে আবু সুফিয়ান। তারা সিপাহসালারের উটের লাগাম ধরে আছেন।

শাইবা বিন উসমান ঘুরঘুর করছিলো রাসূল সা.-এর পাশে। সে মাঠ ছাড়েনি। মক্কার এই নওজওয়ান নওমুসলিম সারা পথ রাসূল সা. এর উটের পাশেই উট হাঁকিয়েছে। মতলব খারাপ। বদরে তার পিতাকে হত্যা করেছে হামযা রা.। তার চাচাকে হত্যা করেছে আলী রা.। শোক এখনো নেভেনি। ছাইচাপা আগুনের মতো বুকের ভেতর জ্বলছে। সে প্রতিজ্ঞা নিয়েছিলো, যেমন করেই হোক প্রতিশোধ নেবে। এমনকি রাসূল সা.কেও হত্যা করবে। ওঁৎ পেতে ছিলো পুরো পথ, সুযোগ পায়নি।

এখন ডানে আব্বাস রা. এবং বামে আবু সুফিয়ান রা.। তাই ডানে বামে আক্রমণ সম্ভব না। পেছন থেকে একটু একটু করে এগুচ্ছিলো শাইবা। হাতে চকচক করছে ধারালো তরবারি। উপরের মেঘগুলো থমকে গিয়েছিলো এই সময়। উড়ন্ত পাখিরা কমিয়ে দিয়েছিল তাদের গতি। হঠাৎ স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল বাতাস। উপত্যকার সমস্ত বালুকণা যেন চিৎকার করে উঠছিল, শাইবা, ফিরে যা!

প্রতিশোধের নেশায় বধির শাইবা কিছুই শুনতে পায় না। চোখে রঙিন মোটা পর্দা, অন্তরে শক্ত মহর। দেহসত্তায় আলো প্রবেশের কপাট-অর্গল ভেজানো। এগুতে থাকে শাইবা, এগুতে থাকে। তরবারি উঁচিয়ে যখন কোপ বসাবার দৃঢ় সংকল্পে স্থির, ঠিক তখুনি রাসূল সা. ঘুরে দাঁড়ালেন। দুই হাত বাড়িয়ে ডাকলেন অতলস্পর্শী মমতায়-আয়, কাছে আয় শাইবা!

শাইবা এগিয়ে এলো। রাসূল সা. তার বুকে হাত রাখলেন। যেই হাতের পরশে এই পৃথিবী আলোকিত হয়েছে। রক্ত নেশায় উন্মত্ত জাতি পরিণত হয়েছে ভ্রাতৃত্ব ও মমতায় শ্রেষ্ঠ জাতিতে। শাইবার চোখের পর্দা সরে গেলো পলকেই। খুলে গেলো বুকের অর্গল। আলো আর আলো গলগল করে ঢুকে পড়লো তার দেহসত্তায়। সমর্পিত করে তুললো তাকে এই আলো। তাঁর ভাষায়-রাসূল সা. যখন আমার বুকে হাত রাখলেন, কী জানি হলো। আমার কেবল মনে হলো, রাসূল সা. আমার সবচে প্রিয় ব্যক্তি। তাঁর জন্য প্রাণ দিতে পারি, রক্ত দিতে পারি।

আলোয় ডোবা শাইবার হাত ধরে রাসূল সা. বললেন, যাও। যুদ্ধ করো। শাইবা যুদ্ধে নেমে পড়লেন।

৬.

রাসূল সা. আব্বাস রা. কে বললেন, সবাইকে মাঠে আসতে আবার ডাক দাও। কিংবদন্তি আছে, আব্বাস রা. হাঁক ছাড়লে ৮ মাইল দ‚র পর্যন্ত স্পষ্ট শোনা যেত। আজ হাঁক ছাড়লেন প্রাণ-শক্তিতে। মনে হলো দিগন্ত বিদীর্ণ হয়ে যাবে।

ছুটতে থাকা সাহাবিরা থমকে দাঁড়ালেন। ঘুরে দাঁড়ালেন। ১২ হাজার সৈন্য ঢেউ তুলে আবার আছড়ে পড়লেন রণাঙ্গণে। বিজয়ের মহাসমুদ্রের দিকে এবার গর্জন তুলে এগিয়ে যাবার প্রত্যয়। রাসূল সা. একমুষ্টি মাটি নিক্ষেপ করলে আওফ বিন মালেকের দর্পভরা সৈন্য শিবিরের দিকে। কুদরতের হাওয়ায় একেকটি বালুকণা একেকটি সৈন্যের চোখে পড়ে জ্বালা ধরিয়ে দেয়। তীর তূণীর ফেলে এবার তারা চোখ ঢলতে লাগলো।

১২ হাজার সাহাবি ক্ষুধার্ত শার্দূলের ন্যায় একসঙ্গে ঝাঁপিয়ে পড়লেন। যুগ যুগান্তের দর্প মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিলেন। ঘুরে দাঁড়াবার এই বিক্রম বিজয়টা হবে বলেই। হুনাইন বিজয় হলো। ৭০ জন কাফের নিহত, বন্দী অনেক। ছয় হাজার মহিলা, ২৪ হাজার উট, ৪০ হাজার বকরি এবং চার হাজার উকইয়া গনিমতের মাল হিসেবে হস্তগত হলো।

মক্কা বিজয়ের পর হুনাইন বিজয়। এবার তায়েফের দিকে মুখ ফেরালেন বিশ্বনবি হযরত মুহাম্মদ সা.। তায়েফের একটি দুর্গ অবরোধ করলেন। হুনাইন থেকে পালিয়ে আসা কিছু সৈন্য এই দুর্গে আশ্রয় নিয়েছে। কিন্তু বিশ বাইশ দিন অবরোধ করে রাখার পরও ভেতর থেকে কোন সাড়া এলো না। অবরোধ তুলে রাসূল সা. জি’ররানা নামক স্থানে এসে ইহরাম বাঁধলেন। তারপর মক্কায় এসে ওমরা করে আবার রাতেই ফিরে গেলেন জি’ররানায়।

৭.

হুনাইনের একদল প্রতিনিধি রাসূল সা. এর সামনে বসে আছে। আগুন নেভা ছাইয়ের মতো বিষণ্ণ। একখণ্ড কালো মেঘ তাদের মুখ আঁধার করে রেখেছে।

রাসূল সা. বললেন, ‘কী জন্য আসা?’
‘হুজুর! ক্ষমা করে দেন!’
‘ক্ষমা করে দিয়েছি। এতদিন তোমাদের অপেক্ষায় ছিলাম, তোমরা আসোনি।’
‘বন্দী এবং ধন সম্পত্তি যদি ফিরিয়ে দিতেন!’
‘বললাম তো এতদিন অপেক্ষা করে সব বন্টন করে দিয়েছি। এখন যেকোনো একটা চাইতে পারো।’
‘তাহলে বন্দীদের দিয়ে দেন।’

জোহর নামাজের পর হুজুর সা. সাহাবিদের সামনে সংক্ষিপ্ত বয়ান রাখলেন। বললেন, বন্দীদের ফিরিয়ে দাও। বন্দীদের ফিরিয়ে দিয়ে হুজুর সা. বললেন, ‘তোমাদের সর্দার মালেক বিন আওফ কই?’
‘দুর্গে।’
‘তাকে খবর দাও। আসতে বলো। তার আসাটা আবশ্যক।’

কাঁপতে কাঁপতে মালেক বিন আওফ এসে হাজির হলেন। মাথা নীচু। হুজুর সা. বললেন, মাথা তুলো। একটা ভরসা ভরা দৃষ্টিতে চোখ তুলে তাকালেন মালেক বিন আওফ। তার সামনে দাঁড়িয়ে বিজয়ী সিপাহসালার। চাইলে তাকে কতল করে দিতে পারেন। কিন্তু তিনি রহমতের নবি, কতল করবেন না—এইটুকু ভরসা তার আছে।

রাসূল সা. বললেন, সব বন্দীদের বিনা শর্তে মুক্তি দিয়েছি। ধন সম্পদ দেইনি। তবে শুধু তোমার ধন সম্পদ ফিরিয়ে দিচ্ছি। সাহাবিরা আওফের ধন-সম্পদ এবং জন্তু-জনোয়াগুলো তার সামনে এনে রাখলেন। রহমতের নবির কণ্ঠে তখন উচ্চারিত হলো, এই নাও তোমার পুরষ্কার।

মালেক বিন আওফ ঠিক থাকতে পারলেন না। তার চোখের পাতা ফেটে নামলো আশ্রুর ধারা। এই অশ্রুর ধারায় ভেসে গেলো জীবনের সব কালিমা। মুহূর্তে যেন উধাও হয়ে গেলো সব দুঃখ গ্লানি। দুঃখের প্রতীক বলে মানুষ চোখের জল পছন্দ করে না। কিন্তু দুঃখগুলো ভাসিয়ে দেবার জন্য এই চোখের জলই সর্বশ্রেষ্ঠ মেডিসিন। মানুষ কান্না করে আসলে চোখের জলে দুঃখগুলো ভাসিয়ে দেবার জন্য। আর কিছুই না।

 

The post হুনাইনের তরবারি appeared first on Fateh24.



source https://fateh24.com/%e0%a6%b9%e0%a7%81%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%87%e0%a6%a8%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%a4%e0%a6%b0%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%bf/

No comments:

Post a Comment