Monday, April 13, 2020

রমজান সম্পর্কে আমাদের যা জানা প্রয়োজন

ফরহাদ খান নাঈম

যখন রমজান মাস শুরু হয়, তখন বেহেশতের দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হয় আর দোজখের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেওয়া হয়। এবং পুরো মাস জুড়েই শয়তানকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করে রাখা হয়। (বুখারী ও মুসলিম)

ফরজ রোজার ক্ষেত্রে ফজরের পূর্বেই নিয়ত করে নিতে হয়। তবে উচ্চারণ করে নিয়ত করা জরুরি নয়। বরঞ্চ অন্তরে সংকল্প করে মনে মনে নিয়ত করাকেই উৎসাহিত করা হয়েছে।(বুখারী ও আবু দাউদ)

শুধুমাত্র উপোস করার নামই রোজা নয়। সকল অশ্লীল ও অনর্থক কথাবার্তা থেকে বিরত থাকাও রোজার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। এমনকি কেউ যদি গালিও দেয়, তারপরও রোজাদারদের প্রতিবাদ করা উচিত নয়। বরং প্রত্যুত্তরে সে বলবে, আমি রোজাদার। (মুসলিম)

সাহরি আল্লাহ তা’য়ালার পক্ষ থেকে একটি বিশেষ বরকতপূর্ণ খাবার। এক ঢোক পানি দিয়ে হলেও প্রত্যেক মুসলমানের উচিত সাহরি গ্রহণ করা। (বুখারী ও আহমাদ)

নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে থেকে সাহরিতে কিছুটা বিলম্ব করা ও সূর্য অস্তমিত হবার সাথে সাথেই দ্রুত ইফতার শুরু করা সুন্নাত। (বুখারী ও মুসলিম)

সাহরি খেতে খেতে নির্ধারিত সময় শেষ হয়ে এলেও খাওয়া বন্ধ করে খাবার রেখে না দিয়ে বরং তাড়াতাড়ি করে খাওয়া শেষ করে নেওয়া উত্তম।
(আবু দাউদ)

যে রোজা রেখেও মিথ্যাচার এবং কুকর্ম থেকে বিরত থাকলো না, তাহলে শুধুমাত্র তার পানাহার থেকে বিরত থাকা আল্লাহ তা’য়ালার কাছে মূল্যহীন। (বুখারী)

রাসুলুল্লাহ সা. মাগরিবের নামাজের পূর্বে তিনটি তাজা খেজুর দ্বারা ইফতার শুরু করতেন। তাজা খেজুর পাওয়া না গেলে তিনটি শুকনো খেজুর দ্বারা, তাও না পাওয়া গেলে তিন ঢোক পানি পান করে‌। (আবু দাউদ)

কেউ যদি কোনো রোজাদারকে ইফতার করায়, তাহলে সেও ওই ব্যক্তির সমান সওয়াব পাবে তার সওয়াবের পরিমাণ অক্ষুণ্ন রেখেই। (তিরমিযী)

প্রচণ্ড গরমে সূর্যের তাপ থেকে উপশম পেতে কিংবা তৃষ্ণা নিবারণের জন্য রোজাদার কর্তৃক মাথায় পানি ঢালা অথবা গোসল করার অনুমতি আছে। (আবু দাউদ)

রোজা অবস্থায় কেউ যদি ভুল করে কিছু খেয়ে ফেলে কিংবা পান করে‌ ফেলে, তাহলে সে রোজা না ভেঙে তা সম্পন্ন করবে। কেননা তাকে আল্লাহ তা’য়ালাই পানাহার করিয়েছেন। (বুখারী ও মুসলিম)

নর-নারী, যুবক-বৃদ্ধ, স্বাধীন-দাস নির্বিশেষে সকল মুসলমানের উপর যাকাতুল ফিতর আদায় করা আবশ্যক। এবং এই যাকাতুল ফিতর ঈদগাহে যাওয়ার পূর্বেই আদায় করে দিতে হবে। (বুখারী ও মুসলিম)

রাসুলুল্লাহ সা. বেজোড় সংখ্যক খেজুর না খেয়ে কখনোই ঈদগাহে (ঈদুল ফিতরের ক্ষেত্রে) যেতেন না। (বুখারী)

ঈদের দিন আমাদের উচিত সর্বোত্তম পোশাক পরিধান করা। তবে নতুন পোশাক পরিধান করা জরুরি নয়। এবং তাকবির দিতে দিতে ঈদগাহে যাওয়া এবং ঈদগাহ থেকে ফিরে আসা উচিত। (বুখারী)

রাসুলুল্লাহ সা. যেই পথে ঈদগাহে যেতেন, ফিরে আসার সময় অন্য পথে ফিরে আসতেন। (বুখারী)

যে ব্যক্তি রমজানের সবগুলো রোজা রাখলো এবং শাওয়াল মাসে ছয়টি রোজা রাখলো, আল্লাহ তা’য়ালা তাকে সারা বছর রোজা রাখার সওয়াব দান করবেন। (মুসলিম)

রমজান মুসলমানের জন্য পবিত্রতম একটি মাস। তাই সকলের উচিত এই মাসের যথাযথ সম্মান বজায় রেখে সিয়াম সাধনায় মগ্ন হওয়া।

muslim_marriage অবলম্বনে ফরহাদ খান নাঈমের ভাষান্তর।

-এ

The post রমজান সম্পর্কে আমাদের যা জানা প্রয়োজন appeared first on Fateh24.



source https://fateh24.com/%e0%a6%b0%e0%a6%ae%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%a8-%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%95%e0%a7%87-%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%af%e0%a6%be/

No comments:

Post a Comment