Friday, August 21, 2020

মামলুকী যুগে মাদরাসা ব্যবস্থা

আবু সাঈদ:

মামলুক শাসনামলকে মধ্যযুগের মাদরাসা ব্যবস্থার সোনালী যুগ বলা হয়। মামলুক শাসকগণ আইয়ুবী শাসকবৃন্দ থেকে মাদরাসার প্রতি আন্তরিকতার পাঠ গ্রহণ করেছিলেন। ফলে তাদের মাদরাসা ব্যবস্থার প্রভূত উন্নতি সাধিত হয়েছিল। মাদরাসা প্রতিষ্ঠাকে তখন মানুষ আভিজাত্যের প্রতীক মনে করতো। প্রতিযোগিতার সাথে মানুষ তখন মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করতো। এজন্য প্রতিটি জনপদে গড়ে উঠেছিল বিভিন্ন মাদরাসা প্রতিষ্ঠান। এদিকে ইঙ্গিত করেই বিশ্ববিখ্যাত পর্যটক ইবনে বতুতা রাহমাতুল্লাহি আলাইহি লিখেছিলেন, মিশরে এত অধিক মাদরাসা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যে, গণনা করে শেষ করা যাবে না। ইবনে খালদুনের ইতিহাস গ্রন্থেও বিষয়টি স্থান পেয়েছে। ইবনে খালদুন লিখেছেন, মামলুক শাসকগণ ইলমের প্রস্রবণ অব্যাহত রাখার জন্য মাদরাসা প্রতিষ্ঠার প্রতি খুবই যত্নবান ছিলেন। তারা অবশ্য এর পাঠ পূর্ববর্তী শাসকগণ থেকেই গ্রহণ করেছিলেন। মাদরাসার জন্য তারা নিজেরাই ভবন নির্মাণ করে দিতেন। ছাত্রদের ব্যয়ভার বহন করার জন্য জমি ওয়াকফ করে রাখতেন। তাদের অনুসরণে সমাজের সম্পদশালী লোকজনও এ জাতীয় পরিকল্পনা গ্রহণ করতে উদ্যোগী হতো।

মাদরাসা প্রতিষ্ঠাকে তখন মানুষ খুবই গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতো। সদকায়ে জারিয়ার আশায় এখানে কেবল নিজের হালাল ও সন্দেহমুক্ত মাল‌ই ব্যয় করতো। এ কাজে যারা শ্রম দিতো, তাদের প্রতিও যথেষ্ট দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতো। তাদের শ্রমের যথাযথ মূল্যায়ন করতো। যথাসময়ে প্রাপ্য চুকিয়ে দিতো। সুলতান রুকনুদ্দিন বাইবার্স রহমতুল্লাহি আলাইহি যখন নিজ অর্থে ক্রয় করা ভূমিতে ‘ওয়াকফে সুলতান রুকনুদ্দিন বাইবার্স’ নির্মাণ করেছিলেন, সেখানকার দায়িত্বশীলকে লিখে পাঠিয়েছিলেন, এখানে পারিশ্রমিক ছাড়া যেন কোনো শ্রমিক ব্যবহৃত না হয়। যাদের শ্রম ব্যয় হচ্ছে তাদের শ্রমমূল্যে যেন কোন কমতি না হয়। এ ধরনের সর্বোচ্চ সর্তকতা অবলম্বনের কারণেই তখনকার অনেক প্রতিষ্ঠান আজও স্বমহিমায় দাঁড়িয়ে আছে।

মামলুকী যুগের মাদরাসা ভবন

তখনকার মাদরাসাগুলো অবশ্য এখনকার মত ছিল না। অনেক কিছুই ভিন্ন রকম ছিল। শিক্ষা ভবনগুলো ছিল আলাদা। ইতিহাসে তৎকালীন তিন ধরনের শিক্ষাভবনের উল্লেখ পাওয়া যায়।

এক. কিছু শিক্ষাভবনের চারপাশে চারটি ভবন হয়ে মাঝে আঙ্গিনা থাকতো। কোথাও আঙিনার উপর ছাদ দেওয়া হতো। কোথাও অবমুক্ত‌ই রাখা হতো।

দুই. একই ভবনের চারপাশে চারটি কক্ষ রেখে মাঝে বড় ধরনের বারান্দা নিয়ে কিছু শিক্ষা ভবন তৈরি হতো। চতুর্পার্শ্বের কক্ষগুলোর উপর ছাদ হলেও বারান্দার উপর হতো গম্বুজ। কক্ষগুলোতে আলো বাতাস প্রবেশের জন্য বিভিন্ন জানালা থাকতো।

তিন. দু-তিনটি কক্ষ নিয়েই কোন কোন মাদ্রাসার শিক্ষাভবন নির্মিত হতো। অবশ্য এ শ্রেণীর মাদ্রাসাই বেশি ছিল।

মাদরাসার ভূমি ব্যবস্থাপনা

মাদরাসার ভূমিগুলো সাধারণত ওয়াকফের ভূমিই হতো। ওয়াকফ মানে জমির মালিকানা ধরে রেখে তা থেকে উপকৃত হওয়ার সুযোগ করে দেওয়া। সুলতানগণ সাধারণত মাদরাসার ভূমির জন্য ভূমি ওয়াকফ করে দিতেন। তাদের অনুসরণে সমাজের ধনাঢ্য ব্যক্তিরাও বিভিন্ন ভূমি ওয়াকফ করতো। সাধারণ মানুষ‌জনও সাধ্যমত অংশগ্রহণে পিছপা হতো না। ফলে ওয়াকফের ভূমি থেকেই মাদরাসার ভূমির প্রয়োজন মিটে যেতো। ছাত্রদের ব্যয়ভার চুকে যেতো।

সুলতানদের পক্ষ থেকে ভূমি ওয়াকফের রীতি মামলুকদের আগেও ছিলো। আইয়ুবিরাও এভাবে বিভিন্ন ভূমি ওয়াকফ করতো। তারা অবশ্য ওয়াকফের উপার্জন রাজনৈতিক অবস্থানকে সুদৃঢ়করণ এবং ক্রুসেড যুদ্ধ এই দুই খাতে ব্যবহার করতো। তবে আইয়ুবী সালতানাতের প্রতিষ্ঠাতা সুলতান সালাহ উদ্দিন আইয়ুবি রহমতুল্লাহি আলাইহি ওয়াকফের উপার্জনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করেন। দ্বীনের প্রচার-প্রসারের লক্ষ্যে কিছু অর্থ মাদরাসার পেছনে ব্যয় করতেন। কিছু অর্থ মিশরকে শিয়া সংস্কৃতির প্রভাব বলয় থেকে বের করে আনার জন্য খরচ করতেন। সালাউদ্দিন আইয়ুবি ও আইয়ুবি পরিবারের অন্যদের মাদরাসা প্রতিষ্ঠার প্রতি বিশেষ মনোযোগ এর নিরব ও বলিষ্ঠ সাক্ষী।

আইয়্যুবিদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে মামলুকরাও ওয়াকফকৃত ভূমির উপার্জন ধর্মীয় বিভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতো। মামলুকদের ওয়াকফকৃত ভূমি মোটামুটি তিন ধরনের হতো। এক. কিছু ওয়াকফকৃত ভূমির উপার্জন মসজিদ-মাদরাসা-খানকা ইত্যাদির জন্য ব্যবহৃত হতো। এর দায়িত্ব দেওয়ান বিভাগের কিছু আমলাদের দেওয়া হতো। তবে এদের প্রধান থাকতেন সুলতান নিজেই। দুই. কিছু ওয়াকফকৃত ভূমির উপার্জন হারামাইনের খেদমত, গোলাম আজাদ ও দান-সদকা ইত্যাদির জন্য ব্যবহৃত হতো। এর দায়িত্ব‌ও সরকারি আমলাদের কাছে ন্যাস্ত থাকতো। তবে এর প্রধান হতেন সে সময়ের বিচারপতি প্রধান। তিন. কিছু ভূমি ব্যক্তি উদ্যোগে ওয়াকফ করা হতো। এর দায়িত্বে ব্যক্তির আত্মীয়-স্বজন‌ই থাকতো। অনেকে অবশ্য দায়িত্ব প্রশাসক বরাবর‌ও সোপর্দ করতো। এজাতীয় ওয়াকফকৃত ভূমির উপার্জন‌ও মাদরাসা মসজিদ খানকা ইত্যাদির কাজে ব্যবহৃত হতো।

সুলতানদের পক্ষ থেকে ওয়াকফের রীতি পূর্ব থেকেই ছিল। তবে মামলুকদের যুগে ওয়াকফের সিংহভাগ উপার্জন মাদরাসা খাতে ব্যয় হতো। এজন্য মামলুক শাসনামলে মাদরাসা ব্যবস্থায় ওয়াকফের ভূমিকা অনস্বীকার্য। ওয়াকফের বিষয়ে ফিকাহ শাস্ত্রে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এসব ওয়াকফকৃত ভূমির উপার্জন সে আলোকেই ব্যয় করা হতো।

মাদরাসার উদ্বোধনী আয়োজন

মাদরাসাগুলো যখন প্রথম উদ্বোধন হতো, বিরাট ভোজসভার আয়োজন করা হতো। গণ্যমান্য অনেককে তখন দাওয়াত দেওয়া হতো। সুলতান মুআইয়িদ শায়খ কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত মাদ্রাসায়ে মুআইয়িদিয়ার উদ্বোধন অনুষ্ঠান এখানে উল্লেখযোগ্য। সে অনুষ্ঠান সম্পর্কে বিশিষ্ট ঐতিহাসিক মাকরিজি বলেন, তখন বিরাট ভোজসভার আয়োজন করা হয়েছিল। বিভিন্ন সুস্বাদু খাবার ও সুপেয় পানিয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। সুলতানের জন্য যে বুনোহাঁস পরিবেশন করা হয়েছিল, তাকে চিনি গলা পানি দিয়ে উত্তমরূপে প্রস্তুত করা হয়েছিল। ভোজসভা শেষে সুলতানের সামনে কতক ফকিহকে পেশ করা হয়েছিল। তিনি তাদের মধ্য থেকে সাত জনকে সে মাদ্রাসায় নিয়োগ দিয়েছিলেন। প্রধান বিচারপতিকে সে মাদরাসার শাইখুল হানাফীয়্যাহ পদে নিয়োগ দিয়েছিলেন। সেসময়ের অন্যান্য মাদরাসাগুলোও এ ধরনের আড়ম্বরপূর্ণ পরিবেশের মধ্য দিয়ে উদ্বোধন হতো। মামলুকদের ইতিহাসে এর বহু নজির মিলবে।

মাদরাসার পাঠ্যক্রম

এসব মাদরাসার পাঠ্যক্রম কেবল উলুমের শরিয়াহ কেন্দ্রিক ছিল। তার সহযোগী হিসেবে নাহব, সরফ, লোগাহ ইত্যাদিও পড়ানো হতো। যেমন কেউ যদি তাফসির বিষয়ে অভিজ্ঞ হতে চায়, তাকে অবশ্যই আরবি ভাষায় পারদর্শিতা অর্জন করতে হবে। নাহব সরফ বুঝতে হবে। অন্যান্য বিষয়েও পারঙ্গম হতে হবে। এছাড়া তাফসীর বিষয়ে অভিজ্ঞ হওয়া সম্ভব নয়। সেজন্য তাফসীরের সহযোগী হিসেবে এগুলোও ছাত্রদের পড়তে হতো। উলুমে শরিয়ার অন্যান্য বিষয়গুলোর জন্য‌ও এসব সহযোগী বিষয়গুলোর সমান প্রয়োজন পড়তো। সেজন্য উলুমে শরিয়ার পাশাপাশি এ বিষয়গুলোও ছাত্রদের শেখানো হতো।

তখন উলুমে শরিয়ার বিভিন্ন বিষয়েও উচ্চতর পড়াশোনার‌ ব্যবস্থা ছিল। সুলতান বারকুক কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত মাদরাসায় সাতটি বিষয়ে উচ্চতর পড়াশোনার সুযোগ ছিল। সেখানে চার মাযহাবের ফিকহের উপর চারটি দরস হতো। তাফসীর কেরাত ও হাদিসের উপর তিনটি দরস হত। এভাবে সাতটি বিষয়ে ছাত্ররা উচ্চতর পড়াশোনার সুযোগ গ্রহণ করতে পারতো।

মসজিদে মুয়াইয়িদ শায়খে‌ও উচ্চতর পড়াশোনার ব্যবস্থা ছিল। এই মসজিদ তখন একাধারে মসজিদ-মাদরাসা ও খানকার প্রতিনিধিত্ব করতো। এখানেও চার মাযহাবের উপর পড়াশোনার ব্যবস্থা ছিল। তাফসীর ও ইলমে কেরাতেরও সুযোগ ছিল। হাদিসের পড়াশোনায় একটু ভিন্নতা ছিল। দুই রকম দরস হতো। একটি দরসে হাদিসের ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ ও মর্মবাণী উদঘাটন করা হতো। এর জন্য একজন নির্দিষ্ট উসতাদ থাকতো। এতে কেবল দশ জন ছাত্র অংশগ্রহণ করতে পারতো। অপর দরসে রেওয়ায়েতে হাদিস, সনদ ও রিজালের আলোচনা হতো। হাদিস মুখস্ত করানো হতো। এখানেও কেবল মাত্র দশজন ছাত্রের অংশগ্রহণের সুযোগ থাকতো।

পরবর্তীতে উলুম শরিয়ার পাশাপাশি আরো কিছু বিষয়ে উচ্চতর পড়াশোনার ব্যবস্থা হয়েছিলো। শাম ও মিশরের কিছু মাদরাসায় ধর্মীয় বিষয়াবলীর পাশাপাশি গণিত ভূগোল দর্শন জ্যোতির্বিজ্ঞান চিকিৎসা বিজ্ঞান ও মধ্যযুগীয় রসায়নের উচ্চতর পড়াশোনার ব্যবস্থা হয়েছিলো। এসব প্রতিষ্ঠানের জন্য অনেক অর্থ ব্যয় করতে হতো। সুলতান নাসির মুহাম্মদ কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত মাদরাসায়ে নাসিরিয়্যার মাসিক খরচ ছিল আশি হাজার দিরহামের চেয়েও বেশি।

উচ্চতর গবেষণা প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে বিশিষ্ট ঐতিহাসিক কালকাসান্দি সুবহুল আ’শা ফি সানা’আতিল ইনশা গ্রন্থে আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিবেশন করেছেন। তিনি লিখেছেন, সপ্তম অষ্টম ও নবম শতাব্দীর মাদরাসাগুলোতে প্রায় ৫০ টি বিষয়ের পাঠদান হতো। তখন ছাত্ররা ধর্মীয় বিষয়াদির পাশাপাশি ভাষাতত্ত্ব ও জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখার মৌলিক জ্ঞান‌ও অর্জন করে নিতো। দামেস্কেই উচ্চতর পড়াশোনার অনেকগুলো প্রতিষ্ঠান ছিলো। কোরআন বিষয়ে উচ্চতর পড়াশোনার জন্য সাতটি প্রতিষ্ঠান ছিলো। এর মধ্যে দারুল কুরআন আল জাযারিয়্যাহ ছিলো অন্যতম। এটা তৎকালের শ্রেষ্ঠ কোরআন বিশেষজ্ঞ শায়খ শামসুদ্দিন ইবনুল জাযারী রাহমাতুল্লাহি প্রতিষ্ঠা করেন। আজও এ প্রতিষ্ঠান অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে স্বমহিমায় দাঁড়িয়ে আছে।

হাদীস শাস্ত্রে ব্যুৎপত্তি অর্জনের জন্য সতেরোটি প্রতিষ্ঠান ছিল। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান ছিল দারুল হাদিস আন নুরিয়্যাহ। সুলতান নুরুদ্দীন মাহমুদ তা প্রতিষ্ঠা করেন। বিশিষ্ট হাদিস বিশারদ ইমাম ইবনে আসাকির রহমতুল্লাহি আলাইহি এ প্রতিষ্ঠানে দরস দিতেন। দারুল হাদিসিল আশরাফিয়াও অনেক প্রসিদ্ধ ছিল। সেখানে বিশিষ্ট হাদিস বিশারদ ইমাম মহিউদ্দিন নববী ও ইমাম তাজ উদ্দীন সুবকী রহমতুল্লাহি আলাইহ দরস প্রদান করতেন।

চার মাযহাবের উপর উচ্চতর পড়াশোনার জন্য‌ও আলাদা প্রতিষ্ঠান ছিল। দশম শতাব্দীর শুরুর দিকে ফিকহে শাফেয়ীর উপর উচ্চতর পড়াশোনার জন্য তেষট্টিটি মাদ্রাসা ছিল। এর মধ্যে আল আদেলিয়্যাহ আল-কুবরা, আল বাদিরায়িয়্যাহ, আশ শামিয়্যাহ আল বিরানিয়্যাহ ও আশ শামিয়্যাহ আল জাওনিয়্যাহ ছিল অন্যতম।

হানাফী ফিকহের ওপর উচ্চতর পড়াশোনার জন্য বায়ান্নটি মাদরাসা ছিল। এর মধ্যে আল মাদরাসাতুন নুরিয়্যাহ, আল মাদরাসাতুল জাওহারিয়্যাহ, আল মাদরাসাতুল খাতুনিয়্যাহ ছিল অন্যতম।

হাম্বলী ফিকহের উপর উচ্চতর পড়াশোনার জন্য মোট এগারটি মাদরাসা ছিল। তন্মধ্যে আল মাদরাসাতুল জুযিয়্যাহ, আল মাদরাসাতুস সাদরিয়্যাহ, আল মাদরাসাতুল উমারিয়্যাহ ছিল অন্যতম।

মালেকী মাযহাবের উপর উচ্চতর পড়াশোনার জন্য মাদরাসা ছিল মোট চারটি।

মাদরাসাগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ম-নীতি

এসব মাদরাসা থেকেই তখনকার বড় বড় ফকিহ কাজী মুহাদ্দিস মুফাসসির ক্বারি ওয়ায়েজ বা অন্যান্য বড় বড় ব্যক্তিত্ব তৈরি হতো। এসব প্রতিষ্ঠানগুলোতে ছাত্র-শিক্ষক সবার জন্য প্রাতিষ্ঠানিক বিভিন্ন নিয়ম নীতি ছিল। ছাত্র-শিক্ষক সবাইকেই যথা সময়ে মাদরাসায় উপস্থিত হতে হতো। সবাই যথাযথ সময়ে উপস্থিত হল কিনা, এ বিষয়ে তদারকির জন্য আলাদা দায়িত্বশীল ছিল। তাকে কাতিবুল গাইবাহ বলা হতো।

মাদ্রাসাগুলোর বিভিন্ন বিভাগ ছিল। ছাত্রদের ক্রমান্বয়ে তা পার হতে হতো। একটি শিশুকে প্রথমে কোরআন শিখতে হতো। পরে পর্যায়ক্রমে হাতের লেখা ও কোরআন-হাদিস মুখস্থের স্তর পার হতে হতো। এভাবে তার প্রথম স্তরের পড়াশোনা শেষ হতো। দ্বিতীয় স্তরে তাকে উলুমে শরিয়া ও তার আনুষঙ্গিক বিভিন্ন বিষয় শিখতে হতো। শেষ স্তরে গিয়ে নিজ পছন্দ অনুযায়ী উচ্চতর পড়াশোনা সমাপ্ত করতো।

মাদ্রাসাগুলোতে তখন আবাসিক-অনাবাসিক উভয় ব্যবস্থা ছিল। এতিম ও ইলমের প্রতি নিবেদিত প্রাণ ছাত্ররা আবাসিক‌ই থাকতো। তাদের জন্য আলাদা ছাত্রাবাসের‌ও ব্যবস্থা ছিল।

মামলুক শাসকদের আন্তরিকতায় প্রতিটি প্রতিষ্ঠান খুবই সাবলীলভাবে ছাত্রদের যাবতীয় ব্যবস্থা সুসম্পন্ন করতে পারতো। ফলে ছাত্ররা নিবিষ্টচিত্তে ইলম অর্জনে ব্যাপৃত থাকার সুযোগ পেতো। যুগ শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব রূপে আবির্ভূত হতে পারতো। এজন্য‌ই মামলুকদের যুগে অনেক বেশি বড় বড় আলেম তৈরি হয়েছিল। মামলুকদের সালতানাত তাই মাদরাসা ব্যবস্থার সোনালী যুগ ছিলো।

The post মামলুকী যুগে মাদরাসা ব্যবস্থা appeared first on Fateh24.



source https://fateh24.com/%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a6%b2%e0%a7%81%e0%a6%95%e0%a7%80-%e0%a6%af%e0%a7%81%e0%a6%97%e0%a7%87-%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a6%be-%e0%a6%ac%e0%a7%8d%e0%a6%af/

No comments:

Post a Comment