Wednesday, April 7, 2021

আলোর পথের রাহবার (ষষ্ঠ পর্ব)

[হযরত মাওলানা সাইয়িদ আবুল হাসান আলি নদবি (র)-এর জীবন ও কর্মের সংক্ষিপ্ত বিবরণ]

মূল : মুহাম্মাদ হাসান আনসারি
ভাষান্তর : মওলবি আশরাফ 

দৈনন্দিন জীবন 

রাতের শেষভাগে সুবহে সাদিকের আগে আল্লাহর শরণে উপস্থিত হতেন। ফজরের পর মাঠে হাঁটাহাঁটি করার অভ্যাস ছিল। মাঠ থেকে ফিরে এসে বিশ্রাম নিয়ে সাতটা থেকে আটটা পর্যন্ত এক ঘন্টায় নাস্তা ও মানুষের সাথে দেখা-সাক্ষাৎ সারতেন। এরপর চাশতের নামাজ ও কুরআন তেলাওয়াত করে সাড়ে বারোটা পর্যন্ত এক নিবেশে পড়াশোনা ও লেখালেখির কাজে নিজেকে নিয়োজিত রাখতেন। ওই সময় কোনোপ্রকারের ব্যাঘাত পছন্দ করতেন না। একবার খাদেমকে বলে রেখেছিলেন, ‘কেবল যদি শায়খুল হিন্দ (তৎকালীন ভারতের সর্বোচ্চ সম্মানিত আলেম) তশরিফ আনেন, তাহলে আমাকে খবর দিয়ো, অন্যথায় আমার মনোনিবেশে ব্যাঘাত কোরো না।’ মূলত ওই সময়টাতে যেকোনো কথা সমস্ত চিন্তাভাবনা এলোমেলো করে দিতে পারে— সেই জন্যেই এই কড়া নির্দেশনা ছিল। তবে চিঠি এলে তাৎক্ষণিক গ্রহণ করতেন।

জোহরের নামাজের পর আহারপর্ব সেরে কিছু সময়ের জন্য ঘুমাতেন। আসরের নামাজের পূর্বে কুরআন তেলাওয়াত করতেন, কখনো সাক্ষাৎপ্রত্যাশীদের সময় দিতেন। আসরের পর বাংলো ঘরে চা পান করে শ্রোতাদের নিয়ে তাঁর লিখিত কিতাব পাঠ শুনতেন। উদ্দেশ্য ছিল একই সাথে কোনো সংশোধনী খুঁজে বের করা এবং ভক্তবৃন্দকে তালিম দেওয়া। মাগরিবের পর ভেতরবাড়িতে সময় দিতেন। এশা নামাজের পর খাবার খেয়ে কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করে লোকজনের সাথে আলাপ-আলোচনায় বসতেন। এরপর রাত দশটার মধ্যে বিছানায় শুয়ে পড়তেন।

কোথাও সফরে যাওয়ার আগে অবশ্যই কবর জিয়ারত ও ভেতরবাড়িতে স্ত্রীকে প্রয়োজনীয় সময় দিয়ে যেতেন।

রমজান মাসে দৈনন্দিন জীবনযাপনে কিছুটা ভিন্নতা দেখা দিত। পুরোটা মাস নিজ গ্রাম তাকিয়াকেলাঁতে থাকতেন এবং কোনো সফরে যেতেন না।

প্রতিদিন দুপুর বারোটা থেকে চল্লিশ মিনিট মসজিদে কুরআনের তফসির করতেন। আসরের পূর্বে এক ঘন্টা কুরআন তেলাওয়াত করতেন অথবা কুরআনের ক্যাসেট শুনতেন। আসরের পর ‘খতমে খাজেগান’[১৪] পড়তেন। দুআ-জিকির সশব্দে করতেন। এরপর মসজিদেই ইফতার পর্যন্ত তেলাওয়াত ও জিকির-আজকারে কাটাতেন। সবার সাথে মিলে ইফতার করতেন। দূর থেকে আসা মেহমানদের যথাসম্মান জানিয়ে কাছাকাছি বসাতেন। মাগরিব থেকে এশা পর্যন্ত হালকা বিশ্রাম নিতেন। এশার পর নিজ পরিবারের কোনো হাফেজে কুরআনের তেলাওয়াতে তারাবির নামাজ আদায় করতেন।

ভালো লাগা

আল্লাহর স্মরণ, লেখালেখি, ধর্মপ্রচার, দরদি দিলে আল্লাহর পথে ডাকা, তার জন্যে সফর করা, জমায়েতে মানবতার পথে বুদ্ধিবৃত্তিক মানসে বক্তব্য প্রদান, নিরন্তর মেধাশ্রম, মেহমানদারি এবং আত্মশুদ্ধিমূলক কাজকর্ম ছিল তাঁর জান ও প্রাণ।

জীবনের প্রথম ভাগ থেকেই অতিরিক্ত কিতাব পাঠের অপ্রতিরোধ্য ইচ্ছা তাঁর চোখে ভয়াবহ প্রভাব ফেলেছিল, যার ফলে ১৯৬৪ সালে চোখ অপারেশন করার প্রয়োজন পড়ে।

চিঠির সাহায্যে পুরো পৃথিবীর বড় বড় আলেমগণের সাথে সম্পর্ক স্থাপন ও জ্ঞানগত উৎকর্ষতা হাসিল করা তাঁর প্রিয় কাজ ছিল। তাঁর সংগ্রহশালায় প্রায় দুই হাজার এধরনের চিঠিপত্র ছিল।

ধুলোমলিন গৌরবময় ইসলামি ইতিহাসের ওপর তাঁর বিশেষ আগ্রহ… প্রকৃতপক্ষে ইসলামের সাথেই ছিল তাঁর গভীর প্রণয়, সারাক্ষণ তাঁর ভাবনায় খেয়ালে ইসলামের সাথে অপরাপরের সম্বন্ধ আর মুসলমানিত্বের পুনরুত্থান কিভাবে সম্ভব তা-ই কাজ করত, এই জন্যই তাঁকে বলা হয় ‘মুফাক্কিরে ইসলাম’ অর্থাৎ ‘ইসলামি চিন্তাবিদ’।

শিক্ষকতাও ছিল তাঁর ভালো লাগার বড় জায়গা। একবার তিনি বলেন, ‘আমার জীবন-সৌধের ভিত্তিস্থাপনই হয়েছে একজন শিক্ষক হয়েছে।’

The post আলোর পথের রাহবার (ষষ্ঠ পর্ব) appeared first on Fateh24.



source https://fateh24.com/%e0%a6%86%e0%a6%b2%e0%a7%8b%e0%a6%b0-%e0%a6%aa%e0%a6%a5%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%b7%e0%a6%b7%e0%a7%8d%e0%a6%a0-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d/

No comments:

Post a Comment