Friday, July 3, 2020

‘মানবো না জুলুম’ : মুসলিম ইতিহাসে কালোদের প্রতারিত বিপ্লব

মুনশী নাঈম:

যেখানেই সামাজিক বা রাজনৈতিক অবিচার হয়েছে, অবশ্যম্ভাবীভাবে ঘটেছে বিপ্লব-বিদ্রোহ। ইসলামি ইতিহাসে বেশ কয়েকটি সশস্ত্র বিপ্লব দেখা গেছে। তারমধ্যে বিখ্যাত হলো তৃতীয় হিজরি শতাব্দীর মধ্যভাগে, খৃস্টীয় নবম শতকে দক্ষিণ ইরাকের ‘যানজ বিপ্লব’। এটাকে কৃষ্ণাঙ্গদের প্রথম সশস্ত্র বিপ্লবও বলা যায়। টানা চৌদ্দ বছর স্থায়ী হয়েছিল এই বিপ্লব। যানজ কারা? কেনই বা তারা বিপ্লবে নেমেছিল? কিভাবে তাদের পতন ঘটেছে?

ইরাকে যানজদের আনয়ন

৭২০ খৃস্টাব্দ থেকে আরব মুসলিমরা পূর্ব আফ্রিকার উপকূলে ইসলামিক উপনিবেশ স্থাপন করেছিল। তারপর যখন আব্বাসি খেলাফতের সময়কাল এলো, আরবীয় উপসাগরের উপকূলে ছড়িয়ে পড়লো তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম। ব্যাপকভাবে তখন মাদাগাশকার এবং পূর্ব আফ্রিকার সঙ্গে গড়ে উঠলো ব্যবসায়িক সম্পর্ক। এই সম্পর্কের সূত্র ধরেই সোমালিয়া, কেনিয়া এবং মোজাম্বিকের উপকূলে স্থাপন করা হলো ইসলামিক বসতি। মুসলমানদের বিভিন্ন সামন্তভূমি চাষাবাদের জন্য তখন জনবল যোগান দেয়ার প্রয়োজন পড়ে। এ প্রয়োজন থেকেই বান্টোর যানজদের অধিকার করার জন্য জোরদার হয় দাস ব্যবসা।

যানজ মানে কৃষ্ণাঙ্গ। মধ্যযুগের মুসলিম ভূগোলবিদরা দক্ষিণ-পূর্ব আফ্রিকার বাসিন্দাদের, বিশেষত সোয়াহিলি উপকূল এবং বান্টু সম্প্রদায়ের বাসিন্দাদের যানজ বলে অভিহিত করে। ইরাকে প্রথম শতাব্দিতেই তাদের আনা হয়। তবে আব্বাসি খেলাফতের সময় তাদের এ ভূমিতে আনার কার্যক্রম গতি পায়।

দজলা-ফোরাত এবং এর বিভিন্ন শাখার নিকটে ছড়িয়ে ছিল বিস্তৃত চাষাবাদের জমি। এই জমিগুলো অধিকাংশই সামন্তভূমি। ইসলামি পরিভাষায় সামন্তভূমি হলো—খলিফা কোনো একজন ব্যক্তিকে জমির মালিক বানিয়ে দেন। তখন সে ইচ্ছেমত তাতে চাষবাস করতে পারে। সামন্তভূমি কয়েক ধরণের—হয়তো জমির মালিক বানিয়ে দেয়া হয়েছে, হয়তো সেনাবাহিনীর কাউকে দেয়া হয়েছে, হয়তো বাকি বেতনের বিনিময়ে কোনো সরকারি কর্মকর্তাকে দেয়া হয়েছে, হয়তো পরিত্যক্ত জমি সে আবাদ করে নিয়েছে।

রাসূল সা. এর হাদীস—যে পরিত্যক্ত ভূমি জীবন্ত করে তুলবে, ভূমিটি তার হয়ে যাবে।’ এই হাদীসের ভাষ্য অনেক ধনী মুসলিমকে তাড়িত করেছিল। কোনো বিজিত ভূমিতে প্রবেশ করেই তারা পরিত্যক্ত, অব্যবহৃত জমি দখল করে নিত। কারণ, এইভূমিতে উৎপন্ন ফসলের এক দশমাংশ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিলেই হয়ে যেতো। বিশেষ করে যে ভূমিতে ইরাকের মতো পানির সুবিধা থাকতো, সে ভূমিগুলো দখল করতো। আর এসব ভূমিতে সস্তা মূল্যে জনবল খাটানোর দরকার হলে ভূমি মালিকরা হাত বাড়ায় পূর্ব আফ্রিকার যানজদের দিকে। শারীরিক বল এবং কায়িক শ্রমের ক্ষেত্রে এরা ছিল প্রসিদ্ধ।

যানজদের শ্রম এবং কঠোর জীবন

যানজদের দিয়ে প্রধান যে কাজটি করানো হতো, তা হলো—জলাভূমি থেকে লবণের স্তর সরানো। লবণের স্তর সরিয়ে ফেললে জমি উর্বর হয়ে উঠতো। বসরার নদিতে হাজার হাজার যানজ এই কষ্টদায়ক কাজটি করতো। নোংরা পরিবেশে কাজ করে তাদের শরীরে বাঁধতো নানা রোগ। অনেকে রোগে মারাও যেতো। নিম্নভূমিতে কাজ করার কারণে অনেকে ম্যালোরিয়াতে আক্রান্ত হতো। এই ম্যালোরিয়াতে মারা যায় যানজদের নেতা আলি ইবনে আবান।

কষ্ট করে যানজরা কাজ করতো। কিন্তু তাদের থাকার জন্য দেয়া হতো না ভালো ঘর। প্রচণ্ড শীতে কিংবা গরমে তারা আশ্রয় পেতো না। খড়ের গাদায়, গাছের তলায় ঘুমাতে হতো। অসহ্য এক মানবেতর জীবন যাপন করতো তারা। শুধু এতটুকুই না, হাজার হাজার এই যানজ শ্রমিকদের কাউকেই বাড়িতেই যেতে দিতো না। বিয়ে করার অনুমতি দেয়া তো দূরের কথা।

যানজদের শ্রমে ভূমি মালিকরা তরতর করে ঠিকই উপরে উঠছিলো। কিন্তু শ্রমিকরা যে মানবেতর জীবন যাপন করছিলো, এর দিকে তাদের খেয়াল ছিল না। শ্রমিকরা বঞ্চিত হচ্ছিল তাদের যাবতীয় অধিকার থেকে। অথচ ইসলাম তাদের পূর্ণ অধিকার দিয়েছে। রাসূল সা. বলেছেন, ‘তারা তোমাদের ভাই, আল্লাহ তাদেরকে তোমাদের নিয়ন্ত্রণাধীন করেছেন। তোমরা যা খাও, তাদেরকে তা খাওয়াও। তোমরা যা পরো, তাদেরকে তা পরাও। তাদের সাধ্যের বাইরে কিছু চাপিয়ে দিও না। দিলেও তোমরা নিজেরা তাদের সাহায্য করো।’ কিন্তু ভূমি মালিকরা সেই অধিকারের দিকে ফিরেও তাকাচ্ছিলো না।

তাদের এ মানবেতর জীবনের পেছনে অন্যতম একটি কারণ হলো—ভূমি মালিকরা নিজেরা তাদের কাজের তদারকি করতো না। তদারকির জন্য ম্যানেজার নির্ধারণ করতো। ম্যানেজাররা শ্রমিকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করতো। ম্যানেজার-শ্রমিকদের মাঝে নূন্যতম দয়ার আচরণ ছিলো না। যানজরা কিছু বলতে পারতো না। কিন্তু তােদের মনে ক্ষোভের আগুন সবসময়ই জ্বলতো। তারা যে বঞ্চিত হচ্ছে, এই বোধটুকু তাদের পুড়িয়ে মারতো প্রতিনিয়ত।

যানজদের জাগরণের ক্রিড়নক

এই সময় ইরান বংশদ্ভূত এক লোকের আগমন ঘটে দৃশ্যপটে। তার নাম আলী বিন মুহাম্মদ ফারসি। তার ছিল মন্ত্রমুগ্ধ ব্যক্তিত্ব, উচ্চাকাঙ্খা, মেধা এবং প্রতিভা। আব্বাসী খলিফাধের দরবারে নতুন রাজধানী সামরায় কবি হিসেবে জীবন শুরু হয় তার। কিন্তু তার কাছে মনে হয়, কবি হিসেবে সে যথার্থ মর্যাদা পাচ্ছে না। তিনি ভাবেন, সামরিক বিদ্রোহ ঘটিয়ে আব্বাসীরা খলিফা হতে পারলে অন্য কেউ কেন হতে পারবে না? এই চিন্তাটিই আলির পরবর্তী জীবনে গৃহীত পদক্ষেপের অনুঘটক হিসেবে কাজ করে।

প্রথমেই আলী ফারসি পূর্ব আরবের মরুভূমির দিকে যান। সেখানে গিয়ে নিজেকে আলী রাদি. এর বংশীয় পরিচয় দিয়ে শিয়াদের সমর্থন পেতে চেষ্টা করেন। এবং কিছু সমর্থন পানও। কিন্তু বাহরাইনের একটি দল তাকে সেখান থেকে বের করে দেয়। এরপর তিনি আরবের প্রত্যন্ত গ্রামের দিকে চলে যান। সেখানে নিজেকে তিনি ইয়াহইয়া ইবনে আমর আবুল হাসান বলে পরিচয় দেন। তার চারপাশে কিছু গ্রাম্য লোক জুটে যায়। সেখান থেকে তিনি বাহরাইনের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে চেষ্টা করেন। কিন্তু ব্যর্থ হন। পালিয়ে বসরায় চলে আসেন।

বসরায় নিম্নভূমিতে বসবাস করা কৃষ্ণাঙ্গ দাসদের কাছাকাছি যেতে চেষ্টা করেন। কিন্তু বাগদাদ থেকে তাকে বিতাড়িত করা হয়। এরপর তিনি বাগদাদ যান। সেখানে আহমদ ইবনে ঈসা ইবনে যায়েদের সঙ্গে মিলিত হন। এরপর আবার চেষ্টা করেন আব্বাসি সালতানাতের বিরুদ্ধে শক্তি খাটাতে। কিন্তু তুর্কী সেনাবাহিনীর কারণে পেরে উঠেন না। সবশেষে ২৫৫ হিজরি, মোতাবেক ৮৬৯ খৃস্টাব্দে পুনরায় দক্ষিণ ইরাকে ফিরে আসেন।

যানজদের জাগরণ এবং তার কারণ

কেতাদুরস্ত নিপাট ভদ্রলোক সেজে আলী ফারসি এবার কোমর বেঁধে নামেন। তার কাব্য শক্তি, ভাষার মনোহারিত্ব ব্যয় করে বক্তৃতা দেয়া শুরু করে যানজদের। তাদের বুঝাতে চেষ্টা করে—তোমরা নিপীড়িত, নিষ্পেষিত। ইসলাম তোমাদের যে অধিকার দিয়েছে, তা থেকে তোমরা বঞ্চিত। এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানো উচিত। এমনকি এক বক্তৃতায় ভূমি মালিক এবং ম্যানেজারদের হুমকি দিয়ে সে বলে, যদি এই গোলামদের দিকে আবার হাত তুলো, তাহলে তোমাদের গর্দান উড়িয়ে দিব। তোমরা তাদের আল্লাহর দেয়া অধিকার থেকে বঞ্চিত করছো। সাধ্যের বাইরে তাদের কাজ চাপিয়ে দিচ্ছো।

আলী ফারসি শুধু তাদের অধিকারের কথাই বলেন না, সাথে নিজের শক্তির কথাও বলেন বানিয়ে বানিয়ে। তিনি বলেন, আমি গায়েব জানি। ফেরেশতাগণ আমাকে সাহায্য করে। আমার দোয়া কবুল হয়। মূর্খ যানজরা যেন আশার আলো দেখতে পেলো। মুক্তির পয়গাম শুনতে পেলো। তাদের বুকে তো আগে থেকেই ছিল ছাইচাপা আগুন। আলী ফারসির সুক্ষ্ম বক্তৃতায় তা যেন এবার দাউদাউ করে জ্বলে উঠলো। আলি ফারসিকে তারা সমর্থন জানালো।

ইবনে জারির তাবারি ছিলেন আলী ফারসির সমকালীন ঐতিহাসিক। তাবারি তার কিছু বক্তৃতার উদ্ধৃতি দিয়েছেন। ঈদুল ফিতরের দিন আলী ফারসি তার সমর্থক জাঞ্জদের একত্রিত হতে বললেন। তারা একত্রিত হলো। একটা লম্বা লাঠিতে ঝুলিয়ে দেয়া হলো বিশেষ পতাকা। ঈদের নামাজ পড়িয়ে তিনি তাদের বক্তৃতা দিলেন। বক্তৃতায় তিনি যানজদের করুণ অবস্থা ফুটিয়ে তুললেন। বললেন, এবার আল্লাহ তাদেরকে উদ্ধার করতে চান। তাদের মর্যাদা তাদেরকে দিতে চান। তাদেরও ঘর হবে, বাড়ি হবে সম্পদ হবে। এরপর তিনি বিপ্লবের জন্য যানজদের থেকে শপথ গ্রহণ করেন। মজলিস শেষে তিনি বলে দিলেন, যারা আমার কথা বুঝেছো, তোমরা যারা বুঝেনি তাদেরকে বুঝিয়ে দিবে। যেন তারাও বুঝতে পারে।

যানজরা এ বিপ্লবে উৎসাহিত হয় তিনটি কারণে। এক—রাজনৈতিক কারণ: খেলাফতের অবনতশীল অবস্থার কারণে চরমপন্থী এবং দাসদের মধ্যে একটা প্রচ্ছন্ন লড়াই চলছিলো আগে থেকেই। আলীর ডাকে দাসরা এবার একটা সুযোগ পেলো। দুই—অর্থনৈতিক কারণ: ধনীশ্রেণী এবং শ্রমিকশ্রেণির অর্থনৈতিক বৈষম্য। ইসলামে তাদের যতটুকু অধিকার দেয়ার কথা, তারা ততটুকু পাচ্ছিলো না। তিন—সামাজিক কারণ: তারা কষ্ট করছিলো ঠিক, কিন্তু মানুষ হিসেবে সামাজিক মর্যাদা পাচ্ছিলো না। তাদের চিকিৎসা নেই, বাসস্থান নেই, খাবার নেই। তারা এর থেকে মুক্তি চাচ্ছিলো।

বিপ্লবের ময়দানে

আলী ফারসি আব্বাসি সেনাবাহিনীর পেছনে গোয়েন্দা নিযুক্ত করেছিলেন। যেন সেনাবাহিনীর যাবতীয় পদক্ষেপ তিনি জানতে পারেন। তার মূল লক্ষ্য ছিল আব্বাসি খেলাফতের বিরুদ্ধে শক্তি প্রদর্শন করা। ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে যাওয়া। সামাজিক ইনসাফের কথা বলে তাই তার সঙ্গে জড়ো করেছে যানজ, কিছু আরব এবং কিছু নিম্ন পেশার মানুষ।

প্রথম পদক্ষেপে, ২৫৭ সালে, মোতাবেক ৮৭১ খৃস্টাব্দে, আলী ফারসি বসরা শহর দখল করে ফেলেন। নৃশংসতম হত্যাযঞ্জ চালান বসরাবাসীর ওপর। শহরের নিয়ন্ত্রণ নেয়া হয়ে গেলে তিনি ঘোষণা দিলেন, যারা বাঁচতে চায়, তারা আমাদের কাছে আসুক। তারা এলো। যানজরা তাদেরকে ঘিরে ধরলো। কিন্তু বিশ্বাসঘাতকতা করলেন আলী ফারসি। তিনি সুরক্ষাপ্রার্থীদের হত্যা করার নির্দেশ দিলেন। যানজদের তলোয়ারে সেদিন বসরায় বয়ে গেলো রক্তের স্রোত। বসরার ফসল, চারণভূমি, ঘরবাড়ি সব পুড়িয়ে দেয়া হলো। সবচে আশ্চর্য হলো—যারা নিজেদেরকে আলাভি বলে পরিচয় দিলো, তাদের একজনকেও হত্যা করা হয়নি।

বসরার এই ঘটনা সম্পর্কে তাবারি লিখেছেন, বসরায় অনেক লোক নিখোঁজ হয়ে যায়। নৃশংস এক হত্যাকাণ্ড ঘটে এই দিনে। বনি হাশেম গোত্রের একটি দল, প্রসিদ্ধ ৪০ জন তীরন্দাজ এবং অগণিত মানুষ নিহত হয়।’ আব্বাসি খলিফাগণ তখন নিজেদের মধ্যে বিভিন্ন লড়াইয়ে ব্যস্ত। এই সুযোগেই বসরায় এ হত্যাকাণ্ড চালায় চতুর আলী ফারসি।

হিজরি ২৫৫-২৬৫ এই দশ বছরে আহওয়াজ এবং ওয়াসেতের মধ্যবর্তী বিরাট একটা অংশ দখল করে নেয় আলী ফারসি। এরমধ্যে আবালা, বসরা, আবাদান এবং খুজেস্তান অন্যতম। বাগদাদ তখন ঝুঁকির মধ্যে পড়ে যায়। তখন আবুল আব্বাস আহমাদ ইবনে তালহা আল মুওয়াফফাক এই যানজ বিপ্লবের মোকাবেলায় সেনাবাহিনী প্রেরণ করেন। কিন্তু যানজদের নেতৃত্বে ছিল শক্তি এবং সামরিক দক্ষতা। ফলে তাদের কমান্ডার আলি ইবনে আবান মুহাল্লাবি আব্বাসি সেনাবাহিনীর ওপর জয়লাভ করে অনেক জায়গায়। এমনকি আব্বাসি খেলাফতের অধীন অনেক জায়গা দখল করে নেয়।

যানজদের পরাজয়

২৬৬ হিজরিতে যানজ বিপ্লব দমনে পূর্ণ মনোযোগী হন তালহা মুওয়াফফাক। তিনি তার ছেলে আব্বাস ইবনে তালহার নেতৃত্বে ১০ হাজার সৈন্যের বিশাল আব্বাসি সেনাবাহিনী পাঠান যানজদের বিরুদ্ধে। সঙ্গে দিয়ে দেন যুদ্ধজাহাযও। যানজদের সঙ্গে তাদের প্রথম লড়াইটা হয় ওয়াসেত শহরে। আব্বাস ইবনে তালহা শহরটি উদ্ধার করেন।

তালহা মুওয়াফফাক যখন পূর্ণ মনোযোগী হয়ে ময়দানে নামেন, তখনই ইতি শুরু হয়ে যায় যানজদের। তালহা তার সমস্ত সামরিক, রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক শক্তি ব্যয় করেন এই বিপ্লব দমনে। তিনি যানজদের ওপর অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপ করেন, যেন তাদের শক্তি দুর্বল হয়ে যায়। তাদের মজুত খাবার জ্বালিয়ে দেন। তাদের সমর্থক যারা খাবার সরবরাহ করতো, তাদের সরবরাহ বন্ধ করে দেন। ফলে তারা ক্ষুধার্ত হয়ে পড়ে। তাদের সিংহভাগ আত্নসমর্পণ করে। এদিকে আহওয়াজ এবং তার আশপাশে সামরিকভাবেও পরাজিত করেন যানজদের। ২৭০ হিজরি, মোতাবেক ৮৮৩ খৃস্টাব্দে সর্বশেষ লড়াইটি হয় দুদলের মাঝে। এতে বিপ্লবের নেতা আলী ইবনে মুহাম্মদ ফারসি নিহত হন। তার অবশিষ্ট অনুসারীরা আত্মসমর্পণ করে।

এভাবেই যানজ বিপ্লবের সমাপ্তি ঘটে।

শেষকথা

যানজ বিপ্লবকে প্রতারিত বিপ্লবও বলা যায়। যদিও যানজদের ধারণায় এটা অন্যায় ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে বিপ্লব ছিল, তারা ন্যায় ও ইনসাফের প্রার্থী ছিল। কিন্তু যেই প্রতারক তাদের নেতৃত্ব দিয়েছিল, সাহস দিয়েছিল, সে তার নিজের স্বার্থ চরিতার্থ করতেই বিপ্লব হাতে নিয়েছিল। তার মূল লক্ষ্য ছিল ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে যাওয়া। ওই লক্ষ্যে পৌঁছুতে যানজদের সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহার করেছিল সে। তবে এ কথা সত্য—যানজরা তখন চূড়ান্ত অমানবিক জীবন যাপন করছিলো। ফলে মুক্তির তাড়নায় তারা এক প্রতারকের ফাঁদে পা দিয়ে ফেলেছে।

The post ‘মানবো না জুলুম’ : মুসলিম ইতিহাসে কালোদের প্রতারিত বিপ্লব appeared first on Fateh24.



source https://fateh24.com/%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a6%ac%e0%a7%8b-%e0%a6%a8%e0%a6%be-%e0%a6%9c%e0%a7%81%e0%a6%b2%e0%a7%81%e0%a6%ae-%e0%a6%ae%e0%a7%81%e0%a6%b8%e0%a6%b2%e0%a6%bf%e0%a6%ae-%e0%a6%87%e0%a6%a4%e0%a6%bf/

No comments:

Post a Comment